নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • মিশু মিলন
  • বেহুলার ভেলা
  • আমি অথবা অন্য কেউ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

বিজয় দিবস


আবারো বছর ঘুরে এলো বিজয় দিবস। ছোট বেলায় দেখতাম, পাড়ার মোড়ে দোকানে ছোট ছোট পতাকা ঝুলছে। মাইকে বাজছে বিজয়ের গান। বড় ভাইয়েরা দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছে আর আমরা এক কোনায় দাড়িয়ে শুনছি তারা কি বলে। সিঙ্গারা সমুচা পাওয়া যাবে-দাড়িয়ে থাকার সেটাও একটি উদ্দেশ্য ছিলো।
আজ বড় হয়ে গেছি। এখনও বছর ঘুরে ঘুরে আসে বিজয় দিবস। ৩৬৪ দিন পর আবার এসেছে ১৬ ডিসেম্বর। আবারো রাত ১২ টায় প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপতি পুষ্প অর্পণ করবেন স্মৃতিশৌধে আবারও শীতের সকালে কম্বলের নীচ থেকে বের হতে চাইবে না শরীর।
আবারও লেখা হবে অসংখ্য কবিতা আর গদ্য। শহীদের কান্না আর বিজয়ের আনন্দের অশ্রুতে গাওয়া হবে চিরাচরিত গান। কয়েক লক্ষ চেয়ার টেবিল ভাড়া করে মঞ্চায়ীত হবে শত শত সেমিনার। আবারো ৬৫ বছরের বৃদ্ধ বুদ্ধিজীবি আর ২২ বছরের তরুনের সমন্বয়ে যাত্রা করবে কিছু র‌্যালি। আর ফুলে ফুলে ভরে উঠবে স্মৃতিসৌধ। ঝকঝকে LED টিভির স্ক্রিনে শুরু হবে নাটক আর টেলিফিল্ম। বিভিন্ন পন্যের বিজ্ঞাপনের সৌজন্যে আমরা দেখবো বিজয়ের নাটক। ঠিক যেমনটি দেখেছি গত বছর। তার আগের বছর। তারো আগের বছর।
কিসের জন্য এই উৎসব? কোথায় সেই বিজয়? আমার ভাইয়ের রক্তের উপর যে সবুজ ঘাস জন্মেছে সে জন্য এই উৎসব? নাকি আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা আজ রক্ত কাঁশতে কাঁশতে রিকশা চালাচ্ছে সেই উল্লাসে? আহা! বড় কষ্ট লাগে যখন দেখি দরিদ্র, পঙ্গু, নুয়ে পড়া মুক্তিযোদ্ধারা ময়লা কুচকানো পাঞ্জাবী পড়ে সেমিনারের প্রথম সারিতে বসে আছেন, আর রাজদরবারের মত দশফুট উচু অশ্লীল মঞ্চে বসে আছেন কোন একজন মন্ত্রী! শুকরের মত চর্বিযুক্ত মন্ত্রী নামক মাংসপিন্ডটা যখন তার লোমশ হাতে আমার দরিদ্র বাবার হাতে ক্রেষ্টতুলে দেন, আর আমার দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা বাবা বোকার মত হাসতে হাসতে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকেন, তখন বিজয় দিবস শব্দটা আমার কাছে পৃথিবীর অশ্লীলতম শব্দ মনে হয়। বোধ করি বীর শহীদরা তখন অট্টহাসীতে ফেটে পড়েন, কারন তাদের এই অশ্লীল অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়ে যেতে হয়নি।
কে না জানে এই অশ্লীলতার উৎস! কে না জানে ১৭ ডিসেম্বারে আবারো রাস্তায় ভিক্ষারত দেখা যাবে সেই মুক্তিযোদ্ধাকে যে ১৬ তারিখ বসে ছিলেন কোন এক সেমিনারের প্রথম সারিতে। কে না জানে যে মন্ত্রীর অশ্লীল হাত ক্রেষ্ট তুলে দিয়েছিলো সেই হাতে স্বাক্ষরিত হবে কোন দৃর্ণীতির চুক্তি। যে চুক্তিতে ধর্ষিত হবে দেশ বছরের পর বছর।
কে না জানে আজ যে নপুংশক কবিরা ন্যাকা কবিতার জন্ম দিবেন কাল তারা ২০ টাকা ঘুষ দিয়ে ট্রেনের টিকিট কিনবেন! আর শুকরের মত ঘোৎ ঘোৎ করে বলবেন "শালার দেশে ঘুষ ছাড়া কিছু হয় না!" কে না জানে আমাদের কবিরা কদম ফুল কল্পনা করেন শুধু বর্ষার প্রথম দিনে। শরতের মেঘের তুলা না ভাসলে কাঁশফুলও যে দোলে না তাদের মনে! এই অশ্লীল কবিরা তিন মাস লেখে আদিরসের কবিতা, দুমাস লেখে বর্ষার কবিতা। আর চারমাস ব্যস্ত থাকে হস্ত মৈথুনে! হায় মুক্তিযুদ্ধ! হায় মুক্তিযোদ্ধা, হায় অভাগা শহীদ! তোমাদের জন্য কবিরা দয়া করে বরাদ্দ করেছেন একটি দিন! ১৬ ডিসেম্বার! অশ্লীল হাজার হাজার কবিতায় ভ'রে উঠবে, পত্রিকা, দেয়াল আর ব্লগ!
যে পত্রিকায় যে ব্লগে ছাপা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা সেই পত্রিকায়ই ছাপা হবে চেতনায় রাজাকার আর মুখে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের চাটুকারদের বিবৃতি ! আর বৃহন্নলা লেখকের দল আত্নপ্রসাদে ভুগবেন এই ভেবে যে গত এক সপ্তাহের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে! বিজয় দিবসের লেখাটা শেষ হয়েছে!!!!
খুব জানতে ইচ্ছে করে কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেনীর ছাত্রটি বুকে গুলি খেয়ে মরে পড়েছিলো কোন জলাভূমিতে? যে গুলিটি সে বুক দিয়ে ঠেকিয়েছে, মায়ের গায়ে লাগতে দেয়নি। কেমন আছে সে! ভাই, তুমি কি দেখতে পাচ্ছো তোমাদের নিয়ে বিজয় দিবসে কতবড় নাটক মঞ্চায়িত হচ্ছে দেশে! তোমাদের মা আজ ১৪ বছর ভাত খায় না কারন তুমি জেলে মৃত্যুর আগে ভাত খেতে চেয়েছিলে। তোমাদের মা আজ ১৪ বছর মাটিতে শুযে ঘুমায়, কারন তুমি জেলে শক্ত মেঝেতে পড়েছিলে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত। তোমার মা আজ ছেড়া স্যান্ডেল পড়ে সংয়ের মত বসে থাকে সেমিনারে। আর ভন্ডের দল বক্তৃতা দিয়ে যায়।
হায়রে কপাল!! আর কত অশ্লীল নাটক দেখতে হবে বিজয় দিবস নিয়ে! আর কত তামাশা! কেন শুয়োরদের মঞ্চ ভেঙ্গে পড়ে না! কেন নপুংসক কবিদের কবিতা ধুয়ে যায় না শহীদের রক্তে! আর কত অশ্লীল নৃত্য দেখবো স্বাধীনতার ব্যবসায়ীদের?!

মুক্তিযুদ্ধ কোন ছেলেখেলা ছিলনা যা আমি বুঝি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে। অন্তত আমি পারবোনা আমার আমাদের শহীদ পুর্বপুরুষদের ত্যাগকে অস্বীকার করতে। স্বাধীন বাংলায় আমার ও আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহনের অধিকার ওরাই দিয়ে গেছে।
ওরা আসবে... সব কটা জানালা খুলে দাও।

জয় বাংলা, বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

বাপ্পার কাব্য
বাপ্পার কাব্য এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 5 দিন ago
Joined: সোমবার, নভেম্বর 13, 2017 - 4:27অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর