নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • দ্বিতীয়নাম
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

কেমন গেল ব্লগার ও ফেসবুকারদের ২০১৭ সাল?


২০১৭ এখনো পুরোপুরি যায় নাই, তাও একটু আগেভাগে লিখি, ২০১৭ ব্লগার ও ফেসবুকারদের জন্য কেমন গেল...

গতবছর বিশ্ব রাজনীতি আর দেশের রাজনীতি অনেক গরম টপিক পাইছিল, এইবছর ছিল অনেক অনেক কম। রামপাল, শিক্ষায় ভ্যাট, তনু, ট্রাম্প, বাংলাদেশ ব্যাংক ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে দেশের সচেতন ব্লগার ও সর্বদা জাগ্রত ফেসবুকবাসী ছিল তুমুল এক্টিভ। এইবার এত গরমকিছুর পরিমাণ ছিল অনেক কম। তবু অনলাইনজগত এমন একটা জগত, যেই জগত হাওয়া থেকে ইস্যু প্রডিউস করে, টুক করে চাঁদ তারা মনিমুক্তা টাইপ ইস্যু পেড়ে আনে।

বছরের শুরু হইছিল মনে হয় এমপি লিটন হত্যার পর আলোচনা দিয়ে। শুরুতে আমার প্রতিক্রিয়া ছিল, দুর্বৃত্তকে মারলো কোন দুর্বৃত্ত? ওর ইস্যুর আসলে গুরুত্বহীন, তবে ক্ষমতাশীনদের জন্য বিব্রতকর ছিল। এরমাঝে ইসলামী ব্যাংক সরকার অগোচরে নিজের করায়ত্বে নিয়ে নিলো, এইটা নিয়া লোকজন তেমন মাতামাতি করে নাই। জামাতের কান্না চোখে পড়ে না ইদানিং, তবে জামাত মরে নাই। আরও ১০০ বছর পরেও জামাত জামাতই থাকবে। তাদের সমর্থনের ভিত্তি ও পরিমাণ প্রায় স্ট্যাটিক থেকে যাবে। এরমাঝে ইমাম শেখকে প্রধানমন্ত্রী চাকরী দিলেন। সে কী আলোচনা সমালোচনা তা নিয়া, বাপরে বাপ। জনতা তারে পাইলট বানাইয়া দিলো। কিন্তু আসলে ইমাম শেখ চাকরী পাইলো কই? কত টাকা বেতনে? এইসব কি কেউ জানে? যারা মজা লইয়া পরে খবর রাখেন নাই, তাদের জানাই। ইমাম শেখের চাকরী হয় বিমান বাহিনী ঘাঁটি মতিউর রহমানে অস্থায়ী পদে, ৭ হাজার ৮০০ টাকা বেতনে।

এরমাঝে ৫৭ ধারায় জানি কাকে ধরছিল, তা নিয়া মাতামাতি। আমিও করছি, ৩০ মিনিট ব্যয় করে পোস্ট লিখছিলাম। কি লিখছিলাম ভুলে গেছি। কারণ, ততক্ষণে সাবমেরিন ইস্যু চলে আসছে। আমি সাবমেরিনের সাপোর্টার হইলাম স্রোতের বিরুদ্ধে গিয়া। বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, যেইখানে আর্মির একটা ডিভিশন হওয়ার আগে নৌবাহিনীর একটা জাহাজ বা সাবমেরিন কেনা দরকার। হাসিনাকে ধন্যবাদ, খালেদাকেও। খালেদা দেখলাম সাবমেরিন নিয়া ফাল দেন নাই। এরইমাঝে হাসিনা ভারত গেলেন, ভেটকি খাইলেন, আরও কী কী জানি খাইলেন। একগাদা চুক্তি করলেন, যা এখন পর্যন্ত জনগণ জানে না। জনতা কেবল জম্পেশ খানাদানার খবর পড়তে থাকলো, মিডিয়া ভর্তি কেবল খানাদানার খবর। আমরা আসলে ব্যাপক ভোজনরসিক জাতি। মিডীয়ার খানাদানা হাইলাইট করা এবং সেই বিনোদনে জনতার ব্যাপক অংশগ্রহণ তাই প্রমাণ করে।

মাঝামাঝি সময়ে শুরু হইল বাহুবলী নিয়া প্যাচাল। কাটাপ্পা কেন বাহুবলীরে মারছিল তা নিয়া ব্যাপক গবেষণা। আমিও আনন্দের সাথে আলাপ আলোচনা করছি, মুভি বাইর হওয়ার পর রিভিউও লিখছি। আমার চোখে এখনও বাহুবলীর আব্বা বাহুবলীর পংখীরাজ নৌকা। চমৎকার একটা জিনিস ছিল। এরপর বনানীতে দুই তরুণী ধর্ষ্ণের শিকার হইলেন। জনতা ভিকটিমদের পক্ষে দাঁড়াইয়া গেল। আমিন জুয়েলার্সের মালিকের সব গেল। বেচারা এখনো বেকায়দায় আছেন। তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। এই ইস্যু শেষ না হইতে হইতেই সুপ্রীমকোর্টের সামনের থেমিসের শাড়ি পরা মূর্তি নিয়া লাগলো ক্যাচাল। মূর্তি সইরা গেল। অনেক আলোচনা সমালোচনা হইল, এরপর মানুষ ভুইলাও গেল।

ব্লগের ও ফেসবুকের যারা একটু উন্নতশ্রেণির, তারা এইসময়ে বিশ্বের খবরাখবরও রাখতেন। তারা সিরিয়ায় রাশিয়ার কারসাজিতে আসাদের পুন্রুত্থান ও ইয়েমেনে সৌদিদের বর্বর বোমা হামলা নিয়াও কথা বলছেন। তাকাইয়া তাকাইয়া কাতারের লগে সৌদি জোটের তামাশা দেখছেন। অনেকে এইটাও বুঝতে পারছেন, যদি টাকা কোনো সমস্যা না হয়, যদি অঢেল সম্পদ থাকে, বন্ধু জুটতে সময় লাগে না। অবরোধে কাতারের কেশাগ্রও স্পর্শ করা যা নাই। এই বছর মাত্র ১২-১৫ লাখের দেশ কাতার যেই পরিমাণ টাকার অস্ত্রের অর্ডার দিছে, তার পরিমাণ বাংলাদেশের দুইবছরের বাজেটের সমান। অর্ডারের অর্ধেক আবার পাইছে আম্রিকা। তুরস্কের ক্যুও মনে হয় এইবছরই হইছিল। আম্রিকার জন্য এইবছরটা ধরা খাওয়ার বছর ছিল। তুরস্কে ধরা খাইল, সিরিয়ায় প্ল্যান বানচাল করলো রাশিয়া। উত্তর কোরিয়া একের পর এক মিসাইল ফুটাইয়া বিশ্বরে টানটান উত্তেজনায় রাখলো এবং রাখতেছে। উত্তেজনা অবশ্য এখন গা সওয়া হইয়া গেছে। ট্রাম্প আর কিন জং উনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের আদানপ্রদান একটা চরম বিনোদনের ব্যাপার। এইদেশের ফেসবুক জনতার বড় একটা অংশ দেখলাম উত্তর কোরিয়াভক্ত। কারণটা কী আম্রিকারে দেখতে না পারা, নাকি বাগাড়ম্বরপ্রীতি?

যাইহোক, এইবছর মায়ানমার টোকাইয়া টোকাইয়া রোহিঙ্গা মারা শুরু করলো। পিলেপিলে রোহিংগা ঢুকলো এইদেশে। আমরা তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা করলাম ও করতে করতে এখনো হয়রান। দুনিয়ার অনেক মানুষ এখন বাংলাদেশের নাম জানে, থ্যাংকস টু রোহিংগাস। কিন্তু এইদেশের কপালে কী শনি আছে কে জানে। এদের মায়ানমার ফেরত পাঠানো প্রায় অসম্ভব, যত চুক্তিই হোক না কেন। আশ্রয় না দেয়া অমানবিক হইত, ক্ষতির কারণ হইলেও আশ্রয় দেয়াটাই ঠিক হইছে কিন্তু দেশ ও জাতির কপালে যে এদের কারনে কী দুর্ভোগ আছে, সময়ে আমরা একটু একটু জানতে পারবো। দুঃখের ব্যাপার হইল, এই রোহিংগা ইস্যুতে মাতামাতি কইরা আমাদের নিজেদের যে মানুষগুলা বন্যায় বৃষ্টিতে, ঢলে কাবু হইল, এখনো অনাহারে দিন কাটাইতেছে, তার খোঁজ তেমন কেউই রাখলো না। এখনও যে মোটা চালের কেজি ৫০ এর উপরে, পেঁয়াজ ১০০ ক্রস করছিল সদর্পে, তার দায় সরকারের যতটা না, তারচেয়ে অনেক অনেক বেশি প্রকৃতির খেয়ালের। জনাব ট্রাম্প, আপনি গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে এইদেশে আসতে পারেন।

এরমধ্যে ষোড়োশ সংশোধনী বাতিলের রায় হইল, প্রধান বিচারপতির বিশালাকার রায় নিয়া অনেক আলোচনা সমালোচনা করলো। বিএনপি জামাত কিছু অংশ নিয়া খুশী হইল, আওয়ামী লীগ হইল বিব্রত, এই বিব্রতভাব বিচারপতিরে গদি থাইকা নামাইয়া দিলো। এই পুরা প্রসেস এক কলংকজনক ইতিহাস। এইসব নিয়া বেশিকিছু বলা যাবে না। আমার ব্যক্তিগত মত হইতেছে প্রধানবিচারপতির রায়টা ছিল যুগান্তকারী। অনেকের পছন্দ হয় নাই, গায়ে লাগছে, কিন্তু বিশ্লেষণ কি যুক্তি দিয়া বাতিল করা যায়? যায় না তো। ষোড়শ সংশোধনী বহাল হবে আবার, এইটা জানা কথা। কিন্তু বর্তমান যে সংবিধান, তার অনেক উপাদানই তো অবোইধ সরকারের মাধ্যমে আসছে। অনেক অশুভ জিনিস ঢুকে গেছে সংবিধানের মধ্যে। মূল সংবিধান কায়েমই যদি উদ্দেশ্য হয়, তাইলে বর্তমান সংবিধানে সংযুক্ত বেশকিছু জিনিসই তো সেই প্রথম সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক।

স্বাধীনতা নিয়া দুইটা জাতির দুর্গতিও দেখলাম আমরা, কুর্দি ও কাতালানদের। এইদেশেও অনেক আলাপ আলোচনা হইছে। পৃথিবীর যেইসকল মানুষ নুন্যতম বিবেক ধারণ করেন, তারা জানেন ও বোঝেন, এই দুইজাতির সাথে অন্যায় হইছে নাকি হয় নাই। মানুষ একটা খাটাশ প্রাণি, দেশে দশের গণতান্ত্রিক, স্বোইরতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক সরকারগুলার মাথাগুলা একেকটা বেজন্মা খাটাশ। ন্যায়সংগত অধিকারের প্রশ্নের তারা নিজস্ব স্বার্থচিন্তায়, কূটনৈতিক মারপ্যাচের কথা চিন্তা কইরা অন্যায় সম্পর্কে চুপ থাকে বা অন্যায়কেই সমর্থন দেয়। জনতার মতামত নিয়া উনারা ও আমরা খাটাশ মানুষেরা তেমন ভাবি না। ভাবি না যতক্ষণ পর্যন্ত না নিজেরা ভুক্তভোগী হই।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনও নানা বিষয়ে উত্তপ্ত ছিল। মনে করতে চেষ্টা করি নিজের চোখে পড়া ইছু ইস্যু। কবি আবু হাসান শাহরিয়ার জানি কি বলছিলেন প্রবাসীদের নিয়া। ভাল ব্যাপার, উনার কিছু পোস্ট পইড়া মনে হইল উনি বালকসুলভ আচরণ করতেছেন। আমি যেহেতু উনারে চিনি না, তাই মাথা ঘামাই নাই। এই ইস্যুতে কবি সাহিতিক সমাজে মেরুকরণ দেখলাম। তবে আবু হাসান সাহেবের সাপোর্টারশ্রেণি কম। আমার নিজের আচরণও অনেকসময় বালকসুলভ হয়, তাই আমি হাসান সাহেবের প্রতি সমব্যথী। আমি উনার মানসিক মংগল কামনা করি। খান আতা রাজাকার নাকি রাজাকার না, মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু সাহেবের বক্তব্য নিয়াও তুমুল আলোচনা, সমালোচনা হইল। আমি কারো সম্পর্কেই খুব ভালো কইরা জানি না। আমি কেবল জানি খান আতার পোলা আগুনের চুরির স্বভাব আছে। আমি মনে করি, এইসব সামান্য বিষয়ে পুরাজাতি যখন এত মাতামাতি করতে পারে, তার মানে তাদের হাতে সময় অঢেল। অনেকটা আমার মতন। আমি নিজেও আতা গাছে তোতাপাখি ইস্যু নিয়া আধঘন্টা খরচ কইরা পোস্ট লিখছিলাম। আরেকটা ইস্যু দেখছিলাম আমার লিস্টে থাকা একজনরে নিয়া। ব্রাত্য রাইসুকে ঢাকা ক্লাব থেকে না খাইতে দিয়া বাইর কইরা দিছিল। রাইসু সম্ভবত এইধরণের ঘটণা উপভোগ করেন। আমি আগামাথা খুব বেশি বুঝি নাই। কেবল দেখলাম রাইসু দুই-তিনদিন ধরে পোস্ট দিচ্ছেন মনের আনন্দে। উনি আনন্দে না থাকলেও দিনে ১০-২০ টা পোস্ট এমনিই দেন, সেই সুযোগ ছাড়তেন কেন? উনার সাপোর্টারেরাও দিলেন, নাদিয়া ইসলাম নামের একজন দেখলাম কারো কারো নারীপ্রীতি, কেমন পারভার্ট তার নমুনা জনসম্মুখে তুলে আনতেছেন। যার ও যাদের বিরুদ্ধে আনছেন, কিছু কিছু জিনিস বিশ্বাস করলেও তাদের প্রতি আমার আচরণ পাল্টানোর মানে দেখি না। পুরুষের দৃশ্যমান ও নারীর অদৃশ্য আলুর দোষ একটা স্বাভাবিক জৈবিক ব্যাপার, ইহা নারীপুরুষ সবার মাঝে কমবেশি বিদ্যমান। আমি নিজেও প্রাণপণে চেষ্টা কইরা এর বাইরে যাইতে পারি কই? ক্ষণে ক্ষণে পতনের ভয়ে থাকি। ব্যক্তিগতভাবে এইবছর আমারও পতন উত্থান, পতন উথানেরই বছর ছিল। কিছু ফ্রিক পাবলিকরে জানলাম এইবছর, নিজেও সাইকোগিরি চালাইছি সময়ে অসময়ে। অবশ্য সবই নিজের সাথে। সাহিত্য সংস্কৃতি মিডিয়া সংশ্লিষ্ট আলোচনা সমালোচনার সর্বশেষ ছিল ফারুকী সাহেবের ডূব নিয়া। তিশা বান্ধবী, তুমি ও তোমার জামাই ভন্ডামি বাদ দিও, ওকে? সত্যবিচ্যুত, মনগড়া বায়োপিক বানাইছো, ঠিক আছে। জাস্ট আমকে আম বইলো, বইলো না যে আম হইলো পেপে আর লিচুর ক্রস, সম্পূর্ণ নতুন আবিস্কার। তোমার জামাইয়ের চেয় কাজী হায়াত বেশি সৎ, তার পোলা কাজী মারুফো কম সমালোচনা ও ট্রলের যোগ্য।

মাসখানেক আগের সর্বশেষ ইস্যু রংপুরে অগ্নিসংযোগ, এরপর আনিসুল হকের মৃত্যু। আনিসুল হক ঢাকার চেহারা বদলাইতে পারেন নাই, ব্যর্থতা ছিল, কিন্তু উনি চেষ্টা করছিলেন অবশ্যই। এইদেশে যারা উনার সমালোচনা করতেছ৪, সেইসব চ্যাটেরবালদের প্রিয় মেয়রেরা এর আগে কি কইরা গেছিলেন জানতে ইচ্ছা করে। হাজার হাজার বিলবোর্ড জঞ্জাল তো অন্তত উনি সরাইছেন। এর হুমকি তার ধামকি তোয়াক্কা না দিয়া অনেক রাস্তাঘাট ফুটপাথ তো অন্তত ফাঁকা করছেন। ঢাকা উত্তর আর ঢাকা দক্ষিণের চেহারাসুরতের পার্থক্য বলে যে উনার জন্য মানুষের শোক ঠিক আছে। অন্ততঃ মানুষজনের সাথে সুন্দর করে কথা তো বলছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতায় উনি অন্যদের থেকে অনেক অনেক ভাল ছিলেন। আনফেয়ার নির্বাচন যদি হয়ও, তাও সেই নির্বাচন ভাল ছিল। একজন পাপেট তাবিথে, যারে ঢাকাবাসী চিনে না। বাপের পরিচয়ে টাইনা আইনা ইলেকশনে দাঁড় করানো হইছিল, তার থেকে একজন আনিসুল হক ছিলেন বহুগুণ ভাল। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ সাহেবও ভাল। কিন্তু উনার মন্ত্রনালয় ব্যর্থ, প্রশ্ন ফাঁসের ছড়াছড়ি। উনি আর কতটুকুই বা করতে পারবেন, সময়ের সাথে তাল মিলাইয়া দেশ আগাইছে, নতুন নতুন প্রযুক্তির আমদানী হইছে। প্রশ্ন ফাস করা সহজ হইছে আরও। কিছু প্রযুক্তির সুবিধা নিয়াই প্রশ্ন ফাস এড়ানো কতটা সহজ হইতে পারে তা উনার মন্ত্রণালয় ভাবতেছে না। সময় ও খরচ দুইটাই বাচতো যদি সরকারের সদিচ্ছা আর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়া কাজ করা মাথাদের মাথায় কিছু থাকতো। হাজার রকম সলুশন সামনে আছে, উনারা কখনো পড়ে দেখছেন কি? ২০১৭ সালে আইসা ১৯৪৭ সালের ব্রিটিশ পদ্ধতিতেই কেন প্রশ্ন প্রণয়ন ও বিতরণ করতে হবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে আমার থ্রী কোয়ার্টার খু গে।

বছরশেষে রংপুরের ইলেকশন ভাল হইছে। মূলা ঝুলাইতে এই ইলেকশন আইওয়াশ নাকি কে বলবে। আমি মনে করতেছি বর্তমান সরকার ইলেকশন কমিশনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখাইতে চায়। আসল ইলেকশনের সময়ও গ্রহণযোগ্য থাকলেই হয়। এই একবছর হওয়া উচিত আওয়ামী লীগের জনগনের জন্য কাজ করবার বছর। নাইলে এইদেশের জনতা যেমন, বিএনপি জামাতের সাথে থাকুক আর আইএস এর দেশি শাখার সাথে, বিএনপিরেই জিতাইয়া দিতে পারে। আশা করব, অন্তত সেইটা এড়াইতে হইলেও চাটুকার, ক্যাডার, পাতি ও হাতিনেতাদের হাত মুখ সামলাইয়া ভালভাল কিছু কাজ করবে। নাইলে পরের নিরবাচনে জিতলে হইলে থাকতে হবে তাবেদার ইলেকশন কমিশন ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভরসায়। নির্বাচনে ওইভাবে জেতা যাবে, কিন্তু দেশ, জাতি ও দলের ভবিষতের জন্য ওইসব ভাল হবে না।

২০১৮ আসতেছে। প্রাপ্তবয়স্ক সংখ্যা নির্দেশক বছরে দেশ ম্যাচিউরিটির দিকে যাত্রা শুরু করুক। আমি ও আমার মত ব্লগার, ফেসবুকার যারা আছেন, তাদেরও মানসিক উন্নতি ঘটূক আরও অনেক। আগামিবছর দেশের তালগাছ, আমড়াগাছ, কাক, উইপোকা, চড়ুই পাখি, ঘড়িয়াল, বনবিড়াল সহ নাকবোচা, নাক উন্নত, কালা ধলা শ্যামলা, আওয়ামী বিম্পি হেফাজতি সকল উদ্ভিদ, প্রাণি ও মানুষ সুখে থাকুক।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 ঘন্টা 14 min ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর