নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

শিডিউল

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান
  • নিলয় নীল অভি

আপনি এখানে

পাহাড়ের প্রাণে তাপাও আগুন


১৯৪১ সালের ৮ মার্চ, ঢাকায় মার্কসবাদী চেতনায় জাগ্রত তরুণ লেখক সোমেন চন্দকে হত্যা করা হয় ছুরীর আঘাতে। ফ্যাসিবাদীদের এই খুন একত্র করে দেয় মার্কসবাদী ও মার্কসবাদী নয় এমন সব লেখক বুদ্ধিজীবিদের। বাঙ্গালীর পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের সুযোগে তখন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও ধর্মান্ধতা দানা বেঁধে উঠছিল। ঐ দুঃসময়ে পাকিস্তানভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন সরদার ফজলুল করিমের মতো লেখকগণ। অন্যভাবে দেখলে, মিঠূনের মতো একটি মেধাবী তরুণ হত্যার কালে কি বাঙ্গালী পাহাড়ী বুদ্ধিজীবি এক হবেন?

সোমেন চন্দকে মনে পড়লো আচমকা। ২০১৮ সাল শুরু হয়েছে। আমি বলবো না ২০১৮, ১৯৪১ এরই মতো। তবে উপাদান যে নেই একেবারে অস্বীকার করি না। বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদী সাম্প্রদায়িকতার হেমলক পান করছি আমরা। এক চুমুক চুমুক করে নিচ্ছি বলে গোটাটা হিংড়িয়ে পড়ে ধ্বসে যাচ্ছি না, একটু একটু করে মরছি। সোমেন চন্দরা নানাভাবে আছে আমাদের ঘিরে। খাগড়াছড়ির বনে জঙ্গলে এখন শুধু শীতের হাওয়ার শোঁ শোঁ শুনবেন না। পাতাঝরার এই দুঃস্থ বিবর্ণ কালে খাগড়াছড়িতে একটি হত্যা সংঘটিত হয়েছে। যদিও গণ মাধ্যম বলছে অচিহ্নিত কয়েকজন ঘাতক কাজটি করেছে! খাগড়াছড়ির পাহাড়েরও কান আছে, হৃদয় আছে। এটা সেই সময় যখন খাগড়াছড়ি তার ষষ্ঠেন্দ্রিয় উন্মুখ করে মিঠুন চাকমার সন্তানের - পিতাকে খুঁজে ফেরা পাগল করুণ চোখদুটো অবলোকন করছে। তার শেষ কৃত্যে দণ্ডায়মান চাকমা সম্প্রদায়ের গম্ভীর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মুখগুলো শুধু খাগড়াছড়িতে দেখবেন না। জমায়েতটা গোটা পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ে পাহাড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামের একপাশে সাত থেকে আট লাখ রোহিঙ্গার থাকা-খাওয়ার দায়িত্ব নেয়া হয়েছে, অপরপাশে স্থাণীয়দের উৎখাত করে গড়ে উঠছে পর্যটন ক্ষেত্র সাজেক ভিলা। পাহাড়ে ও সমতলে এখন দেশজুড়ে হিমবাত্যা এগিয়ে আসার মতো ধর্মান্ধরা গ্রাম-গঞ্জ, শহর বন্দরে তাদের নারী বিরোধি ফতোয়া, ওয়াজে মাহফিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই দৃশ্যগুলো বাংলাদেশের একটি জটিল সময়ের কথা বলে।

২০১৮ তে অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলা সম্ভব। বাংলাদেশ তার অর্জনগুলোর কতখানি হারিয়ে ফেলতে চায়, কতোখানি রাখতে চায় সে সিদ্ধান্ত এখনও গ্রহণ করতে অপারগ-এ কোনও সুখের কথা নয়।

প্রাচীনকাল থেকে বাঙ্গালী যা কিছু গ্রহণ করেছে, সেই সব তত্ত্ব, বিধি বিধানের রক্ষণশীলতার অংশটুকু ছেঁটে মুক্তবুদ্ধির হিসেব নিকেশের ভেতর দিয়েই তা গ্রহণ করেছে ও সকল বহিরাগত চিন্তা চেতনাকে প্রায় লৌকিক প্রথাগত বিধি বানিয়ে ফেলেছে। এই যে শক্তি বাঙ্গালীর চেতনার, সেটি বদলে দেবার নানা প্রয়াস ও তার বিপরীতে মানুষের বেদনা ও ভোগান্তি এই ছেচল্লিশ বছরে কম নয়।

তবে এই শক্তি যে কমে আসছে তার সর্বশেষ লক্ষন, মিঠুন চাকমার হত্যা। ২০১৮ তেই কেন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্যে হয়ে ওঠা পাহাড়ীদের একজন প্রতিশ্রুতিশীল নেতাকে হত্যা করা হলো? মিঠুন অত্যন্ত মেধাবী একজন তরুন।পাহাড়ের এই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দিয়ে কি এই বার্তা দেয়া হলো যে কেউই এই দেশে এখন আর নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করতে পারবে না
মিঠুন চাকমার হত্যা বিষয়ে সরকার কি বলে জানতে চাওয়া কি অন্যায় হবে? মাইনরিটি কমিউনিটির নেতা বলেই তার হত্যাকে উপেক্ষা করতে হবে? কিছু বলুক বা না বলুক এই হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে তারা সরকারকে একটি সংকটে ফেলে দিয়েছে। এ কথা বলা কি অন্যায় হবে?
আমরা সাত আট লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। দেশ বিদেশে আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি নাম পেয়েছেন। এইসব অর্জনের পাশে রাখুন মিঠুনের মরদেহ। যে পাহাড়ীদের কাছে সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা। মিঠুনকে বাঁচিয়ে রাখলে বাংলাদেশের যে লাভ হতো তার চেয়ে কি বেশি লাভ হলো তাকে মেরে ফেলে?

হিসাব টা করছেন তো আপনারা? যতই রোহিঙ্গা নিয়ে কাঁদুন, বস্তুত আজকের বাংলাদেশ যে জাতিগত ও ধর্মীয় এবং মাইনরিটির অধিকার বিষয়ে সহনশীল নয়-এই বার্তা কি শোনা যাচ্ছে? এই কালো মেঘ কি সবকিছুর ওপর ছায়া ফেলছে না? দুনিয়াকে বোঝাতে হবে কি হচ্ছে? কেন মিঠুনকে ২০১৮ সালেই মরতে হলো এবং এমন এক স্থানে যেখানে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে সেনাবাহিনী পুষছে নিরাপত্তার নামে। সেনাবাহিনীর ঘেরাটোপের ভেতর কিভাবে একজন জনগ্রাহ্য রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করা হয়? কাণ্ডজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধি কি নিঃশেষ হয়ে গেছে? একুশে আগস্ট থেকেও কিছু শিক্ষা রয়ে যায় নি আমাদের, সবই স্মৃতি থেকে বিলীন হয়ে গেছে?

আজ যারা মিঠুনের শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ করছে তাদের মনের ভেতর কি ঝড় তা কি টের পান সরকারে বসা নেতৃবৃন্দগণ? বুদ্ধিজীবিসমাজ? বাঙ্গালি সমাজ-নেতৃবৃন্দ? এই ঝড়টাকে আপনারা গুরুত্ব দেবেন? একে কি উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন? মিঠুনরা শান্তির সময়ে রাজনীতি করছিল। তাদের এই অধিকারকে দলিত করে পার্বত্য চট্টগ্রামে আবার একট অশান্তি তৈরী করতে কে বা কারা উদ্বুদ্ধ করছে কাদের? তাতে সরকারে থাকা দলের কি লাভ হবে? বিরোধীদের লাভ হবে? দেশের কি লাভ হবে? ভেবে দেখুন? ভাবতে হবে। এমন সব সংঘাতে শুধু দেশকেই কেন খেসারত দিতে হচ্ছে সেটাও ভাবুন সবাই।

দেশটা দাহ্য হয়ে উঠেছে। একটা অগ্নি কুণ্ড তৈরীর কাজটা যারা তলে তলে করে যাচ্ছে তারা কারা, সরকারের মধ্যে তাদের সংযোগ কোথায় আছে, আদৌ আছে কি না, সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে এখনই। যে আহবের সলতে পাকানো চলছে তা ”ক্ষমতার মোহের কাছে পরাজিত”রা চোখ বন্ধ করে রেখেছেন বলে দেখতে পাচ্ছেন না। তাতে নিকট ভবিষ্যতে অগ্নিসংযোগ সহজ হবে। আশঙ্কা করি, তখন হাতের বাঁশী ফেলে আপনার নিজের প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে হবে। কিন্তু আপনি পার পেলেও দেশটা ছাই হয়ে যাবে।

নানা তত্ত্ব ও অপ কিম্বা উপতত্ত্ব দিয়ে এই হত্যার দায় সারা যাবে না। এখানেই ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটবে না। মিঠুন চাকমার হত্যার সঠিক তদন্ত হতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জনগণকে জানাতে হবে। যদি এখনও দেউলিয়া হয়ে না গিয়ে থাকে, যদি আদর্শের ছিঁটেফোটাও থেকে থাকে তবে আওয়ামী লীগের উচিত মিঠুন চাকমার হত্যা বিষয়ে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা। এবং মিঠুন কে যারা হত্যা করেছে তাদের পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা। দেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের স্পর্ধাকে আসমানে তুলে তাদের সাথে দহরম মহরম ও দেশকে ক্রমান্বয়ে আরও ইসলামীকরণের প্রেক্ষাপটে এই কথাটা না বললেই নয়।

হরহামেশাই আমরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নের কথা বলি। বিরোধী দলের, মাইনরিটির, সমালোচকের, কণ্ঠরোধ করে সে আদর্শকেই গলা টিপে মেরে ফেলা হচ্ছে এটা উপলব্ধির বাইরে হয়তো সবকিছু এখনো চলে যায় নি। যে জাতি-চেতনার হীনমন্যতা ও যে ধর্ম নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে নি, সেই একই রগের জাতীয়তাপণার হীনমণ্যতা ও ধর্ম নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধ জয় করা একটি জাতিকে সামনে এগিয়ে দিচ্ছি, এগিয়ে যাও বললেই সে এগুবে না, এ তো জানা কথা। বাঙ্গালি, ও বাংলাদেশী কি মাইনরিটি এমনতরো আগ্রাসনের মধ্যে রেখে দিয়ে কোন জনপদকে এগিয়ে যেতে বললে তার পক্ষে এগুনো সম্ভব নয় বলেই ছেচল্লিশ বছর পর আজও নানা সঙ্কটে জর্জরিত হতে হচ্ছে।

পাহাড়গুলো দূরবর্তী, সমতল থেকে দ্যাখায় কবিতার ম্যাঘের মতো। এই যে ২০১৮ তে কোন ও একটা দল নিজেদের গর্মি তাড়াতে না পেরে ওখানে একটা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ফেললো একেবারে সুচতুরভাবে, তারা কি ভাবেনি কিছু-পাহাড়ের গর্ভে প্রাণে আছে আগুন? তারা সেই আগুনে তাপায়, তাদের রাজনীতি। আগুন জ্বালায় পোড়ায়, তারা ভাবে না। এমন ভাবনাহীন রাজনীতি করে ওরা? এমন ভাবনাহীন দায়বোধহীনদের লালন করছে এদেশ? মিঠুনের ভাসানে পাহাড়ীদের দাঁড় করিয়ে দিলে, অভিজিত, বাবু, নীলয়দের মাইনাস করে দিলে বাংলাদেশ বেমালুম বি বি ঝেড়ে সাফ করতে থাকা সাম্প্রদায়িক দেশপ্রেমী মুক্তি হীন যুদ্ধপ্রেমী লুটেরা এবং হীনমণ্য ধর্মান্ধদের হল্লায় হুলিয়া হাতে ঘুরে বেড়াবে।
মিঠুন হত্যার বিচার করতে হবে-পাহাড়ে এই ধ্বনি ওঠার আগে সমতলেই উঠুক।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জাহানারা নূরী
জাহানারা নূরী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 5 দিন ago
Joined: বুধবার, মার্চ 22, 2017 - 2:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর