নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মারুফুর রহমান খান
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

কুরআন অনলি: (১২) কাফেরদের যুক্তি ও আইয়ামে জাহেলিয়াত!


মুহাম্মদের সমসাময়িক অবিশ্বাসীরা যখন তাঁদের সম্মুখে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে তার নবুয়তের প্রমাণ স্বরূপ তারই দাবীকৃত যে কোন একটি প্রমাণ হাজির করতে বলেছিলেন, তখন মুহাম্মদ তাঁদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করেছিলেন তার আলোচনা গত দু'টি পর্বে করা হয়েছে। মুহাম্মদের প্রচারণার শুরু থেকেই অবিশ্বাসীরা সর্বদাই অভিযোগ করেছেন যে, মুহাম্মদ যা কিছু প্রচার করতেন, তা পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ আর কিছুই নয়; যা তাঁরা বহু আগে থেকেই শুনে আসছেন!অন্যদিকে, মুহাম্মদ দাবী করেছেন যে, সম্পূর্ণ কুরআন তার আল্লাহর কাছে লিখিত আছে "সম্মানিত, উচ্চ পবিত্র পত্রসমূহে” (কুরআন: ৮০:১৩-১৫)। তার এই দাবীর সত্যতার প্রমাণস্বরূপ কুরাইশরা মুহাম্মদকে আহ্বান করেছিলেন 'সম্পূর্ণ কিতাবটি' একবারে নাজিল করতে। যদি বাণীগুলো আগে থেকেই লেখা থাকে, তবে মুহাম্মদ সম্পূর্ণ কুরআন একসঙ্গে অবতীর্ণ করতে পারবেন। আর যদি তা না হয়ে মুহাম্মদ তার জানা "বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে" একটু একটু করে তা অবতীর্ণ করেন, তবে তা মুহাম্মদের নিজের বা অন্যের সাহায্যে বানানো। মুহাম্মদের ভাষায়: [1] [2]

২৫:৩২ (সূরা আল-ফুরকান)
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
“সত্য প্রত্যাখানকারীরা বলে, তাঁর প্রতি সমগ্র কোরআন একদফায় অবতীর্ণ হল না কেন?”

আল্লাহর মুখোশে মুহাম্মদের কৈফিয়ত:
“আমি এমনিভাবে অবতীর্ণ করেছি এবং ক্রমে ক্রমে আবৃত্তি করেছি আপনার অন্তকরণকে মজবুত করার জন্যে।"

>> এহেন কৈফিয়ত কী আদৌ বিশ্বাস যোগ্য? এক দিকে মুহাম্মদ দাবী করছেন, তিনি সৃষ্টিকর্তার বিশেষ সৃষ্টি ও শ্রেষ্ঠ নবী। কিন্তু সেই বিশেষ সৃষ্টির ৪০ পরবর্তী বয়সেও তার বর্ণিত সৃষ্টিকর্তাটি তাকে "মজবুত" অন্তঃকরণের অধিকারী করতে ব্যর্থ! ব্যর্থ সেই সৃষ্টিকর্তাটি “অ-মজবুত” অন্তঃকরণের অধিকারী মুহাম্মদের উপর সম্পূর্ণ কুরআন এক সঙ্গে অবতীর্ণ না করে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটু একটু নাজিল করছেন, যাতে তার নবীর অন্তঃকরণ মজবুত হয়! কী উদ্ভট দাবী! এখানেই শেষ নয়! যে সৃষ্টিকর্তা নবীর মনকেই 'মজবুত' করতে ব্যর্থ, সেই আবার পরক্ষণেই তার সেই বানী যদি “সাধারণ জনগণ” বিশ্বাস না করেন তবে তাঁদেরকে করছে অভিশাপ; তাঁদের কানে-চোখে-অন্তঃকরণে সিল মেরে করছে হেদায়েত থেকে বঞ্চিত, হুমকি দিচ্ছে কঠোর শাস্তির (কুরআন:২:৭)! এসব উদ্ভট যুক্তি বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তাকে (যদি থাকে) নিয়ে স্রেফ তামাসা বই আর কিছু কি হতে পারে?

মুহাম্মদের দাবীর অসারতার সপক্ষে অবিশ্বাসীরা সর্বদায় যে অভিযোগটি করতেন তা হলো, মুহাম্মদ তার আল্লাহর নামে যা কিছু প্রচার করছেন, তা তিনি নিজেই উদ্ভাবন ও রচনা করেছেন; আর এ ব্যাপারে অন্য লোকেরাও তাকে সাহায্য করেছে। অন্য লোকদের কাছ থেকে শোনা কথাগুলোই তিনি প্রচার করে চলেছেন। মুহাম্মদের ভাষায়:

১১:৩৫ (সূরা হুদ) - "তারা কি বলে? আপনি কোরআন রচনা করে এনেছেন? আপনি বলে দিন আমি যদি রচনা করে এনে থাকি, তবে সে অপরাধ আমার, আর তোমরা যেসব অপরাধ কর তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।"

৪৬:৮ (সূরা আল আহক্বাফ) - "তারা কি বলে যে, রসূল একে রচনা করেছে? বলুন, যদি আমি রচনা করে থাকি, তবে তোমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করার অধিকারী নও। ---"

৫২:৩৩ (সূরা আত্ব তূর) - "এই কোরআন সে নিজে রচনা করেছে? ---।"

২৫:৪-৫ (সূরা আল-ফুরকান) - "কাফেররা বলে, এটা মিথ্যা বৈ নয়, যা তিনি উদ্ভাবন করেছেন এবং অন্য লোকেরা তাঁকে সাহায্য করেছে। অবশ্যই তারা অবিচার ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। তারা বলে, এগুলো তো পুরাকালের রূপকথা, যা তিনি লিখে রেখেছেন। এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর কাছে শেখানো হয়।"

৪৪:১৩-১৪ (সূরা আদ দোখান) - "তারা কি করে বুঝবে, অথচ তাদের কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট বর্ণনাকারী রসূল। অতঃপর তারা তাকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে এবং বলে, সে তো উম্মাদ-শিখানো কথা বলে।"

১৬: ১০৩ (সূরা নাহল) - "আমি তো ভালভাবেই জানি যে, তারা বলেঃ তাকে জনৈক ব্যক্তি শিক্ষা দেয়। যার দিকে তারা ইঙ্গিত করে, তার ভাষা তো আরবী নয় এবং এ কোরআন পরিষ্কার আরবী ভাষায়।"

>> মক্কায় বসবাসকারী এক বিদেশী খ্রিষ্টান কামারের (Blacksmith) দোকান ছিল। যেখানে তিনি ঘোড়ার ক্ষুর তৈরি করতেন। মুহাম্মদ সেই দোকানে প্রায়শঃই আনাগোনা করতেন। কুরাইশদের দাবী, ঐ অনারাবীর কাছে মুহাম্মদ ধর্মীয় অনেক কাহিনী শিখে পরবর্তীতে তা আল্লাহর বাণী বলে প্রচার করতেন। কুরাইশদের এহেন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেই বিদেশী লোকটিকে উদ্দেশ্য করেই উপরিউক্ত আয়াতটি মুহাম্মদ হাজির করেন। [3] যেহেতু লোকটি সেখানে ব্যবসা করতেন, সুতরাং যৌক্তিকভাবেই ধারণা করা যায় যে, লোকটি আরবি ভাষা রপ্ত করেছিলেন। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া হয় যে, ঐ ব্যক্তিটি আরবি ভাষায় অনভিজ্ঞ, তথাপি ঐ মানুষটির কাছ থেকে দোভাষীর মাধ্যমে তথ্য জেনে তা আরবি ভাষায় বয়ান করা যাবে না, এমন যুক্তি একেবারেই হাস্যকর।

মুহাম্মদ-কে নবী হিসাবে বিশ্বাস না করার সপক্ষে অবিশ্বাসীরা আর যে যুক্তিগুলো প্রয়োগ করেছিলেন ও তাঁদের সেই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন, তা ছিল নিম্নরূপ:

৬:৯১ (সূরা আল আন-আম)
অবিশ্বাসীদের দাবী:
“তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি, যখন তারা বলল: আল্লাহ্ কোন মানুষের প্রতি কোন কিছু অবতীর্ণ করেননি।”

মুহাম্মদের অপ্রাসঙ্গিক জবাব:
“আপনি জিজ্ঞেস করুন: ঐ গ্রন্থ কে নাযিল করেছে, যা মূসা নিয়ে এসেছিল? যা জ্যোতিবিশেষ এবং মানব মন্ডলীর জন্যে হোদায়েতস্বরূপ, যা তোমরা বিক্ষিপ্তপত্রে রেখে লোকদের জন্যে প্রকাশ করছ এবং বহুলাংশকে গোপন করছ। তোমাদেরকে এমন অনেক বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতো না। আপনি বলে দিন: আল্লাহ্ নাযিল করেছেন। অত:পর তাদেরকে তাদের ক্রীড়ামূলক বৃত্তিতে ব্যাপৃত থাকতে দিন।”

>> অবিশ্বাসীরা যেখানে সুনির্দিষ্ট ভাবে বলছেন যে, “আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো কিছু অবতীর্ণ করেননি।” তার জবাবে, "ঐ গ্রন্থ কে নাযিল করেছে, যা মুসা নিয়ে এসেছিল" প্রশ্নটি একেবারেই অবান্তর। কারণ, মুসা নিশ্চিতরূপেই মানুষ ছিলেন ও কুরাইশরা (আয়াতটি মক্কায়) মুসার অনুসারী ছিলেন না।

৪৫:৩২ (সূরা আল জাসিয়া) – “- যখন বলা হত, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বলতে আমরা জানি না কেয়ামত কি? আমরা কেবল ধারণাই করি এবং এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।”

>> “আমরা কেবল ধারণাই করি, এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই”- এর চেয়ে বড় সত্য আর কি কিছু হতে পারে? যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি তা হলো, "মৃত্যুই" আমাদের কর্মজীবনের শেষ পরিণতি! মানব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এক জন ব্যক্তিও কখনোই তার মৃত্যুর পর পৃথিবীতে ফিরে আসেন নাই। তাই জীবনের এই শেষ পরিণতির পরে আদৌ কিছু ঘটবে, কী ঘটবে না, তা কারও পক্ষেই নিশ্চিতরূপে জানা সম্ভব নয়। বিভিন্ন ধর্ম-গুষ্টির বিশ্বাসী মানুষরা যুগে যুগে মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের যে কল্প-কাহিনীগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী যাবত বংশ-পরস্পরায় প্রচার করে চলেছেন, তার মূল ভিত্তি শুধুই বিশ্বাস। প্রমাণ 'শূন্য-শূন্য!' এই চিরন্তন সত্যের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যদি কোন ব্যক্তি মৃত্যু-পরবর্তী জীবন সম্পর্কে তার প্রচারিত কিচ্ছা-কাহিনীগুলো-কে "শতভাগ সত্য" আখ্যায়িত করে তা অন্য কোন ব্যক্তি কিংবা গুষ্টির ওপর বিভিন্ন উপায়ে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন, তবে সেই ব্যক্তিটি নিঃসন্দেহে এক মহা মিথ্যাবাদী-ভণ্ড, কিংবা মানসিক বিকারগ্রস্ত (Delusion)!

৪৫:২৪ - “তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।”

>> এতে কী কোনো সন্দেহ আছে? অমোঘ মহাকালকে কে অতিক্রম করতে পারে? 'আমরা মরি-বাঁচি ও মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে' - এটি পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞান; যা প্রতিটি ব্যক্তি তার জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি প্রত্যক্ষ করে আসছেন। এই প্রত্যক্ষ জ্ঞান-কে আল্লাহর মুখোশে মুহাম্মদ বলছেন, "অনুমান!"

৪৩:২২ (সূরা যুখরুফ) - “বরং তারা বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে পথপ্রাপ্ত।”

>> পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষই তার পৈতৃক ধর্মকেই অকাট্য জ্ঞান করেন! কুরাইশরাও তাই করেছিলেন। স্বাভাবিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে ধর্মান্তরিতের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।

৪৩:২০ - “তারা বলে, রহমান আল্লাহ ইচছা না করলে আমরা ওদের পূজা করতাম না।”

>> মুহাম্মদ তার জবানবন্দী কুরআনে অসংখ্যবার দাবি করেছেন যে, তার আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো কিছুই সাধিত হয় না ও মানুষের অবিশ্বাসের পেছনে আল্লাহরই ইচ্ছা জড়িত। অর্থাৎ, মানুষকে বিভ্রান্ত করার পেছনে প্রকৃতপক্ষে যে সত্ত্বাটি দায়ী, তিনি হলেন স্বয়ং আল্লাহ! [4] তার সে দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে কুরাইশদের জবাব কি আদৌ অযৌক্তিক?

আল্লাহর নামে মুহাম্মদের এহেন উদ্ভট জবাব ও কৈফিয়তগুলো-কে কী কোন মুক্তবুদ্ধির মানুষ সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে বিশ্বাস করতে পারেন? মুহাম্মদের চারিপাশের প্রায় সমস্ত মানুষই মুহাম্মদ-কে কী কারণে নবী হিসাবে অবিশ্বাস করেছিলেন, তা মুহাম্মদের নিজস্ব জবানবন্দি কুরআনে সুস্পষ্ট।

মুহাম্মদ ও তার মতবাদে বিশ্বাসী মানুষরা মুহাম্মদের সমসাময়িক ও তার পূর্বের অবিশ্বাসীদের "জাহিলিয়া (অন্ধকার-যুগ/জীব)" আখ্যা দেয়। যে কোনো ইসলামী প্রচারণায় তাঁদেরকে করা হয় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য! ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল হলো মুহাম্মদের 'কুরআন।' অবিশ্বাসী কাফেররা মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের ঠিক কী অত্যাচার করতেন, তার সুনির্দিষ্ট (Specific) উল্লেখ কুরআনের কোথাও নাই। তাঁরা মুসলমানদের যথেচ্ছ হুমকি-শাসানী বা ভীতি প্রদর্শন করতেন, অসম্মান বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন, এমন উদাহরণও নাই। মুসলমানদের প্রতি অবিশ্বাসীদের কথিত অত্যাচারের বর্ণনা অত্যন্ত ভাসা-ভাসা। যেমন, কাফেররা: আল্লাহ ও রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে; আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে; তোমাদের ধর্মকে উপহাস করে; আল্লাহ ও রসুলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে; ধর্মের ব্যাপারে ফিতনা সৃষ্টি করে; তোমাদেরকে বহিষ্কার করেছে; মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করেছে; তারা রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে; তারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ; ইত্যাদি, ইত্যাদি। অবিশ্বাসীরা কোনো মুসলমানকে খুন করেছেন, কিংবা কোনো শারীরিক আঘাত করেছেন, সমগ্র কুরআনে এমন একটি উদাহরণও নেই। Not a single one!

অন্যদিকে, অবিশ্বাসী কাফেরদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদের শত শত হিংস্র, অমানবিক ও নৃশংস নির্দেশ, শাপ-অভিশাপ, হুমকি-শাসানী, ভীতি-প্রদর্শনের বর্ণনা কুরআনে সুস্পষ্ট। মুহাম্মদ তাকে অবিশ্বাসী ও তার সমালোচনা-কারী প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কীভাবে খুনের নির্দেশ দিয়েছেন, অভিশাপ দিয়েছেন, হুমকি দিয়েছেন, তাঁদেরকে বাড়ি ঘর থেকে উৎখাত করেছেন, তাঁদের জান-মাল লুট করে ভাগাভাগি করেছেন (১/৫ অংশ মুহাম্মদের ও ৪/৫ অংশ হামলায় অংশ গ্রহণকারী মুহাম্মদ অনুসারীদের [কুরআন: ৮:৪১]); তার বিশদ বিবরণ কুরানে লিপিবদ্ধ আছে। যে ক্বাবা শরীফে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ৩৬০ টি মূর্তি ছিল, যার সামনে বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মের মানুষরা তাদের নিজ নিজ দেব-দেবীদের প্রার্থনা পাশাপাশি বসে করতেন সহ অবস্থানের মাধ্যমে, সেই মক্কা শরীফে আজ অমুসলিমদের প্রবেশ পর্যন্ত নিষেধ! কারণ "তাঁরা অপবিত্র"; এটি মুহাম্মদের শিক্ষা, যা কুরআনে সুস্পষ্ট (কুরআন: ৯:২৮)!

সুতরাং নিঃসন্দেহে,

"আইয়ামে জাহেলিয়াত তত্ব হলো ইসলামের ইতিহাসের অসংখ্য চূড়ান্ত মিথ্যাচারের একটি!”

নিজ ধর্মের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে তৎকালীন আরবের লোকেরা ভিন্ন ধর্ম মতাবলম্বী কোনো ব্যক্তি বা জনপদের ওপর আগ্রাসী আক্রমণ, খুন, জখম, লুট (গণিমত), দমন, নিপীড়ন ও দাস ও দাসী-করণের মত গর্হিত কর্মে লিপ্ত হতেন, এমন দাবি সম্পূর্ণরূপে অসত্য! মুহাম্মদেরই স্ব-রচিত কুরআনের আলোকে যা অত্যন্ত স্পষ্ট তা হলো, মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের আচরণের তুলনায় অবিশ্বাসীদের প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা ও আচরণ ছিল অধিক শালীন ও মানবিক। তাঁরা অসাধু-অমানুষ-অসহনশীল-মানবতাহীন নির্বোধ ছিলেন না।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[2] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/
[3] Tafsir al-Jalalayn, trans. Feras Hamza:
http://www.altafsir.com/Tafasir.asp?tMadhNo=0&tTafsirNo=74&tSoraNo=16&tA...
[4] কুরআন: ১৯:৮৩; ৪১:২৫;৪৩:৩৬; ৫৮:১০; ৪:৮৮; ৭:১৮৬; ১৬:৩৭; ৩০:২৯; ২:২৬, ৪:১১৫, ১৪:২৭, ৩০:২৯, ৪০:৩৩, ৪২:৪৪, ৪২:৪৬; ৫:৬৭; ৬:১৪৪; ৬১:৭; ২:২৫৮; ২:২৬৪; ৭:১৪৬; ২৮:৫০; ২:১৪২; ৪:৪৯; ২২:১৬; ৬:৩৯; ১৪:৪; ৩৫:৮; ২:১০৫; ২: ২১৩; ২:২৭২; ৬:৮৮; ৬:১২৫; ৭:১৭৮; ১০:১০০; ১৬:৯৩; ১৭:৯৭; ১৮:১৭; ২৮:৫৬; ৩৯:২৩; ৩৯:৩৬-৩৭; ইত্যাদি।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 13 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর