নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কিন্তু
  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

হিট্টাইট সাম্রাজ্য, উপমহাদেশের সাথে মিটান্নি সাম্রাজ্যের সংযোগ, সিন্ধু সভ্যতা এবং বর্তমান সভ্যতায় অতীতের সংযোগ


একবিংশ শতক চলে। মানুষ এখন অতীতের অনেককিছু জানে, ভবিষ্যতের গতিবিধি আন্দাজ করে। গতশতকে করা অনেক ভবিষ্যতবাণী যেমন সত্য হয়ে গেছে। মুরস ল অর্ধশতাব্দি ধরে সত্য বলে প্রমাণিত হয়ে আসছিল। এখন মাইক্রোচিপের অগ্রগতি স্যাচুরেশন লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, একসময় অভিনব প্রযুক্তির কিছু না আসলে মুরস ল বাতিল হয়ে যাবে যদিও।

এতকিছু মানুষ জেনে গেছে। তারপরও মানুষের জানবার সীমা আসলে কতটুকু? বিজ্ঞানের শেষ সীমা কী? সৃষ্টিরহস্য জানাই কি বিজ্ঞানের সর্বশেষ উদ্দেশ্য? সম্ভবত তাই। তবে এতকিছু জানবার পরেও মানুষ আসলে জ্ঞানের সামান্যতম অংশও নিজের আয়ত্বে আনতে পারে নি। অতীত ইতিহাসই বা মানুষ কতটুকু জানে? নতুন নতুন অনেক পুরাতাত্বিক সাইট আবিস্কৃত হচ্ছে। সুপ্রাচীন শিলালিপির স্তুপ জমছে, পাঠোদ্ধ্বাদের অপেক্ষায় হায়ারোগ্লিফিক কিংবা কিউনিফর্ম স্ক্রিপ্টের স্তুপ জমছে। উদ্ধার হওয়া বা মানুষের সামনে আসা এসব ইতিহাসের সামান্যতম অংশও মানুষ এখন পর্যন্ত পড়ে শেষ করতে পারে নি। যেমন, কিউনিফর্ম স্ক্রিপ্ট মানুষের হাতে আছে প্রায় লাখ পঞ্চাশেক, এখন পর্যন্ত পাঠোদ্ধার করা হয়েছে মাত্র লাখখানেকের। এই ধীরগতির কারণ এসব লিপির পাঠোদ্ধারে সক্ষম বিশেষজ্ঞের সংকট। সারা দুনিয়াতে মাত্র শখানেক মানুষ আছেন যারা এসব পাঠোদ্ধারে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। সব যে পারছেন তেমনও না। অনেক লিপির পাঠোদ্ধার করতে শতাব্দি পার হয়ে গেছে। অজানা লিপি ডিকোড করা খুবই কঠিন কাজ। এসবের জন্য যে পরিমাণ পূর্ব ধারণা, জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন, তেমন মানুষ দুনিয়াজুড়ে খুব কম। এসবের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ খুব খুব কম। তবু কিছু মাথাখারাপ মানুষ নেশাগ্রস্থের মত রাতদিন কাজ করেন।

আমি নিজেই যখন হিট্টাইট এম্পায়ারের রাজকীয় আর্কাইভে হাজার হাজার লিপি পাওয়ার কথা জানলাম, মনে হচ্ছিল কয়েকটা জীবন এইসব পড়েই কাটিয়ে দেয়া সম্ভব। আর যারা ইতিহাস ভালবাসেন, এই কাজ যাদের পেশার চেয়ে নেশাই বেশি, তাদের আগ্রহের পরিমাণ আন্দাজ করি। আফসোস, মানুষের আয়ু কম, সক্ষমতা কম। যুদ্ধসরঞ্জাম উৎপাদনে যতটা খরচ করা হয়, জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য, নিজেদের অতীত জানবার জন্য তার সামান্য অংশ ব্যয় করা হয়। কিন্তু মানবজাতির উন্নতির জন্য আগে তো দরকার শিক্ষা, জ্ঞানবিজ্ঞানের উৎকর্ষসাধন করা। মানুষ নিজের মঙ্গলের জন্য কোনটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটা বুঝেও বোঝে না।

অনেক ইতিহাস এমন, নিজেকে সেই পরিস্থিতিতে, সেই প্রাচীন চরিত্রে বসিয়ে দেখতে ইচ্ছা করে। গতবছর একটা ছোটগল্পের মত লিখি, হিট্টাইট বা হিট্টি সম্রাট মুরসিলির লাইফলাইন থেকে কিছু নিয়ে, কিছু কল্পনা থেকে। হিট্টাইট কোডগুলো চরম, আমাদের আইনকানুন যেমন পরিবর্তিত হয়, তাদের নানা লিপিবদ্ধ আইন পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মধ্যে দিয়ে যেত। সেসব পরিবর্তনের ট্র্যাকও রাখা হতো। এসবের বাইরে মাঝে মাঝেই চমকে যেতে হয়। হিট্টাইট রাজধানী হাট্টুসোর অবস্থান মোটামুটি বিরান জায়গায়। হিট্টাইট সভ্যতার পতনের পর তাদের রাজধানীর আশেপাশে আর কোনো সভ্যতা বা বড় নগর গড়ে ওঠে নি। তারা যখন রাজধানী ত্যাগ করে, সম্ভবত নিজেদের সাম্রাজ্যে সিভিল ওয়ারের কারণে, তখন সম্পূর্ণ রাজধানী পুড়িয়ে দিয়ে যায়। সিস্টেমেটিক এভাকুয়েশন ছিল অনেকটা।

কেন হিট্টাইটরা এমন বিরান অঞ্চলে রাজধানী করেছিল। ওরা কি স্থানীয় কেউ ছিল, নাকি বহিরাগত কেউ? এর উত্তর পাওয়া যায় তাদের লিপি থেকে। বহুবছর লেগে যায় এই লিপির পাঠোদ্ধারে। একসময় এক চেক ভাষাবিদ এই লিপির পাঠোদ্ধার করেন। শুরুতে তিনি একটি শব্দ আলাদা করতে সক্ষম হন। তিনি "নিনদা-অন" বা ব্রেড শব্দটাকে আলাদা করতে পারেন একটি লিপি নিয়ে কাজ করবার সময়। উনি লিপির বিন্যাস থেকে তার সাথে প্রাচীন ইন্দো-ইউরোপিয়ান লিপির সংযোগ খুঁজে পান, যেমন ইংরেজী বা জার্মান লিপি। উনি আন্দাজ করেন, যেহেতু খাবারের নাম আছে, সেহেতু পুরো বাক্যটিতে খাওয়া বা পান করা জাতীয় কিছু থাকতে পারে, তিনি ওয়াটার আলাদা করতে সক্ষম হন, অনেকটা "ওয়া-আ-টার-মা"র মত করে ছিল, প্রাচীন জার্মান ভাষার ওয়াটার বা পানির সাথে অনেক মিল। নু মানে নাও বা এখন, এ-এত-জা মানে প্রাচীন জার্মান ইট বা খাওয়ার কাছাকাছি, পান করার কাছাকাছি কিছু খুঁজে পান, "এ-কু-উ-টেই-নি" তে, যা ল্যাটিন Aqua'r কাছাকাছি ছিল যার মানে তিনি ধরে নেন To Drink বা পান করার কাছাকাছি কিছু। তিনি পুরো বাক্যটিকেই এভাবে পাঠোদ্ধারে সক্ষম হন। বাক্যটি ইংরেজী করলে দাঁড়ায়, "নাও ইউ উইল ইট ব্রেড, ফারদার ইউ উইল ড্রিংক ওয়াটার।" যার হিট্টাইট রূপ ছিল, "নু নিনদা-অন এ-এত-জা আত-তে-য়া ওয়া-আ- টা র-মা এ-কু-উ-টেই-নি" এখান থেকেই জট খুলে যায়। এই একটা বাক্য ডিসাইফার করবার পর সমগ্র রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। তিন-চার হাজার বছর পুরোনো ইতিহাস সামনে চলে আসে। মানুষ রোমান বর্ণনা, বাইবেলের বর্ণনা, ইজিপশিয়ান হায়ারোগ্লিফিক লিপির বর্ণনা থেকে আন্দাজ করতো বর্তমান তুরস্কের ওই অঞ্চলে একটা শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল, একটা মিসিং এম্পায়ার। সেই মিসিং এম্পায়ার সামনে চলে আসে হুট করে। আর রাজকীয় আর্কাইভ থেকে জানা যায় খুবই সুলিখিত হিট্টাইট ও সমসাময়িক ইতিহাস। যেহেতু তাদের ভাষা এশিয়া মাইনরের স্থানীয় ভাষা ছিল না, বরং ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষাবংশের বলে প্রমাণিত, তাই নিশ্চিতভাবে ধারণা করা যায় এই হিট্টাইটরা স্থানীয় কেউ ছিল না। ইউরোপ বা অন্য কোনো অঞ্চল থেকে এই বিরান অঞ্চলে এসে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তারের কাজ শুরু করে। হিট্টিদের কিছু অদ্ভুত ট্যাবুও ছিল। রাজরক্তের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করতো তারা। নিজ পরিবারের কাউকে হত্যা করে ক্ষমতা দখলের চিন্তাও তারা করতো না। রাজা মারা গেলে কে পরবর্তীতে সিংহাসনে বসবে, সেটার জন্য আলাদা ডিক্লারেশন ছিল। শতবছর ধরে যা মানা হয়েছিল। সে অন্য গল্প, অনেক অনেক কৌতূহলোদ্দীপক হবার কথা তাদের কাছে, যাদের এসব পড়তে ভালোলাগে। যাদের ভালোলাগে না, তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। কতকিছু না জেনেই আপনারা একদিন নিভে যাবেন।

যাইহোক, হিট্টাইট এম্পায়ারের পাশে ছিল মিটান্নিয়ান সাম্রাজ্য। নাম দেখে আগ্রহ জাগবার কারণে পড়া শুরু করি। এই মিটান্নিয়ানরাও ছিল হিট্টাইটদের প্রতিদ্বন্দ্বী। হিট্টি সম্রাট সাপ্পিলিউলুমিয়ার সাথে মিটাইট সম্রাট সাত্তিওয়াজা বা সপ্তমেধার শান্তিচুক্তি হয় প্রায় সাড়ে তিনহাজার বছর আগে। এই শান্তিচুক্তিতে মিটাইটদের দেবদেবীদের নাম ছিল। যাদের মধ্যে কিছু নাম হচ্ছে মিত্র, বরুণ, ইন্দ্র, অশ্বিন, ইত্যাদি। হিন্দু দেবতাদের নামের সাথে কী অদ্ভুত মিল, তাই না? অনেকে বলেন উপমহাদেশের আর্যরা এসেছিল এশিয়া মাইনর থেকে। আর্য মানে, ব্রাক্ষণ বা উচ্চশ্রেণির যারা। তারা কি প্রাচীন মিটান্নি থেকে এসেছিল? তাদের স্ক্রিপ্ট দেখছিলাম, প্রাচীন বেদিক বা ব্রাহমী স্ক্রিপ্টের সাথে অদ্ভুত মিল আছে। সিন্ধু বা ইন্দাস ভ্যালি সভ্যতার স্ক্রিপ্টের সাথেও ব্রাহমী স্ক্রিপ্টের মিল আছে। অফটপিক, তবুও জেনে নিজের ভালোলাগলো, তাই বলি। বিখ্যাত নেফারতিতি আসলে ছিলেন একজন মিটান্নিয়ান রাজকন্যা। ইজিশিয়ান অরিজিনের কেউ নন।

একসময় ভাবতাম ইন্দাস ভ্যালি সিভিলাইজেশন, বা মহেঞ্জোদারো-হরপ্পান সভ্যতার সময়ে যারা ছিল, তাদের মাঝেই হয়ত আছে হিন্দু ধর্মের বীজ। কিন্তু মিটান্নিয়ানদের সম্পর্কে জেনে মনে হচ্ছে হিন্দু ধর্মের দেবদেবতা, রীতিনীতি সহ বহুকিছু এসেছে মিটাইটদের কাছ থেকে। সাম্রাজ্যের পতনের পর তারা যখন অন্যদিকে ছড়ীয়ে পড়ে, তখন কি কেউ এই উপমহাদেশের সিন্ধু অববাহিকায় এসেছিল? অনেক তথ্য উপাত্ত সেই সম্ভাবনাকে জোরালো করে। ইন্দাস ভ্যালি সিভিলাইজেশন কিছুকিছু দেবতাকে আবার কিছু হিন্দু দেবতার প্রাচীন রূপ মনে করা হয়, যেমনঃ শিব, পশুপতি, ইত্যাদি। তাদের ভাষা ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষাবংশের ছিল না, ছিল প্রোটো-দ্রাবিড়। দক্ষিণ ভারতের নানা ভাষার বিবর্তন এই প্রোটো-দ্রাবিড় থেকে। কার সাথে তাহলে কি মেলাবো? হিন্দু ধর্মের উৎপত্তি তাহলে কোথা থেকে? আসলে এই প্রশ্নটাই ভুল। আমরা হয়ত জানবার চেষ্টা করতে পারি এই উপমহাদেশের সভ্যতা কাদের কাদের দিয়ে প্রভাবিত হয়েছিল। হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে ভারতীয় সুপ্রীমকোর্টের একটা রুলিং আছেঃ

"When we think of the Hindu religion, unlike other religions in the world, the Hindu religion does not claim any one prophet; it does not worship any one god; it does not subscribe to any one dogma; it does not believe in any one philosophic concept; it does not follow any one set of religious rites or performances; in fact, it does not appear to satisfy the narrow traditional features of any religion or creed. It may broadly be described as a way of life and nothing more."

হিন্দু ধর্ম আসলেই কেবল একটা ওয়ে অফ লাইফ। যা প্রভাবিত যুগে যুগে নিজেদের মধ্যে গ্রহণ করা নানা অনুঘটকের মাধ্যমে। ভারতের নানা রাজ্যেও হিন্দুদের মধ্যে দেব দেবতা, রীতিনীতি, বিশ্বাসের নানা অনুষঙ্গে কি পার্থক্য দেখা যায় না? একবার ভারতীয় এক বন্ধুর কপালে আড়াআড়ি তিলক দেখে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "এই আড়াআড়ি তিলক আর লম্বালম্বি তিলকের মানে কী? একেকজন একেকভাবে কপালে এরকম আঁকছ কেন?" সে বলেছিল, "আমি বিষনুর আর ও শিবের উপাসক। এই কারণে আলাদা আলাদা।" কোনটা যে কী ছিল, সেটা হুবহু মনে নাই। দেবী দূর্গার পূজা পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশে যেভাবে হয়, অন্য অনেক রাজ্যে হয়ত সেভাবে জানেই না, তারা গুরুত্ব দেয় অন্য কোনো দেবদেবীকে।

মিটান্নিয়ান বা মিটাইটদের নানাকিছুর নামকরণের মধ্যে ইন্দো-আরিয়ান ধারার প্রভাব দেখা যায়। তারা কি আমাদের সংস্ক্রিতির খুব খুব কাছের কেউ ছিল? হয়ত হ্যা, হয়ত না। কে দেবে সে উত্তর? মিলিয়ন মিলিয়ন স্ক্রিপ্ট পাঠোদ্ধারের অপেক্ষায়। আরও কত হাজার বছর যে লাগবে! মিটাইটোরা এক কে বলতো, আইকা, সংস্কৃতে একা), তেরা মানে তিন বা থ্রি বা ট্রাই, পাঞ্জা মানে পঞ্চ বা পাঁচ, সাত্তা মানে সপ্ত বা সাত। তারা যোদ্ধাদের বলতো মৌর্য, সংস্কৃতেও সম্ভবত তাই বলে। মিটান্নি রাজাদের নাম দেখে মনে হচ্ছিল প্রাচীন ভারতের রাজাদের নাম। কিন্তু কোথায় সিরিয়ার কাছাকাছি অঞ্চলের মিটান্নি আর কোথায় ভারতবর্ষ? ব্যাপারগুলো কি বিভ্রান্ত করে, নাকি পরিস্কার ইঙ্গিত দেয় পারস্পরিক গাঢ় সম্পর্কের?

মানুষ বলতে কিভাবে শিখল? প্রথম বলাটা সম্ভবত বিশেষ ইংগিত বোঝাতে চলে আসে। সেখান থেকে ভাষা হলো কেমন জটিল বিবর্তনে। এরপর ভাষার লিখিত রূপ, যা আবার শুরুতে ফোনেটিক ছিল না। হায়ারোগ্লিফিক টাইপের চিত্রলিপি ছিল। চাইনিজদের ভাষা সম্ভবত ফোনেটিক না। ওরা যখন লেখে, তখন চিত্র কল্পনা করে, বিশেষ দৃশ্য ফুটে ওঠে। এ কারণে, চাইনিজরা যখন বিশুদ্ধ ফোনেটিক ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে, তখন বলতে গেলে ভেঙে ভেঙে বলে। ফ্লুয়েন্সি থাকে না। ঠিক বললাম, নাকি ঠিক বললাম না? একসময় ফোনেটিকসের একটা কোর্স করেছিলাম, জঘন্য পারফরম্যান্স ছিল, আমার রেজাল্ট সারাজীবনই জঘন্য। এরপর চাইনিজ ভাষা নিয়ে এক বন্ধুর কাছে জ্ঞান পাই, চায়নাতে ছিলামও বেশকিছুদিন। মনে হয় মিথ্যা বলছি না।

মানবসভ্যতার বিবর্তন অদ্ভুত। একেবারে আলাদা আলাদাভাবে নানা স্থানে সভ্যতা বিকশিত হয়েছে। ইউরোপিয়ানদের কাছাকাছি আসবার আগে আমেরিকায় ইনকা এবং মায়া সভ্যতার স্বকীয় বিকাশ হয়। ইনকা সভ্যতায় ভাষার লিখিতরুপ ছিল না। তাদের অনেককিছুই আমরা জানি না। মায়া সভ্যতার বেশিরভাগ অমূল্য গ্রন্থ্য, জ্ঞান বিজ্ঞান ধর্মের সহস্র বছরের সংকলন স্প্যানিয়ার্ড খৃষ্টান এক ধর্মযাজকের নির্দেশে পুড়িয়ে ফেলা হয়। রয়ে গেছে খুব খুব সামান্য অংশ, যদি না এরপরেও আরও কিছু খুঁজে বের করা না যায়। তারপরেও তাদের সভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে যা জানা যায়, তা ঈর্হনীয়। ২০ ভিত্তিক তাদের গণনপদ্ধতির নানা দিক দেখে মুগ্ধ হচ্ছিলাম। তারা শূন্যের ব্যবহার জানতো একদম বিচ্ছিন্ন থেকেও। যেটা বিশ্বের মূল জনপদের মানুষগুলো আয়ত্বে এনেছে মাত্র হাজারখানেক বছর আগে। আফ্রিকার একেবারে নিচের দিকেও কিছু প্রিমিটিভ স্বকীয় সভ্যতার বিকাশ ঘটোছিল। এশিয়া, ইউরোপ এসব অঞ্চল স্থলভূমিদিয়ে সংযুক্ত ছিল বলে সভ্যতার নানা উপাদানের স্থানান্তর হয়। সবগুলোরই আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। আবার অস্ট্রেলিয়া ও আশেপাশের মানুষ কি সভ্যতার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল না? হচ্ছিল তো। হয়ত সময় লাগতো বহু বহু সহস্র বছর। আর বর্তমান সভ্যতা একীভূত। অনেক প্রযুক্তি নানা জাতি অন্যের কাছে পৌঁছে দেয় না। তবে মূল ব্যাপারগুলো সবাই জানে।

পদার্থবিদ্যা সৃষ্টিরহস্যের কাছাকাছি নিয়ে যাবে আমাদের একদিন না একদিন। যারা এদেশে বা অন্যদেশে কেবল সাহিত্য পড়ে বা ব্যবসানীতি নিয়ে পড়ছে এখন, তাদেরও বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে ধারণা দেয়া দরকার। বিজ্ঞান না বুঝে বা বিজ্ঞানকে সাইডে রেখে যারা কেবল সাহিত্য পড়বে, তারা জীবন সম্পর্কে অনেককিছু বুঝবে না। সাহিত্যও তো বোধের ব্যাপার, বিজ্ঞানের জ্ঞান বোধকেও পোক্ত করে। অনেক পিওর আর্টস বা কমার্সের ছাত্রদের জন্য অবমাননাকর হতে পারে, কিন্তু আমি এই মুহূর্তে ভাবছি, বিজ্ঞানের ধারণা বাদ দিয়ে কেবল সাহিত্যচর্চা, ব্যবসার নিয়মনীতি শেখা অর্থহীন শিক্ষা, মানবজাতিকে যদি উদ্ভিদশ্রেণি ধরি, তবে তারা কেবল আগাছাই।

মানবজাতি আগাচ্ছে। গত দুই শতকের সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে আগে মানুষ ভিন্নজাতি, সভ্যতার জ্ঞান বিজ্ঞানের নিদর্শন ধ্বংস করে দিত। এখন শত্রুর জ্ঞানও সংরক্ষণ করে। মানুষ বুঝেছে, নিজেদের অতীত অমূল্য, সে সময়ের জ্ঞানও অমূল্য। পৃথিবীর যত সভ্যতা আছে, তার সবগুলোই বিশেষ বিশেষ ধারাবাহিক পর্যায় পার করে এসেছে। লাফ দিয়ে অন্য পর্যায়ে উঠে যায় নি। এটা থেকেও বোঝা যায়, মানুষে মানুষে আসলে ভেদাভেদ নেই। পৃথিবীর সকল মানুষই আসলে এক, তাদের লক্ষ্য এক। সভ্যতার লক্ষ্য অবশ্যই অভিন্ন।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 5 ঘন্টা 46 min ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর