নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ব ও ধর্মীয় মতবাদ।



খুব সহজ একটি কথা বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন ঈশ্বর বিশ্বাসী অথবা সৃষ্টিবাদীদের আমরা বলতে শুনে থাকি। যেমন- আমাদের এই পৃথিবী যেই গ্যালাক্সির মধ্যে আছে বা এরকম বিলিয়ন বিলিয়ন, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি যেই মহাবিশ্বের (ইউনিভার্স) এর মধ্যে আছে অথবা এরকম আরো বিলিয়ন বিলিয়ন মহাবিশ্ব (মাল্টিভার্স)যদি থেকে থাকে তাহলে এসবই যেকোন একজন বা বহুজন ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন (যার যার ধর্মের ঈশ্বর অনুযায়ী)। কিন্তু আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোন ধর্মের ঐশরিক কিতাব বা ঈশ্বরের বানীতে তার ৯৯,৯৯% বাদ দিয়ে যা থাকে তা থেকেও সব বাদ দিয়ে মাত্র ০,০১% এর মতো তথ্য কেন ঈশ্বরেরা এই পৃথিবীর সাধারন মানুষকে দিতে পারেনি আজো ? এটা একটা ছোট্ট প্রশ্ন রাখা হোক সমস্ত ঈশ্বরে বিশ্বাসী মানুষদের কাছে। এই সব গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, মহাবিশ্ব সবই যদি কোন একজন ঈশ্বর বা কয়েকজন ঈশ্বরের সৃষ্টি হয়ে থাকবে তাহলে এতো বিলিয়ন বিলিয়ন, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, মহাবিশ্ব বাদ দিয়ে সেই সৃষ্টিকর্তা কেন এই (পৃথিবীর মাপ অনুযায়ী) অনু বা পরমানু সাইজের একটা গ্রহ “পৃথিবী” নিয়ে এতো চিন্তিত হবেন এবং এতো আদেশ উপদেশ দিবেন এখানে বসবাস করা সাধারণ মানুষদের ? এটা আরেকটা প্রশ্ন রাখা যেতে পারে।

আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের এই পৃথিবী যে গ্যালাক্সির মধ্যে আছে এবং সেই গ্যালাক্সির মতো বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি যেই মহাবিশ্বের মধ্যে আছে সেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হবার কারণ “বিগ ব্যাং” বা একটি বড় বিস্ফোরন বলে থাকে। তার মানে এই মহাবিশ্বের মতো যদি আরো অনেক মহাবিশ্ব থেকে থাকে (যা বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন মাত্র) সেগুলোও নিশ্চয় একই নিয়মে তৈরি হয়ে থাকবে। কিন্তু মহাবিশ্ব সৃষ্টির কোন কথা বা এই কোটি কোটি গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সী, ছায়াপথ, মহাবিশ্ব তৈরি হবার কথা আমাদের এই পৃথিবীর একেকটি ধর্ম একেক রকমের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞানের মতো তাদের সকলের ব্যাখ্যা আবার এক নয়। একেকজন একেক রকমের ব্যাখ্যা দেন এবং প্রতিটি ব্যাখ্যার সাথেই বিজ্ঞানের অমিল পাওয়া যাওয়ার কারণেই সৃষ্টিবাদীদের সাথে বিবর্তনবাদীদের মতের অমিল দেখা যায়। তবে এক্ষেত্রে সৃষ্টিবাদীদের শিশুকাল থেকেই ধর্মের ওপরে আস্থা তৈরি করে রাখার ফলে যুক্তিসংগত আলাপ আলোচনার একটি পর্যায়ে আচরনিক সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু অপরদিকে একজন বিবর্তনবাদী কখনই তার আচরন খারাপ করেনা সেই আলোচনার মধ্যে, বরং চেষ্টা করে যুক্তিযুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সঠিক ও সত্য ঘটনাটা বোঝানোর।

যেহেতু আজকের দিনে কোন সাধারন মানুষের এই বিগ ব্যাং থিউরীর কথা অজানা থাকার কথা নয় যা প্রথম ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের একজন বিজ্ঞানী “জর্জ লেমিটর” আমাদেরকে বলেছিলো। পরবর্তিতে “এডুইন হাবল” নামের আরেকজন বিজ্ঞানী এই মতবাদের সমর্থন করে তা পর্যবেক্ষন করে সঠিক বলে গ্রহন করেছিলো এবং ব্যাখ্যাও করেছিলো যা আজ পর্যন্ত সেখানেই আটকে আছে। যদি এই থিউরীর বাইরে অন্য কেউ নতুন কোন গ্রহনযোগ্য তত্ব দিতে পারে তাহলে সাথে সাথে এই তত্ব বাতিল হয়ে যাবে কিন্তু তা এখনও কেউ দিতে পারেনি। আমি এখানে বিগ ব্যাং তত্বটি কি এবং কেমন তার বিস্তারিত দিয়ে আর লেখটি বড় করতে চাই না। এখন দেখুন কয়েকটি ধর্ম আমাদেরকে এই বিষয়ে কি ধারনা দেয়। যেমন প্রথমেই আমরা দেখবো এই ছোট্ট পৃথিবীর সব থেকে বহুল প্রচলিত ধর্ম “খ্রিস্টান ধর্ম” আজকে যারা তাদের সব চেয়ে বড় বাৎসরিক উৎসব পালন করবে তারা এই সৃষ্টিতত্বের ব্যাখ্যা কিভাবে দিয়ে থাকেন। এই ধর্মটির প্রধান ও পবিত্র বা ঐশরিক কিতাবের নাম হচ্ছে “বাইবেল”। এই বাইবেলের আবার বর্তমানে দুইটি ভাগ করা হয়েছে যার একটি আমরা আদিপুস্তক বলে থাকি (ওল্ড স্টেটমেন্ট) এবং অপরটিকে নতুনপুস্তক (নিউ স্টেটমেন্ট) বলে থাকি। সে বাইবেলের আদিপুস্তকের প্রথম অধ্যায়ের নাম হচ্ছে “জেনেসিস”। এই জেনেসিস শুরু হয়েছে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির তত্ব দিয়েই। বাইবেল মতে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির কারণ এখানে দেখুন -

১ শুরুতে, ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। প্রথমে পৃথিবী সম্পূর্ণ শূন্য ছিল; পৃথিবীতে কিছুই ছিল না।
২ অন্ধকারে আবৃত ছিল জলরাশি আর ঈশ্বরের আত্মা সেই জলরাশির উপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল।
৩ তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!” তখনই আলো ফুটতে শুরু করল।
৪ আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল। তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন।
৫ ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিন” এবং অন্ধকারের নাম দিলেন “রাত্রি।”সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল। এই হল প্রথম দিন।
৬ তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক।”
৭ তাই ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের সৃষ্টি করে জলকে পৃথক করলেন। এক ভাগ জল আকাশমণ্ডলের উপরে আর অন্য ভাগ জল আকাশমণ্ডলের নীচে থাকল।
৮ ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের নাম দিলেন “আকাশ।” সন্ধ্যা হল আর তারপর সকাল হল। এটা হল দ্বিতীয় দিন।
৯ তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নীচের জল এক জায়গায় জমা হোক যাতে শুকনো ডাঙা দেখা যায়।” এবং তা-ই হল।
১০ ঈশ্বর শুকনো জমির নাম দিলেন, “পৃথিবী” এবং এক জায়গায় জমা জলের নাম দিলেন, “মহাসাগর।” ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।

এরকম সর্বোমোট ২৫টি পয়েন্ট আছে এই জেনেসিস অধ্যায়ে যা আমি আর এখানে দিয়ে আপনাদের মুল্যবান সময় অপচয় করাতে চাচ্ছিনা। আপনারা কেউ চাইলে বাইবেলের প্রথম অধ্যায়টি পড়ে দেখতে পারেন। এবার একটু দেখবো এশিয়া মহাদেশের আরেকটি বহুল প্রচলিত ধর্ম “হিন্দু ধর্ম” আসলে হিন্দু ধর্ম বলে কোন ধর্ম নেই, আছে “সনাতন ধর্ম” সেই সনাতন ধর্ম এই সৃষ্টি তত্ব নিয়ে কি বলে দেখুন। এই ধর্মটিতে আসলে নির্দিষ্ট কোন ঈশ্বর প্রদত্ত বা ঐশরিক কিতাবের সন্ধান পাওয়া যায়না। এই ধর্মে যে সমস্ত কিতাব বা গ্রন্থ প্রচলিত আছে তা সবই এই ধর্মের প্রাচীন ঋষিদের রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ। আর এই সমস্ত গ্রন্থের সাথে প্রচলিত আছে আরো কিছু পৌরানিক উপাখ্যান। এই হিন্দু ধর্মে যে এক এবং অদ্বিতীয় সত্তা আছে তার নাম হচ্ছে ব্রহ্ম। আর এই ব্রহ্ম সম্পর্কে তাদের ঈশ উপনিষদে বলা আছে – (“ঈশা ব্যসমিদং সর্বং যতকিঞ্চ জগত্যাং জগত্‍। তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথা মা গৃধঃ কস্যস্বিদ্‌ ধনম্”) জগতে যে কিছু পদার্থ আছে, তৎসমস্তই আত্মরূপী পরমেশ্বর দ্বারা আচ্ছাদন করিবে, অর্থাৎ একমাত্র পরমেশ্বরই সত্য, জগৎ তাহাতে কল্পিত—মিথ্যা, এই জ্ঞানের দ্বারা জগতের সত্যতা-বুদ্ধি বিলুপ্ত করিবে। (তাহাতেই তোমার হৃদয়ে আসক্তি-ত্যাগরূপ সন্ন্যাস আসিবে) সেই ত্যাগ বা সন্ন্যাস দ্বারা আত্মার অদ্বৈত নির্ব্বিকার ভাব রক্ষা কর কাহারো ধনে আকাঙ্ক্ষা করিও না। এছাড়াও এটি হিন্দু ধর্মের একেশ্বরবাদী রূপ। “যার ভিত্তি এক ও অদ্বিতীয় সত্তা ব্রহ্ম। তিনি সবকিছুর উৎস। বেদের শেষ ও দার্শনিক অংশ উপনিষদে বলা হয়েছে তিনি অদ্বিতীয় সত্তা। তিনি সূক্ষ্ম ও স্থূল সব কিছুরই উৎস। এর থেকে জগতের বিভিন্ন উপকরণের সৃষ্টি হয়েছে” তারমানে এখানেই আমরা সৃষ্টির রহস্য পেয়ে যাচ্ছি।

এছাড়াও হিন্দু ধর্মের মার্কেণ্ডয় পুরাণ মতে- ‘যা অব্যক্ত এবং ঋষিরা যাকে প্রকৃতি বলে থাকেন, যা ক্ষয় বা জীর্ণ হয় না, রূপ রস গন্ধ শব্দ ও স্পর্শহীন, যার আদি অন্ত নেই, যেখান থেকে জগতের উদ্ভব হয়েছে, যা চিরকাল আছে এবং যার বিনাশ নেই, যার স্বরূপ জানা যায় না, সেই ব্রহ্ম সবার আগে বিরাজমান থাকেন।’ আরো দেখুন - সৃষ্টি প্রক্রিয়া বিভিন্ন স্তরে সম্পন্ন হয়। এখানে তিনটি গুণ রয়েছে। এই তিনটি গুণ হলো সত্ত্ব, রজ ও তম। সত্ত্ব হলো প্রকৃতি। রজের প্রভাবে অহংকারসহ অন্যান্য খারাপগুণের জন্ম এবং তম হলো অন্ধকার। শ্রী সুবোধকুমার চক্রবর্তৗ অনূদিত মার্কেণ্ডয় পুরাণে বলা হয়েছে- ‘এই তিন গুণ তাঁর মধ্যে পরস্পরের অনুকূলে ও অব্যাঘাতে অধিষ্ঠিত আছে। সৃষ্টির সময়ে তিনি (ব্রহ্ম) এই গুণের সাহায্যে সৃষ্টিক্রিয়ায় প্রবৃত্ত হলে প্রধান তত্ত্ব প্রাদুর্ভূত হয়ে মহত্তত্ত্বকে (মহৎ নামক তত্ত্ব) আবৃত করে। এই মহত্তত্ত্ব তিনগুণের ভেদে তিন প্রকার। এর থেকে তিন প্রকার ত্রিবিধ অহংকার প্রাদুর্ভূত হয়। এই অহংকারও মহত্তত্ত্বে আবৃত ও তার প্রভাবে বিকৃত হয়ে শব্দতন্মাত্রের সৃষ্টি করে। তা থেকেই শব্দ লক্ষণ আকাশের জন্ম। অহংকার শব্দমাত্র আকাশকে আবৃত করে এবং তাতেই স্পর্শতন্মাত্রের জন্ম। এতে বলবান বায়ু প্রাদুর্ভূত হয়। স্পর্শই বায়ুর গুণ। শব্দমাত্র আকাশ যখন স্পর্শমাত্রকে আবৃত করে, তখন বায়ু বিকৃত হয়ে রূপমাত্রের সৃষ্টি করে। বায়ু থেকে জ্যোতির উদ্ভব, রূপ ঐ জ্যোতির গুণ। স্পর্শমাত্র বায়ু যখন রূপমাত্রকে আবৃত করে, তখন জ্যোতি বিকৃত হয়ে রসমাত্রের সৃষ্টি করে। তাতেই রসাত্মক জলের উদ্ভব। সেই রসাত্মক জল যখন রূপমাত্রকে আবৃত করে তখন জল বিকৃত হয়ে গন্ধমাত্রের সৃষ্টি করে। তাতেই পৃথিবীর জন্ম হয়।

আবারও মুল্যবান সময় অপচয় না করার স্বার্থে আমি এর বেশি হিন্দু ধর্মের তত্ব এখানে দিলাম না। তবে সবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের একটি বহুল প্রচলিত ধর্ম যার অবস্থান এই পৃথিবীতে এখনও দ্বিতীয় বলা চলে সেই “ইসলাম” ধর্ম মতে তাদের বিশ্বাস করা সৃষ্টিতত্ব এখানে না দিলে অন্যায় হয়ে যাবে। দেখুন ইসলাম ধর্ম এই সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কে কি বলে। ইসলাম ধর্মের প্রধান ও ঐশরিক কিতাব হচ্ছে একটি যার নাম “আল-কোরান”। এই গ্রন্থে যা যা লেখা আছে তা এই ধর্মের অনুসারীরা একমনে কোনকিছু যাচাই বাছাই না করে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে থাকে। তাদের ধারনা এই গ্রন্থে যা কিছু লেখা আছে তা এই পৃথিবীর বিজ্ঞানের সকল শাখার ব্যাখ্যা একত্র করে একটি বই আকারেই প্রকাশ করা হয়েছে যার নাম এই আল-কোরান। এই ধর্মের অনুসারীদের অনেকের দাবী এই কিতাবে সব বিষয়েই সংক্ষিপ্ত ভাবে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা করা আছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা যখন মহাকাশ তত্বের আথে তার মিল খুজে দেখতে যায় তখন বাধে তার সাথে বড় ধরনের দ্বন্দ। এই কোরানে প্রাচীন গ্রিক, প্রাচীন মিশরীয় বা ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মের মতো শুরুতেই সৃষ্টিতত্ব দিয়ে শুরু করা হয়নি। এই কোরানের মাঝে মাঝে (৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার আয়াতের) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যায়গায় এই সৃষ্টি তত্বের কথা বলা আছে। যেমন –

সূরা আরাফ (আয়াত-৫৪)
إِنَّ رَبَّكُمُ اللّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ 54
অর্থঃ নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
সূরা হা-মীম সেজদা (আয়াত-৯)
قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَندَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ
অর্থঃ বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।
সূরা হা-মীম সেজদা (আয়াত-১০)
وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِن فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاء لِّلسَّائِلِينَ
অর্থঃ তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।
সূরা হা-মীম সেজদা (আয়াত-১১)
ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاء وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ اِئْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ
অর্থঃ অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।

এছাড়াও ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরানের আরো বেশ কিছু আয়াতে এই সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কে আরো কিছু কথা বলা আছে যেমন – সূরা আন-নাযিয়াত (আয়াত-২৭ থেকে ৩০) এ বলা আছে। তারপর সূরা আম্বিয়া (আয়াত-৩০) এ বলা আছে এই জাতীয় একই কথা যা বর্তমান মহাকাশ বিজ্ঞান বা সৌরবিজ্ঞানের সাথে কোন মিল খুজে পাওয়া যায়না। এই সমস্ত ধর্মীয় বানীকে এই ধর্মের বর্তমান যুগের মডারেট কিছু ধর্ম বিশ্বাসী বিজ্ঞানের সাথে মিল আছে দেখিয়ে “জল পড়ে পাতা নড়ে” টাইপের কিছু ব্যাখ্যাও করে থাকেন তারা। কিন্তু তাতেও যে খুব একটা সফল হচ্ছেন তারা তাও কিন্তু না। নিচের ভিডিওটি একটু ভালো করে দেখলে আপনার কিছুটা ধারনা হতে পারে আমাদের এই পৃথিবীর অবস্থান আসলে কোথায় যা নিয়ে আমাদের এতো রহস্য।

---------- মৃত কালপুরুষ
২৪/১২/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 3 দিন ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর