নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • নগরবালক
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

আজকের মুক্তিযোদ্ধারা একদিন রাজাকারে পরিনত হবে, আর রাজাকাররা পরিনত হবে খাটি মুমিন ও জিহাদীতে


ইসলাম শুধুই একটা ধর্ম না, এটা একটা সম্পূর্ন জীবন বিধান। জন্মের আগ থেকে কবরে যাওয়া পর্যন্ত তাই একজন মুসলমানের সব কিছুই ইসলামের বিধি বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। ইসলামের ভিত্তিতে যদি মুক্তিযুদ্ধকে বিচার বিবেচনা করি , দেখা যাবে , আজকে যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সম্মানিত , তারাই ভবিষ্যতে ঘৃণিত মুনাফিক ও বিশ্বাসঘাতক হিসাবে অসম্মানের পাত্র হবে , এমন কি তাদেরকে মরনোত্তর বিচার করে ফাঁসি দেয়া হতে পারে। আর আজকে যারা রাজাকার হিসাবে গণ্য তাদেরকে বলা হবে মহান জিহাদী ও শহিদ হিসাবে।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর, নানা ঘাত প্রতিঘাতের পর অবশেষে যখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসলেন , তখনই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসচর্চা করা বা প্রচার করা শুধু নিষিদ্ধই ছিল না , বরং সেটা ছিল মহা অপরাধ। কথিত আছে জিয়াউর রহমান ছিলেন , একজন খাটি মুমিন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ছাড়াও তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। ১৯৭১ সালে বেকায়দায় পড়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করলেও তিনি মনে প্রানে চাইছিলেন , স্বাধীনতার পর যেন দেশটা ইসলামী বেহেস্তে রূপান্তরিত হয়। আর সেই কারনেই তিনি যখন ক্ষমতায় আরোহন করলেন , তখন প্রথম কাজটিই করলেন , বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ বানালেন। অথচ এদেশের মানুষ যে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল সেটা কিন্তু এই বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদকেই কেন্দ্র করে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত তখন পর্যন্ত যেসব মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকার আলবদর ইত্যাদিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল , খুব তাড়াতাড়ি তারা এসে জিয়ার ছত্রচ্ছায়ায় ভিড় জমালো। তাদের উপলব্ধি করতে বিলম্ব হয় নি যে , জিয়াউর রহমান আসলে তাদেরই আদর্শের লোক। জিয়াউর রহমানও কোন রকম রাখ ঢাক না করেই সেটা প্রকাশ করতে লাগলেন , এবং নিষিদ্ধ জামাত ইসলামকে বৈধ রাজনৈতিক দল হিসাবে ঘোষণা তো করলেনই , পরন্তু তাদের নেতা গোলাম আজমকেও দেশে ফেরার অনুমতি দিলেন।

এরপর থেকেই বিশেষ করে সৌদি পেট্রডলারের সাহায্যে বাংলাদেশকে আর একটা পাকিস্তান বানানোর কাজ খুব পরিকল্পনা মাফিক করা হতে থাকে। দেশে হাজার হাজার মসজিদ , মাদ্রাসা বানানোর হিড়িক পড়ে যায় ,ওয়াজ মাহফিলের বন্যা বয়ে যায় , যা এখনও বিদ্যমান। এই হাজার হাজার মসজিদ , মাদ্রাসা বা ওয়াজে নিশ্চিতভাবেই মুক্তিযুদ্ধের কথা , মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা প্রচার করা হয় না। বরং প্রচার করা হয় ,কারা খাটি মুমিন আর কারা মুনাফিক। প্রচার করা হয় , ইসলামী উম্মা থেকে সরে গেলে তারা কত প্রকারে ভন্ড মুনাফিক ও বিশ্বাস ঘাতক। উদাহরন দিয়ে প্রচার করা হয় , খোদ ইসলামের নবী কিভাবে তার দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া মানুষদেরকে মুনাফিক আখ্যা দিয়ে হত্যা করতেন। আর এটাই ছিল পবিত্র জিহাদ , যা প্রতিটা মুসলমানের জন্যে বাধ্যতামূলক।

এসব মসজিদ মাদ্রাসা ওয়াজে প্রচার করা হয়, একমাত্র ইসলামের জন্যে জীবন দেয়া বা যুদ্ধ করাই হলো মুসলমানের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত। কথিত মুক্তিযুদ্ধ করা বা তার জন্যে জীবন দেয়া , বেদাতী কাজ, কঠিন শিরক। ঠিক সেই কারনেই , বাংলাদেশের কোন মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না , জাতীয় পতাকা তোলা হয় না। কারন ইসলামী বিধানে এসব বিদাতি কাজ। যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল , তারাও কিন্তু অবশেষে প্রায় সবাই মুসলমান আর তারা ইসলাম ধর্মকে একমাত্র সত্য ধর্ম হিসাবে গন্য করে থাকে। বিগত কয়েক দশক ধরে এসব মুক্তিযোদ্ধারা যুবক থেকে ক্রমশ প্রৌড় হয়ে পড়েছেন , প্রৌড় থেকে হয়েছেন বৃদ্ধ। তারা ওয়াজ মাহফিলে ইসলামের কথা শুনে শুনে বৃদ্ধ হয়েছেন , আর তাদের মধ্যে জ্বল জ্বল করে ইসলামী চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নামক কুফুরি চেতনা তাদের হৃদয় থেকে আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে সেখানে স্থান করে নিয়েছে ইসলামী চেতনা। আর নতুন প্রজন্মের মধ্যে তো সম্পূর্নই ইসলামী চেতনা জায়গা করে নিয়েছে। তাদের হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোন স্থান নেই , কারন তারা বুঝে গেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটা কুফুরি চেতনা ছাড়া আর কিছুই না।

নতুন ও পুরনো সব প্রজন্মই আস্তে আস্তে উপলব্ধি করতে পারছে , মুসলমান হিসাবে তাদের একমাত্র চেতনা থাকবে ইসলামী চেতনা , কথিত কোন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা না , তাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র মুসলিম জাতীয়তাবোধের চেতনা, কোন কথিত বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের চেতনা নয়। তারা উপলব্ধি করতে পারছে ১৯৪৭ সালে যে ইসলামী চেতনার দ্বারা পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল , পাকিস্তানের কিছু লোকের গোয়ার্তুমির কারনে , পাকিস্তান ভাগ হয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু তাই বলে নতুন গঠিত বাংলাদেশের মানুষের মনে বাঙ্গালী চেতনা বলতে কিছু থাকতে নেই, সেখানে থাকতে হবে ইসলামী চেতনা। তাই আজকের মানুষ উপলব্ধি করে , পাকিস্তানের সেই গোয়ার্তমি কিছু লোককে হয়ত এক সময় লাইনে আনা যেতো , একটু ধৈর্য্য ধরলেই , কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামের এক উচ্চাভিলাসী ব্যাক্তি ও এদেশের মানুষের ধৈর্য্যহীনতার কারনে একটা ভুল হয়ে গেছে , আর তার কারনেই পাকিস্তান নামক ইসলামী উম্মা থেকে বাংলাদেশ পৃথক হয়ে গেছে। তার মানে ভুলের মাশুল হিসাবে আজকে এদেশ ইসলামী উম্মা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। সেই কারনে তারা আজকে দায়ী করছে , সেই সময়ের চঞ্চল মতি কিছু নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদেরকে , যাদের কারনে আজকে বাংলাদেশ পাকিস্তান নামক উম্মা থেকে পৃথক হয়ে গেছে। একই সাথে উপলব্ধি করছে , সেই সময় যারা পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটিকে টিকানোর জন্যে সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিল , তারাই ছিল খাটি মুসলমান ও জিহাদী। তারা প্রকারান্তরে ইসলামের পক্ষেই লড়াই করেছিল। সুতরাং ফলাফলটা কি দাড়াল ?

এই জাতি ভবিষ্যতে একদিন , উক্ত উপলব্ধির কারনে , এই সিদ্ধান্তে উপনীত হবে যে , যারা আসলে মুক্তিযোদ্ধা ছিল , তারা আসলে ইসলামী উম্মাহ থেকে বাংলাদেশকে পৃথক করে ভয়াবহ অপরাধ করেছে , আর তাই তারাই হলো প্রকৃত রাজাকার। আর আজকে যারা রাজাকার বলে কথিত , তারাই ছিল মুসলিম উম্মার পক্ষে , আর সেই জন্যে তাদেরকে গণ্য করা হবে প্রকৃত ও খাটি জিহাদী ও শহিদ হিসাবে।

আমরা সেই দিনটার জন্যে গভীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষায় থাকব।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 7 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর