নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

কলকাতার স্কুলে চার বছরের শিশুকে ধর্ষন প্রসঙ্গে


মানুষের মতই দেখতে বুঝলেন! নাক, কান, চোখ, হাত, পা একদম মানুষেরই মত। দেখে আলাদা কিচ্ছু বোঝার জো নেই। অভিষেক রায়ের কথা বলছি। ফেসবুক প্রোফাইল দেখলাম ওর। স্ত্রীকে নিয়ে ছবি পোস্ট করা। স্বাভাবিক ফ্যামিলি ম্যান। আরেকজন মফিজুদ্দিন, সে বোধয় ফেসবুকে নেই। কিন্তু তাকে দেখেও মানুষ বলেই মনে হবে নিশ্চয়! নাক, কান, চোখ....। যারা জানেন না এরা কারা, তাদের বলি, এই দুজন একটা চারবছরের বাচ্চাকে ধর্ষনের অভিযোগে অভিযুক্ত। চার বছর! ওইটুকু বাচ্চাকে দেখেও কারো কাম জাগতে পারে! ভীষন, ভীষন অসুস্থ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। গনধর্ষন, শিশুধর্ষনও আমাদের আর বিচলিত করেনা। একেকটা ঘটনা ঘটে, সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই হয় কদিন, টিভি চ্যানেলে এক্সপার্টদের রোজগার হয় কদিন, তারপর যেই কে সেই। কঠোর শাস্তি চাই এদের জন্য। জেল- ফেল নয় প্রকাশ্যে তড়পে তড়পে মারা হোক এই মানবেতর কীটগুলিকে। তবে যদি পৃথিবীর পাপের বোঝা কিছু কমে।

ওপরের বালছাল র‍্যান্টিং পড়লেন? এবার একটু কাজের কথায় আসা যাক। শিশুকাম বা পিডোফিলিয়া একরকমের মানসিক বিকার। Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders অনুসারে, পিডোফিলিয়া হল,” paraphilia( sexual perversion) involving intense and recurrent sexual urges towards and fantasies about prepubescent children that have either been acted upon or which cause the person with the attraction distress or interpersonal difficulty.” পিডোফিলিয়া কোন নতুন ব্যাপার নয় বা ইদানিং কালে বেড়ে গেছে তাও নয়। সব যুগে, সব সময়ে, ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে শিশুরা এই বিকৃতকাম মানুষদের শিকার হয়েছে। এখন ইন্টারনেটের যুগে, মিডিয়ার যুগে আমরা বেশী বেশী এসব ঘটনার কথা জানতে পারছি এই যা।

পিডোফাইল নারী বা পুরুষ দুইই হতে পারে এবং এদের শিকার মেয়ে বা ছেলে বাচ্চা দুইই হতে পারে। ছেলে বাচ্চারা পিডোফাইলদের থেকে সুরক্ষিত এমনটা ভাবার কোন কারন নেই। পরিসংখ্যান বলছে, চেনা পরিচিত লোকদের হাতেই বাচ্চারা বেশী নিগৃহীত হয়। চেনাপরিচিতের একটা বিরাট অংশ আবার আত্মীয়স্বজন। কাকা, দাদা, জ্যেঠা, মামা, মামী, দিদি এমনকি বাবা অবধি হতে পারে নিগ্রহকারী। কার হাতে বাচ্চাকে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকবেন আপনি? আরো ভয় দেখাই আসুন। পিডোফাইলরা নানান ভাবে প্ল্যান করে শিশুদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করে। একজন পিডোফাইলের পক্ষে খুবই স্বাভাবিক এমন চাকরির চেষ্টা করা, যেখানে প্রচুর শিশুর সঙ্গ পাওয়া যায়। একটা শিশুর সাথে ভাব জমানো, তার সাথে স্বাভাবিক মেলামেশা করা, চকলেট ইত্যাদি দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জন করা, এসবই হতে পারে একজন পিডোফাইলের প্ল্যানের অংশ। এরপরের ধাপে আসে নানান ছলে শরীরে হাত দেওয়া, তার শরীর ছুঁতে বলা, পর্ণোগ্রাফিক ম্যাটেরিয়াল দেখানো- গ্ররুমিং বলে একে।

কথা হচ্ছে তাহলে করনীয় কি? সত্যি বলতে জানি না। বাচ্চাদের বেসিক গুড টাচ, ব্যাড টাচ শেখান দরকার। কেউ যদি তার প্রাইভেট পার্টসে হাত দেয় বা নিজের প্রাইভেট পার্টস ছুঁতে বলে তাহলে সে যেন আপত্তি করে। কেউ ওরকম করলে সে যেন বাবা মা কে এসে জানায় এসব। কোন বাচ্চা যদি কারো কাছে যেতে না চায়, বা ভয় পায় তাহলে সেটাকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে- সেই ব্যাক্তি সম্পরকে আপনার যতই ভাল ধারনা থাকুক না কেন। ইন্টারনেটে এসব নিয়ে গাদাগাদা আর্টিকল আছে। সেগুলো পড়ুন, সচেতন হন।

এ তো গেল একদিক। পিডোফাইলদের দিক থেকে দেখি এবার। বেশীরভাগ পিডোফাইলের এই বিকৃতি জন্মগত। একজন সাধারন মানুষ যেমন সমকামী বা বিষমকামী হয়, তেমনি এরাও শিশুকামি হয়। শিশুর প্রতি কামভাব তাদের চয়েস নয়। কারো মধ্যে এই বিকৃতি থাকলেই যে সে শিশুনিগ্রহ করবে এমন কোন ব্যাপার নেই। অনেকেই তাদের বিকৃতির বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং এইজন্য তারা ডিপ্রেশনে ভোগে। কিছু সার্ভেতে দেখা গেছে অনেক শিশু নিগ্রহ করে এতটাই অপরাধবোধে ভোগে যে তারা আত্মহত্যা করার কথাও চিন্তা করে বা কিছু ক্ষেত্রে চেষ্টাও করে।

পিডোফিলিক টেন্ডেন্সি থাকলেই যে সে শিশুনিগ্রহ করবে তা জরুরি নয়। এই কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যারা শিশুনিগ্রহ করতে চাই না অথচ তাদের মধ্যে সেই টেন্ডেন্সি আছে, তাদের যদি কাউন্সেলিং করা যায় তাহলে শিশুনিগ্রহ অনেক কম হতে পারে। জার্মানি এই ব্যাপারে পথপ্রদর্শক। project Dunkelfield( ইংরেজিতে ডার্ক ফিল্ড) এ পুরো জার্মানি জুড়ে ট্রিটমেন্ট এবং কাউন্সেলিং প্রোগ্র্যাম চলে।পেশেন্টের পরিচয় স্ট্রিক্টলি গোপন রাখা হয়। এমনকি পরিচয় অবধি জানতে চাওয়া হয়না সেখানে। দুঃখের বিষয় খুব কম দেশেই এই ধরনের সুবিধে আছে, ভারতে তো অনেক দুরের কথা। অথচ এরকম সুযোগ থাকা খুবই জরুরি। প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর তো সবাই জানি।

বিভাগ: 

Comments

দেবেন্দ্র এর ছবি
 

অনেক কিছু জানলাম

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মানিরুজ্জামান
মানিরুজ্জামান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 21 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 15, 2017 - 10:21অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর