নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • মিশু মিলন
  • বেহুলার ভেলা
  • আমি অথবা অন্য কেউ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

কুরআন অনলি: (১১) নবুয়তের প্রমাণ দাবী - প্রতিক্রিয়া? – দুই


স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) তার সুদীর্ঘ ২৩ বছরের নবী জীবনে তার চারিপাশের মানুষদের উদ্দেশ্যে পূর্ববর্তী নবীদের যে অলৌকিক কিচ্ছা-কাহিনীগুলো প্রচার করতেন, তার সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যখন অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদের কাছে তার নবুয়তের প্রমাণ স্বরূপ তাদেরই মত কোন 'অলৌকিকত্ব (মোজেজা)' হাজির করতে বলেছিলেন; তখন তিনি তাদেরকে কীরূপ অপ্রাসঙ্গিক জবাব, অজুহাত, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শন করেছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।মুহাম্মদের নিজস্ব জবানবন্দির আলোকে আমরা আরও জানতে পারি, অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদের কাছে শুধু যে পূর্ববর্তী নবীদেরই অনুরূপ কোন প্রমাণ হাজির করতে বলেছিলেন তাইই নয়, তাঁরা মুহাম্মদের কাছে 'তারই দাবীকৃত' যে কোন একটি প্রমাণ তাদের সম্মুখে হাজির করতে বলেছিলেন। প্রত্যুত্তরে মুহাম্মদ তাঁদের কী জবাব দিয়েছিলেন তা 'কুরআনে' সুস্পষ্ট।

মুহাম্মদের ভাষায়: [1] [2]

১) সমগ্র কুরআন একদফায় অবতীর্ণ করানোর দাবি:

৪:১৫৩ (সূরা আন নিসা)
অবিশ্বাসীদের দাবী:
“আপনার নিকট আহলে-কিতাবরা আবেদন জানায় যে, আপনি তাদের উপর আসমান থেকে লিখিত কিতাব অবতীর্ণ করিয়ে নিয়ে আসুন।”

মুহাম্মদের অপ্রাসঙ্গিক জবাব ও হুমকি:
“বস্তুত: এরা মূসার কাছে এর চেয়েও বড় জিনিস চেয়েছে। বলেছে, একেবারে সামনাসামনিভাবে আমাদের আল্লাহ্‌কে দেখিয়ে দাও। অতএব, তাদের উপর বজ্রপাত হয়েছে তাদের পাপের দরুন; অত:পর তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ-নিদর্শন প্রকাশিত হবার পরেও তারা গো-বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল; তাও আমি ক্ষমা করে দিয়েছিলাম এবং আমি মূসাকে প্রকৃষ্ট প্রভাব দান করেছিলাম।"

২৯:৫০-৫১ (সূরা আল আনকাবুত)
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
“তারা বলে, তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে তার প্রতি কিছু নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন?”

অপ্রাসঙ্গিক জবাব ও হুমকি-ভীতি প্রদর্শন:
“বলুন, নিদর্শন তো আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আমি তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। এটা কি তাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়।"

>> অবিশ্বাসীরা বারংবার অভিযোগ করে আসছেন যে, মুহাম্মদ নিজেই কুরান রচনা করেছেন এবং অন্যেরাও তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছেন। সেই অভিযোগের প্রশ্নে মুহাম্মদের জবাব, "এটাকি তাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি!" অর্থাৎ, মুহাম্মদের কিসসা-কাহিনী-হুমকি-শাসানি-তাচ্ছিল্য-ভীতি প্রদর্শন' সম্বলিত পুস্তকটিই (বিস্তারিত: 'কুরআনে অবিশ্বাস ও তার কারণ [পর্ব-৮]) মুহাম্মদের নবুয়তের সাক্ষী! তার আর কোন প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন নেই। কী অদ্ভুত যুক্তি!

২) কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে:

২১:৩৮-৪০ (সূরা আম্বিয়া)
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
"এবং তারা বলেঃ যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে এই ওয়াদা কবে পুর্ণ হবে?"

অপ্রাসঙ্গিক জবাব, তাচ্ছিল্য ও হুমকি- ভীতি প্রদর্শন:
যদি কাফেররা ঐ সময়টি জানত, যখন তারা তাদের সম্মুখ ও পৃষ্ঠদেশ থেকে অগ্নি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না। বরং তা আসবে তাদের উপর অতর্কিত ভাবে, অতঃপর তাদেরকে তা হতবুদ্ধি করে দেবে, তখন তারা তা রোধ করতেও পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।"

৩৬:৪৮-৫০ (সূরা ইয়াসীন)
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
‘তারা বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে বল এই ওয়াদা কবে পূর্ণ হবে?’

মুহাম্মদের হুমকি:
‘তারা কেবল একটা ভয়াবহ শব্দের অপেক্ষা করছে, যা তাদেরকে আঘাত করবে তাদের পারস্পরিক বাকবিতন্ডাকালে। তখন তারা ওছিয়ত করতেও সক্ষম হবে না। এবং তাদের পরিবার-পরিজনের কাছেও ফিরে যেতে পারবে না।’

৫১:১২-১৪ (সূরা আয-যারিয়াত)
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
‘তারা জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত কবে হবে’?

হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন:
“যেদিন তারা অগ্নিতে পতিত হবে, তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর। তোমরা একেই ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিল।’

৩৩:৬৩-৬৫ (সূরা আল আহযাব)
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
"লোকেরা আপনাকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে।"

অপ্রাসঙ্গিক জবাব ও হুমকি:
"বলুন, এর জ্ঞান আল্লাহর কাছেই। আপনি কি করে জানবেন যে সম্ভবতঃ কেয়ামত নিকটেই। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছেন। তথায় তারা অনন্তকাল থাকবে এবং কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।---"

(অনুরূপ বর্ণনা: ৭:১৮৭; ১০:৪৮-৫০; ২৭:৭১-৭২; ৩২:২৮-২৯; ৩৪:২৯-৩০; ৬৭:২৫-২৮; ৭৯:৪২-৪৪; ইত্যাদি।)

৩) আযাব ত্বরান্বিত করার আহ্বান:

২২:৪৭-৪৮ (সূরা হাজ্জ্ব)
অবিশ্বাসীদের দাবী:
'তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে।”

অপ্রাসঙ্গিক জবাব ও হুমকি-ভীতি প্রদর্শন:
“অথচ আল্লাহ কখনও তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আপনার পালনকর্তার কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান। -এবং আমি কত জনপদকে অবকাশ দিয়েছি এমতাবস্থায় যে, তারা গোনাহগার ছিল। এরপর তাদেরকে পাকড়াও করেছি এবং আমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।”

>> আল্লাহ কখনও তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন কি করেন না, সে প্রশ্ন তো কুরাইশরা এখানে করেননি বা জানতেও চাননি। কুরাইশরা মুহাম্মদের নবুয়তের প্রমাণস্বরূপ তার আল্লাহর "আযাব ত্বরান্বিত করতে" আহ্বান করেছিলেন! প্রত্যুত্তরে মুহাম্মদের অপ্রাসঙ্গিক জবাব ও হুমকি-ভীতি প্রদর্শন!

২৯:৫৩-৫৫ (সূরা আল আনকাবুত)
অবিশ্বাসীদের দাবী ও মুহাম্মদের অপ্রাসঙ্গিক জবাব ও হুমকি:
"তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। যদি আযাবের সময় নির্ধারিত না থাকত, তবে আযাব তাদের উপর এসে যেত। নিশ্চয়ই আকস্মিকভাবে তাদের কাছে আযাব এসে যাবে, তাদের খবরও থাকবে না। তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে; অথচ জাহান্নাম কাফেরদেরকে ঘেরাও করছে। যেদিন আযাব তাদেরকে ঘেরাও করবে মাথার উপর থেকে এবং পায়ের নীচ থেকে। ---”

৮: ৩১-৩৩ (সূরা আল-আনফাল)
অবিশ্বাসীদের দাবী:
“আর কেউ যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে তবে বলে, আমরা শুনেছি, ইচ্ছা করলে আমরাও এমন বলতে পারি; এ তো পূর্ববর্তী ইতিকথা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাছাড়া তারা যখন বলতে আরম্ভ করে যে, ইয়া আল্লাহ, এই যদি তোমার পক্ষ থেকে (আগত) সত্য দ্বীন হয়ে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদের উপর বেদনাদায়ক আযাব নাযিল কর।”

মুহাম্মদের জবাব ও হুমকি:
“অথচ আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না। আর তাদের মধ্যে এমন কি বিষয় রয়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদের উপর আযাব দান করবেন না।---"

>> "আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন" - যদি তাইই হয়, তবে কেন মুহাম্মদ অবিশ্বাসীদেরকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর যাবত অভিশাপ, হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শন করে চলেছেন? ইমাম বুখারীর ভাষ্য মতে উক্ত আয়াতের শানে নজুল হলো আবু জেহেলের এক উক্তি (৬:৬০:১৭১)! আবু জেহেল বলেছিলেন, ‘হায় আল্লাহ! এই (কুরান) যদি তোমার সত্য ভাষণের নমুনা হয় তবে আকাশ থেকে আমাদের উপর পাথর-বৃষ্টি বর্ষণ কর অথবা পাঠাও কোন কঠিন যন্ত্রণাদায়ক আযাব।’ আবু জেহেলের এই উক্তিতে 'আল্লাহর' প্রেস্টিজে লাগে ঘা! তাই 'তাঁকে টেক্কা দেয়ার জন্যেই' আল্লাহর রেফারেন্সে মুহাম্মদ হাজির করেছিলেন এই ৮:৩২-৩৪ আয়াত! [3] “নিশ্চয়ই এতে বোধ শক্তি সম্পন্নদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে (১৬:১২, ৩:১৯০)!”

আল্লাহর নামে মুহাম্মদের উল্টা-পাল্টা, অবান্তর, উদ্ভট ও হাস্যকর বাণী যে কোনোভাবেই স্রষ্টা প্রদত্ত হতে পারে না! এ ব্যাপারে আবু জেহেল ছিলেন একেবারেই নিশ্চিত। তাই তিনি মুহাম্মদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন! এর পরের অংশটি, "যতক্ষণ তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে" একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক! প্রশ্নকারী মুহাম্মদের (আল্লাহ) কাছে ক্ষমা প্রার্থনা চাচ্ছেন, এমন আলামত কি কোথাও ব্যক্ত করেছেন? অবশ্যই নয়! তাহলে? এহেন উদ্ভট ও অপ্রাসঙ্গিক জবাবের হেতু কী? আবার জিগাই!

৪) ফেরেশতাদেরকে দেখানোর দাবী:

৬: ৮-৯ (সূরা আল আন-আম)
অবিশ্বাসীদের দাবী:
"তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ করা হল না?"

মুহাম্মদের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন:
"যদি আমি কোন ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটাই শেষ হয়ে যেত। অতঃপর তাদেরকে সামান্যও অবকাশ দেওয়া হত না। যদি আমি কোন ফেরেশতাকে রসূল করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের আকারেই হত| এতেও ঐ সন্দেহই করত, যা এখন করছে।"

৬:১৫৮
অবিশ্বাসীদের দাবী:
"তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আগমন করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমন করবেন অথবা আপনার পালনকর্তার কোন নির্দেশ আসবে।"

মুহাম্মদের ভীতি প্রদর্শন:
“যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্খাপন তার জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে বিশ্বাস স্খাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি। আপনি বলে দিন: তোমরা পথের দিকে চেয়ে থাক, আমরাও পথে দিকে তাকিয়ে রইলাম।”

১৫:৭-৮ (সূরা হিজর)
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন:
“--যদি আপনি সত্যবাদী হন, তবে আমাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে আনেন না কেন?”

ভীতি প্রদর্শন:
“-– আমি ফেরেশতাদেরকে একমাত্র ফায়সালার জন্যেই নাযিল করি। তখন তাদেরকে অবকাশ দেয়া হবে না।’

>> অবিশ্বাসীদের দাবি ও প্রশ্ন ছিল সুনির্দিষ্ট, কিন্তু প্রবক্তা মুহাম্মদের সমস্ত জবাবই ছিল অপ্রাসঙ্গিক বাক্য বিনিময়, হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শন। এ সমস্ত উদ্ভট পাল্টা জবাবের মাধ্যমে মুহাম্মদ যে তার অপারগতা ও অক্ষমতাই প্রমাণ করেছিলেন, তা বোঝা যায় অতি সহজেই।

অবশেষে মুহাম্মদের 'অক্ষমতার' স্বীকারোক্তি:

৩৩:৬৩-৬৫ (সূরা আল আহযাব)
"লোকেরা আপনাকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এর জ্ঞান আল্লাহর কাছেই। আপনি কি করে জানবেন যে সম্ভবতঃ কেয়ামত নিকটেই। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছেন। তথায় তারা অনন্তকাল থাকবে এবং কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।---"

৭: ১৮৭-১৮৮ (সূরা আল আ’রাফ)
“আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে।---বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।”

৬:৫৭ (সূরা আল আন-আম)
“আপনি বলে দিন: আমার কাছে প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ আছে এবং তোমরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছ। তোমরা যে বস্তু শীঘ্র দাবী করছ, তা আমার কাছে নেই। আল্লাহ্ ছাড়া কারো নির্দেশ চলে না।”

এবং, "আঙুর ফল টক" ও আরও গালি ও তাচ্ছিল্য!

৬:১১১: - “আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে অবতারণ করতাম এবং তাদের সাথে মৃতরা কথাবার্তা বলত এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে জীবিত করে দিতাম, তথাপি তারা কখনও বিশ্বাস স্খাপনকারী নয়; কিন্তু যদি আল্লাহ্ চান। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুর্খ।”

>>> ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল মুহাম্মদেরই নিজস্ব জবানবন্দী 'কুরআন।' সেই কুরআনেরই পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট তা হলো, অবিশ্বাসীরা বহুবার বিভিন্নভাবে মুহাম্মদকে তার নবুয়তের প্রমাণ হাজির করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর মুহাম্মদ প্রতিবারেই প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বাসী মুসলিম সমাজ এ সত্য মানতে নারাজ! তারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, মুহাম্মদ ছিলেন "সুপার-হিউম্যান।" যে কোনও মসজিদ এবং মুসলিম সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে “মুহাম্মদের অলৌকিকত্বের" উদাহরণ হিসাবে যে বয়ানগুলো বারংবার শোনানো হয়, তা হলো:

১) মুহাম্মদের অঙ্গুলি হেলনে চন্দ্র দ্বি-খণ্ডিতকরণ!
২) মুহূর্তে সশরীরে মুহাম্মদের আকাশভ্রমণ (মেরাজ)!

৫৪:১ (সূরা আল ক্বামার) - "কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে।" ব্যস! কুরানের এই একটি মাত্র আয়াত! এই একটি মাত্র বাক্যকে মনের মাধুরী মিশিয়ে ইসলামী চিন্তাবিদরা গত ১৪০০ বছর ধরে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে এমন এক উচ্চ স্তরে পৌঁছিয়েছেন যে, পৃথিবীতে এমন একজন মুসলমানও বোধ করি পাওয়া যাবে না, যে মুহাম্মদের এই 'অলৌকিক ঘটনার' কথা শোনেনি। কিন্তু বর্তমান বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের মানদণ্ডে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিতের ঘটনাটি এতই অবাস্তব যে “বুদ্ধিমান” তাফসীরকারদের অনেকেই এ ঘটনাটি আদৌ বাস্তবে কখনো ঘটেছিল বলে মনে করেন না। তারা মনে করেন কেয়ামতের আগে এ ঘটনাটি ঘটবে!

আর, মেরাজ সম্বন্ধে মুহাম্মদ তার জবানবন্দী কুরআনে (১৭:১; ১৭:৬০; ৫৩:১৩-১৮) যা ঘোষণা করেছেন তা হলো, মুহাম্মদের এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছিল "রাত্রি বেলায়।" অবিশ্বাসীরা তো নয়ই, কোনও প্রত্যক্ষদর্শী মুহাম্মদ অনুসারীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। মুহাম্মদের এই অলৌকিকত্বের দাবিদার মুহাম্মদ, সাক্ষীও সেই মুহাম্মদ! ঘটনাটি ৬২১ সালের। হিজরতের অল্প কিছু দিন আগে। যে মুহাম্মদ তার সুদীর্ঘ ২৩ বছরের (৬১০-৬৩২ সাল) নবী জীবনে অবিশ্বাসীদের বারংবার তাগাদা সত্বেও একটি প্রমাণও হাজির করতে পারেননি! যে মুহাম্মদ দিনের পরে দিন, মাসের পরে মাস, বছরের পরে বছর যাবত প্রমাণের পরিবর্তে তাঁদের শুনিয়েছেন অপ্রাসঙ্গিক জবাব! যে মুহাম্মদ সুদীর্ঘকাল তাঁদের পূর্বপুরুষ ও পূজনীয় দেবদেবীকে করেছেন উপহাস ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, দিয়েছেন হুমকি, করেছেন ভীতি প্রদর্শন! যে জনগোষ্ঠী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ-কে চিনে এসেছেন এক মিথ্যাবাদী, প্রতারক ও জালিয়াত হিসাবে (পর্ব-৭)'! সেই একই জনগোষ্ঠী কোনও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ছাড়া রাতের অন্ধকারে চুপি চুপি মুহাম্মদের এই আকাশ ভ্রমণের উদ্ভট ও হাস্যকর দাবিকে কী কারণে বিশ্বাস করবেন? এহেন সর্বজনবিদিত মিথ্যাবাদী-ভণ্ড-প্রতারকের দাবি তো নয়ই, কোনও চরম সত্যবাদী মানুষেরও এহেন উদ্ভট দাবিকে কি কোনো সুস্থ-বিবেকবান মুক্তচিন্তার মানুষ বিশ্বাস করতে পারেন? এহেন উদ্ভট 'কিসসা কাহিনীর' অবতারণা করে অবিশ্বাসীদের তা বিশ্বাস করার আহ্বান জানানো-কে এক "সীমাহীন তামাসা” ছাড়া আর কোনও ভাবেই ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই! মুহাম্মদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ অবিশ্বাসীরা কেন তাকে "উন্মাদ" রূপে আখ্যায়িত করেছিলেন, তা অতি সহজেই উপলব্ধি করা যায় মুহাম্মদের এহেন উদ্ভট, অবাস্তব, বাস্তবতা-বর্জিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই!

সংক্ষেপে:

(১)

অবিশ্বাসীরা বহুবার বিভিন্নভাবে মুহাম্মদকে তার নবুয়তের প্রমাণ হাজির করতে বলেছিলেন। তাঁদের প্রশ্ন ও দাবি ছিল সম্পূর্ণ যৌক্তিক। বিনা প্রমাণে কেন তাঁরা মুহাম্মদকে নবী হিসাবে মেনে নেবেন? বিশেষ করে যখন মুহাম্মদের প্রচারে তাঁরা কোনও নতুনত্বই খুঁজে পাননি।

(২)

অবিশ্বাসীদের যৌক্তিক দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদের সমস্ত জবাবই ছিল অপ্রাসঙ্গিক বাক্য বিনিময়। মুহাম্মদ তার নবুয়তের সপক্ষে শুধু যে কোনও প্রমাণই হাজির করতে পারেননি, তাইই নয়, তার জবাবে ছিল তাচ্ছিল্য, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন।

(৩)

মুহাম্মদ পূর্ববর্তী নবীদের অনুরূপ "অলৌকিকত্ব" কখনোই হাজির করতে পারেননি (পর্ব-১০)!

মুহাম্মদের যাবতীয় "মোজেজার কিসসা" ইসলামের হাজারো মিথ্যাচারের একটি; যার সম্পূর্ণ কৃতিত্বই মুসলিম শাসক-যাজক চক্রের পাওনা (বিস্তারিত: 'কুরআনে অস্পষ্টতা ও তার প্রতিকার [পর্ব-৬])'। সত্য হলো, অবিশ্বাসীদের বারংবার আহ্বান সত্বেও মুহাম্মদ তার নবুয়তের সপক্ষে একটি প্রমাণও হাজির করতে পারেননি! Not a single one! কুরআন 'সৃষ্টিকর্তার বানী', কিয়ামতের দাবী ও আযাবের হুমকি মুহাম্মদের। কুরাইশরা মুহাম্মদের সে দাবীরই যথার্থতার প্রমাণ জানতে চেয়েছিলেন! বরাবরের মতই উল্টা-পাল্টা অপ্রাসঙ্গিক জবাব, হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মুহাম্মদ তার অক্ষমতা ও অপারগতার প্রমাণ হাজির করেছিলেন। সে কারণেই অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদকে প্রতারক, জালিয়াত, ভণ্ড ও মিথ্যাবাদী রূপে আখ্যায়িত করেছিলেন। তাঁরা কি কোনও গর্হিত অপরাধ করেছিলেন?

বাস্তব ব্যক্তি জীবনের অনুরূপ পরিস্থিতিতে এহেন কোনও ‘স্বঘোষিত নবী-আউলিয়া-পীর-কামেল-সাধুবাবা’ দাবিদার-কে কুরআনে বর্ণিত ওপরোক্ত সওয়াল-জবাবের মাপকাঠিতে কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত? অকাট্য সত্যবাদী ব্যক্তি রূপে? নাকি ভণ্ড-প্রতারক রূপে?

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[2] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/
[3] সহি বুখারী: ভলুম ৫, বই ৬০, হাদিস নম্বর: ১৭১:
http://www.hadithcollection.com/sahihbukhari/93-sahih-bukhari-book-60-pr...

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর