নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • রহমান বর্ণিল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

ডাকসু নির্বাচনের দাবি জাতীয় নির্বাচনের দাবি আড়াল করছে, ভ্রান্তি বিলাস থেকে সরে আসুন



ডাকসুর দাবিতে গত ২৫ নভেম্বর টানা আমরণ অনশন করছেন ওয়ালিদ আশরাফ। গণমাধ্যমের বরাতে বিষয়টি ইতোমধ্যে সারা দেশবাসী জেনে গেছেন। কিন্ত প্রশ্ন হলো, ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে অনশনের কি আদৌ যৌক্তিকতা আছে? বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ গভীরভাবেই ভেবেছি। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র বিশেষত একজন প্রাক্তন ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে এ প্রশ্নটি আমার কাছে বারবার এসেছে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে যদি ডাকসু নির্বাচন হয়, যদি ডাকসুর মাধ্যমে গণতন্ত্র আসেও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে তাতে কি এমন ফল দাড়াবে? যে ওয়ালিদ ডাকসুর নির্বাচনের দাবিতে অনশন করছেন, তিনি ঢাবির সান্ধ্যকালিন কোর্সের শিক্ষার্থী। সেই সান্ধ্যকালিন কোর্সের কোন শিক্ষার্থীতো ভোটও দিতে পারবেন না ডাকসুতে। সান্ধ্যকালিন কোর্সতো নিয়মিত শিক্ষা নয়, এটি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়কে বিশ^ব্যাংকের প্রেসক্রিপশনে যে বাণিজ্যিক ধারায় নেয়ার পরামর্শ ছিলো তারই অংশ। অর্থাৎ, ঢাবিতে কথিত গণতন্ত্র এলেও ওয়ালিদের লাভ টা কি? ওয়ালিদতো সেই গণতন্ত্রের কোন স্বাদ পাবেন না। তাহলে কি ওয়ালিদ পরের জন্য করছেন? যদি সেটাই করে থাকেন তবে কেন ডাকসুর নির্বাচনের জন্য জীবন দিতে বসেছেন? নাকি তিনি জানেন, জীবন দিতে হবে না মাঝখান থেকে ইতিহাসের একটি জায়গায় তিনি স্থান পেয়ে যাবেন?

এসব প্রশ্ন তোলার লাখো যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে যখন ছাত্র ছিলাম তখন, আমরা লড়েছি ছাত্রদের নানা অধিকারের প্রশ্নে। শুধু ছাত্রদের অধিকারই নয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্যও আমরা লড়েছি। ওয়ান ইলেভানের পর জরুরী অবস্থার মধ্যে সব থেকে লড়াকু সংগ্রামটা আমরা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্ররাই শুরু করেছিলাম। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সরকার বাধ্য হয়েই দ্রুত নির্বাচন দিয়েছে। এটি ছিলো নব্বই পরে সব থেকে শক্তিশালী আন্দোলন। এই আন্দোলনের গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও স্বীকার করেছেন। তিনি তখন কারাগারে। সেখানে বসে যে বইটি তিনি লিখেছিলেন, ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ তাতে এ বিষয়ে উল্লেখ আছে।

বিএনপি জামাত জোটের ৫ বছরে আমরা ক্যাম্পাসে ছিলাম, এরপর সেনা শাষিত দু বছর। এই সাত বছরে আমরা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে অনেক আন্দোলন করেছি। কৃষক শ্রমিকের প্রশ্নে আন্দোলন করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সফল ধর্মঘটও করেছি। সেটি ছিলো ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট যেদিন দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে কয়লা খনি বিরোধী আন্দোলনে বিডিআরের গুলিতে তিন আন্দোলনকারি নিহত হয়, আহত হয় ২০০ উপরে মানুষ। এ ঘটনায় আমরা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ধর্মঘট ডেকেছিলাম। এর অর্থ হলো, যে কৃষক শ্রমিকের টাকায় আমি-আমরা পাবলিকে পড়ছি তাদের ওপর নির্যাতন হলে রক্তের ঋণ শোধের কর্তব্য হাজির হয়। সেদিন সেটিই আমরা করেছিলাম।

আমরা প্রতিবাদ করেছি হুমায়ূন আজাদের হামলার পরে। আমরা প্রতিবাদ করেছি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় আগমনের। তখন জরুরী তত্বাবধায়ক সরকারের সময়। সমাবর্তন বয়কট করেছি। নিজের অনার্সের সার্টিফিকেট নেইনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে। কারণ মনে করেছি, সব রাজনৈতিক দলের যখন রাজনীতি নিষিদ্ধ তখন দল খোলার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেনা শাষিত সরকারের অনুমতি কিভাবে পায়? এরকম অসংখ্য ঘটনা আছে।

প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রে কি এখন আর কোন সমস্যা নেই? দেশে কি এখন আনন্দের বন্যা বইছে? মোটা চালের দাম ৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে এই সরকারের আমলে আটবার। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। রামু, নাসিরনগর, গাইবান্ধার সাওতাল পল্লীর মত ঘটনা একটার পর একটা ঘটছে। চলন্ত্র বাসে নারীকে ধর্ষন করে হত্যা করা হচ্ছে। কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছেন না, শ্রমিকের জীবন চলছে না। তেল গ্যাস বিদেশী বেনিয়াদের হাতে চলে যাচ্ছে। সুন্দরবন ধ্বংসের নীল নকশা হচ্ছে রামপালে। ছোট একটা দেশ তার মধ্যে পরমাণু বিদ্যুতকেন্দ্র হচ্ছে। এর জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার যার সুদই দিতে হবে ৬৯ হাজার কোটি টাকা। দারুন না!!

পদ্মায় পানি নেই কারণ উজানে বাধ। এরপরও ভারত বাংলাদেশের উজানে একের পর এক বাধ দিচ্ছে। দেশের টাকা পাচার হচ্ছে। কানাডায় বেগম পাড়ায় তা বিনিয়োগ হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে, যার জ¦লন্ত উদাহরণ হলো নারায়ণগঞ্জে সাত খুন। গুম নিখোজ একটা ভয়াল আতঙ্কের নাম হয়েছে।

ডাকসুর দাবিতে অনেকদিন ধরেই আন্দোলন হচ্ছে। সে আন্দোলন হচ্ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে। এদের অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম। তারা যখন আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে চাদা চাইতে আসতো, যথাসম্ভব চাদা দিয়েছি কিন্তু ভিন্নমতটি রেখে। এর বাইরে প্রগতিশীল ছাত্র জোট আন্দোলন করেছে ডাকসুর জন্য। সেটি তারা করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডাকসু আন্দোলন জনপ্রিয় হবার কারণে। এটি আমার পর্যবেক্ষণ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোন ইস্যু জনপ্রিয় হলে বামেরা সেই ইস্যুতে মাঠে নামেন। এতে শ্রম কম ক্ষয় হয়। মানে চালু আন্দোলনে সাথে থাকলাম।
এ কদিনে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওয়ালিদ আশরাফের সাথে দেখা করে সংহতি জানিয়েছেন। ওয়ালিদ আশরাফের সাথে দেখা করলে নগদ লাভ হলো মিডিয়া কভারেজ। সেটি বামরো নিচ্ছেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠছেন। কিন্তু ফের বলি, ফের উচ্চারণ করি, কৃষক ফসল করে মার খাচ্ছেন, শ্রমিকের ঘাম চুরি হয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে অসংখ্য্য রাম রাজত্ব তৈরী হয়েছে। জনগণ সেখানে অসহায়। সেসব জায়গাতে কেউ আমরণ অনশন করছে না, সেখানে অবশ্য মিডিয়া নেই। বরং ঠ্যাঙ্গাড়ে বাহিনীর স্যাঙ্গাতরা রয়েছেন।


৫ জানুয়ারির দেশে ডাকসু নির্বাচনের দাবি তামাশা

দেশে একটা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে। যেখানে ১৫৩ জন এমপি ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। সে দেশে ডাকসুর নির্বাচন হলো কি হলো না সেটি কি আদৌ কোন বিষয়? সেই ডাকসুর নির্বাচনের জন্য মরতে চাওয়া হলো বিরাট তামাশা। ফলে তামাশা বন্ধ করে মূল কাজের দিকে ফোকাস করাটাই ভাল।

ডাকসু নির্বাচন হলে ঢাবি ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র ফিরে আসবে? এটি যারা ভাবছে তারা এ দুনিয়ার মানুষ নয়। অন্য কোন গ্রহ থেকে ছুটি কাটাতে এখানে এসেছেন।

দেশের বামপন্থিদের বড় অংশ কখনই সমাজের মূল দ্বন্ধকে কাজে লাগিয়ে যখনকে একত্রিত করতে পারেননি। তারা সব সময় শাসকশ্রেণির ইচ্ছের কাছেই মাথা নত করেছেন। সে কারণে শাসকশ্রেণির ‘‘বি’ টিম হিসেবেই জনগণ তাদেরকে দেখে থাকে। তা না হলে কী তামাশার এই নাটকে বামপন্থিরা ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশনে সমর্থন জানায়?

ডাকসুর নির্বাচন শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্ত মেহনতী মানুষের দাবি নয়। এটি এই মূহুর্তে কোন কাজের দাবিও নয়। ডাকসু নির্বাচন হলে কোন পরিবর্তনও হবে না। তাহলে এই দাবির পক্ষে কেন আমজনতা একমত হবেন, যখন খোদ জাতীয় নির্বাচন আদৌ হবে কিনা এমন সন্দেহ ও সংশয় দেখা যাচ্ছে। সামনের এক বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশী বিদেশী সব খেলোয়াড় সরব হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন হচ্ছে, আপনার চেতনা ভোতা করে ডাকসুর নির্বাচনের দাবি জানাবেন নাকি, আরো সতর্ক হবেন, মূল দাবিকেগুলো সামনে আনবেন?

আমাদের মনে রাখতে হবে,

একটি শ্রেণি বিভক্ত সমাজে আলাদা করে হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্ট্রান ইহুদি বা মুসলিমদের মুক্তি আসে না, মুক্তি একটি সামগ্রিক বিষয়। তেমনি গণতন্ত্র কোন একটি একক প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়। ডাকসুতে গণতন্ত্র তখনই সচল হবে যখন দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ সুগম হবে। গোটা দেশেই গণতন্ত্র যেখানে অবরুদ্ধ সেখানে শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই হলো ভ্রান্তি বিলাস।

সেই বিলাস অন্যরা দেখাতে পারেন, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি দেশের সংখ্যাগরিষ্টা মানুষের এসব বিলাসিতায় মন বা সায় নেই।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আরিফুজ্জামান তুহিন
আরিফুজ্জামান তুহিন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 20 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, মে 8, 2013 - 3:09অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর