নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • নগরবালক
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

উপাসনা কাজে উচ্চশব্দ প্রমান করে মানুষ ধর্ম থেকে সরে আসছে।


ছোটবেলা দেখেছি যখন মসজিদ ছিলো কম এবং মসজিদে মাইকবিহীন আযান দিতো। দূর দুরান্ত থেকে মানুষ মসজিদে নামাজ পড়তে চলে আসতো। আযানের শব্দও অনেকে শুনতে পেতোনা। ঘড়ি বা এলার্মের ব্যবস্থাও সবার ছিলোনা অথচ সঠিক সময়ে সূর্যের অবস্থান মেপে নিজ আগ্রহে মসজিদে চলে এসেছে মানুষ।

আর এখন দশহাত পরপর মসজিদ।প্রতিটা মসজিদে ৪টা-৬টা করে মাইক। যা দিয়ে ফুল ভলিউমে দিনে ৫বার আযান দেওয়া হয়, সে শব্দে ঘুমিয়ে থাকাতো দূরের কথা স্থির থাকাই কঠিন।এছাড়াও এলার্ট হওয়ার টিভি-মোবাইলে এলার্মের সুব্যবস্থাও আছে তবুও মানুষ নামাজে আসেনা।নামাজ পড়ার ইচ্ছা যার আছে তাকে এতো উচ্চশব্দে মনে করিয়ে দিতে হয়না,আযানের শব্দ না পেলেও সে নামাজে সময়মতো চলে আসবে।যে মসজিদে যখন মুসল্লি হওয়ার কথা ২০০জন সেখানে হয় ১০জন।৪টা/৬টা মাইকে উচ্চশব্দে আযান দিয়েও মানুষজনকে নামাজে আনা যাচ্ছেনা।যে আসতে চায়না বারবার উচ্চশব্দে চিল্লালেও সে আসবেনা।

শুধু শুক্রবারে জুমা নামাজে একটু ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।যদিও জুম্মাটা নামাজের চেয়ে আড্ডাটাকেই বেশি ইনজয় করা হয়।শুক্রবার ছুটির দিনে সমবয়সি সবাই একসাথে হয়,খুশগল্প হয়, হাসিঠাটটা হয়,মজা হয়।আবার অনেকে নানা কাজে ব্যস্ত থাকে এলাকার অনেকের সাথে দেখা হয়না তাই এই সুযোগে দেখা সাক্ষাত হয়ে যায়।তাই জুমানামাজে লোকজন একটু বেশি দেখা যায়। নামাজটাকে যে তারা বড় মনে করেনা জুমানামাজে গেলেই বুঝা যায়।টুপি-পাঞ্জাবী পরে নামাজের নামে যাবে তারপর মসজিদের বাইরে আড্ডা দিতে থাকবে। দুরাকাত ফরজ নামাজ শুরু হলে দৌড়ে গিয়ে দাড়াবে,দুরাকাত নামাজ শেষে আবার আড্ডা দিতে দিতে বাসায় চলে আসবে।নামে নামাজ কামে আড্ডা।খুব কম সংখ্যক মুসল্লি সুন্নত-ফরজ-দোয়া শেষে বা জুমানামাজের নিয়ম মেনে বাসায় আসে।

বিদুৎবিহীন সেই সময়ে(১৯৮৫) কোনও শব্দ না পেয়েও মুসল্লি দিয়ে মসজিদ ভরে যেতো। তখন ঘরে ঘরে তালিম-তাবলীগ করে নামাজের দাওয়াত দিতে হতোনা।নিজ আগ্রহে, নিজ তাগিদে মানুষ নামাজে আসতো ও ধর্ম পালন করতো।উচ্চশব্দে আযান দিয়ে তাদের সজাগ করতে হতোনা।নামাজ পড়ার তাগিদ যার আছে তাকে চিল্লাচিল্লি করে স্বরণ করিয়ে দিতে হয়না।

এখন বিশাল ওয়াজ মাহফিলে মাইকিং-পোষ্টারিং চলে ৭দিন যাবত।২০থেকে ২৫টা মাইক চারদিকে লাগিয়ে স্টেজ সাজানো হয়।বিকট শব্দে ওয়াজ চলে কিন্তু মানুষ নেই।আয়োজকগন,কয়েকজন মোল্লা আর মাদ্রাসার কিছু পোলাপান ছাড়া বিশাল মাহফিলে আর কাউকে দেখা যায়না।কিন্তু এখানে যদি কনশার্ট হতো তবে দেখা যেতো মানুষ কারে কয়।মানুষের ঢল থামাতে হিমশিম ক্ষেতে হতো।এর মানে হলো মানুষ এখন ধর্ম ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পছন্দ করে না।এসব থেকে তারা দূরেই থাকতে চায়।

এখন যেভাবে ঘরে ঘরে তাবলীগ জামাত হয়, তালিম হয় কিন্তু মানুষ সেভাবে সারা দেয়না,গুরুত্ব দেয়না।এতো তালিম-তাবলীগ করেও নাচগান-সিনেমা-সিরিয়াল দেখা দিনদিন বেড়েই চলছে।মানুষের দৈনন্দিন ৯৯% কাজই হারাম বা ইসলামসম্মত নয়।অতএব মানুষ মুখে স্বীকার না করুক কিন্তু তারা ধর্ম মানে না, ধর্মে সময়ও ব্যয় করতে চায়না।

উপাসনা কাজে মানুষের অংশগ্রহন ও আগ্রহ কম বলেই দিনদিন উপসনালয়ে উচ্চশব্দ বেরে চলেছে।এলাকা অনুযায়ী মাইক যেখানে ১টা হলেই যথেষ্ট সেখানে মাইক ব্যবহার হচ্ছে ৬টা,৮টা।ধর্মকাজে মানুষের যতই আগ্রহ কমছে,উপাসনালয়ে ততই শব্দ বাড়ছে।

Comments

বিশ্বাস এর ছবি
 

যারা উপাসনায় যায় না কনসার্টে যায়। ধর্ম পালন করুক আর না করুক তারাওতো জিহাদে যায়। স্বর্গের লোভেতো সবাই বিভোর।

কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দুর
মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতে সুরাশুর ।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হাইয়ুম সরকার
হাইয়ুম সরকার এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 3 দিন ago
Joined: সোমবার, অক্টোবর 31, 2016 - 12:24অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর