নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কিন্তু
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

হিন্দু নামধারী সনাতনের লেবেল চেঞ্জ ধর্মকে বর্বর বলা যাবে না কেন ?



গত দুইদিন ধরে সোস্যাল মিডিয়াতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদার কোথাও ঘটে যাওয়া একটি ধর্মীয় হত্যাকান্ডের ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে যা বেশ কয়েকবার আমার চোখে পড়েছে। ধর্মের আফিমীয় মাদক ও এই জাতীয় ধর্মাবলম্বী বোকা মানুষ গুলিকে কতটুকু নির্বোধ-মানবিকতাশুণ্য বানিয়ে দেয় তার একটি চরম উদাহরণ হতে পারে এই বর্বর হিন্দু ধর্ম। হিন্দু ধর্মের বেদ, গীতা, মনুসংহিতা, উপনিষদ, রামায়ন, মহাভারত, পুরানপাচালি ইত্যাদির মধ্যে এতো জাতপাতের বৈষম্য, বর্ণভেদ, গোত্রবিভেদ, ধর্মভেদ, ধর্মান্ধতা, গোড়ামি, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতা, নারীর প্রতি কুসংস্কার, বিরুপ ধারণা, ভয়, ঘৃণা, আর সবশেষে বর্বর ও জংলী কিছু ধর্মীয় আইন কানুন আছে যা আর অন্য কোন ধর্মে পরিলক্ষিত হয়না। হিন্দু ধর্ম একটি বর্বর ও অমানবিক ধর্ম বলাতে যারা ধুতি পরে মাথার টিকলি নাচাতে নাচাতে চলে আসেন হিন্দু ধর্ম রক্ষা করতে তাদের বলবো আগে প্রমান করুন আমি কোথায় ভুল কিছু বলেছি যা এই হিন্দু ধর্মে নেই। হিন্দু ধর্ম যে বর্বর আর অমানবিক ধর্ম না সেটার পক্ষে দুই একটা কারণ দেখান এখানে। আমি এখানে হিন্দু ধর্মের মানুষ হত্যা আর বর্বরতার কিছু নমুনা দিলাম মিলিয়ে দেখুন।

শিশুকাল থেকেই একটি হিন্দু ধর্মালম্বী বাচ্চাকে হাতে তীর ধনুক দিয়ে রাবণ মারার মাধ্যমে এই মানুষ হত্যা করা আর মানুষকে ঘৃণা করার হাতে খড়ি দেওয়া হয়ে থাকে এই ধর্মটিতে। যেসব মডারেট হিন্দুরা বলে থাকে এই ধর্মে আসলে এমন কিছুই বলা নেই যেখানে মানুষ হত্যার কথা আছে তাদের স্বদয় অবগতীর জন্য জানাচ্ছি (অথর্ববেদ ১২,০৫,৫৪) এ বলা আছে “Vedic followers should destroy infidels” অর্থঃ “বৈদিক অনুসারীদের (কাফের বা বেধর্মীদের) ধ্বংস করা উচিত” মজার বিষয় হলো এই বৈদিক সভ্যতা থেকেই আজকের সনাতন ধর্মের সৃষ্টি তবে এখানে কথা আছে। কথা হচ্ছে সনাতন ধর্মের অনেক কিছুই পরিবর্তন করে আজকের মডারেট হিন্দু ধর্ম বানানো হয়েছে যাতে এই বৈদিক দর্শনের কোন মিল নেই তাই অতীতে যারা এই বৈদিক ধর্মের অনুসারী ছিলো তাদেরকে এই হিন্দুদের দ্বারাই হত্যা করার উদ্দেশ্যে “অথর্ববেদে” এসমস্ত শ্লোক যোক করা হয়েছিলো যা এখনও আছে।

এছাড়াও হিন্দু ধর্মের (ঋগ্বেদ ০১,১৬,০৪) এ বলা হচ্ছে “যারা তোমাকে পূজায় উপহার দেয় না, তাদের প্রত্যেককে হত্যা করো” এর মানে হচ্ছে সনাতন ধর্ম থেকে আলাদা একটি গোত্র অনেক পুর্বে ভারতবর্ষে তাদের বিভিন্ন দেব দেবতাদের মূর্তি বানিয়ে পূজা করার চল শুরু করেছিলো। বর্তমানে আমরা হিন্দু ধর্মাওবলম্বিদের যে দেব-দেবতা আর ভগবানের মূর্তি পূজা করতে দেখি তা কিন্তু এই ধর্মের সকল জাতি পালন করে না। উল্লেখ করতে হয়, হাজার হাজার বছর আগে থেকেই এই সনাতনের খোলস পাল্টিয়ে হিন্দু নাম ধারণ করা ধর্মটি বিভিন্ন দেব দেবতা আর কল্পিত ভগবানের মূর্তি বানিয়ে সেসব পূজা করে আসতো তবে কিছু কিছু গোত্র তা করতো না যেমন প্রাচীন ভারতে “কিটক্যাট” নামের একটি জাতি ছিলো যারা মূলত এসব ধর্মীয় নিয়ম কানুন মানতো না। তাদেরকেই হত্যা করার জন্য ঋগ্বেদ এ এই কথা বলা হয়েছিলো যা এখনও হিন্দু ধর্মের মধ্যেই আছে। বর্তমানে যে দুর্গা পূজা, কালী পূজা, স্বরসতী পূজা মডারেট হিন্দুরা পালন করে আসে তার জন্ম খুব বেশি হলেও ১৫০ বছর হতে পারে তার আগে এভাবে পালন হতো না। মডারেট হিন্দুরা যখন বলে তাদের ধর্ম অনেক সংস্কার হয়েছে তখন এই ধর্মের আরেকদল এইসব শ্লোক ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষ হত্যা করে চলেছে এবং হত্যা করার উষ্কানী দিয়ে চলেছে।

আরো কিছু নমূনা দেখুন এই সনাতনের লেবেল পাল্টানো হিন্দু ধর্মের সরাসরি মানুষ হত্যা করার উস্কানী মূলক ডায়ালগ। (ঋগ্বেদ ১/৮৪/৮) এ রাজ্য প্রধান এর প্রতি বেদের নির্দেশ হচ্ছে, “যে লোক ঈশ্বরের আরাধনা করে না এবং যার মনে ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগ নেই, তাকে পা দিয়ে পাড়িয়ে হত্যা করতে হবে” যার অনুবাদ করেছেন আচার্য্য বিদ্যা মার্তন্ড, আর্য সমাজ। স্বামী দয়ানন্দের ভাষ্য হতে অনুবাদিত। এর মানে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ যারা “ঋদ্বেদে” বিশ্বাস করে না বা বেদ মানে না, হোক সে হিন্দু বা অন্য যে কোন ধর্মের বা অধার্মিক তাকেই বলা হচ্ছে পা দিয়ে মাড়িয়ে হত্যা করতে হবে। তাহলে কি এই ধর্মটিকে আমাদের বর্বর বলা ভুল হচ্ছে। গতকাল সেই বর্বরচিত হত্যাকান্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখে যখন আমি মন্তব্য করি এই ধর্মটি একটি “বর্বর ধর্ম” তখন এক শিবসেনা আমাকে আইনের আওতায় আনবে বলে হুমকি দিয়েছে। আসলে এই হিন্দু নামধারী সনাতন ধর্মকে বর্বর প্রমানীত করার জন্য খুব বেশি উদাহরণ মনে হয় আমার দেওয়া লাগবে না। তার পরেও যদি কোন হিন্দু পন্ডিত বা ব্রাহ্মন ঠাকুর এই লেখা পড়ে থাকেন তাহলে হিন্দু ধর্ম যে বর্বর ও অমানবিক ধর্ম না তা একবার প্রমাণ করার চেষ্টা করতে পারেন।

এখানে ছোট করে আরেকটি ধর্ম (ইসলাম) এর সাথে একটু তুলনা করে দেখাচ্ছি। যাকে সমস্ত পৃথিবীর মানুষ রক্তের ধর্ম বলে জানে তার থেকেও এই হিন্দু ধর্ম কত খারাপ একটি ধর্ম হতে পারে। যেমন দেখুন (যজুর্বেদ ১৭/৩৯) “সেনাপ্রধান হিংস্র ও নির্দয়ভাবে শত্রুদের পরিবারের সদস্যদের সাথেও যুদ্ধ করবে।” মানে পরিবারের সদস্য বলতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ সকলকে হত্যা করার আদেশ দিচ্ছে এই “যযুর্বেদ”। আরো দেখুন (যজুর্বেদ ১৭/৩৮) “শত্রুদের পরিবারকে হত্যা কর, তাদের জমি ধ্বংস কর” এবার বোকা মানুষগুলোকে আদেশ দেওয়া হচ্ছে হত্যার পাশাপাশি তাদের সম্পদও ধ্বংস করতে হবে। এছাড়াও (যজুর্বেদ ১৩/১৩) তে বলা হচ্ছে “শত্রুদের হত্যা কর ও তাদের জায়গা জমি ও রান্নাঘর ধ্বংস কর” অনুবাদঃ দেবী চাঁদ, আর্য সমাজ। স্বামী দয়ানন্দের ভাষ্য হতে অনুবাদিত। এবার আসুন ইসলাম ধর্মের প্রধান নবী যাকে মুসলমানরা অনুসরণ করে থাকে তার ভাষ্য এমন যে, বেশ কিছু হাদীসে উল্লেখ আছে তিনি [মুহাম্মদ (সাঃ)] মক্কা বিজয়ের সময় তার অনুসারীদের বলেছিলেন, তোমরা বিনা কারনে এমনকি গাছের একটা ডালও নষ্ট করো না। সেখানে বেদ হিন্দুদের কি অনুমতি দিচ্ছে ? একটু নিরাপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করে দেখুন।

সম্পুর্ণ হিন্দু ধর্মের এরকম শ্লোকের সংখ্যা আছে অসংখ্য যা বলে শেষ করা যাবে না। কারণ এই ধর্মটির অনেক অনেক শাখা প্রশাখা আছে। তবে ঘুরে ফিরে সেই কালকেউটা সাপ এখন খোলস পাল্টিয়ে হয়েছে গোখরা সাপ যাতে কোন প্রকার সন্ধেহ করা চলে না। আসলে সোস্যাল মিডিয়া আর অনলাইন মাধ্যমগুলিতে মুক্তমনা নামধারী কিছু হিন্দু মৌলবাদীকে দেখা যায় যারা আসলে ইসলাম ধর্ম বা অন্য কোন ধর্ম নিয়ে আমরা যখন কোন সমালোচনা মূলক লেখা লিখে থাকি তখন তারা হাতে তালি দেয় আর অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলে। তবে সেটা সেই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে যতক্ষন না আপনি এই বর্বর হিন্দু ধর্মের মুখোশ না খুলে দিচ্ছেন। যখন আপনি হিন্দু ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করছেন তখনই তারা তাদের অনূভূতি প্রকাশ করছে ঠিক জঙ্গী আর জিহাদিদের মতো। আসলে তাদেরকেও কোন অংশে কম ভাবার কিছুই নেই কারণ মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে সকল ধর্মই চাই তার নিজের ধর্মটিকে ভালো প্রমান করতে আর অন্য বাকি সব ধর্মকে খারাপ প্রমান করতে যার প্রমাণ হচ্ছে এসব। আমি হিন্দু ধর্মের হাস্যকর সব দেব-দেবী আর ভগবানদের মোটামুটি সংক্ষিপ্ত কিছু পরিচয় আপনাদের দিবো পরের লেখাতে।

---------- মৃত কালপুরুষ
০৯/১২/২০১৭

Comments

Sandipan   এর ছবি
 

ঠাস ঠাস করে অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছেন এই কারনে আপনার কড়া শাস্তি চাই। হিন্দু বা আর্য এবং ইসলাম নিয়ে যতটা বাংলা ব্লগ সাইট গুলিতে ক্রিটিক্স করা হয় তা খ্রিস্টিয়ানিটি এবং জুডাইজম নিয়ে করা হয় না। বস্তুত বাংলা ব্লগ পাঠকেরা এই দুটি আইডিওলজি সন্মদ্ধে কিছুই জানে না। ভবিষ্যৎ এ ২টি আইডিওলজি নিয়ে লেখার জন্যে লেখক কে অনুরোধ জানাচ্ছি।

 
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
 

অবশ্যয় হবে। তবে কথা হচ্ছে এটা আমি লেখি আমার নিজের ভালোলাগা থেকে। আর দক্ষিন এশিয়ার এই দেশ গুলিতে এই দুইটি ধর্মই সব থেকে বেশি প্রচলিত। তাই এদের খারাপ দিক গুলাই আগে তুলে ধরা দরকার। খ্রিস্টান আর ইহুদী ধর্মের খারাপ সাইড তুলে ধরলে মানুষের কাছেও ভালো লাগবে না আর আমারও ইন্টারেস্ট কম। তাই সেগুলা নিয়ে লেখা হয় না। তবে লিখবো অবশ্যয়।

-------- মৃত কালপুরুষ

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর