নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মিশু মিলন
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ধর্মীয় মৌলবাদ ও বাংলাদেশের বাক স্বাধীনতা।



ধর্মীও অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কিছু বলা যাবে না, এই কথা বাংলাদেশের ১৮ বছর বয়সী কোন ইন্টারনেট ব্যবহারকারির না জানার কথা নয়। বরং তার থেকে কম বয়সের যে সমস্ত ইউসার আছে তারও এটা খুব ভালো করেই জানে যে এই কাজটি করা ঠিক নই। তবে কথা হচ্ছে আমরা কি সঠিক ভাবে বুঝতে পারছি আসলে কোন অনুভূতির কথা বা কোন স্বাধীনতার কথা এখানে বলা হচ্ছে ? বাংলাদেশ হচ্ছে ৮৯% মুসলমান নাগরিকের দেশ তাই অন্য ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করেন অসুবিধা নেই তবে ইসলাম নিয়ে কথা বলা যাবেনা কারন তারা এই দেশে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছে এরকম ধারনা আসলে সবার মধ্যেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আর যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারনা থেকে থাকে তাহলে সরকার কেন এই থেকে পিছিয়ে থাকবে তাইনা। তাইতো সরকার সেই ৮৯% মডারেট মানুষদের খুশি করার জন্য এমন কিছু আইন করে দিয়েছে যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি্র নামেই একটি প্রজন্মকে বোবা বানিয়ে রাখা হয়েছে।

আমি বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘আওয়ামী লীগ’ কে বলতে চাই, আপনারা যে বাংলাদেশের বাইরে অর্থাৎ বহিঃবিশ্বে মানুষের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বোঝাবার চেষ্টা করেন “বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও সেক্যুলার কান্ট্রি” তার এখন কি হলো ? সম্প্রতি আইসিটি এক্টের অধীনে ৫৭ ধারায় একটি অনলাইন এক্টিভিস্ট যে একজন ভিডিও ব্লগার ছিলো যার নাম ‘আসাদ নূর’ তাকে এই ধারায় আটক করে বাংলাদেশ কি প্রমাণ করলো। এপর্যন্ত বাংলাদেশের নিউজ মিডিয়া এই বিষয়ে যতটা না প্রকাশ করেছে তার থেকেও বেশি দেখলাম আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়া খবর প্রকাশ করেছে “Blogger arrested at Dhaka airport Bangladesh in case filed under ICT act” এই শিরোনামে। এতেকরে কি বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশ একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে না এই সংবাদে এটা প্রামণিত হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার একটি ধর্মীয় মৌলবাদী সরকার যারা মানুষের বাক স্বাধীনতা রোধ করছে।

একটা কথা এখানে না বললেই নয় যেটা শুনতে খারাপ লাগলেও সত্য কথা, আসলে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্টরা আদৌ জানে না ধর্মীয় মৌলবাদ কি জিনিস। যদি তাই জানতো তাহলে তারা এই ৫৭ ধারার মতো কোন একটি আইনকে বৈধ করে দেশের সাধারণ জনগন ও বর্তমান প্রজন্মের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতো না। এই বিষয়ে খুব গভীরে গিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না কারণ বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নতুন প্রজন্ম এবং প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ ও সেক্যুলার বলে পরিচয় দিতে চাইনা বলে জানিয়েছিলেন বহু পুর্বে। বাংলাদেশের মধ্যে চলতি বছরের কোন একসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছিলো যদিও এই সরকার বহিঃবিশ্বে বলে থাকে বাংলাদেশে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও সেক্যুলার দেশ। আগেই বলেছিলাম ধর্মীও মৌলবাদ কি জিনিস সেটা মনে হয় এই দেশের অনেকেই জানেনা তাই সেটা নিয়ে দুইটা কথা বলে শেষ করবো।

আমাদের দেশে আসলে দুই প্রকৃতির মানুষ আছে। যাদের একদল আসলে একেবারেই অযৌক্তিক কোন কিছুর উপরে ভরসা করে বসে থাকে তাদেরকেই মূলত আমরা মৌলবাদী বলে থাকি। মৌলবাদ হচ্ছে বাস্তব বর্জিত, অর্থহীন, যুক্তিহীন, বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ভাবনাহীন, নৃতত্ব, সমাজতত্ব, বিবর্তনাবাদ সম্পর্কে একাবারেই জ্ঞানহীন, প্রচার ও প্রসারহীন, অসুস্থ এবং গোড়ামী ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন একটি মতবাদ। আর এই মতবাদে যারা মনে প্রানে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে থাকে তারাই হচ্ছে আসলে মৌলবাদী এই জন্যই আমি সবার আগেই বলেছিলাম যারা আসলে অযৌক্তিক কোন কিছুর উপরে ভরসা করে বসে থাকে তাদেরকেই আমরা মূলত মৌলবাদী বলে থাকি। এদের জন্য সব থেকে লজ্জার কথা হচ্ছে এই ধর্মীয় মৌলবাদীরা আসলে তাদের জীবন ধারন করে থাকে সভ্যতার বিজ্ঞান ও বর্তমান কালের সকল বৈজ্ঞানিক সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে। কিন্তু তারাই আবার শতশত বছর আগের কিছু অযৌক্তিক ধর্মীয় রীতি-নীতি চালু করতে চাই এই বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় যা বর্তমান যুগে পুরাপুরি অযোগ্য ও অচল বলে প্রামাণিত।

যারা এই অচল সমাজ ব্যবস্থা আর সহস্রাব্দবছর আগের কিছু অবৈজ্ঞানিক ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অস্ত্বিত্বহীন কিছু ধর্মবিশ্বাস যে কোন প্রক্রিয়ায় (সেটা হোক কাউকে হত্যা করে) সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠা করতে চাই তারাই হচ্ছে ধর্মীয় মৌলবাদী। এদের সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে এই মৌলবাদীরা তাদের ধর্মের দোহায় দিয়ে একটি গনতান্ত্রিক দেশের মধ্যে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে বিভিন্ন ভাবে বাধা দিয়ে থাকে। তারা সাধারন মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা রোধ করে। একটি মানুষ কি চিন্তা করতে পারবে আর কি চিন্তা করতে পারবে না তা তারা নির্ধারন করে দিতে চায়। সাধারণ মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশে তারা বাধা দিয়ে থাকে। একটি মানুষ কোন বিষয়ে তার মতামত দিতে পারবে আর কোন কোন বিষয়ে তাদের মতামত দিতে পারবে না তারা তা নির্ধারন করে দিতে চায়। এই ধর্মীয় মৌলবাদীদের আরেকটি খারাপ দিক হচ্ছে তারা সাধারণ মানুষের ব্যাক্তিগত আচার আচরনের কোন স্বাধীনতা দিতে চায়না অথবা একজন মানুষের ব্যাক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দ করার অধিকার তারা দেয়না।

আসলে এই ধর্মীয় মৌলবাদ এমন একটি মতবাদ যা আমাদের দেশের ও সমাজের শিরাই উপশিরাই মিশে আছে এই মতবাদের এরকম হিসাব দিয়ে শেষ করা যাবেনা যা কেন বর্তমান যুগের মানব সভ্যতার জন্য ক্ষতিকারক। এই মতবাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনি যত গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ই উপস্থাপন করুননা কেন যতক্ষন পর্যন্ত এই মৌলবাদীদের স্ব স্ব ধর্মের কথিত ধর্মীয় ঐশরিক কিতাবের সাথে না মিলবে ততক্ষন আপনার কথার কোন অস্তিত্বই এই বাহীনি স্বীকার করবেনা। কারণ এদের এমন একটা ধারনা সেই শিশুকাল থেকেই দেওয়া হয়ে থাকে যেখানে বলা হয় ‘সবকিছুই ধর্মগ্রন্থে রয়েছে’ টাইপের কথা। এবং তারা বিশ্বাসও করে তাই। সেই সাথে এই মনভাবের কারনে তাদের ধারনা ধর্মগ্রন্থে যা নেই তা মানুষের জীবনেও দরকার নেই। এই ধর্মীয় মৌলবাদীদের মধ্যে মুসলিম মৌলবাদীদের উদ্দেশ্য পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই খিলাফত শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই খিলাফত শাসনের মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহ আইনের অধীনে সম্পুর্ণ রাষ্ট্রকাঠামো পরিচালনা করা। কিন্তু এই মৌলবাদীদের হাভভাব দেখে আপনার মনে হবে তারা কিছুই জানেনা যে এই শরিয়াহ আইন আর খিলাফত শাসন বর্তমানের আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্র বলে পরিচিত রাষ্ট্রকাঠামোর একটি স্বাভাবিক ধারনার সম্পূর্ণ বিপরীত ও সাংঘর্ষিক।

---------- মৃত কালপুরুষ
২৮/১২/২০১৭

Comments

পার্থিব এর ছবি
 

আহা মুক্তমনা, প্রগতিশীল আসাদ নুর কোরান শরীফের উপর পেশাব করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেটি আর করা হল না। এখন জেলখানাতে পুলিশের ডান্ডার বাড়ি খেতে হচ্ছে।

আসাদ নুরের পেশাবের ভিডিও-
https://www.youtube.com/watch?v=M6if5N7U9XE

 
পার্থিব এর ছবি
 

আসাদ নূর গ্রেফতারের নেপথ্য কাহিনী-

মুক্তমনা আসাদ নূরের সম্প্রতি তার বান্ধবীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক, নারী নির্যাতন আর চাদার টাকা (যে টাকা বিদেশ থেকে নাস্তিকদের পাঠান হয়) ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা হয়। ভারতে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় । ভারতে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে হানা দেয়। সেখান থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসাদ নুর দেশে পালিয়ে আসে। এ কারনে আসাদ নুরকে গ্রেফাতার করে পুলিশ।

নীচের ভিডিও থেকেই সব পরিষ্কার হবে। কেচো খুড়তে কিন্তু সাপ বেরিয়ে আসছে-

https://www.youtube.com/watch?v=8Dr0A4n8zTk

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 2 দিন ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর