নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মারুফুর রহমান খান
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

একটি বোতল ও একটি বাশিঁ !


সৌদি আরবের একটা ছোট শহরের নাম কুনফুদাহ। এটা জেদ্দা থেকে প্রায় ৫০০ কিমি দূরে। লোহিত সাগরের তীরে এ শহরটিতে গিয়েছিলাম গত বছর একটা কাজে। সাগরতীরে ঘোরা আমার জীবনের অন্যতম সখ। সুতরাং প্রায় জনমানবহীন কুনফুদাহ সমুদ্রতীরে গেলাম একাকি এক বিকেলে। বালুতটে হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্র বালুতটে ছোটছোট মৃত শামুকে ঘিরে রাখা বোতল দেখলাম সাগরতীরে। অনেক পুরনো বোতল মনে হলো। সামুদ্রিক ছোট ছোট রঙিন সামুকে বোতটাকে অনেকটা সুরক্ষিত করে রেখেছে। মনে হলো ভেতরে কাগজ ও কিছু জিনিসপত্র। বেশ যত্ন করে ঘরে এনে রাতে খুললাম বোতলটা। যাতে জার্মান ভাষায় কি যেন লেখা। সাথে ৩-জন মানুষের একটা সাদাকালো ছবি। একজন বয়স্ক পুরুষ, একজন নারী ও কিশোরী একটা মেয়ে। সাথে একটা ছোট বাঁশি। বাঁশিটা পেতলের বাজে এখনো, বৃটেনের তৈরি। কবার ফুঁ দিলাম তাতে। সম্ভবত ওদের কন্যার হবে। ছবিটার পেছনেও জার্মান ভাষাতে কি যেন লেখা। সম্ভবত ছবিটার পরিচয়।
:
সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে গুগল ট্রান্সলেশনে জার্মান ভাষার কথাগুলো হুবহু লিখে তা অনুবাদ করালাম বাংলা ও ইংরেজিতে। যা থেকে বোঝা গেলো, পুরুষটির নাম Moritz Anton, মহিলাটির নাম Johanna Emilie, আর তার ১০/১২ বছরের কন্যাটির নাম Clara। বাঁশিটা ক্লারার। এদের ঠিকানা দেয়া আছে Energieverbrauchsausweis 90, Befeuerungsart Öl Baujahr, Germany. ছবির পোশাক পরিচ্ছদ ও কোন ফোন নাম্বার বা ইমেইল ঠিকানা না পাওয়াতে বুঝলাম এটা বেশ পুরনো। তারপরো কেন যেন ঐ পরিবারের সাথে যোগাযোগের লোভটা সামলাতে পারলাম না কিছুতেই। ঢাকা ফিরেই ঐ ঠিকানায় একটা চিঠি পোস্ট করলাম ইংরেজিতে লিখে, সাথে তার জার্মান অনুবাদ। চিঠিতে সম্বোধন করলাম ৩-জনকেই। মানে Moritz Anton অথবা Johanna Emilie অথবা Clara। যেই হোকনা কেন, যেন বুঝতে পারে বোতলের ব্যাপারটা। সাথে "বাশিঁ"টার একটা ছবিও দিলাম।
:
প্রায় ২-মাস চলে গেলো কোন খোঁজ নেই। লোকাল ডাকপিওনকে বলে রাখলাম, জার্মানি থেকে আমার একটা চিঠি আসতে পারে, খোঁজ রেখো। কিন্তু ডাক পিওন কোন খোঁজ দিতে পারলো না ৩-মাসেও। অনেকদিন পর একদিন ইমেইলে একটা মেল পেলাম ক্লারা এন্টু ক্রিশ্চিয়ান নামের এক নারীর। অনেক বড় মেইল, যার সারমর্ম এমন।
:
আমার নাম "ক্লারা এন্টু ক্রিশ্চিয়ান" ডাক নাম ক্লারা। হ্যা আমিই বোতলের সেই ১০-বছরের বালিকা, যার বয়স এখন ৫২। ১৯৭৬ সনে মা বাবার সাথে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ বাহামা ক্রুজশিপে ভ্রমণকালে ঐ বোতল আটলান্টিকে ফেলেছিলাম আামি। বাঁশিটা বাবা আমায় কিনে দিয়েছিল ডেনমার্ক থেকে। ওর ভেতরের লেখাগুলো আমার মায়ের। যিনি ডেনমার্কে মারা গেছেন প্রায় ১৫ বছর আগে। মা ডেনিস ছিলেন। বাবা ফিজির জার্মান দূতাবাসে প্রথম সচিব হয়েছিলেন। সেই সুবাদে আমিও ফিজিতে এসেছিলাম। চাকুরিশেষে বাবা ফিজির "মুতোরিকি দ্বীপের নাভু"তে একটা রিসোর্ট কিনেছিল। যা মুতোরিকি দ্বীপের Mount Maunganui-তে। আমি ফিজিতে খৃস্টান স্কুলে অনেকদিন থিওলজির "টিচার কাম নান" ছিলাম। ৬-বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর এখন নাভু দ্বীপের Mount Maunganui-র রিসোর্টটা দেখাশোনা করি আমি একাকি জীবনে। অবসরে ওখানের স্কুলে দরিদ্রদের পড়াই। পৃথিবীর অনেক দেশের নানা রঙের নানান ভাষিক পর্যটকরা আসে এখানে বেড়াতে। আমার বাবার বানানো সাগর মাঝে ভেসে থাকা এ রিসোর্টে থাকে তারা পরম আনন্দে। তুমি এতো বছর পর আমার মা, বাবা আর আমাকে পেয়েছো লোহিত সাগরে, যা তুমি নিয়ে গেছো বাংলাদেশের ঢাকাতে, তা চিন্তনে বড়ই অদ্ভুৎ লাগছে যে, মানুষের জীবনটা কতই না বৈচিত্রপূর্ণ। তোমাকে আমন্ত্রণ জানাই ফিজির "মুতোরিকি দ্বীপের নাভু"তে। যেখানে Mount Maunganui-এ আমার রিসোর্ট। তুমি এলে বাঁশিটা আনতে ভুলোনা যেন। এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে বাঁশিতে ফুঁ দিলেই বুঝবো বাংলাদেশের সেই তুমি!
:
আরো অনেক কথা, সাথে ক্লারার বর্তমান ও তার পরিচালিত নয়নাভিরাম রিসোর্টের ছবি। সমুদ্রতট সন্নিহিত সমুদ্রের নীল জলরাশির মাঝে অনেকগুলো পাকা পিলারের উপর দাঁড়ানো এক মনোলোভা অনুপম বাড়ি। যাতে জল পার হতে এক অদ্ভুৎ সেতু বানানো। গোলাপি রঙের দেয়ালঘেরা গাছপাতার ছাউনির রিসোর্টে মন কেড়ে নিলো আমার। মনে মনে প্লান করলাম, এ পর্যন্ত ৫৭-টা দেশ ঘুরেছি আমি। এবার ৫৮-তম দেশ হবে ফিজি। ফিজির "মুতোরিকি দ্বীপের Mount Maunganui-এর ক্লারার রিসোর্টে যাবো। আমার গলায় ঝুলানো থাকবে ক্লারার পিতলের ষাট বছর পুরনো সেই বাঁশিটি।
:
পিসি খুলে বসে গেলাম ক্লারাকে ফিরতি মেইল পাঠাতে। কখন ফিজিতে ভ্রমণের সুন্দর সময়, খরচ ইত্যাদি। খোঁজ নিলাম কিভাবে যাবো ফিজিতে। পরিচিত ট্রাভেল এজেন্ট জানালো, এখান থেকে সিঙ্গাপুর, তার পর ফিজির Kadavu Island এর Vunisea (Namalata) এয়ারপোর্টে যাওয়া যাবে ক্যাথই প্যাসিফিক এয়ারে। ক্লারাকে জানিয়ে দিলাম আমার আসার প্রোগ্রাম। রূপোলি ঝিকিমিকির এক আয়ুর্বেদিক জ্যোৎস্নায় সত্যিই একদিন উঠে বসলাম সিঙ্গাপুর এয়ারে ফিজির উদ্দেশ্যে। গলায় ঝুলানো ক্লারার সেই বাঁশি!
:
ছবি পরিচিতি
--------------

কুনফুদাতে কুড়িয়ে পাওয়া সমুদ্র বোতল;


ফিজির মুতোরিকি দ্বীপ;


ক্লারার রিসোর্ট এবং


ক্লারার স্কুল।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 3 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর