নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

রক্তগঙ্গার ওপার থেকে


ঘন জারুলের ঝোপ, আম, কাঁঠাল আর বাতাবি লেবুর ছায়াচ্চাদিত মফস্বলের একটি দো'তলা বাড়িটিতে ঋদ্ধিদের গত পঞ্চাশ বছরের বসতি। ঋদ্ধির জন্মের বছর খানেক আগে তার বাবা বানিয়েছিলেন এই বাড়িটি। ঋদ্ধিদের এই বাড়িটা পশ্চিমমুখী। বাড়ির পুর্ব পাশ দিয়েই চলে গেছে রেল লাইন। রোজ বিকেলে একটা ট্রেন ভেঁপু বাজিয়ে দুর দিগন্তের দিকে ছুটে যায়। ঋদ্ধি বাড়ির একেবারে পেছনের বারান্দায় এসে প্রতিদিন বিকেলে অপেক্ষা করে দিগন্তগামী সেই ট্রেনটির জন্য। কিন্তু প্রতিবারই সেই ট্রেনটি ঋদ্ধির বুকের ভেতর জমানো সব আশা, চোখের কোনে আশ্রয় নেয়া সব স্বপ্ন ছিড়েকুড়ে নিয়ে দিগন্তে মিলিয়ে যায়।

ঋদ্ধির বাবা ছিলো দেশের একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ঋদ্ধির বাবা গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে ঘুরে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধা দের খবর সংগ্রহ করত। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে কেটেছে তার গোটা যুদ্ধকালীন সময়। সময়ে সময়ে তিনি অস্ত্র হাতে নেমে পরতো সন্মুখ সমরে। ঋদ্ধির বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধাও।

ঋদ্ধির বয়স তখন চার বছর। সময়টা ১৯৭১। জুলাইয়ের কোন এক সকালে ঋদ্ধির বাবা "বিকেলে ফিরবো" বলে ঘর থেকে বের হয়ে পরে। তারপর দেশ স্বাধীন হলো। ধীরে ধীরে সদ্য স্বাধীন দেশটি কত চড়াই উৎরাই পার হয়ে ৪৬টি স্বাধীন বসন্ত পার করে দিলো। অথচ ঋদ্ধির বাবা আজো ফিরে আসেনি। কিন্তু ঋদ্ধির মন বলছে তার বাবা একদিন ফিরে আসবে। অবশ্যই ফিরে আসবে! মুখ ভর্তি দাঁড়ি-গোঁপের ফাঁক দিয়ে দিগন্তগামী সুর্য্যটির মতো এক চিলতে হাসি নিয়ে পুরোনো কুচকানো ময়লা জামা আর বিবর্ন জিন্সের প্যান্ট টি পরে কাঁধের উপর লাল-সবুজের পতাকাটি ঝুলিয়ে রেল লাইনের স্লিপারের উপর দিয়ে হেটে হেটে রণক্লান্ত বীরের সেনানীর মতো বাড়ি ফিরবে,,,,,,,,,,,,,,,!

এরকম হাজারো ঋদ্ধিরা বুকের ভেতর লালিত স্বপ্ন নিয়ে আজো বেঁচে আছে। শৈশব, কৈশর, যৌবন পেরিয়ে অসংখ্যা ঋদ্ধির শরীরে এখন পৌরত্বের বসতি, কিন্তু মনটা আটকে আছে সেই একাত্তরের দিন লিপির অজস্র নির্বাক শব্দের গাঁথুনি দিয়ে লেখা বেদনার কাব্যে। যেখানে তাদের আপন জনেরা "ঘরে ফিরবো" বলে এক অসমাপ্ত মহা কাব্য রচনা করে গিয়েছিলো।

অজস্র মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যেমন "বাবা ফিরবে" আজো এমন স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছে, তেমনি অসংখ্যা মা এখনো অপেক্ষা করছে তার সন্তানের জন্য। অগনিত মা সন্তান ফিরবে এই স্বপ্ন বুকে নিয়ে চিরতরে চলে গেছে পৃথিবীর সমস্ত মায়া চিন্ন করে। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, শহীদ আজাদের মায়েদের দু:খ আর ত্যাগের কথা এদেশের মানুষ কখনো বিস্মৃত হবে না। 

পাকিস্তানকে ঘৃনার কারনে, রাজাকারে বিচারের দাবিতে কথা বলিয়েদের যে সকল পাক প্রেমিকেরা চেতনা ব্যবসায়ী বলে তারা যদি হৃদয়ের চোখ দিয়ে একবার আজাদের মায়ের সংগ্রামী আর ত্যাগপূর্ণ জীবন দেখতো, তবে হয়তো ক্ষানিকটা বুঝতে পারতো এই ঘৃনার পেছনে লুকানো শত কষ্টের করুন ইতিহাস। "মা, কতদিন ভাত খাইনি, খুব ভাত খেতে ইচ্ছে করে" এমন করুনাপূর্ন বাক্য পৃথিবীর কোন জাতির স্বাধীনতার ইতিহাসের সাথে যুক্ত আছে কিনা আমার জানা নেই, এটুকু জানি এই বাক্যের মর্মকথা এদেশের সব মানুষ অনুধাবন করতে পারেনি। যদি পারতো তবে রাজাকারদের মুক্তির দাবিতে এই আজাদ, রুমিদের দেশে রাস্তায় মিছিল হতো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে ৭১ স্নাতোকোত্তর সম্পন্ন করা আজাদ চাইলে সমৃদ্ধ একটি ভবিশ্যতের পথে হাটতে পারতো, কিন্তু দেশমাতৃকার টানে আজাদ সব কিছু ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পরেছিলো স্বাধীনতার সংগ্রামে। ঢাকার অভিজাত একটি পরিবারের গৃহস্থবধু আজাদের মা স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে না নিয়ে একমাত্র সন্তান আজাদের হাত ধরে সারা জীবন কঠিন সংগ্রামে পার করেছেন। ছেলেকে মানুষ করেছেন। সেই ছেলে যখন মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য মায়ের কাছে অনুমতি নিতে আসে, তখন আজাদের মা বলেছিলেন- "অবশ্যই যাবে, তোমাকে শুধু আমার জন্য মানুষ করিনি। যুদ্ধে যাও, দেশকে স্বাধীন কর"। এতবড় ত্যাগ পৃথিবীর কোন জাতির স্বাধীনতার সংগ্রামে থাকার নজির নেই। রাজাকার আর পাক বাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার আজাদকে তার মা দেখতে গেলে, সে বলেছিলো- " মা, খুবই মারে, ভয় হয় যদি নির্যাতনের মুখে কিছু বলে দিই"। সংগ্রামি মায়ের সন্তানের প্রতি সেদিন নির্দেশ ছিলো- "শক্ত হয়ে থেকো বাবা, যত নির্যাতনই করুক, মুখ খুলো না"। আজাদ সেদিন মাকে বলেছিলো- "মা, কতদিন ভাত, খাইনি। খুব ভাত খেতে ইচ্ছে করে"। জনম দুখিনী মা ছেলের জন্য ভাত নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তারপর আর আজাদকে খুঁজে পায়নি।

আমরা কি করে এমন মায়েদের ব্যাথার ইতিহাসের উপর পাকিস্তানের সাথে বেইমানের বাসর রচনা করি, যখন জানি ৭১ এ আজাদ নিখোঁজ হবার পর ১৯৮৫ পর্যন্ত এক সন্তান হারা মা আর মুখে ভাত তোলেননি। আজাদের মা সারাদিন একটি রুটি খেয়ে কাটিয়েছিলেন জীবনের বাকি ১৪ টি বছর! বিচানায় শোননি মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত! মৃত্যুর দিন পর্যন্ত বাসার মেঝেতে ঘুমাতেন আজাদের মা। ১৪বছর তিনি কোন বিছানায় শোন নি। শানের মেঝেতে শুয়েছেন শীত গ্রীষ্ম কোন কিছুতেই তিনি পাল্টান নি তার এই পাষাণ শয্যা। কারণ তার ছেলে রমনা থানার ড্রাম ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এম.পি হোস্টেলের মিলিটারি টর্চার সেলে বিছানা পায়নি। জানতেন তার নাড়ি ছেড়া ধন, একমাত্র সন্তানকে পাকিস্তানিরা নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে, কিন্তু তবুও এক অলিক স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে ছিলেন জীবনের আরো ১৪টি বছর। হয়তো কোন দৈব উপায়ে আজাদ বেঁচে গিয়েছে! হয়তো তার সন্তান একদিন ফিরে আসবে!

সাহস, সংগ্রাম আর ত্যাগের আরেক ইতিহাস আজাদের বন্ধু শহীদ রুমির মা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জীবন। কি হৃদয়স্পর্শি আবেগ আর আসামান্য আত্মদান দিয়ে এদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস রচিত হয়েছে, তার ক্ষানিকটা প্রমাণ মেলে শহীদ রুমি আর মা জাহানারা ইমামের জীবন পর্যালোচনায়। ‘আমাদের সেক্টর কমান্ডার কী বলেন, জান? তিনি বলেন, "কোনো স্বাধীন দেশ জীবিত গেরিলা চায় না; চায় রক্তাক্ত শহীদ।" অতএব মামুনি, আমরা সবাই শহীদ হয়ে যাব, এই কথা ভেবে মনকে তৈরি করেই এসেছি।" ১৯৭১ এ ইস্পাতসম এই কঠিন কথাগুলো যে তার মাকে বলেছিলো, সে হলো আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহীদ শাফী ইমাম রুমী।

প্রকৌশলী বাবার মতো রুমীও চাইতো বিখ্যাত প্রকৌশলী হতে। শৈশব থেকেই ছিলো তুখোড় মেধাবি। ১৯৭১ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে এবং অর্জন করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (বতর্মানে বুয়েট) মেধার স্থান। আমেরিকার বিখ্যাত ইলিনয়স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়ার সু্যোগও পেয়েছিলো রুমী। কিন্তু সেখানে আর পড়তে যাওয়া হয়নি। নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে যোগ দেয় মুক্তিবাহিনীতে।

১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট ক্র্যাক প্লাটুনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। রুমীকে আনুমানিক রাত ১২টার দিকে বাবা শরীফ ইমাম, ছোট ভাই জামী, বন্ধু হাফিজ, চাচাতো ভাই মাসুমসহ তাদের বাসভবন থেকে পাকিস্তানি বাহিনী ধরে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালায়। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে রুমী তার পরিবারের অন্য সদস্যদের কোনো কিছু স্বীকার করতে নিষেধ করে, সব দায়ভার নিজে বহন করে। অনিবার্য পরিণতি অনুধাবন করে ধরা না পড়া অন্য সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষার জন্য সহ্য করে যায় অমানুষিক নির্যাতন। একই সময়ে ধরা পড়া রুমীর সহযোদ্ধা মাসুদ সাদেক বলেছিলো, চরম অত্যাচার সহ্য করেও রুমী কারও নাম প্রকাশ করেনি। দুই দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর পর পরিবারের অন্য সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হলেও রুমীকে ছাড়া হয়নি। ফিরে আসার সময় বাবা শরীফ ইমাম রুমীর কথা জিজ্ঞেস করলে পাকিস্তানি কর্নেল জানায়, রুমী যাবে এক দিন পরে, ওর জবানবন্দি নেওয়া শেষ হয়নি। পরের সেই দিনটি আর আসেনি। জাহানারা ইমাম ছেলের জন্য অপেক্ষা করেছেন জীবনের শেষ দিন অবদি। গড়ে তুলেছেন 'ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি', যুদ্ধপরাধিদের বিচারের দাবিতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গণআদালত। এই কমিটি ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ  'গণআদালত' এর মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার অনুষ্ঠান করে। গণআদালাতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দশটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ১২ জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদন্ডযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। গণআদালতের রায় প্রতিষ্ঠা। জাহানারা ইমাম গণআদালতের রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। ১৯৯৩ সালে নির্মূল কমিটির সমাবেশে পুলিশ বাহিনী হামলা চালায়। পুলিশের লাঠিচার্জে সেদিন মারাত্মক আহত হন এই শহীদ জননী। আমৃত্যু মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সংগ্রাম করেছেন, রাজাকারদের বিচারের দাবীতে রাজপথে আপসহীন আন্দোলনে ছিলেন বজ্রকঠিন। কিন্তু আন্দোলন, সংগ্রামের আড়ালে একজন মমতাময়ী মায়ের মনের অন্ধ কুঠরীতে একটি স্বপ্ন কি সুপ্ত অবস্থায় ছিলো না, যে তাঁর রুমী একদিন হয়তো ফিরে আসবে?

এরকম অগনিত আজাদ-রুমির মায়েরা সন্তানের নির্মম মৃত্যুর কথা জেনেও অপেক্ষায় ছিলেন জীবনের শেষদিন অবদি। অসংখ্যা মা এখনো অপেক্ষার অলিক স্বপ্ন বুকের ভেতর সুপ্ত ভাবে বাঁচিয়ে রেখেছেন, একদিন হয়তো তাঁর ছেলে ঘরে ফিরবে! কত ঋদ্ধিরা এখনো পথ চেয়ে আছে বাবার প্রতীক্ষায়। কত গৃহস্ত বধুর হাতের মেহেদির রঙ ফুরাবার আগে যুদ্ধে যাওয়া স্বামীর অপেক্ষায় কাটছে অগনিত প্রহর! এমনি দু:খ আর বেদনার হাজারো গল্প-গাঁথায় রচিত এদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস।  মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো একটি স্বপ্নের নাম। যে স্বপ্ন বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে, তার নাম মুক্তিযুদ্ধ। যে চেতনা বাঙালি জাতিকে একতাবদ্ধ করেছিল একটি গণতান্ত্রিক এবং সাম্যবাদী, শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায়, তার নাম মুক্তিযুদ্ধ। আমার জন্ম হলো মুক্তিযুদ্ধের প্রায় দুই দশক পরে। একাত্তরের মহান যুদ্ধ আমার দেখা হয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাবতে ভীষণ ভালো লাগে। আমি গর্বিত এই জন্য যে, আমার আছে একটি ইতিহাস, আমার হৃদয় জুড়ে আছে বায়ান্ন, তেষট্টি, ঊনসত্তর আর অস্তিত্ব জুড়ে আছে একাত্তর।

এদেশের তরুন সমাজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ একদিন যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীনতার মহানায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর সেই স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়বে বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এদেশের নতুন প্রজন্ম।

আমরা ৭১ দেখিনি! কিন্তু একাত্তরের সেই সব গল্প শুনে শিউরে উঠেছি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ে উপলব্ধি করেছি, যুদ্ধের স্মৃতিকথা শুনে কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে গিয়েছি। ভাবতে ভালো লাগে, একটি সদ্য স্বাধীন দেশ! স্বপ্নডানায় চড়ে, লাল সবুজের বিজয় নিশান কপালে বেঁধে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের একত্রিত করে আনন্দ মিছিল করব। বিজয় মিছিলের স্লোগান হবে, জয় বাংলা! আজও আমরা বিজয়ের আনন্দে ভেসে যাই বিজয়ের বন্যায়। শেকড়ের কাছে শোনা সেই গল্প, মুক্তিযুদ্ধের নতুন প্রজন্ম হয়ে হৃদয় গহিনে ধারণ করে স্বপ্ন ফেরি করে বেড়াতে ইচ্ছা করে স্বপ্নের ফেরিওয়ালার মতো। যুদ্ধদিনের গল্প স্মৃতির ঝাঁপিতে রাখার চেষ্টা করি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই নক্ষত্র মাটি। যে মাটিতে সবাই হেসে-খেলে ঘুরে বেড়াই, ভরা পূর্ণিমা রাতে জোছনা উপভোগ করি, বর্ষার দিনে বৃষ্টিতে ভিজি। নবান্ন উৎসব করি, শীতের খেঁজুর রসের পায়েস আর পিঠাপুলী দিয়ে রসনা তৃপ্ত করি। কুয়াশার চাদর সরিয়ে প্রভাতফেরিতে যায় এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ। আনন্দ, সুখ, দুঃখ একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করি আমরা, শিল্পীর তুলির আঁচড়ে আঁকা যেন সোনার বাংলাদেশ। এত সুন্দর জলছবির মতো দেশ বিশ্বে আর কোথাও  কি আছে! সবুজের দেশে, সকল ধর্মের মানুষ একত্রিত হয়ে বিজয় উৎসবে মেতে উঠি।

বছর ঘুরে আবার এসেছে বিজয়ের মাস। যাঁদের আত্মদানে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা, যে মায়েদের ত্যাগ আর অশ্রুতে সিক্ত এদেশের ধুলি-মাটি, পিতাহারা অজস্র সন্তানের অপেক্ষার তপ্ত নি:শ্বাসে এই স্বাধীন স্বদেশ, সেই অমুল্য বলিদানের অপরিশোধ্য ঋনের হিসেব যেন আমরা কখনোই বিস্মৃত না হই। জীবন দিয়ে হলেও আগলে যেন রাখতে পারি জাতির যুগশ্রেষ্ঠ সন্তানদের রক্তগঙ্গা সাতরে আনা রক্তের উপহার।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 5 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর