নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • মিশু মিলন
  • বেহুলার ভেলা

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ভন্ডের নিরাপদ আশ্রয়!


আর সন্তান নিবে না চিন্তা করে এক লোক ডাক্তারের কাছে গেলো। ডাক্তার তাকে জন্মনিরোধক ইঞ্জেকশন দিয়ে বললো- এবার আপনি নিশ্চিন্তে বাড়ি যান, আপনার আর ভয় নেই। আপনাকে জন্মনিরোধক ইঞ্জেকশন দেয়া হয়েছে।

এর কয়েক মাস পর সেই লোক হন্তদন্ত হয়ে ডাক্তারের চেম্বারে আসলো। আর রেগেমেগে ডাক্তারকে বললো- মিয়া, আপনি কি ছাঁতামাথার ইঞ্জেকশন দিয়েছেন, আমার স্ত্রী আবার কন্সেপ করেছে"। ডাক্তারও সমান উত্তেজিত হয়ে বললো- ধুর মিয়া! আমি তো জন্মনিরোধ ইঞ্জেকশন শুধু আপনাকে দিয়েছি, গোটা শহরের সব পুরুষদের দিইনি!!

আমাদের দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতিক দলগুলো এই ইঞ্জেকশন নেয়া লোকটির স্ত্রীর মতো। একটা দলের নিবন্ধন বাতিল করে দিলেও এরা একই আদর্শ নিয়ে অন্য নামে রাজনীতি শুরু করবে। স্ত্রীর গর্ভধারন ঠেকাতে যেরকম শুধু নিজেকে জন্মনিরোধক ইঞ্জেকশন দিলে হবে না, স্ত্রী যাতে অন্য পুরুষের কাছে যেতে না পারে, সেই ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে হবে, তেমনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করতে শুধু দলের নিবন্ধন বাতিল করলে হবে না, এরা যাতে অন্য নামে দল তৈরী করে রাজনীতি করার সুযোগ না পায় সে ব্যবস্থাও পাকাপোক্ত করতে হবে। এমনকি স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশগ্রহন করার সুযোগও বাতিল করতে হবে।

রাজনীতি অপেক্ষা ধর্মের বিবেচনায় এই কাজটি বাংলাদেশে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। একজন মানুষ তার লালিত ধর্মীয় সংস্কৃতির বাইরে একটা রাজনীতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করবে, একজন মুসলিম, একজন সনাতনী, বৌদ্ধ, খৃস্টান পরিপূর্ণ ধর্মীয় জীবনের বাইরে একটি রাজনীতিক দলের মতাদর্শের অনুসারী হতে পারে, কিন্তু সেটা তার লালিত ধর্মীয় জীবনের সাথে সাংঘর্ষিকও নয়, পরিপূরকও নয়। কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এই ধারনা পাল্টে দিচ্ছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকরা তাদের দলের বিরুদ্ধে কথা বলাকে ধর্মের বিরুদ্ধে বলা মনে করে।

এই সমস্যার বাইরেও ধর্মের অপব্যবহার করে এরা রাষ্ট্রীয় সংবিধানের সাথে সরাসরি সংঘাতপূর্ন অবস্থানেও থেকেও জনগনকে প্রোজেস্ট করার সুযোগ পাচ্ছে। ধর্ম সম্পর্কে সাধারন জনগণের পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় মানুষ এদের লেবাজি ধর্ম দেখে সহজে হিপ্নোটাইস হয়ে পড়ছে। আর এরা ধর্মকে ব্যবহার করে সহজে কায়েমি স্বার্থ চরিতার্থ করার সুযোগ পাচ্ছে। এটা নতুন নয়,  প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ধর্মীয় ভন্ডরা ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে আসছে নিজেদের ভন্ডামি আড়াল করার জন্য। এর পকৃষ্ট উদাহরন বিলুপ্তপ্রায় জামায়াত নামক দলটি। একাত্তরে এ দেশের মুক্তি সংগ্রাম চলাকালে বর্তমান জামায়াতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকায় ছিলো। সেই অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাঁচটি রায়ে জমায়াতে ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন (অপরাধী সংগঠন) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্তেও জামায়াত নামে বেনামে সক্রিয় আছে রাজনীতির মাঠে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, কাদের মোল্লার, নিজামী, কাশেম আলি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারে আটক রয়েছে সাঈদী সহ আরো কয়েকজন। এরকম সাজাপ্রাপ্ত দলের অনেকেই এখনো বিভিন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হচ্ছে। জোটবদ্ধ রাজনীতিতে আছে বিএনপির সাথে।

এদেশের প্রতিটি মানুষের প্রশ্ন; আর কত অপরাধ দরকার একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য? শুরু থেকেই বিএনপি জামায়াতকে পৃষ্টপোষকতা দিয়ে আসছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের পূনর্বাসন করেছে। আর বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া এই দলের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে। এমনকি এখনও তাদের সঙ্গে জোট বেঁধে রাজনীতি করছে।  অতীতেও কিন্তু বেশ কয়েক দফা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। কিন্তু আমরা দেখেছি, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসছে তখনই জামায়াতকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে এনেছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু আমরা দেখি যখনই পটপরিবর্তন হয় তখনই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এক্ষেত্রে বিএনপি দৈত আচরন তাদের দলগত রাজনীতিক দেউলিয়াপনার পরিচয় দেয়। দৈত আচরনের বিষয়টি বুঝিয়ে বলছি- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নেতা কাদের মোল্লা ২০০৭ সালে ইত্তেফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলো, "বাংলাদেশে একাত্তর সালে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। যারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা বলেন, তারা গিয়েছিলেন নারীদের ধর্ষণ করতে, না হয় ভারতের দালালী করতে।" যেই দলটি বলে- ৭১এ এদেশে কোন মুক্তিযুদ্ধই হয়নি, সেই দলকে সাথে নিয়ে বিএনপি একদিকে জোটবদ্ধ রাজনীতি করে "৭১এ মুক্তিযুদ্ধই হয়নি" নীতির স্বিকৃতি দিচ্ছে, অন্যদিকে নিজ দলের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়া উর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার বলে দলকে প্রমোট করছে। যদি জামায়াতকে মেনে নেয়, তাহলে কি বিএনপি এটাও মানছে মুক্তিযোদ্ধা জিয়া উর রহমানও ৭১এ যুদ্ধের নামে নারী ধর্ষনে গিয়েছিলো? ঘটনা আরো আছে, ২০০৪ সালে ছাত্র শিবিরের এক অনুষ্ঠানে তারেক জিয়া বলেছিলো, "শিবির ও ছাত্রদল এক মায়ের পেটের দুই ভাই।" কিন্তু এই সহোদর ভাইদের মা কী জামায়াত নাকি বিএনপি, জাতি সেটা আজো জানতে পারলো না।

বাঙালি চেতনার অস্বিকার করাকে লঘু হিসেবে দেখলেও ধর্মীয় সংস্কৃতির পবিত্রতা, আস্থা আর সৌন্দর্য রক্ষার্থে হলেও এ দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ভিক্ষুকের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে শুরু করে, কায়েমি স্বার্থ হাসিলের কৌশল আর এই রাজনীতি সব জায়গা থেকে ধর্মের ব্যবহার কঠোর হস্তে নিষিদ্ধ করতে হবে।

জামায়াতের মতো এরকম একটি এন্টিসোস্যাল, রাষ্ট্রদ্রোহী এবং বাঙালী চেতনায় অবিশ্বাসি দলও এদেশে রাজীতিতে প্রতিষ্ঠা পাবার সুযোগ পাচ্ছে শুধু ধর্মীয় আবরনের কারণে। জামায়াত বাংলাদেশ চায়নি, পাকিস্তানকে তাদের সহযোগিতার কারণে আমাদের লাশের তালিকা, বীরাঙ্গনার তালিকা লম্বা হয়েছে, সেই বাংলাদেশ যখন প্রতিষ্ঠা হলো নির্লজ্জ জামায়াত সেই দেশের মন্ত্রী পর্যন্ত হলো, এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে শুধু তাদের ধর্মভিত্তিক কৌশলের কারণে। ধর্মের কারণে। ভয়ংকর নিজাম ডাকাতও ধর্মীয় লেবাজ ধরে নিজাম উদ্দিন আউলিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ধর্ষক, লুটেরা জামায়াত ধর্মের জুব্বা পড়ে মন্ত্রী হওয়া কঠিনও নয়, আশ্চর্যও নয়।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 17 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর