নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নগরবালক
  • সলিম সাহা
  • বেহুলার ভেলা
  • লালসালু

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

ইসলামে বহু বিয়ে করলে সবার সাথে কি সমান ব্যবহার করতে হবে ? মুহাম্মদ নিজেই কি সেটা করতেন ?


ইসলামের অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য হলো একজন পুরুষ বহু বিবাহ করতে পারবে। কোরানে সেটার সীমা চারটা। অনেকটা বন জঙ্গলে যেমন একটা পুরুুষ সিংহ বা পুরুষ বানর অনেকগুলো সিংহী বা নারী বানর পোষে সেরকম। মনে হয় খোদ নবী নিজে জঙ্গলের সেই বিধান মেনে চলতেন কারন তার হারেমে এক সময় একত্রে ১১ টা স্ত্রী ছাড়াও বহু দাসী ছিল। প্রশ্ন হলো - মুহাম্মদ কি তার সকল স্ত্রীর সাথে সমান ব্যবহার করতেন ?

কোরানে পরিস্কারভাবেই বলেছে , একজন পুরুষ চারটা বিয়ে করে চারটা স্ত্রী এক সাথে রাখতে পারবে যেমন -

সুরা নিসা-৪:৩: আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।

ইসলামী পন্ডিত যেমন জাকির নায়েকের বক্তব্য হলো যেহেতু আয়াতে বলেছে সব স্ত্রীর সাথে সমান ব্যবহার করা সম্ভব না , তাই ইসলাম আসলে একটাই মাত্র বিয়ের কথা বলেছে পরোক্ষভাবে। তাহলে এবার দেখা যাক , কোরানের অন্য আয়াত কি বলে ---

সুরা নিসা -৪: ১২৯: তোমরা কখনও নারীদেরকে সমান রাখতে পারবে না, যদিও এর আকাঙ্ক্ষী হও। অতএব, সম্পূর্ণ ঝুঁকেও পড়ো না যে, একজনকে ফেলে রাখ দোদুল্যমান অবস্থায়। যদি সংশোধন কর এবং খোদাভীরু হও, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।

যে কোরান ৪:৩ আয়াতে বলছে সম ব্যবহার না করতে পারলে একটা মাত্র বিয়ে করতে , সেই একই কোরান ৪: ১২৯ নং আয়াতে বলছে , সম্পূর্ন ঝুকে না পড়ে , এক সাথে বহু বিয়ে করা যাবে। তার মানে কোন স্ত্রীকে এমনভাবে বেশী ভালবাসা যাবে না , যা নজরে পড়ে। দৃষ্টিকটুভাবে কারও প্রতি বেশী পক্ষপাতিত্ব না দেখিয়ে এক সাথে বিয়ে করা যাবে। খোদ মুহাম্মদ সেটাই অনুসরন করতেন , আর সেই জন্যেই উক্ত ৪: ১২৯ নং আয়াত নাজিল করা হয়। তাফসিরে আছে - মুহাম্মদ তার বৃদ্ধা স্ত্রী সাওদাকে তালাক দিতে চেয়েছিলেন , সেই সময় আরবে একটা বৃদ্ধা তালাকপ্রাপ্তা নারীর অন্য কোন অবলম্বন না থাকলে তার পক্ষে বেচে থাকা দুরুহ ছিল। উপায়ান্তর না দেখে হাফসা মুহাম্মদকে কাকুতি মিনতি করে অনুরোধ করে , তাকে যেন তালাক দেয়া না হয়। আর তার জন্যে সে তার পালার দিনটা আয়শাকে দিয়ে দিতে রাজী হয়ে যায়। এর ফলে মুহা্ম্মদ সাওদাকে আর তালক দেন নি। ( তাফসির ইবনে কাসির , ৪র্থ, ৫ম , ৬ষ্ঠ ও ৭ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং - ৫৮৪-৫৮৫, http://www.quraneralo.com/tafsir/)

বিষয়টা হাদিসেও আছে , যেমন ---

বুখারি ,ভলিউমি-৩, বই -৪৭, হাদিস-৭৬৬
আয়শা বর্ণিত - যখনই রসুল কোন অভিযানে বাইরে যেতেন তিনি লটারী করে একজনকে সাথে নিয়ে যেতেন তাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য। এ ছাড়া তিনি তার স্ত্রীদের সাথে পালাক্রমে রাত ও দিন কাটাতেন। কিন্তু সাওদা বিনতে যাম'আ তার পালার দিন ও রাত আয়শাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন শুধুমাত্র নবির সন্তুষ্টি লাভের জন্য।

তার মানে দেখা যাচ্ছে , মুহাম্মদ সাওদার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না , সেই কারনেই সাওদা তার পালার দিন আয়শাকে ছেড়ে দেন।কেন মুহাম্মদ সাওদার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না , সেটা জানা যাবে নিচের হাদিসে ---

সহি মুসলিম, বই -৮ , হাদিস - ৩৪৫১
আয়শা বর্ণিত- সাওদার চাইতে প্রিয় আর কোন নারী আমি কখনো দেখিনি। আমি তার মত স্নেহশীল হতে চাইতাম। তিনি যখন বৃদ্ধা হয়ে পড়লেন , নবীর সাথে তার পালার দিন ও রাত আমাকে দিয়ে দিলেন। সুতরাং রসুল দুই দিন আয়শার জন্য নির্ধারন করেছিলেন।
বুখারি , ভলিউম-৬,বই-৬০, হাদিস- ৩১৮
আয়শা বর্ণিত - পর্দা করার বিধান জারি করার পর সাওদা প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বাইরে গেলেন। তিনি ছিলেন মোটা ও বিরাট দেহের অধিকারী। -------------------

দেখা যাচ্ছে সাওদা বৃদ্ধা হয়ে পড়েছিলেন তার ওপর ছিলেন মোটা ও বিরাট দেহের অধিকারী। এই ধরনের অনাকর্ষনীয় নারী কোন পুরুষকে আকৃষ্ট করতে পারে না বলাই বাহুল্য। মুহাম্মদও তাই সাওদার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন না , তাই তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে , সাওদা যদি এতই অনাকর্ষনীয়া হয়ে থাকেন , তাহলে মুহাম্মদ তাকে বিয়ে করলেন কেন ?

এখন প্রেক্ষাপটে যেতে হবে। মুহাম্মদ মক্কায় থাকা অবস্থায়ই তার প্রথম স্ত্রী বৃদ্ধা খাদিজা মারা যান। তখন তার বেশ কয়টা ছোট ছোট শিশু। তাদেরকে দেখা শোনা করার জন্যে মুহাম্মদের একজন নারী দরকার পড়ে। উপায়ন্তর না দেখে মুহাম্মদ বয়স্ক সাওদাকে বিয়ে করেন। মক্কায় মুহাম্মদ তখনও দুর্বল , তার কোন শৌর্য বীর্য নেই। পক্ষান্তরে সাওদাকে তালাক দেয়ার বিষয়াদি ঘটছে মুহাম্মদের মদিনার জীবনে। মদিনায় গিয়ে মুহা্ম্মদ সেখানকার রাজা বনে যান নানা কায়দা করে। তারপর একের পর এক অমুসলিম বসতি আক্রমন করে তাদের ধন সম্পদ তো বটেই তাদের সুন্দরী নারীদেরকেও বন্দি করে গণিমতের মাল হিসাবে ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন মুহাম্মদ সহ তার সাহাবীরা। তার মানে চাইলেই তখন মুহাম্মদের পায়ের কাছে সুন্দরী যৌবনাবতী অল্প বয়স্ক নারী পেয়ে যাচ্ছেন। এমন অবস্থায় কি সাওদার মত একটা বৃদ্ধা বয়স্কা মোটা কদাকার নারী মুহাম্মদের মন জয় করতে পারে ? কিন্তু তাকে তালাকও দেন নি মুহাম্মদ। তার সাথে আর রাত কাটাবে না এই শর্ত যখন সাওদা দিলেন তালাক হয়ে যাওয়ার আশংকায় , তখন সাথে সাথে মুহাম্মদ সেই সুযোগ লুফে নিয়ে , তাকে তালাক না দিয়ে রেখে দিলেন।

এই ঘটনা কি প্রমান করে , মুহাম্মদ তার সকল স্ত্রীকে সমান দৃষ্টিতে দেখতেন?

সুতরাং মুহাম্মদ নিজেই যেহেতু তার সকল স্ত্রীর সাথে সমান ব্যবহার করতেন না , তাই তার উম্মতদেরও মুহাম্মদের আদর্শ অনুসরন করে ,ঘরে তিন চারটা স্ত্রী এনে , তাদের সবার সাথে সমান ব্যবহার করতে কোনই বাধ্যবাধকতা নেই। একজন মুমিন যখন ইচ্ছা খুশি একটার পর একটা বিয়ে করতে পারে, তারপর মন চাইলে যে কোন তুচ্ছ কারনে তাদেরকে তালাক দিতে পারে , আর যদি তালাক না দেয় তাহলে যেমন ইচ্ছা খুশি তাদের সাথে দাসী বাদির মত ব্যবহার করতে পারে। কোনই সমস্যা নেই।

Comments

মৃত কালপুরুষ এর ছবি
 

একটা করে ছবি এড করে দিবেন লেখার বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে।

-------- মৃত কালপুরুষ

 
কাজি মাহীন এর ছবি
 

আমি ইমেজটা আবার এড করতে চাইলাম হলো না

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাজি মাহীন
কাজি মাহীন এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 19 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 29, 2017 - 11:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর