নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • অবাক ছেলে
  • মাহফুজ উল্লাহ হিমু
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • রবিউল আলম ডিলার
  • আল হাসিম
  • মাহের ইসলাম
  • এহসান মুরাদ
  • ফাহিম ফয়সাল
  • সানভী সালেহীন
  • সাঞ্জানা প্রমী
  • অতৃপ্ত আত্বা
  • মনিকা দাস
  • আব্দুল্লাহ আল ম...

আপনি এখানে

ভালবাসা আর বিশ্বাসের সুখদ্বীপের সন্ধানে


স্কুল জীবন থেকে ভার্সিটি জীবন পর্যন্ত পড়ালেখায় খুব ভাল ছিলাম আমি, যার প্রমাণ আমার সকল পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল। ভার্সিটিতে আমার সাহিত্যের নোট মুখস্ত করে আমার কজন ক্লাসমেট অনার্সে বেশ ভাল ফলাফল করেছিল যা জানতাম আ্মি। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে আমি বেশ বোকা। মানুষকে খুব সহজে বিশ্বাস করি প্রতিনিয়ত। যে কারণে এ জীবনে অনেকবার প্রতারিত আর ঠকেছি আমি নানা প্রপঞ্চে। তারপরো এখনো মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়নি আমার। আমার মা মানুষ হিসেবে খুব অসাম্প্রদায়িক ছিলেন। হিন্দু-মুসলমানদের কখনো আলাদা চোখে দেখতেন না তিনি। তার সে গুণটা পরিপূর্ণ পেয়েছি আমি। মানুষ হিসেবে কখনো কাউকে উৎকৃষ্ট বা নিকৃষ্ট মনে হয়না আমার। এ সুযোগেই হয়তো প্রতারকরা সপ্তবর্ণা রঙ ধরে ঠকায় আমায়।আমি নানা ব্যস্ততার মাঝে কিছু গল্প আর প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করি এক সুখের নেশায়। তেমন পাঠকে তা না পড়লেও ফেসবুকে কেউ কেউ আমার এসব লেখার বেশ 'ফিদা'। তারা নানা সময় লেখার প্রশংসা করে বা আরো কিভাবে ভাল হতে পারে এমন সব ম্যাসেজ দেয় আমায় ইনবক্সে।
:
গত বছর কোলকাতা থেকে এমন একটি ম্যাসেজ পাই 'প্রিয়া" নামের একটি মেয়ের। মেয়েটি ভারতীয় রেলওয়েতে সদ্য যোগদান করেছে নতুন জবে। আমাকে 'দাদা' বলে ডাক দিলো প্রিয়া। খুব শালীন আর গোছালো কথা হতো ইনবক্সে প্রিয়ার সাথে। মেক্সিমাম কথাই হতো আমার গল্প, প্রবন্ধ, ধর্মীয় উন্মাদনা, আমার জীবনের সংশয় এসব বিষয়ে। এক সময় আমার লেখা বই আকারে প্রকাশের আবদার তুললো প্রিয়া। কোলকাতার মেয়ে হিসেবে কোলকাতার কোন প্রকাশক খুঁজে বের করতে বললাম প্রিয়াকে তার বাংলাদেশি ভাইর জন্যে। এবং সত্যিই প্রিয়া এক নারী প্রকাশককে খুঁজে বের করলো আমার জন্যে মাত্র ১০/১২ দিনের মাথায়। প্রিয়ার কথামত "অম্বিকা ব্যানার্জি" নামের ঐ নারী প্রকাশককে নিজের কুড়িটা লেখা দেই আমি পড়ার জন্যে। দুদিন পরেই "অম্বিকা" খুব প্রশংসা করলো আমার লেখার। "কুবের কপিলা" কিংবা প্রাগৈতিহাসিক গল্পের "ভিখু"কে নিয়ে আমার লেখাকে সে মানিকের সঙ্গে তুলনা করে বললেন, "মানিকদা বেঁচে থাকলে আপনাকে বুকে নিতেন এ গল্পের জন্যে"।
:
'অম্বিকা'র প্রশংসায় বর্ষায় ব্যাঙের মত 'গদগদ' হয়ে বান ডাকে আমার মন পুকুরে। অচিরেই আমার গল্পসংখ্যা একশ আর প্রবন্ধ পাচঁ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এক সময় ত্রিশ বছরের এথিস্ট ব্যবসায়ী ধনীক কুমারী নারী 'অম্বিকা' প্রেমে পড়ে আমার এবং নিজের স্টাটাসে এ বিষয়ে একটা পোস্টও দেয় সে 'লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে'। গ্রাম্য শেকড়ের কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে 'লজ্জায় মরে যাই আমি' অম্বিকার এ পোস্টে। এ সময় অম্বিকা আমার 'গল্প', 'প্রবন্ধ', 'ধর্মীয় লেখা' ও 'নারীবাদ বিষয়ক' মোট ৪-টা বই প্রকাশের কথা জানায় আমায় তার নিজ প্রকাশনী থেকে এবং এ ব্যাপারে কোলকাতা যাওয়া জরুরি হয় আমার জন্যে। অম্বিকার প্লানমত জেট এয়ারের বিমানে দমদম পৌঁছি আমি এক প্রগাঢ়তর মানবিক বিশ্বাসে কিন্তু কথামত বিমানবন্দরে 'অম্বিকা' কিংবা তার গাড়ি আর দেখতে পাইনা আমি। দেয়ার কথা থাকলেও টেলিফোনও আর দেয়া হয়নি অম্বিকার। এ সময় বোন 'প্রিয়া'র খোঁজ করে, তার সাথেও যোগাযোগে ব্যর্থ হই আমি। ঘন্টা দুয়েক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করে মনোকষ্টে একটা 'হলুদ ট্যাক্সি' নিয়ে চলে যাই হুগলির 'হিন্দ মোটরে'। ওখানে থাকে আমার এক ফেসবুক বন্ধু 'সমীরণ' তার স্ত্রী-কন্যা নিয়ে।
:
সমীরণের ঘরে স্নান করে দুপুরের খাবার খেয়ে ওর সাথে বিকেলে গঙ্গার ধারে গেলে আকস্মিক এক ম্যাসেজ পাই 'অম্বিকা'র। খুবই জরুরি হওয়াতে সে আমার কোলকাতা পৌঁছার একটু আগেই চলে গেছে 'ডেনমার্ক'। সেখানে তার মা থাকেন, কারণ অম্বিকার বাবা বাঙালি হলেও, মা ডেনিস। খুব জরুরি কাজ থাকাতে আমাকে না বলেই চলে যেতে হয়েছিল তাকে, এজন্যে বার বার ক্ষমা চাইলো 'অম্বিকা' আমার কাছে। সব শুনে অম্বিকার জন্যে মন খারাপ হলো আমার খুব। ফোন নম্বর চাইলাম তার, যাতে কথা বলে সান্ত্বনা দিতে পারি তাকে আর তার মাকে। সে আমায় কোলকাতার নম্বরে ফোন করবে বলে আমার নম্বর নিলো পরম মমতায়। তার জন্যে ভালবাসার কিছু প্রকাশনা আর গিফট নিয়েছিলাম আমি স্বদেশ থেকে, তা দিতে চাইলাম তাকে। সে একটা ঠিকানা দিলো আমায় নদীয়া জেলার গিফট পৌঁছানোর জন্যে।
:
বাংলা সাহিত্যে পড়ার কারণে শ্রীচৈতন্যদেবের ভক্ত ছিলাম আমি খুব। বাংলাদেশে একটা হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলাম আমি ছাত্রাবস্থায়। যে স্কুলটির নাম এখন "চৈতন্য হাই স্কুল"। সুতরাং 'অম্বিকা'র গিফট দেয়া আর নদীয়ার চৈতন্যদেবের "প্রেমকানন" দেখতে ট্রেনে চাপলাম আমি। নবদ্বীপ ধামে 'অম্বিকা'র লোক এলো আমায় রিসিভ করতে। মুখে বসন্তের দাগভরা সিনেমার ওমপুরির মত চেহারা অম্বিকার মানুষটা 'দাদা' সম্বোধন করে নিয়ে গেল নবদ্বীপের অদূরে এক বাড়িতে। 'অম্বিকা'র প্রতি পরম বিশ্বাসে বসন্তদাগি লোকটাকে অনুসরণ করি আমি পরম নির্ভরতায়। ভেতরে নিয়ে সে 'অম্বিকা'র নির্দেশে কাজ করছে বলে রূঢ়তায় জানায় আমায়। প্রথমে ৪টি বই প্রকাশের খরচ বাবদ ভারতীয় এক লাখ রূপি দাবী করে আমার কাছে। আমার বই প্রকাশের দরকার নেই এবং এখন টাকাও নেই এমন কথা বলার পর, এতোদিন 'অম্বিকা' যে আমার সাথে যো্গযোগ করেছে তার "খরচ বাবদ লাখ টাকা" দাবী করে অম্বিকার "প্রেরিত ওম পুরুষ"। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আমি এ বিদেশ বিঁভুয়ে টাকা না থাকার কথা প্রকাশ করলে, "বসন্তদাগি ওমপুরি" আমার স্মার্ট মোবাইল, নগদ ভারতীয় তের হাজার টাকা, ইউকে থেকে কেনা প্রায় ৪৫,০০০ টাকার "রাডো" ঘড়ি রেখে নবদ্বীপ ধাম স্টেশনে ট্রেনে ছাড়তে আসে আমায়। তার কেনা টিকেটে 'বাক্যহীন আমি' বাধ্য হই কোলকাতাগামী ট্রেনে চাপতে।
:
অম্বিকা ব্যানার্জি নামক ফেসবুক প্রেমিকার ক্ষীয়মান বিষণ্ণ বিষঘ্রাণতা নিয়ে ট্রেনে ফিরতে থাকি আমি কোলকাতার পথে। এক কুটিল নারীর প্রতারণাপূর্ণ ভুরুর বিভঙ্গে পুরো ট্রেনটা বিষাদময় লাগে আমার চেতনায়। এপার বাংলা আর ওপার বাংলার ভোগবাদি জীবন, আর তার অসভ্যতার নোংরা জলে ভিজে-ভিজে একাকার হই আমি। এরূপ লোহাশক্ত হৃদয়ধারী প্রতারক নারীর কুটিল সুর কেন ধরতে পারিনি আমি, তার জন্যে ধিক্কার দেই নিজেকে বারবার। তারপরো জীবনের দশ-দিগন্তে কত পথ, কত মানুষ দেখি আমি; কষ্ট-নদী, কষ্ট-পাহাড়, আর কষ্ট-মেঘ সমুদ্রে। মাঝে মাঝে আমার জীবনের সপ্তরঙা দলিত হলুদ ঘাসের সাদা কষ্টেরা কাঁদে প্রবল বাতাস দহনে কিন্তু তারপরো আমার বিশ্বাস আর ভাললাগারা ঢেউ তোলে সোনাঝরা নক্ষত্রের রাতে আমার মননে। এবং এসব প্রতারণাময় ব্যথার পাথরচাপা নদীতে, জেগে থাকে আমার ভালবাসারা রূপোলি বালুচর হয়ে। এসব মানুষের মাঝেই আমি শতাব্দীর পর শতাব্দী শুয়ে থাকি ভাললাগার স্বপ্নময়তায় সুখময় আকাশে এক পরম বিশ্বাসে !

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 17 ঘন্টা 7 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর