নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কিন্তু
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

বাংলা সেই দেশ, যার সীমানায় এসে থমকে গিয়েছিল বিশ্বজয়ী বীর আলেকজান্ডারও।


প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের মধ্য শেকড়ের একটা নিবিঢ় সম্পর্ক যেমন আছে, তেমনি এই সম্পর্কটি বহু শতাব্দি ধরে অম্ল-মধুরও। এই তিনটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক অনেকটা ত্রিভূজ প্রেমের মতো। অবিভক্ত ভারতবর্ষ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পাকিস্তানের সাথে বাংলার সম্পর্ক কখনোই শান্ত স্রোতস্বিনীর মতো ছিলো না। পাকিস্তানের সাথে এপার বাংলার সম্পর্ক সব সময় বর্ষার উন্মত্ত খরস্রোতা। একমাত্র ধর্মের মিল ছাড়া বাংলার সাথে পাকিস্তানের কোন দিক থেকেই সামঞ্জস্যতা নাই। তাই তাদের হিসেব আলাদা। অপর দিকে একমাত্র ধর্মীয় অমিল ছাড়া ভারতের সাথে এদেশের সর্বদিক দিয়েই মিল রয়েছে। ভৌগলিক কারণে এপার বাংলা ওপার বাংলার মানুষ এক এবং অভিন্ন। কিন্তু এতদাসত্বেও বর্তমান সময়ে ভারতীয়দের সাথে বাংলাদেশীদের সাইবার যুদ্ধ সর্বত্রই দৃশ্যমান। এ যুদ্ধ নতুন প্রজন্মের যুদ্ধ।

অতিতে বৃটিশরা নাক উঁচা জাতি বলে সারা পৃথিবীতে কুখ্যাতি ছিলো। প্রায় দুই'শ বছর ভারতবর্ষ শাষনের কারণে এর প্রভাব এই অঞ্চলের মানুষের উপর সরাসরি পড়েছিলো। যদিও নখদন্ত্যহীন সিংহের মতো বৃটিশরা এখন অনেকটা মিইয়ে গেছে, তবে ভারতবর্ষ ছাড়ার আগে তাদের এই নাক উঁচা স্বভাব বোধহয় ভারতীয়দের জন্য রেখে গেছে। অন্তত একবিংশ শতাব্দীর ভারতীয়দের দেখে এটা পরিস্কার অনুমান করা যায়।

সমর ক্ষত্রে আদর্শগত অবস্থানের কারণে স্বাধীনতাকামী জাতিকে সামরিক সহায়তা দেয়ার নজির সারা পৃথিবীতেই আছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের হয়ে বহু পিরীত জাতিকে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী সারা বিশ্বজুড়ে প্রসংশিত। পাকিস্তানের সাথে স্বাধীনতার সংগ্রামে ভারত আমাদের সহযোগিতা করেছিলো এরকম নীতিগত অবস্থানের কারণে। কিংবা ভিতরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যাবে, এর পেছনে ছিলো ভারতীয়দের গভীর স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা। কিন্তু আমি সেদিকে যাবো না। কারণ আমার আজকের বলার উদ্যেশ্য ভিন্ন।

সোস্যাল মিডিয়ার কল্যানে সারা বিশ্বের মানুষ যেমন বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবার সুযোগ তৈরী হয়েছে, তেমনি এর ব্যাপক বিকাশ জাতিগত বিদ্বেসের জন্মও দিয়েছে। বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া সাইটে প্রায়শই ভারতীয় আর বাংলাদেশীদের মধ্যে জাতিগত বিতর্ক চোখে পড়ে। ভারতীয়দের যে কথাটিতে বাংলাদেশিরা সহজেই ধরাশায়ী হয়ে পড়ে সেটি হচ্ছে "তোমাদের জন্ম দিয়েছি আমরা, আমরা না থাকলে তোমরা এখনও পাকিস্থানিদের গোলামি করতে"। যদি ইতিহাস জানা না থাকে তবে নিজের সাথে সাথে এভাবে নিজের জাতিকে ডোবানোই স্বাভাবিক। আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে ভারতের অবদান আমরা স্বিকার করি। সেই কৃতজ্ঞতা বোধ আমাদের আছে। কিন্তু স্বাধীনতার জন্য যখন ভারত মাতার প্রসব বেদনা শুরু হয়েছিলো, তখন ধাত্রীর ভুমিকায় যে কত বাংলাদেশী বাঙালি ছিল, সে ইতিহাস আমাদের জেনে রাখা দরকার। অন্তত কাউন্টার এ্যাটাকের জন্য কাজে লাগবে।

ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের আন্দোলন ছিল সিপাহী বিদ্রোহ। ১৮৫৭ সালে মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে ব্যারাকপুরে এই বিদ্রোহ শুরু হলেও সেটি সবচেয়ে বড় ও কার্যকর রূপ নিয়েছিল বাংলাদেশে। চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, যশোর, রংপুর, পাবনা ও দিনাজপুরে সবচেয়ে বড় আকার নেয়। চট্টগ্রামের পদাতিক বাহিনী বিদ্রোহ ঘোষণা করে জেলখানা সব কারাবন্দীদের মুক্ত করে দিয়েছিল। দখল করে নিয়েছিল অস্ত্রাগার ও কোষাগার। চট্টগ্রামকে ‘স্বাধীন’ করে তারা ত্রিপুরার দিকেও এগিয়ে গিয়েছিল।

এই বিদ্রোহকে ব্যর্থ বলার কোনো সুযোগ নেই। সিপাহী বিদ্রোহের ফলেই ভারতে ১০০ বছরের কোম্পানি শাসনের অবসান হয়। ভারত সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে শাসিত হয়। এত বড় ধাক্কা দিয়েছিল এই সিপাহী বিদ্রোহ।

এই চট্টগ্রামেই থেকেই ব্রিটিশ শাসনকে দেওয়া হয়েছিল আরেকটি বড় ধাক্কা। ১৯৩০ সালে মাস্টার দা সূর্য সেন চট্টগ্রামে বিদ্রোহ সূচনা করেছিলেন। সেখান অস্থায়ী বিপ্লবী সরকারও গঠন করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম স্বাধীন ছিল চার দিন। সূর্যসেন পথ দেখিয়েছিলেন, চার দিন স্বাধীন থাকতে পারলে কেন চিরদিনের স্বাধীনতা সম্ভব নয়?

ভারতের প্রথম দিককার দুই বিপ্লবী ছিলেন ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী। ক্ষুদিরামের ফাঁসি আর পুলিশকে ধরা না দিয়ে নিজেই মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মাহুতী দেওয়া প্রফুল্ল পরবর্তী বিপ্লবীদের ভীষণ উদ্দীপ্ত করেছিলেন। প্রফুল্লের জন্ম বগুড়ায়, ছিলেন রংপুর জিলা স্কুলের ছাত্র। সায়ানাইড খেয়ে আত্মহুতী দেওয়া যে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে দেখে ভারতের নারীরাও আন্দোলনে এগিয়ে এসেছিলেন নিজেদের উৎসর্গ করতে, তিনি চট্টগ্রামের মেয়ে। সেই যুগেও কল্পনা দত্তরা আঁচল বেঁধে আন্দোলন করেছেন, ভাবা যায়!

যার নাম শুনলে ব্রিটিশ সেনাদের আত্নারাম খাঁচা ছাড়া হবার যোগাড় হতো সেই বাঘ বাঘা যতীনের জন্ম কুষ্টিয়ায়। বাদল–দিনেশ, রাজেন্দ্র লাহিড়ি, বিনয় বসু, উল্লাসকর দত্ত, ভূপেন দত্ত, বিনোদ বিহারী চৌধুরী, সুবোধ রায়... কত কত নাম, বিপ্লবের মহাকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র। 
বিপ্লবের পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে আরেক ধারার নেতৃত্বে ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসেরা। লিস্ট লম্বা করাই যায়।

বাংলা মোঘলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বারো ভূঁইয়ার দেশ। বাংলা সেই দেশ, যার সীমানায় এসে থমকে গিয়েছিল বিশ্বজয়ী বীর আলেকজান্ডারও। এই বাংলার আবহাওয়ায় এমন কিছু আছে, আমরা কখনোই পরাধীনতা মেনে নিইনি, নিব না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের অবদান স্বীকার করার মতো উদারতা আমাদের আছে। ভারত তাদের স্বাধীনতায় এই বাংলায় নাড়িপোঁতা ভূমিপুত্র আর অসীম সাহসী বীর নারীদের অবদান স্বীকার করার মতো যথেষ্ট উদার তো?

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 7 ঘন্টা 24 min ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর