নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মারুফুর রহমান খান
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ফিউজ ও ঋণ কাহিনি !


চীন থেকে সপ্তপদি ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স জিনিস কিনে এনে এক সময় মধ্যপ্রাচ্যের "সুক আল জুনুবিয়া"তে বিক্রি করতাম আমি কন্টেনারসহ কিংবা হোলসেলারদের কাছে। কৈশোর থেকে এ পরিণত বয়স পর্যন্ত অনেক মানুষকে ঋণি করেছি আমি নানা উপাঙ্গে। আমার কাছে কেউ কোন ঋণ পাবে, এমন কথা স্মরণ নেই আমার। কৈশোরে একবার এক চোরকে নৌকো বানাতে ৫০০ টাকা ধার দিতে খুব ইচ্ছে হলো আমার। মাকে বলাতে মা রাজি হলোনা কোনক্রমেই ঐ চোরকে কোন সহায়তা করতে। আমার কেন যেন মনে হলো, ৫০০-টাকা ধার দিয়ে হেলপ করলে, সে হয়তো মাছ ধরে খাবে, আর চুরি করবেনা।
:
আমার মামা সম্পর্কিত গাঁয়ের এক লোক ঘুষের চাকরি করতো পাশের থানাতে। তার কাছে ধার চাইলাম ৫০০-টাকা ৩-বন্ধু মিলে। থানার দোরোগা টাইপের ঐ মামা শর্ত দিলো, তার ৩টা লোহার বাক্স যদি আমরা পৌঁছে দেই থানাতে, তবে সে ৫০০-টাকা ধার দেবে আমাদের। তার কথাতে রাজি হলাম আমরা।
:
তখন যোগযোগ ব্যবস্থা খুব অনুন্নত ছিল। তাই নৌকা ও কেবল হাঁটা রাস্তা-ই ছিল প্রায় ১৪/১৫ মাইল দুরবর্তী থানাতে যাওয়ার। মামার নির্দেশনমত এক ছুটির দিনে খুব ভোরে ৩-বন্ধু লোহার বিশাল সাইজের পুলিশি ট্রাঙ্ক মাথায় নিয়ে রওয়ানা দিলাম কথিত থানাতে। বর্ষা ঋতু থাকাতে পিচ্ছিল দূরবর্তী পথে অনেক কষ্ট হলো আমাদের। অনেক ঘাম ঝরিয়ে দুপুর-নাগাদ থানাতে তার মালসামান পৌঁছালেও, উনি টাকা দিলেননা। দিলেন পাঠিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি। যা আর কখনো পালন করেননি তিনি।
:
আমাদের সব কথা শুনে আমাদের স্কুলের ধর্ম শিক্ষক চাঁদপুরের হুজুর তার জমানো টাকা থেকে ৫০০-টাকা দিলেন আমাদের। আর তিনি তা ফেরত নেননি তখন। আমি বিদেশ থাকাকালীন ঐ হুজুরকে ঐ ৫০০-টাকার ঋণ হিসেবে ৫/৬ বার অন্তত ২০/২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলাম। তার মৃত্যুর আগে তার বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচরে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম একদিন ঐ ঋণের কারণে!
:
আমার তরুণ বয়সে যখন ঢাবিতে পড়ি, তখন গাঁয়ের যুবক "ক" এলো একদিন আমার বাসাতে। সৌদি আরব যাবে সে, তাই সহযোগিতা চায় আমার। মেডিকেলে ছেলেটির ডায়াবেটিস ধরা পড়লো, তাই আনফিট করেছে তাকে। তার কান্না দেখে আবার অন্য ল্যাবে মেডিকেল করাতে পরামর্শ দিলাম তাকে। ইউরিন দেয়ার সময় হলে, তার সাথে এক টয়লেটে ঢুকে নিজের ইউরিন দিলাম তার স্থলে। তাতে মেডিকেলে ফিট হলো সে। যাওয়ার আগে ২০-হাজার টাকার সর্ট পড়লো তার। নিজে ছাত্র থাকাতে অন্য স্থান থেকে ধার করে দিলাম তাকে, কিন্তু বিদেশ গিয়ে ঐ টাকা আর দিলোনা সে। টাকা চাওয়াতে তার সাথে চিরদিনের জন্য মুখদেখাদেখি বন্ধ হলো আমার। যা এখনো চলমান!
:
বছর আটেক আগে নিজের আত্মীয় এক সাংসদ একটা কাজের কথা বলে ২-লাখ টাকা নিলো আমার থেকে। তারপর কাজটা আর করলোনা। টাকা ফেরত চাইলে মারাত্মক মারমুখি হলো। একজন আত্মীয় আইন প্রণেতার বিরুদ্ধে কার কাছে নালিশ করবো? অবশেষে ভুলে গেলাম দুলাখ টাকা।
:
বিদেশে ইলেকট্রনিক্সের বড় ব্যবসা ছিল আমার। চীন থেকে কন্টেনার ভরে বিভিন্ন জিনিস এনে তা বিদেশে বিক্রি করতাম। আকস্মিক দেশে ফেরার কারণে ৭-লাখ পিছ ইলেকট্রিক ফিউজ নিয়ে এলাম দেশে। যা প্রতিটি চীনেই কিনেছিলাম অন্তত ১-টাকা করে, মানে ৭-লাখ টাকার ফিউজ। নিজে যে বিমানে এলাম, তাতে ৩০-হাজার টাকা ভাড়ায় কার্গো করে দিলাম ২১-কার্টুনে ৭-লাখ পিস ফিউজ। ঢাকা এয়ারপোর্টে যাত্রীর সাথে "বাণিজ্যিক পণ্য" আনাতে, ঐ ফিউজের উপর ডিউটিসহ ২-লাখ টাকার "পেনাল্টি" বা জরিমানা করলো। সাকুল্যে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে ফিউজ নিলাম ঘরে। ইসলামপুর ইলেকট্রনিক্স হোলসেল মার্কেটে প্রতিটি ফিউজ ৫-টাকা বিক্রি করলেও, আমার ফিউজ বললো মাত্র ২-টাকা করে, তাও নগদ নয় ১-সপ্তাহ পর টাকা দেবে। দোকান থেকে একটা রশিদ নিয়ে ৭-লাখ পিস ফিউজ পৌঁছে দিলাম "ম" দোকানে। কিন্তু দিন যায়, মাস যায় আমার ১৪-লাখ টাকা আর দেয়না। ফিউজ রিটার্ন চাইলাম, তাও দেয়না। অবশেষে একদিন পুলিশি সাহায্য নিয়ে উদ্ধার করলাম ১৩-কার্টুন ফিউজ। বাকিগুলো আর পেলাম না। দোকানি বললো, আমি নাকি ঐ ১৩-কার্টুনই দিয়েছি, ২১-কার্টুন নয়। পুলিশ বললো, যা পেয়েছেন তাতেই "শুকর" করেন ভাই!
:
পুলিশি পরামর্শে "শুকর" করে গুণে দেখলাম, ৭-লাখ পিসে এখন আছে ৪-লাখ পিস। বাকি ৩-লাখ নেই। এবার নগদ টাকার কাস্টমার খুঁজলাম। অনেক দালাল এলো প্রতিপিস ৩/৪ টাকাও বললো কিন্তু নগদে কেউ নিতে চায়না। আমিও আর বাকিতে দেবনা। অবশেষে একজনকে পেলাম, যে নগদে নেবে কিন্তু দাম মাত্র ০.৩০ পয়সা প্রতিপিস। চীনের নিংবো থেকে ফ্যাক্টরি গেটে ১-টাকা দরে কিনে তার ফ্রাইটচার্জ দিয়ে নেয়ার পর, আবার বিমান ভাড়া দিয়ে আনলাম ঢাকাতে, জরিমানা দিলাম আড়াই লাখ। যাতে সাকুল্য খরচ অন্তত দুটাকা পড়েছে প্রতিটি, তাই বেঁচে দিলাম ৩০ পয়সা করে।
:
এই হলো আমার ঋণ ও বাংলাদেশে ব্যবসা বিষয়ক অভিজ্ঞতা। অনেকদিন চীনে ব্যবসা করার সুবাদে পরিচিত চীনা বন্ধুরা বারবার আমাকে বলেছিল, আমি যেন বাংলাদেশে এ ব্যবসাটা করি। গত বছর অক্টোবরে চীন ও তাইওয়ান গেলে, পুরনো বেশ কজন আমাকে চীনা ব্যবসার জড়াতে বার বার অনুরোধ করে। কিন্তু ঢাকায় ফিউজের তিক্ত অভিজ্ঞতায় আমার মনের ফিউজ কোথায় যে উড়ে গেল, তার খোঁজ আজো পাইনি দুকোটি মানুষের এ ঢাকা শহরে! হায় ফিউজ!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 3 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর