নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • মিশু মিলন
  • বেহুলার ভেলা
  • আমি অথবা অন্য কেউ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে পরাজিতের লেখা ইতিহাস, বিজয়ীর লেখা ইতিহাস, নিরপেক্ষ ইতিহাস


আপনি যখন সঠিক ইতিহাস বা নিরপেক্ষ ইতিহাস জানতে চাইবেন, বিশ্লেষণ করতে চাইবেন, তখন প্রথম সূত্র হচ্ছে আপনাকে দেশপ্রেম, জাতি-গোত্র-বর্ণ প্রেম সব ভুলে যেতে হবে। আপনি যাদের সবচেয়ে ভালবাসেন আর সবচেয়ে ঘৃণা করেন সবার বক্তব্যকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একজন সফল ইতিহাসবিদের (ইতিহাসবেত্তা হবে নাকি?) দৃষ্টি হতে হবে তৃতীয়পক্ষের। একজন সফল ইতিহাসবিদ অবশ্যই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হবেন।

কথায় আছে যুদ্ধের ইতিহাস বা ইতিহাস নাকি বিজয়ীরা রচনা করেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লেখালেখির ধারাটা উল্টো। স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বাঙালিদের চেয়ে বেশি পুস্তক সম্ভবত পরাজিত পাকিস্তানীরা লিখেছে। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি এবং চলাকালীন সময়ের ইতিহাস নিয়ে বাঙালিদের যারা যারা লিখেছেন তাদের মধ্যেও বায়াস আছে। প্রবল বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা যেমন লিখেছেন, সামরিক কর্মকতারা যেমন লিখেছেন, সেভাবে সাধারণ রাজনীতিবিদ ও বেসামরিক মানুষেরাও লিখেছেন নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ও নিজেদের মতামত সহকারে। গত তিনদিনে আমি আবার বেশ কয়টা বই পড়লাম পাকিস্তানীদের লেখা। এই বইগুলোর বেশিরভাগই আমি ১০ বছর আগে থেকে সর্বশেষ ৫ বছর আগে পড়েছিলাম। আবার পড়বার একটা কারণ ১০ বছর আগের ম্যাচিউরিটি, জানাশোনা আর এখনকার ম্যাচিউরিটি, জানাশোনার লেভেলে পার্থক্য আছে।

বই পড়বার একটা অসুবিধা হচ্ছে পাঠক পড়বার সময় নিজেকে লেখকের স্থানে বসায়। লেখকের আবেগে ভাসে এবং লেখকের বক্তব্য বিশ্বাস করতে চায়। আমার নিজেরই যেমন যাই পড়ি তাতেই মনে হয়, "ইচ্ছা করে কি কেউ মিথ্যা লিখবে? নিশ্চয়ই সত্যি বলছে।" কিন্তু মানুষ সব পারে, ইচ্ছা করেই মিথ্যা লিখে, অপছন্দ করা সত্য এড়ায় অথবা সত্যের ম্যানুপুলেশন করে। আমি নিজেও মিথ্যা বলি, সত্য এড়াই, তবে অন্যের মিথ্যা অপছন্দ। তবে যখন নিজে কিছু লিখি তখন সত্য বলে নিজের যুক্তিতে যা মনে হয় তাই লিখি। এই কারণে এরশাদ বা গোলাম আজমের মত কারোও যা অপরাধ, তা অপরাধ বলে তুলে ধরব। আবার তাদের জীবনের ভাল কিছু যদি সামনে আসে, বলব না সেটা মিথ্যা। এরশাদ যেমন এইদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কূটচরিত্রের একজন, যাকে এখন পর্যন্ত সবাই তাকে তেল দেয়। সরকারী টাকায় সিংগাপুরে ট্রিটমেন্ট করে, ভাতা পায়, তবে সকল দলই উনাকে স্বৈরাচার বলে, নিন্দা করে। এই স্বৈরাচার এরশাদের আমলেও দেশের অনেক যুগান্তকারী কাজ হয়েছিল। আবার গোলাম আজব পাকিস্তানের দোসর, প্রমাণিত রাজাকার, এসব যেমন সত্য; ভাষা আন্দোলনের সময় নিজ ইচ্ছায় করুক আর বাধ্য হয়ে করুক, রাষ্ট্রভাষা বাংলাকেও করবার জন্য ছাত্রদের পক্ষ থেকে দাবীদাওয়া পেশ করেছিলেন সেটা অস্বীকার করবার উপায় থাকে না। একজন ভীষণ বাজে চরিত্রের মানষও জীবনে কোনো না কোনো ভালো কাজ করতেই পারেন। ভালো কাজ আর খারাপ কাজের পার্থক্য হচ্ছে হাজার ভালো দিয়েও খারাপটা ঢাকা যায় না, অপরাধ আজীবন অপরাধ থাকে। কিন্তু একটা খারাপ কাজ, একটা অপরাধও হাজার ভালো কাজ মূল্যহীন করে দিতে পারে। যাইহোক, নিজের লেখা নিজের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হবার কথা, সেটাকে মিথ্যা দিয়ে নষ্ট করাটা ঠিক মনে হয় না, আমার মত সামান্য ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে টূকটাক লিখে যাওয়া কেউও সেটা মাথায় রাখতে চায়, অনেকে রাখেন না। যেমন, "এ স্ট্রেনজার ইন মাই ওউন কান্ট্রি" তে লেখক মেজর জেনারেল খাদিম হুসেন রাজা রাখেন নাই।

গত একমাসে আবার যা যা পড়লাম, তার মধ্যে এ টেল অফ মিলিয়নস, এ স্ট্রেনজার ইন মাই ওউন কান্ট্রি, বিট্রেয়াল অফ ইস্ট পাকিস্তান, এক জেনারেলের নীরব সাক্ষী সহ আরও কিছু বই আছে। জেঃ নিয়াজির বই নিয়ে কিছু বলব না। মিথ্যাচার আর হাওয়ার উপর ভাসা যুদ্ধজয়ের অনেক হাইপোথিসিস মতো গার্বেজ উনার বইয়ে আছে। আমি কেবল ভাবছিলাম, "হাউকাম হি বিকেম এ জেনারেল?" পাকিস্তানী অথরদের বই পড়তে গেলে অবশ্য শুরুতেই সন্দেহ নিয়ে পড়তে থাকি। তাদের বক্তব্যে ধর্মের প্রভাব থাকে, জাত্যাভিমান থাকে, ঘৃণা থাকে। তারা যে পরিসংখ্যান দেয় তাতে মিথ্যা ঢুকায়। যেমন, মেজর জেনারেল খাদিম হুসেন রাজার লেখা এ স্ট্রেনজার ইন মাই ওউন কান্ট্রিতে অনেক অনেক ভুল তথ্য ছিল, অনেক মিথ্যা ছিল, ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখা বক্তব্য ছিল। মেঃ জেঃ রাজা, আপনি অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা করেছিলেন রাও ফরমান আলীর সাথে, ভাল কথা। মরবার আগে দিয়ে যে বই লিখেছেন, তাতে তো সত্য তথ্য উপাত্ত থাকা উচিত ছিল, ছিল না? শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান মানুষের মিথ্যা ভয়ংকর, এরা সমাজের জন্যও ভাল না। জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বড় হলে যে কেউ হয়ে যেতে পারে এক একজন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, যাদের কেউ বিশ্বাস করে না। ৬৯ সালে উনি বঙ্গবন্ধুর আইনসংক্রান্ত টিমে ছিলেন, ২৬শে মার্চ রাতে পাকিস্তানীদের গ্রেফতার করতে চাওয়া ১৫ জনের তালিকায় ছিলেন। এরপর জেঃ জিয়া, জেঃ এরশাদ, এরশাদের ভাঙা অংশ পেরিয়ে বিএনপিতে ছিলেন। এইদেশের একটা মানুষ কি বোঝাতে চায়, নিজে কি চায় সেসব নিয়ে সন্দেহ থাকলে উনার উদাহরণ টানা যেতে পারে।

জেঃ রাজার বইটা কিছু কিছু মানুষ কখনো নিজের ভেতর গেথে বসা ব্যক্তিগত ধ্যানধারণা থেকে কেউ কেউ যে একদম বের হতে পারে না তার উদাহরণ। শেখ মুজিব কিংবা সাধারণ বাঙালিদের প্রতিও সময়ে অসময়ে উনার তীব্র ঘৃণা টের পাওয়া যায়। এতবার উনি "সোনার বাংলা" শব্দযুগল ব্যবহার করেছেন নিজের লেখায়, তা কেবল ব্যঙ্গ করতেই। মুসলিম লীগের প্রতি উনার টান বোঝা যাচ্ছিল। আইয়ুব খানের প্রতি ভালবাসা আর ইয়াহিয়া খানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ পাচ্ছিলো। আর দিনে দিনে গড়ে ওঠা বাঙালির আন্দোলনকে উনি মিথ্যা প্রচারণার কারণেই বলছিলেন। এডমিরাল আহসান আর লেঃ জেঃ ইয়াকুব খানের মানবিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান চাওয়া তাই উনার কাছে দুর্বলতা লাগছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার দায় উনি নানাভাবে বাঙালির উপরেই চাপাতে চাইছিলেন। নামের আগে মাওলানা ছিল বলেই হয়ত মাওলানা ভাসানিকে নিয়ে বাজে কিছু বলেন নি, তবে এটাও এড়িয়ে গেছেন যে লাল মাওলানা অনেক আগেই প্রকাশ্যে স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। অপারেশন সার্চলাইটের ঘটনাপ্রবাহ ও বিস্তারিত এনেক্স আকারে দিয়েছেন, প্রাসঙ্গিক কাহিনিও বলেছেন, কিন্তু সত্যটা তিনি বলেন নি। যেমন, উনি বলেছেন রাজারবাগ আর ঢাকা ভার্সিটির হলের দখলে দুইপক্ষে ১০ জনের কম করে হতাহত হয়, তবে প্রকৃত সত্য সবাই জানে।

উনার বইটা হয়েছে আসলে একটু দেরিতে ছাপা সরকারি ভাষ্যের মত, যেখানে নিজপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি কম, বিরোধীদের ক্ষয়ক্ষতি বেশি দেখানো হয়েছে। নিজেদের কর্মকে যথাসম্ভব যৌক্তিক করে তুলে ধরতে চাওয়া হয়েছে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ছয়দফা, নির্বাচনের নানা হিসাব নিয়েও লিখেছেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা সম্পর্কে উনার অনেক ধারণাকে সত্য বলে মনে করি। আমার নিজেরও ধারণা দেশকে স্বাধীন করতে সেই সময়ে চলা নানা পরিকল্পনার একটা ছিল অতর্কিত হামলার মাধ্যমে পশ্চিমাদের শাসনের ইতি ঘটানো এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়। এই ব্যাপারে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি কর্নেল শওকত আলীর একটি বইও আছে "সত্য মামলা আগরতলা" নামে, যাতে বিস্তারিত বলা আছে সেই বিপ্লব পরিকল্পনার কথা ও নানা ঘটণাপ্রবাহ। সেটা সত্য হোক আর মিথ্যা, সফল হলে ভাল হতো। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রক্তক্ষয় হতো অনেক অনেক কম। ভঙ্গুর অর্থনীতি আর অবকাঠামো নিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হতো না। তবে পাকিস্তানীরা এসব অসন্তোষের প্রকৃত কারণ জেনেও নিজেদের বদলায় নি, সেটা পাকিস্তানী অথরদের কেউ স্বীকার করতে চান না সহজে। এখানে অবশ্য জেঃ রাজা পশ্চিমাদের কলোনিয়াল আচরণের কথা বলেছেন বাঙালিদের প্রতি, কিন্তু সেইসাথে বৈষম্যের অনেক প্রকৃত সত্য এড়িয়ে মিথ্যাচার করেছিলেন। সোনার বাংলাকে কটাক্ষ করে, বাঙালিদের কটাক্ষ করে বলে যাওয়া উনার অনেক কথা থেকে সে সময়ে এবং এই সময়েও পাকিস্তানীদের বাঙালিদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা সম্পর্কে জানা যায়। উনার মতে বাংলাদেশ বা পূর্ব পাকিস্তানের কোনো ভবিষ্যত ছিল না, এখানে কোনো সম্পদ ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নতি হচ্ছিল তাদের নিজেদের অবদানে। মানুষ অনেকভাবেই নিজের বক্তব্য সত্য বলে চালাতে চায়, তবে পরিসংখ্যান মিথ্যা বলে না। সে সময়ের পরিসংখ্যান জানায় কোনটা প্রকৃত সত্য ছিল।

উনার লেখায় দ্বিচারিতা দেখি। বারবার ধর্মে উনার দৃঢ় বিশ্বাসের প্রমাণ পাওয়া যায়, আবার কালা চান নামের একজন হিন্দু পামিস্টের বক্তব্য বারবার সত্য হওয়ার ঘটণা বলে তাতে বিশ্বাস করে বসেছিলেন উনি। ইয়াহিয়া খানের সমালোচনা করে ইয়াহিয়া খানকেই ডিফেন্ড করেছেন, কারণ ডিফেন্ড না করলে কিছু দোষ পশ্চিম পাকিস্তানীদের উপর যেতো। জেঃ নিয়াজির নারীপ্রীতি, বাঙালি জাতির চেহারা বদলে দেয়া সংক্রান্ত বক্তব্য, নিয়াজির কথা শুনে বাঙালি মেজর মোশতাকের আত্মহত্যা, উনার বাঙালি এডিসির প্রশংসা, এসব থেকে আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে উনি মানবতা ও নীতির বাইরে কিছু করেন নি। অপারেশন সার্চ লাইটের নামে গণহত্যার সূচনা ছিল উপরের মহলের আদেশ ও সময়ের প্রয়োজন। তবে তিনি নিজেই বলেছেন ধোঁকা দেবার কথা, চতুরতার আশ্রয় নেবার কথা, কঠোরপন্থা অবলম্বনের কথা। ব্যাপারটা এমন যে নিজে করলে দোষ নেই, অন্য কেউ করলেই দোষ। তবে জিওসি ১৪ নং ডিভিশন হিসেবে উনার কোনোক্রমেই অজানা থাকবার কথা নয় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরেই ২৬শে মার্চের পরপর ধরে আনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের করুণ পরিণতির কথা। উনার অজানা থাকবার কথা নয় কেন উনার ডিভিশন হেডকোয়ার্টারের পাশেই অবস্থিত দশম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কোনো বাঙালি সদস্যের খোঁজ আর কখনোই পাওয়া যায় নি। সোয়াত জাহাজের ৭ হাজার টন গোলাবারুদকে তিনি তিনমাসের জন্য নিয়মিত মজুদের চালান বলেছেন। ৩ মাসের জন্য ৭ হাজার টন গোলাবারুদ লাগে? তাও কাকতালীয়ভাবে সেই অস্থির সময়ে, যদিও এর আগে এমন বড় চালান অনির্ধারিতভাবে আগে আর আসে নি?

উনার লেখা থেকে বাঙ্গালিদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র অফিসার লেঃ জেঃ খাজা ওয়াসিউদ্দীন ও কর্নেল ওসমানী সম্পর্কে বিরুপ ধারণা পাই। তবে উনার এই বক্তব্য থেকে এটাও প্রমাণ হয় বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে কারা নিজের মানুষের জন্য কাজ করেছিলেন। কর্নেল ওসমানীর জীবনেও অনেক ভুল থাকতে পারে। তবে উনার এবং খাজা ওয়াসিউদ্দীনের সবচেয়ে বড় অবদান অধিক সংখ্যক বেঙ্গল রেজিমেন্ট ইউনিট। এই বেঙ্গল রেজিমেন্ট না থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতালাভের সময়কাল আরও অনেক দীর্ঘ হতো অবশ্যই। নিজেদের জাতির প্রশিক্ষিত সেনা না থাকলে কেবল দেশপ্রেম ও আবেগ স্বাধীনতা এত অল্প সময়ে এনে দিতে পারতো না। অস্ত্র হাতে গুলি করতে জানলেই হয় না, জানা লাগে কিভাবে নির্ভুল লক্ষ্যভেদ করতে হয় নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে আনুমানিক বিশহাজার মুক্তিযোদ্ধা জীবনদান করেন, পাকিস্তানী নিয়মিত সেনাদের ক্ষেত্রে তা ছিল আরও কম। হতাহতের হারে এই ফারাকের কারণ উন্নত অস্ত্রের বাইরেও প্রশিক্ষণ একটা কারণ।

বাঙালি লেখকদের মধ্যে মেজর রফিকুল ইসলামের "এ টেল অফ মিলিয়নস" আমার কাছে সবচেয়ে নিরপেক্ষ আর গ্রহণযোগ্য বই। ঊল ঘটণাপ্রবাহের বাইরে নানা ব্যাপারে উনার বিশ্লেষণ আমার কাছে যৌক্তিক ও বাস্তবতার নিরিখে মনে হয়েছিল। বাঙালি লেখকদের সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে তারা নিজের পরিবারে থেকেছেন, নিজেদের মানুষের প্রকৃত অবস্থার কথা অবশ্যই জানতেন। আর পাকিস্তানী যারা আগে ও এখন লিখেছে, তারা ছিলেন উচ্চপদে আসীন। একদম সাধারণ জনতার দেখা হয়ত তারা কখনোই পান নি। বাঙালি সাধারণ মানুষেরা কী বলছে তাও বুঝতেন না। আবার তাদের বেশিরভাগই সাওরিক এলিট যাদের মাথায় গণতন্ত্র, মানবতা এসব খেলতো না। পাকিস্তানের সূচনালগ্ন থেকে বেশিরভাগ সময়েই তারা সামরিক শাসন দেখে, সেই রীতিতে চলে অভ্যস্ত ছিলেন। তাদের বাঙালির প্রতি ঘৃণা, সত্য ইতিহাস জেনেশুনে এড়িয়ে যাওয়া তাই স্বাভাবিক ব্যাপার। পাকিস্তানী লেখকদের মধ্যে প্রায় কেউই এর বাইরে নয়। এন্থনী ম্যাসকারেনহাসের মত কতিপয় লোক কেবল প্রো-পাকিস্তানী অবস্থানের বাইরে গিয়ে লিখতে চেয়েছেন, তবে তাতে নিজেদের জানাশোনার সীমাবদ্ধতা ছিল। তখন তো আর ইন্টারনেটের যগ ছিল না, মোবাইল ফোনের যুগ ছিল না যে যেকোনো তহ্য সহজেই টুকে রাখা যাবে, যাচাই করে নেয়া যাবে।

ভিন্নমতের মানুষদের বা বিরোধীদের বক্তব্য জানতে তাদের লেখা বই পড়া জরুরি। তবে সেগুলো যখন সত্যকে ধারণ করে না, সত্যকে এড়িয়ে যায়, তখন সেগুলোকে রেফারেন্স হিসেবে নেয়ার কোনো মানে নেই। এখনকার অনেক অনলাইন, অফলাইন লেখক দেখি তাদের বই থেকে রেফারেন্স দেন, এবং সেটাকে সত্য ভেবে বসে থাকেন। আবার শত্রুর লেখা ভেবে না পড়বারও মানে নেই। তাদের ধ্যানধারণা বুঝতেও এই পড়াটা ভবিষ্যত প্রজন্মের কাজে লাগবে। প্রতিটা মানুষেরই কমবেশি বোধবুদ্ধি আছে, সেটা দিয়ে সত্য উপলব্ধিটা হোক। আবার বন্ধু দেশ বলে যাদের ভাবি, সেই দেশের শর্মিলা বোসই তো স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস সবচেয়ে বিতর্কিত করেছেন। যারা স্বাধীনতাবিরোধী, তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা, বাঙালির ভূমিকা, এসবকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। তাই পড়বার সময় নিজের যুক্তিবোধ জাগ্রত রাখাটাও জরুরি। আমি জেঃ খাদিম হুসেন রাজার মোটিভ আন্দাজ করি, কিন্ত এই শর্মিলা বোসদের উদ্দেশ্য কী সেটা বোঝা কঠিন। সেটা কি কেবল পূর্ব বঙ্গের বাঙালিদের প্রতি গোপন বিদ্বেষ থেকে, নাকি রাজনৈতিক ধ্যানধারণা কিংবা অর্থের প্রলোভনে সেটা বোঝা দায়। ভিত্তিহীন মিথ্যাকে কীভাবে সত্য বলে চালাতে হয় তা জানতে আমাদের শর্মিলা বোসের বইটাও পড়া উচিত। পড়া কখনো বৃথা যায় না। প্রকৃত ইতিহাস জানতে প্রচুর পড়াশোনা করা, নিজের যুক্তিবুদ্ধির ব্যবহার করা এবং অনুমান ও বিশ্বাস নির্ভর ধ্যানধারণা ভেঙে ফেলার মানসিকতা থাকা জরুরী।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Online
Last seen: 1 ঘন্টা 53 min ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর