নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • মিশু মিলন
  • বেহুলার ভেলা

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

সমাজতান্ত্রিক কিউবা; গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।


১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রো কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি বাতিস্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন প্রবর্তন করেছিলেন। আমাদের উপমহাদেশীয় গণতন্ত্রের সজ্ঞায় এটাকে স্বাধীনতা বলা যাবে না। আমাদের কাছে স্বাধীনতার মানে হচ্ছে শুধু ভিনদেশী দখলদার থেকে মুক্ত হওয়া। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার সজ্ঞা আরো ব্যাপক। অর্থনীতিক মুক্তি ভোগৌলিক স্বাধীনতার থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ক্ষেত্র বিশেষে এর প্রভাব এবং উপযোগিতা নাগরিকের কাছে আরো বেশি। কারণ ক্ষুধার্তের কাছে অন্নের ছেয়ে ইপ্সিত আর কিছু নেই। মানুষের মৌলিক চাহিদা সমুহের মধ্য বস্ত্র আর বাসস্থানের কথা বাদ দিলাম, কারণ লজ্জা নিবারণের জন্য মানুষ যেকোন উপায়ে সেটার ব্যবস্থা করে থাকে। আর বাসস্থান? রাস্তার পাশে ফুটপাতে যে হাজার হাজার মানুষ দিনতিপাত করে, আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দুর্নীতি পরায়ণ রাষ্ট্রের মানুষের জন্য এর থেকে বেশি বিলাসিতা অচিন্তনীয়। সুতরাং বাসস্থানের আলোচনাও থাক। কিন্তু খাদ্য, শিক্ষা এবং চিকিৎসাকে যদি স্বাধীনতার বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখি, তাহলে আমাদের দেশ সে অর্থে এখনো স্বাধীন হয়নি!

কিউবায় একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা আছে। যেহেতু সেটা একদলীয়, সেহেতু উপমাহাদেশীয় গণতন্ত্রের সজ্ঞানুযায়ী কিউবায় জনগনের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা পায়নি। কিন্তু স্বাধীনতার মুল অর্থ যদি হয় নাগরিকের বাক স্বাধীনতা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা প্রাপ্তির নিশ্চায়তা, তাহলে কিউবার জনগন একদলীয় ক্ষমতার মাঝে থেকেও স্বাধীনতার সুফল পাচ্ছে। অন্যদিকে রক্তস্নানে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন শতভাগ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও অর্থনীতিক পরাধীনতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।

১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর কিউবার ক্ষমতা দখলকে কিউবার স্বাধীনতা হিসেবে ধরা হয়। আর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো ১৯৭১ সালে। বছরের হিসেবে কিউবা বাংলাদেশে একযুগ আগে স্বাধীন হয়েছিল। সময়ে হিসেবে সেটা ক্ষানিকটা বেশি দেখালেও দুটি দেশের জন্মের বয়স যখন প্রায় অর্ধ শতাব্দীকাল, তখন বলা চলে বাংলাদেশ এবং কিউবা প্রায় সমসময়িক সময়ে শোষন মুক্ত হয়েছিলো। কি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় আমাদের দেশে যখন ক্ষুধার যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে মানুষ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে, কিউবায় তখন এক টাকায় ক্যান্সারের ভেকসিন পাওয়া যায়!

কাস্ত্রোর কিউবা আর বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ সমসাময়িক স্বাধীন হয়েেছিলো। এবং দু'জন মানুষ আদর্শগত দিক থেকেও কাছাকাছি ছিলেন। তাহলে দুটি দেশের মধ্যে অর্থনীতিক এত বৈপরীত্য কেন? এই প্রশ্ন খুব স্বাভাবিক কারণেই উত্থিত হয়। সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষে আওয়ামীলীগের সৃষ্টি হয়েছিলো। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রেণীহীন শোষণহীন সমাজ ও কৃষকরাজ শ্রমিকরাজ কায়েম করাই ছিলো লক্ষ্য। আওয়ামীলীগও চেয়েছিল চলার পথের বাধাকে সংগঠনগত সাহস, তৎপরতা, কলাকৌশল ও বিশ্বের মেহনতী মানুষের মুক্তির সনদ মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্বের ভিত্তিতে অবশ্যই সরিয়ে দিতে। যেমনটি চেয়েছিলো কাস্ত্রো তার কিউবায়। তাহলে কিউবায় যখন জনগনের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, খাদ্যের জন্য নাম মাত্র মুল্যে নাগরিক রেশন ব্যবস্থা চালু করতে পেরেছে, সেখানে আমাদের দেশে কেন এখনো প্রায় ৪৭শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করছে? কেন গফরগাঁওয়ের অবুঝ শিশু কনিকা ভাতের অভাবে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে?

উর্বর ভূমি, অসংখ্য পোতাশ্রয় এবং খনিজের ভাণ্ডারের জন্য কিউবাকে স্পেন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে কিউবার প্রতি বন্ধু হিসাবে হাত বাড়িয়ে দেয়। কিউবা ৪শত বৎসর ধরে স্পেনের একটি উপনিবেশ ছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশের গল্পটিও ঠিক একই রকম। শুধু সময়, স্থান আর চরিত্র ভিন্ন। প্রাকৃতিক সম্পদের অপার উৎসের কারণে সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রসমুহের নজর ছিলো এই অঞ্চলে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃটিশ বেনিয়ারা প্রায় ২শত বৎসর শাসন করে গিয়েছিলো। আমাদের মুক্তির সংগ্রামে আমরা ভারতকে মিত্র দেশ হিসেবে পাশে পেয়েছিলাম। কিউবা যেমন পেয়েছিল সেভিয়েত ইউনিয়নকে। দুটি রাষ্ট্রের জন্মের গল্প একই রকম। প্রতিষ্ঠাকালীন দুজন রাষ্ট্র নায়কের সম্পর্কও ছিলো বন্ধুভাবাপন্ন। কিন্তু এতদাসত্বেও সমাজন্ত্রের সদ্ব্যবহার করে কিউবা আজ নাগরীক সুবিধায় বিশ্বে উদাহরন। আর আমরা গণতন্ত্রের পাগলা ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে প্রতিনিয়তই যুদ্ধ করছি এক মুঠো মোটা ভাতের জন্য।

আমাদের দেশে দশহাতি একটা বাঁশের সাঁকো বানাতে গেলেও নামকরণ নিয়ে দস্তুরমত রণক্ষেত্র বেঁধে যায়। আর কিউবায় শিক্ষিতের হার ৯৯.৮ শতাংশ, গড় আয়ু ৭৯.১ শতাংশ, জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য বলতে গেলে বিনামূল্যে রাষ্ট্র যোগান দেয়, কিন্তু এসব কিছু যিনি প্রবর্তন করে গেছেন, সেই ফিদেল কাস্ত্রোর নামে সেই দেশে একটি রাস্তাও নেই। ভাস্কর্য বা মূর্তি তো অচিন্তনীয়। সমস্যাটা আমাদের ঠিক এখানেই।

আমি গণতন্ত্র বিরোধী নই, কিন্তু অপাত্রে মুক্তার মালা সম্প্রদান বিরোধী। জাতিগত নৈতিক মুল্যবোধ তৈরী হওয়ার আগ পর্যন্ত গণতন্ত্র মানুষের জন্য সুফল আনতে পারে না। রাজনীতিক দ্বীধা বিভক্তি, আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি, ঘুষ বানিজ্য, অর্থখাতে ব্যাপক অনিয়ম আমাদের সমৃদ্ধির প্রধান অন্তরায়। আমাদের সংস্কারে এখনো নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা পায়নি। তাই গণতন্ত্র আমাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে আটকে গেছে। আমরা গিলতেও পারি না, উগড়াতেও পারি না।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 17 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর