নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • রহমান বর্ণিল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার সম্পর্ক



স্বাধীনতা। আমি স্বাধীনতাকে প্রথমত মোটা দাগে দুইভাগে ভাগ করে নিচ্ছি : রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। বহুলকথিত বাকস্বাধীনতা বা মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতার অর্ন্তভূক্ত ।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে আমি বুঝি ব্যক্তির অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকা; জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জন করার মতো কাজের নিশ্চয়তা; এবং দারিদ্র্যমুক্ত থেকে জীবনযাপন করতে পারার সক্ষমতা।বাকস্বাধীনতা মানে বুঝি যেকোন বিষয়ে আমার নিজস্ব মতামত বাঁধাহীনভাবে প্রকাশ্যে বলার পরিবেশ বজায় থাকা। দুটো স্বাধীনতাই ব্যক্তি আশা করে। কিন্তুু রাষ্ট্র তার সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক কাঠামো ও রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দলের রাজনৈতিক দর্শনের কারণে অনেক সময়ই নাগরিকদেরকে দুটো স্বাধীনতা একইসাথে ভোগ করতে দিতে চায় না। বেশিরভাগ রাষ্ট্রই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়। আমার পেট ভরে ভাত খাওয়ার স্বাধীনতার সাথে আমার মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার কোন বিরোধ থাকার কথা না। তবুও রাষ্ট্র এমন একটা আচরণ করে যেন আমাকে পেট ভরে খেতে হলে চুপচাপ থাকতে হবে; স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করলে ভাতের সল্পতা দেখে দেবে। রাষ্ট্রের কোন বিষয়ে আমার কোন মতামত না থাকলেই যেন সকলের জন্য খাদ্যের নিশ্চয়তা তৈরী হবে। স্বৈরতান্ত্রিক সরকার বলপ্রয়োগ করে জনগনকে চুপ থাকতে বাধ্য করে। কোন অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের বাস্তবতা যদি এমন হয় যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার মধ্যে যেকোন একটিকে বেছে নিতে হবে তখন জনগন প্রথমে রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়ে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাটাই বেছে নেবে। কারণ এটি সরাসরি জীবনধারনের সাথে সম্পর্কিত।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বিঘ্নিত করে, জীবনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে এবং সর্বোপরি মানুষের ভেতর নিরাপত্তার অভাববোধ সৃষ্টি করে। সেই সময়ে মানুষ যে কোন মূল্যে নিরাপত্তা চায় : জীবনের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বা সম্পদের নিরাপত্তা। তখন তারা স্থিতিশীলতার স্বার্থে সামরিক বা অনির্বাচিত সরকারকেও স্বাগত জানায়। পাকিস্তানে আইয়ুব খানের ক্ষমতায় আসা এবং বাংলাদেশে ফখরুদ্দিন আহমেদের ক্ষমতা গ্রহণের কথা মনে করা যেতে পারে। দুটোই প্রথমদিকে নন্দিত হয়েছিলো। স্থিতিশীলতার জন্য জনআকুতির এই সুযোগটাই নেয় সামরিক, স্বৈরশাসক এবং একনায়কেরা। তবে গবেষণা বলছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথেই জনগনের মধ্যে রাজনৈতিক স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগে।কোন দেশ এই আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি দেয়;যেমন দক্ষিণ কোরিয়া গণতন্ত্রের পথে গেছে।আবার কেউ কেউ দেয়না;যেমন চীন, রাশিয়া, কিউবা।

জনগনের জীবনমানের উন্নয়ন উচ্চ আয়ের উপর নির্ভরশীল-এমন বিশ্বাস আগে প্রচলিত ছিলো। নির্বাচিত বা অনির্বাচিত শাসকেরা তাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটিয়ে জনগনের জীবনমানের উন্নতির চেষ্টা করেছেন। এর উদাহরণ পাই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, মালয়েশিয়ায়। চীন, জাপান,কিউবাও হয়তো এমনই। যদিও তাত্ত্বিকভাবে রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে পরষ্পরবিরোধী মনে হয়না বরং পরিপূরক মনে হয়, তবুও অনেক গবেষণাতেই দেখা যায় যে এই দুটোর মধ্যে শক্তিশালী কোন ইতিবাচক বা নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ গবেষণা বলছে রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেমনই হোক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যদি পরিকল্পিত উপায়ে এগিয়ে নেওয়া যায় তাহলে জনগনের অর্থনৈতিক জীবনমান উন্নত হয়। উদাহরণ দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুর। দক্ষিণ কোরিয়ায় পার্ক চুং হি (১৯৬১-১৯৭৯),মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ (১৯৮১-২০০৩), সিঙ্গাপুরে লি কুয়ান ইউ (১৯৫৯-১৯৯০ ) এবং ইন্দোনেশিয়ায় সুহার্তো (১৯৬৬-১৯৯৮)এমনকি উত্তর কোরিয়ার কিম দ্বিতীয় সাং (১৯৪৮-১৯৯৪) এর শাসনামলে দুর্নীতি রোধের অব্যাহত প্রচেষ্টা, ভবিষ্যৎমুখী এবং সাস্টেনেবল অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ, প্রভূত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার আর দেশের প্রতি ডেডিকেশন ওই সব দেশকে এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত করেছে।এদের মধ্যে মাহাথির এবং লি কুয়ান বাদে বাকি সকলেই সেনাবাহিনী থেকে আগত। তবুও তাদের মধ্যে মিল একজায়গায়। তারা সবাই " Development first and Democracy later" যেটাকে এ্যকাডেমিক্যালি বলা হয় Authoritarian Developmentalism- সেই তত্ত্বের সমর্থক। অমর্ত্য সেন বলছেন যে এসমস্ত দেশের উন্নয়নের কালখণ্ডে একনায়কেরা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যেমন ভূমি সংস্কার, আর্ন্তজাতিক বাজার ব্যবহার এবং এক্সপোর্ট সাবসিডি সেগুলোও আসলে গণতান্ত্রিক কৌশল।

তাই বলে যারা ভাবছেন Authoritarian regime will bring about higher economic prosperity তাদের জন্য দুঃসংবাদও আছে প্রচুর। Democracy and Development নিয়ে গত বিশ বছরে অসংখ্য গবেষণা হয়েছে,বিশেষ করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে প্রবন্ধ নিবন্ধ বেরিয়েছে প্রচুর। কোন গবেষকই সুনির্দিষ্ট উপসংহারে পৌছাতে পারেনি যে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা সত্যিকারেই উন্নয়ন সহায়ক কিনা। যারা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের উদাহরণ দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কাউন্টার এক্সজাম্পলও আছে। যেমন ফিলিপাইনস, ইন্দোনেশিয়া, আর আফ্রিকার দেশগুলো। এই দেশগুলোতে কর্তৃত্ববাদী শাসন চালু থাকা সত্ত্বেও উন্নতি করতে পারেনি। আবার বতসোয়ানা গণতান্ত্রিক শাসনেই উন্নতি করেছে।

University of California at Berkeley এর অধ্যাপক প্রবণ বর্ধনের একটি প্রবন্ধ "Democracy and Development : A Complex Relationship. এখানে তিনি গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে অন্য যেসব গবেষণা আছে সেগুলো পর্যালোচনা করে বলেছেন যে গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের মধ্যে তিন ধরনের সম্পর্ক ওইসব গবেষণাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক. নেতিবাচক সম্পর্ক অর্থাৎ গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের মধ্যে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক। দুই. ইতিবাচক সম্পর্ক অর্থাৎ একটি অপরটির সম্পূরক। তিন. এগনোস্টিক। এটা একটু ব্যাখ্যা করি। এগনোস্টিক বলতে বোঝানো হয়েছে গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের মধ্যে সম্পর্ক অজানা। এই গবেষণাটা করেছেন Adam Przeworski and Limongi যেটা ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয়। তাদের ভাষায় " we do not know whether democracy fosters or hinders economic growth ".

Seymour Lipset বলছেন "অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গণতন্ত্র বয়ে আনে " এবং সেজন্য "আগে উন্নয়ন, পরে গণতন্ত্র"কৌশলই কার্যকরী । Samuel Hantington (1968) সালে লিখেছেন যে একটি দেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সাথে সাথে তার প্রাচীন রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে যায় এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে ওঠে। কিন্তু Mesquita and George Downs ২০০৫ সালে তাদের গবেষণায় চীনের ক্ষেত্রে দেখাচ্ছেন যে চীন যথেষ্ট পরিমাণ অর্থনৈতিক উন্নতি করলেও গণতন্ত্রের দিকে যায়নি। অন্যদিকে যারা বলেন যে "আগে গণতন্ত্র, পরে উন্নয়ন" যেমন Joseph Siegle ও Michael Weinstein -তারা দেখিয়েছেন যে গণতান্ত্রিক দেশগুলো সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সূচকে অগণতান্ত্রিক দেশের চাইতে এগিয়ে থাকে। তাই তাদের মত হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশে আগে গণতন্ত্রায়ন হওয়া দরকার।

উন্নয়ন ধারণাটা এখন আর আগের মতো নেই। উন্নয়ন মানে শুধু ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের ফরেন রিজার্ভ, টেনেটুনে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি, সুউচ্চ সুরম্য প্রাসাদ, মেট্রোরেল আর পদ্মাসেতু এবং চৌদ্দশ ডলার মাথাপিছু আয় নয়। উন্নয়নের আধুনিককালের সংজ্ঞা বহুবিস্তৃত। অমর্ত্য সেন কী বলেন, ইউনেস্কো কী বলে, জাতিসংঘের ভাষ্য কী, এসব খোঁজ রাখতে হবে। দেশে আয় ও সম্পদ বৈষম্য কত, রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে না নেই, ফ্রিডম অব স্পিস এ্যান্ড প্রেসের কি হাল? বড় বড় হাসপাতাল আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলেই দেশের উন্নয়ন হয়না এখন আর, আগে হতো। কত শতাংশ মানুষ ওইসব প্রতিষ্ঠানের সেবা ক্রয় করতে পারে? দেশে ষাটটা বাণিজ্যিক ব্যাংক থাকলেই হবেনা। কত শতাংশ মানুষের কত টাকা আমানত আছে ওসব ব্যাংকে?এইসব হিসাব করে তারপর বলতে হবে উন্নয়ন কতখানি হলো।

বিনাবিচারে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনকে মেনে নেওয়া বা স্বৈরতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা বিরাট অবিমৃষ্যকারীতা।দেশের উন্নয়নের শর্টকাট এবং সরল কোন পন্থা নেই।উন্নয়নের প্রতিটি পদক্ষেপে দরকার গভীর চিন্তা, প্রচুর গবেষণা এবং নীতির পর্যালোচনা। এসব ছাড়া বিকল্প কোন পথ খুঁজতে গেলে পথ হারানোর আশংকা বেশী।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুবিনয় মুস্তফী
সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 10 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 4, 2016 - 4:58অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর