নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নরসুন্দর মানুষ
  • রাহুল মল্ল
  • দ্বিতীয়নাম
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

সূর্যাস্ত


কাশেম স্যারের ক্লাস চলছে। কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই কাশেম স্যারের ক্লাস । থমথমে একটা পরিবেশ। মনে হচ্ছে এই বুঝি কেউ হু হু করে কেঁদে উঠবে। আজ আর ক্লাস হবে না , ভালো থেকো তোমরা বলে স্যার ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলেন। বাহিরে তাকালাম কংক্রিটের দেয়ালে একটা কাক বসে আছে। একেবারে নির্জীব মনে হয় ঝিমুচ্ছে। চলে যাবার আগে আজ রাতটায় এখানে আমার শেষরাত। এটাই শেষ ক্লাস। আর কোনদিন এই ক্লাসরুমে ফিরব না আমি। । ইতু আমার স্টাডি পার্টনার ।আজই শেষ সুযোগ ইতু কে জিজ্ঞেস করার । আমি তা করছি না কারণ আমাদের ইতিমধ্যে বিদায়পর্ব শেষ হয়েছে। একটা প্লান অবশ্য ছিল কংক্রিটের দেয়ালে বসে সূর্যাস্ত টা দেখে হোষ্টেলে ফেরা।

অর্থ আমার সাথে এক জায়গায় চলো। ইতু আবার বললো কি হলো চলো। ও তো জানে আজকেই আমাদের শেষ দেখা । আর কখনো দেখা হবে না কথা হবে না । তাইলে আমাকে ডাকছে কেন? থাকি না কিছুক্ষণ একা। না কথাটা বলতে পারি নি। পিছু পিছু ওকে ফলো করে হাটছি।

রাস্তা ধরে হাঁটছি । এবার আমরা অনেক কাছাকাছি । আড়চোখে দেখছিলাম ওর খোলা চুল গুলো উড়ছিল । অনেক সুন্দর দেখাচ্ছিল । ইশ এই আজটা যদি গতকাল হতো ! একটা বইয়ের দোকানে গেলাম। এই দোকান আমি আগে দেখি নি। একটা চিপা গলির ভেতর এতো সুন্দর দোকান ! কিন্তু এতোদিন ছিলাম কতবার যে এই রাস্তা দিয়ে গেছি একবারো নজরে আসেনি। দোকান টা অনেক বড় ছিল চারপাশে আলমারি বইয়ে পরিপূর্ণ। আমি ঘুরে ঘুরে চারপাশ দেখছিলাম। চলো এখানে কাজ শেষ বলে বেরিয়ে গেল । আমিও পিছু নিলাম।

পরের গন্তব্য রসায়ন। না কোন সায়েন্স ল্যাবরেটরি না। এটা একটা রেস্টুরেন্ট। আগে বহুবার এসছি ইতুর সাথে। আমাদের অনেক ফেভারিট একটা রেস্টুরেন্ট। এখানকার একটা বিশেষ খাবার আছে। খিচুরীর মত কিন্তু খিচুরী না। রসায়ন ফ্রাইড রাইস। কিন্তু খেয়ে কেউ বলবে না এটা ফ্রাইড রাইস। এই খিচুরী টাইপ ফ্রাইড রাইস কিন্তু বিশেষ সেই খাবার না। এর সাথে একটা আঁচার দিত। এটা আমার অনেক পছন্দের। বরাবরের মতো ইতুই অর্ডার দিল। ইতুর দৃষ্টি ছিল জানালার বাহিরে। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম ওকে। একটি কথাও হয় নি আমাদের মাঝে। খাবার শেষে কিছুক্ষণ বসে ছিলাম। এবার আমার দিকে তাকালো আমি মাথা নামিয়ে নিলাম। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে। টাই নিজেকে সংযত রাখলাম।

এবার কোথায় যাচ্ছি? রাস্তায় বেরিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। কোন উত্তর দিল না। একটা রিকশা নিল। আমিও উঠে পড়লাম। আমার শরীর হিম হয়ে আসছে। ভেতর থেকে কাপুনি দিচ্ছে। আবার ঘামছিও। একটিবারের জন্যও তাকালাম না ওর দিকে। এই প্রথম আমরা একসাথে রিকশায়।

রিকশা থেকে নেমে হাঁটছি । পাশাপাশি হাঁটছি। ইতু বললো তুমি তো সূর্যাস্ত দেখে ফিরবা তাই না? আমিতো আবার সেই কংক্রিটের দেয়ালের সামনে চলে আসছি। আমার যেতে হবে এখন। এইটা রাখো আর ভালো থেক বলে একটা প্যাকেট হাতে ধরায়ে চলে গেল। যতদূর দেখা যায় আমি তাকিয়ে রইলাম। ৫ মিনিটের মত ঠায় দাড়িয়ে ছিলাম।

কংক্রিটের দেয়ালে গিয়ে উঠলাম। সূর্যাস্তের সময় হয়ে এসেছে। আমি তাকিয়ে আছি আকাশের দিকে। আকাশের দিকে তাকিয়েই প্যাকেট টা খুললাম। মনে হলো একটা বই। হ্যাঁ বই। ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের শাপমোচন। সূর্য অস্ত যাচ্ছে। আমি দেখছি...

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মিথুন
মিথুন এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 1 week ago
Joined: বুধবার, অক্টোবর 7, 2015 - 8:46অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর