নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • অবাক ছেলে
  • মাহফুজ উল্লাহ হিমু
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • রবিউল আলম ডিলার
  • আল হাসিম
  • মাহের ইসলাম
  • এহসান মুরাদ
  • ফাহিম ফয়সাল
  • সানভী সালেহীন
  • সাঞ্জানা প্রমী
  • অতৃপ্ত আত্বা
  • মনিকা দাস
  • আব্দুল্লাহ আল ম...

আপনি এখানে

নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধির গেজেট প্রসঙ্গে


গতকাল সরকার বহুল প্রতীক্ষিত নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধির গেজেট প্রকাশ করেছে। এই গেজেট প্রকাশ নিয়ে গত দুই বছর ধরে কালক্ষেপণ করেছে সরকার। সেই কালক্ষেপণের কারণ একজন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রধান বিচারপতির আসনে ছিলেন। এই কথাটা আইনমন্ত্রীর কথাতেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সরকারের ইচ্ছামতো গেজেট প্রকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন একজন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সেই সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সরিয়ে দেয়ার একমাস সময়ের মধ্যেই, দুই বছর গলায় আটকে থাকা কাঁটা সরকার বের করে আনলো!

অনুমিতভাবেই সরকার তাঁর ইচ্ছা মতো গেজেট প্রকাশ করেছে। এর আগেও সরকার এমনটি করতে চেয়েছিলো। কিন্তু প্রতিবারই তাতে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। ভারপ্রাপ্ত একজন ভাঁড়ের দ্বারা মেরুদন্ড সোজা রেখে, এই গেজেটকে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। তাই আপতত এই গেজেট সুপ্রিমকোর্ট এবং সরকার উভয়ের সম্মতিতেই প্রকাশ হয়েছে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। কিন্তু এই গেজেট বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য কাজ করবে নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে?

রাষ্ট্র তিনটি বিভাগ নিয়ে গঠিত হয়ে থাকে। সেই বিভাগগুলো স্বাধীন হলেও, তাদের মধ্যে সমন্বয় থাকে। কোন বিভাগই একে অপরের কাজের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করে না। যখনই এই হস্তক্ষেপ করা শুরু হয়, তখনই রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়ে। বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ সর্বদা অপর দুই বিভাগের উপর নিজের কতৃত্ব বজায় রেখেছে। যার জন্য এই রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। পাকিস্তানে যেমন বিচার বিভাগ (সেনা উস্কানিতে) অযাচিতভাবে নির্বাহী বিভাগের কাজে নাক গলায়, আমাদের দেশেও নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের কার্যক্রমে নাক গলায়। যার ফলাফল, মানুষের শেষ আশার জায়গা বিচারালয়ের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট।

বাংলাদেশে ১৯৯৭ সাল থেকে মানুষ স্বাধীন বিচার বিভাগের স্বপ্ন দেখছে। যেখানে বিচারালয় সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগ বা সরকারের প্রভাব মুক্ত থাকবে। যেখানে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ থাকবে না। দেরিতে হলেও ২০০৭ সালে সুপ্রিমকোর্ট নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন হয়ে কাজ শুরু করে। কিন্তু জনগনের নিকটবর্তী যে বিচারালয়, সেই নিম্ন আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রনেই রয়ে যায়। সংবিধানের ১১৫ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা যারা অধস্তন আদালতে দায়িত্বরত তাদের নিয়োগ এবং তাদের শৃঙ্খলা সম্পর্কে বলা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদন্নতি, ছুটি রাষ্ট্রপতি কতৃক হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবিক সত্য হচ্ছে, এই কাজটি নির্বাহী বিভাগ দ্বারা সম্পাদিত হয়। তাই নিম্ন আদালত বা অধস্তন আদালতের বিচারকরা নির্বাহী বিভাগের প্রভাব মুক্ত হতে পারেন না!

এমন অবস্থায় সংবিধানের ১১৫ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ এবং শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়নের জন্য সুপ্রিমকোর্ট সরকারকে নির্দেশনা প্রদান করেন। সরকার সময় আবেদন করার মাধ্যমে বারবার এই বিধি প্রনয়নে গড়িমসি করে। এরমধ্যে সরকার বিধির একটা খসড়া সুপ্রিমকোর্টে জমা দিলে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সেই খসড়া ফিরিয়ে দেন এবং এই বিধি প্রনয়নে সুপ্রিমকোর্টের পক্ষ থেকে কিছু প্রেসক্রিপশন প্রদান করেন। সেই পরামর্শ মতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদন্নতি রাষ্ট্রপতির আদেশে সুপ্রিমকোর্টের আধীনে সম্পাদিত হত। এতে করে নিম্ন আদালতের উপর থাকা সরকারের কতৃত্ব সম্পূর্ণরূপে খর্ব হত। সরকার সেটা হতে দিতে চায়নি বলেই সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সরিয়ে দিয়েছে।

গতকাল যে বিধির গেজেট প্রকাশ হয়েছে, ইতিমধ্যেই তার সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। ’৭২ এর সংবিধান প্রনয়নের সাথে যুক্ত ব্যারিস্টার আমীর – উল ইসলাম এই গেজেটে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে এবং সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিচারিক আদালতকে নিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু এ গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সে জায়গা থেকে সরে গেছে সরকার। এর মাধ্যমে বিচারিক আদালতের নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থেকে গেছে।’ সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন।

সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদ যেখানে অধস্তন আদালতের বিচারপতিদের নিয়োগের বিষয়ে বলেছে, সেখানে গেজেটে এই নিয়োগ ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৩৩ অনুচ্ছেদ সরকারি কর্মচারিদের নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন রয়েছে। যেই কমিশন সুপ্রিমকোর্টের অধীনে এবং রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। অথচ প্রকাশিত বিধিতে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনকে আইন মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হয়েছে! যার মাধ্যমে আইন মন্ত্রনালয় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিজেদের কাছে নিয়ে নিয়েছে! মজার ব্যাপার হল, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এটর্ণি জেনারেল সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আচরনে ক্ষুব্দ হয়ে ( বিধির খসড়া ফিরত দেয়ার পর) বলেছিলেন, সুপ্রিমকোর্ট রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিতে চায়। অথচ এই গেজেটের মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগ সেই ক্ষমতা নিয়ে নিলো। এখন জনাব এটর্ণি জেলারেল কি বলবেন?

সব কথার শেষ কথা, আগেও একবার বলে ছিলাম, স্বাধীন বিচার বিভাগের পক্ষে, বিচারালয়ের উপর জনগনের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করেছেন বলেই সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে এভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং রায় নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক ( আমার কাছে যা পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে হয়) ছিল একটা উসিলা মাত্র! মূল কথা হচ্ছে, সরকারের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সরাতে না পারলে সরকারের মধ্যে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিলো, সেটা দূর হতো না। সরকার নিজের স্বস্তির জন্য, বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য একজন যোগ্য প্রধান বিচারপতিকে যেভাবে সরিয়ে দিয়েছে, সেটা ইতিহাসের কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে! আর সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আমার কাছে স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য যে লড়াই, সেই লড়াইয়ের একজন কান্ডারি হয়ে থাকবেন। আমার ধারনা জনগনের মনেও তিনি শ্রদ্ধার আসনে আসীন হবেন।

আশংকা জাগে ভারপ্রাপ্ত ভাঁড়কে দিয়ে না আবার সরকার সুরেন্দ্র কুমার সিনহার রায়গুলোকে উল্টে দেয়। বিশেষ করে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় আর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবৈধ বলে ঘোষনা করা আদেশ ভাঁড়ের মাধ্যমে সরকার বদলে দিতে সচেষ্ট থাকবে! যায় হোক বিচার বিভাগের হত্যাকারী হিসেবেও ‘মাদার অব হিউমিনিটি’ স্বীকৃতি পাবেন বলে আশা করি।।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ
কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 6 দিন ago
Joined: রবিবার, মে 8, 2016 - 11:31পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর