নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • উদয় খান

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র


আমরা জানি, রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়; আর যেহেতু রাষ্ট্র সৃষ্টি কৃত্রিম ও রাজনৈতিক ব্যাপার, প্রাকৃতিক নয়, তাই, রাষ্ট্রের উন্নয়ন নিয়ে সরকার ও জনগণের মাথা ঘামাতে হয়; কারণ কৃত্রিম সবকিছুরই উন্নয়ন বা অবনয়নের চিত্র ও পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, যেটা প্রাকৃতিক কোনো ব্যাপার সম্পর্কে অতোটা খাটে না; কেননা প্রাকৃতিক ব্যাপারটি যেহেতু আমাদের সৃষ্টি না, তাই এর গুণগত বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ বা তুলনা অতোটা সহজে করা যায় না। আধুনিক ধারণানুযায়ী, “রাষ্ট্রের উন্নয়ন”—এই কথাটি দ্বারা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝানো হতো; কিন্তু বর্তমানে, অর্থাৎ উত্তরাধুনিক ধারণায় উন্নয়ন শব্দটি অনেক অর্থই প্রকাশ করে; শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে একটি রাষ্ট্র কতোটুকু সফল, না ব্যর্থ; কার্যকর, না অকার্যকর—তা বোঝা যায় না। হালের অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সমগুরুত্ব দিয়েছেন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়নকে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন-ই রাষ্ট্রের একমাত্র বিবেচ্য উন্নয়ন নয়; যদি তা-ই হতো, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, যেমন : সৌদি আরব, কাতার, ইত্যাদি—তারা অন্যদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকতো; কারণ অর্থনৈতিকভাবে বা জিডিপি’র হিসাবে তারা অনেক ধনী দেশ; যেখানে গড় আয় বা জিডিপি এর বেলায় কাতার ও সৌদি আরব যথাক্রমে প্রথম ও চৌদ্দতম এবং এদের জিডিপি যথাক্রমে—১,২৯,৭২৬ ও ৫৪,০৭৮ মার্কিন ডলার; যেখানে মানব উন্নয়ন সূচকে বা HDI এ তাদের অবস্থান যথাক্রমে তেত্রিশ ও আটত্রিশ। মানব উন্নয়ন সূচকে আসলে তিনটি বিষয় দেখা হয় : (১) স্বাস্থ্য, (২) শিক্ষা, (৩) উপার্জন; এখানে শুধুমাত্র একটি বিষয় “উপার্জন বা আয়”-কে প্রাধান্য দেওয়া হয় না, যা জিডিপি এর হিসাবের বেলায় করা হয়।

একটি রাষ্ট্র জনগণের জন্য কতোটুকু বসবাসযোগ্য, বা অবসবাসযোগ্য, কতোটুকু inclusive তা নির্ভর করে ঐ রাষ্ট্রে গণতন্ত্র আছে কিনা; গণতন্ত্র থাকলেই শুধু হবে না, গণতন্ত্রের চর্চার মাত্রা (Degree of Practicing Democracy) কতোটুকু তাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গণতন্ত্র মানে রাজনৈতিক পার্টির মাঝে গণতন্ত্র, বা রাজনৈতিক বহুদলীয় গণতন্ত্র (Pluralist Political Parties), ইত্যাদি হচ্ছে বেশ সেকালের ধারণা; এইকালের ধারণায় গণতন্ত্র শুধু রাজনৈতিক পার্টির মাঝে, আর ভোট দেওয়া ও নির্বাচনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝেও গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে এবং অবশ্যই এসব প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিক হতে হবে; আর তা না-হলে গণতন্ত্র চর্চা করে রাষ্ট্রের জনগণের কোনো লাভ হবে না। বর্তমানকালে গণতন্ত্রের অর্থ অনেক পরিব্যাপ্ত; গণতন্ত্রের আওতায় পড়ে রাষ্ট্রের জনগণের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক অধিকারগুলিও; সুশাসন, জনসচেতনতা, বাকস্বাধীনতা—এসব বিষয়ও গণতন্ত্রের অর্ন্তভুক্ত। বাকস্বাধীনতা বা চিন্তা/বিবেকের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের বা গণতন্ত্র চর্চার একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে রাষ্ট্রে বাকস্বাধীনতা বা চিন্তার স্বাধীনতা নাই/সীমাবদ্ধ, সেখানে গণতন্ত্র নাই/সীমাবদ্ধ। মানুষের মত প্রকাশকে উপেক্ষা করে বা সেটিকে স্তব্ধ করে কোনো সরকার-ই গণতান্ত্রিক হতে পারে না এবং গণতান্ত্রিক হওয়া যায় না; মানুষকে চিন্তা করার, কথা বলার ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে; গণতান্ত্রিক চর্চা মানেই ভিন্ন মত-পথ ও ভাবের সমন্বয়।

আমাদের সংবিধানে নাগরিকদের অনেক অধিকার সাংবিধানিকভাবেই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কতোটুকু ও সেসব অধিকার কি মাত্রায় চর্চা হয় তা-ই দেখার বিষয়। সংবিধানের তৃতীয় ভাগ “মৌলিক অধিকার” এর ৩৯(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে “চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল”। (ক)-তে বলা আছে “প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল”। কিন্তু এই অধিকার বাস্তবে কতোটুকু চর্চা ও প্রয়োগ করা হয়? দেখা যায় যে, যারা একটুআধটু ভিন্ন চিন্তাভাবনা করেন তাদেরকে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়ে যায়, যারা সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন তাদেরকে গুম করা হয়। পুলিশ সম্প্রতি আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় গ্রেফতার করেছে ব্লগার আসাদ নূরকে।

সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও ধর্মীয় রাষ্ট্র এক কথা নয়; বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র; এখানে অনেক ধর্মের, অনেক বর্ণের, অনেক আকারের মানুষ আছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের রাষ্ট্র না, যে এখানে শুধু ঐ ধর্মের সব কথা মেনে চলতে হবে বা জনগণকে মেনে চলতে বাধ্য করা হবে। বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের বাহিরে আছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ আরো অনেক ধর্ম। ধর্ম, ধর্মীয় অনুভূতি, ধর্মীয় ভাব, ইত্যাদি মানুষের ব্যক্তিক বিষয়; এখানে আইন-যুক্তিকারণ তেমন একটা চলে না; তাই আপনার কাছে যে ধর্ম অনুকরণীয় অপরের কাছে, তার বিবেক-বিবেচনায়-বুদ্ধিতে সেই ধর্ম পরিত্যাজ্য। তাই আপনার ধর্ম না-মানলেই যে অপরকে গ্রেফতার-নির্যাতন-জেলজরিমানা করতে হবে—এটি একটি অসভ্য, বর্বর ও মধ্যযুগীয় ধারণা। গণতান্ত্রিক সরকার সব মত-পথ-ভাব-আলোচনা-সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নিতে হবে, কেননা একজনের জন্য যা প্রযোজ্য তা অপরজনের জন্য অপ্রযোজ্য হতে পারে; আর তা না-করলে সরকার স্বৈরতান্ত্রিক মনমানসিকতার পরিচয় দিবে।

দেখা যাচ্ছে যে সরকার “ধর্মীয় অনুভূতি” এই পদ ব্যবহার করে খুব সহজেই যারা ভিন্ন চিন্তার মানুষ তাদেরকে গ্রেফতার করছে বা শাস্তি প্রদান করছে; আর এটি সে করছে তার দুঃশাসন-অপশাসন-দুর্নীতি-লুটপাটকে বৈধতা প্রদান করার জন্য। জনগণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষরা আর সরকারের পক্ষে নাই। দেশের সব পাবলিক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, শুধু এই বছরে নিখোঁজ হয়েছেন ৫৬ জন, গত ১১ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩২ হাজার ৫৬ টি, দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানো হচ্ছে—ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতার দিকে সরকার নজর না-দিয়ে তারা ধর্ম অবমাননা বা ধর্ম ও সরকার বিরোধী বিষয়ে যারা লিখছেন, তাদের দিকে নজর দিচ্ছেন, তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে সব শাসনআমলেই এটি দেখা যায় যে শাসকরা যখন দুর্নীতি-অপকর্ম-লুটপাটে ব্যস্ত, ঠিক তখনই তারা ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করে দেয়। তারা নিজেরা কিন্তু ধর্মকর্মের ধারেকাছে থাকে না বা সেসব মানেও না, কিন্তু রাষ্ট্র ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করে দেয় যাতে করে কিছুটা জনসমর্থন ধরে রাখা যায়। ইতিহাসের সব সরকার-ই যখন দেখে তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন করতে ব্যর্থ, তখন ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী উন্নয়ন, মানে রাষ্ট্র ও জনগণের মাঝে ধর্ম ঠুকিয়ে দিয়ে তাদের অনাচার-অত্যাচার-লুণ্ঠনকে বৈধতা প্রদান করে।

বাংলাদেশের সরকারও এখন টিকে থাকার স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, ব্যাংক লুটপাট, গুম, নারী নির্যাতন, বেকারত্ব বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীনতা, ছাত্রলীগের নিপীড়ন ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে সরকারের জনসমর্থন একেবারে তলানিতে; তাই, এখন ধর্মকে ব্যবহার করে তার অপশাসনের বৈধতা প্রদান করছে।
চিন্তা ও বাকস্বাধীনতার ওপর যেকোনো নিপীড়ন বন্ধ হোক, আইন বাতিল হোক।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সৈয়দ মাহী আহমদ
সৈয়দ মাহী আহমদ এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 5 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 9, 2016 - 4:18পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর