নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

সকল মুক্তমনা নাস্তিক অবিশ্বাসীদের প্রতি আমার প্রস্তাব


সকল মুক্তমনা নাস্তিক অবিশ্বাসীদের প্রতি আমার প্রস্তাব

==========================

এদেশে নাস্তিক অবিশ্বাসীদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাঁরা কোনো না কোনো ভাবে পরিবার সমাজ কিংবা রাষ্ট দ্বারা প্রতিনিয়ত নিগৃহীত হচ্ছেন বা লাঞ্চিত হচ্ছেন। কখনো কখনো নির্যাতিত বা মৃত্যু বরন করে নিচ্ছেন। যার প্রমান হুমায়ুন আজাদ, রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়। শুধুমাত্র ধর্মের সমালোচনা আর ভীন্নমত পোষন করায় ইসলামি মৌলবাদীরা তাঁদেরকে নিশংসভাবে হত্যা করেছে। যা একবিংশ শতাব্দীতে কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায়না। এভাবে আর কতো সহ্য করা যায়?

আমাদের কি এখনো সময় হয়নি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার? নাস্তিক হয়ে প্রকাশ্যে বাঁচার জন্য সরকারের কাছে অধিকার চাওয়ার? হ্যাঁ আমি জানি নাস্তিক মুক্তমনা অবিশ্বাসীদের মধ্যে অনেক মতানৈক্য আছে। আর মতানৈক্যকে স্বাভাবিক নেয়া এটা আমাদের আদর্শ। কিন্তু নাস্তিকদের কথা বলার অধিকার, প্রকাশ্যে নাস্তিক পরিচয়ে বাঁচার পক্ষে আমরা কিছু তো একটা করতে পারি। শাহবাগ বা সারা দেশে যে যাঁর অবস্থানে থেকে
" হ্যাঁ আমি নাস্তিক
আমি প্রচলিত কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নই,
আমি এই নাস্তিকতার অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই"
এই প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তো আমরা দাঁড়াতে পারি। সরকারের ভীত নাড়িয়ে দিতে পারি। এখানে সকল মুক্তমনা নাস্তিক অবিশ্বাসীদের অনৈক্য হবার তো কথা নয়?

কবি দাউদ হায়দার, লেখক তসলিমা নাসরিন আজ দীর্ঘ বছর ধরে দেশ থেকে নির্বাসিত হয়েছেন শুধুমাত্র ধর্মের সমালোচনা ও রাষ্ট-সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে খোলামনে লেখালেখি করার কারনে। এভাবে আর কতো? আমি জানি আমার প্রস্তাব কোনো সহজ পন্থা নয়। সরকার তা কোনদিন মেনে নেবে না। এই প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়ালে হয়তো সরকারী মাস্তান বাহিনী (পুলিশ) লাটিচার্স করবে। নয়তো গ্রেপ্তার করবে। কিন্তু আমাদের নাস্তিকতার আন্দোলন তো রাজপথেই শুরু করতে হবে। যেকোনো ভাবে আমাদের বাঁচার অধিকার প্রতিষ্টা করতেই হবে। আর কতো ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়ে (আমিও) থাকবো আমরা? এই বিপ্লবের সুচনা তো করতেই হবে আমাদের। আগামী প্রজম্মের নাস্তিকদের জন্য একটি বাসযোগ্য ভুমি তো তৈরি করে যেতেই হবে আমাদের। যাতে তারা নির্ভয়ে প্রকাশ্যে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে পারে।

আমার এই প্রস্তাব সবার বোঝার সুবিধার্থে আমার রচিত "অধিকার চাই" কবিতাটি নিচে দিলাম---

অধিকার চাই
=========
মাননীয় রাষ্টচালক,
হ্যাঁ আমি নাস্তিক!
আমি প্রকাশ্যে এই অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই!
আমি পাসপোর্ট বা যেকোনো ফরমে লিখতে চাই আমি নাস্তিক।
ধর্মের অপশনে কোনো ধার্মিক যদি হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান লিখতে পারে,
তবে আমি কেন পারবো না নাস্তিক লিখতে?
আমার অপশন কই?
সকল ধার্মিকরা যদি প্রকাশ্যে
অদৃশ্য আল্লাহ ঈশ্বর গড
ভগবানের জিকির করতে পারে,
তবে আমি কেন প্রকাশ্যে বলতে পারবো না আল্লাহ ঈশ্বর গড ভগবান বলতে পৃথিবীতে কিছু নেই।
সব মানুষের সৃষ্টি!
কেন বলতে পারবো না আমি অবিশ্বাসী?
আমি নাস্তিক,
কারো গায়ে হাত তোলা,
কাউকে হত্যা করা ,
নিজের মত কারো উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া,
ভিন্নধর্মীদের নিন্দা করা,
নাক ফুলিয়ে ভ্রু কুচকে
মানুষকে ঘৃনা করা,
এই শিক্ষা আমার মাঝে নেই।
আমি নিজেকে সেই শিক্ষায় গড়িনি।
আমি নাস্তিক,
আমি মানবিক অবক্ষয়ের বিরূদ্ধে!
আমি কোনো মুসলমান নির্যাতিত হলে ব্যথিত হই,
হিন্দু অত্যাচারিত হলে একই ব্যথা অনুভব করি।
ইসরাইল ফিলিস্তিনীর মুসলিমের উপর আঘাত হানলে আমি তার প্রতিবাদ করি!
আইএসের মুসলিমরা ধরে ধরে খ্রিস্টান জবাই করলে আমি তারও প্রতিবাদ করি!
বাংলাদেশে মুসলিমরা সংখ্যালঘু নির্যাতন,
তাদের মন্দির বাড়ি ঘর ভেঙে দিলে আমি তারো প্রতিবাদ করি!
হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভাঙলে আমি তার নিন্দা জানায়!
বাঙালীরা পাহাড়ীদের নির্যাতন-ধর্ষন করলে আমি বিষন্ন হই, প্রতিবাদ করি!
আমি নাস্তিক,
আমি কারো অধিকার হরন চাইনা,
কেউ নামাজ পড়ুক, প্রার্থনা করুক
প্রনাম করুক, গীর্জায় যাক, চার্যে যাক, আমি তাদের আটকায় না।
আমিও চাই তাদের অধিকার থাকুক
চাই তারাও নির্বিগ্নে তাদের ধর্ম পালন করুক।
তাতে আমার আপত্তি নেই।
কিন্তু আমার কেন অধিকার থাকবেনা এদেশে নাস্তিক পরিচয়ে বাঁচার?
মানুষ পরিচয়ে বাঁচার?
কেন আমাকে পাসপোর্টে লিখতে হবে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান?
আমি তো কোনো প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাসী নই।
মাননীয় রাষ্টপ্রধান,
আমি নাস্তিক পরিচয়ে বাঁচতে চাই
মানুষ পরিচয়ে বাঁচতে চাই, ধর্মের পরিচয়ে নয়।
তার জন্য কি আইন পাশ করতে হবে করুন।
কি সিস্টেম পাল্টাতে হবে পাল্টান,
কিন্তু আমি আমার অধিকার চাইই চাই!
২-৩-১৫

-প্রতিজ্ঞা করছি আমি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়াবোই দাঁড়াবো! পাশে যদি কেউ না থাকে একাই দাঁড়াবো!

লেখার তারিখ ১৫--৫--১৫ইং

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অপ্রিয় কথা
অপ্রিয় কথা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 3 দিন ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 24, 2016 - 2:15পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর