নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সংশপ্তক শুভ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • রহমান বর্ণিল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

'পোস্ত' গড়পড়তা মেলোড্রামা ছাড়া কিছুই নেই!


শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায় পরিচালকদ্বয় মিলে বেশ ক'টি সিনেমা নির্মাণ করেছেন। তাঁদের পরিচালিত সিনেমাগুলি বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এই পরিচালকদ্বয়ের প্রায় প্রতিটি সিনেমা-ই ব্যবসা সফল। কলকাতার বাংলা সিনেমা যখন নানান ধরণের সমস্যা মোকাবেলা করে তাঁদের পুঁজি তুলে আনা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় তখন একই সাথে হিন্দি ও দক্ষিণি সিনেমাকে মোকাবেলা করে তাঁদের টিকে থাকতেও হয়। সিনেমা তো শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক কিংবা নান্দনিকতা-ই না তা একই সাথে পুঁজিকে আগলে রেখে চলে। পুঁজির হিসেব নিকেশেই সিনেমার নানান ধরণের বিনির্মাণ চলে। সেই হিসেবে পরিচালক হিসেবে জুটি বেঁধে কাজ করলে তা নানাভাবেই ভালো ফল মিলে। গল্প বিন্যাস থেকে কাহিনির উত্থান-পতন হয়ে বিনির্মাণে দু'জনের মধ্যে বোঝাপড়ার দরুন তা ভালো একটি ফলও আসে। উল্টোটাও হতে পারে, তবে সে সম্ভাবনা আপাতত কমই বলা যায়। তো নিজ রাজ্যে যখন বাংলা সিনেমা সফলতা দেখিয়ে লাভের মুখ দেখা বেশ কঠিন কাজ হয়ে যাচ্ছে তখন বেশ ক'জন পরিচালকের হাত ধরে কলকাতার বাংলা সিনেমাও ধীরে ধীরে বেশ সফল ও লাভের মুখ দেখতে থাকে। বাংলা সিনেমার জন্য এ আশাব্যঞ্জক চিত্র তো বটেই। এইরকম হলেন নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জুটি। বিশেষ করে বাঙালিদের পুজা, উৎসব-পার্বণে সিনেমা মুক্তি দিয়ে তা সফলতা অর্জন করা থেকে ব্যবসাসফল করে তোলা তা বেশ কষ্টসাধ্য তো বটেই। এঁরা তা ফি-বছর ধরে ধারবাহিকভাবে তা করে চলেছেন। বেশ সাফল্যও আসছে। ব্যবসাসফল থেকে ভালো আয়ও করছে তাঁদের সিনেমাগুলি। যেখানে হিন্দি কিংবা দক্ষিণি সিনেমা কলকাতার বাজারকেও ক্রমশ ছোটো থেকে ছোটো করে তুলছে সেখানে তাঁরা ও অন্য অনেক গুণী-মেধাবী তরুণেরা তা বেশ খানিকটা বাজি ধরেই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা করে চলেছেন। এঁরা তেমনি মানে নন্দিতা-শিবপ্রসাদ জুটি। এঁদের সবশেষ মুক্তি পাওয়া সিনেমা 'পোস্ত'

সত্তরোর্ধ্ব দীনেন লাহিড়ী পেশায় শান্তি নিকেতনের অধ্যাপক হিসেবে অবসর নিয়েছেন। অবসরের এই সময়ে শান্তি নিকেতনেই নিজের মতো করে খুব গুছিয়ে নিয়ে একটি বাড়ি করে আছেন। আর আছেন স্ত্রী। এই সংসারে আর একজন আছে যার নামে এই সিনেমার নামকরণ হয়েছে। পোস্ত। যার ভালো নাম অর্ঘ্য লাহিড়ী। বয়স সাত। দাদু-দিদার কাছেই যার সব আবদার। পোস্তোর মা সুস্মিতা ও বাবা অর্ণব লাহিড়ী কাজেরসূত্রে কলকাতায়। একমাত্র সন্তানকে স্কুলে পাঠানো, হোম ওয়ার্ক থেকে টিউশন কিংবা সময় দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব না। তাই এই সত্তরোর্ধ্ব অবসর কাটানো অধ্যাপক ও তাঁর স্ত্রীকে তাঁদের একমাত্র সন্তানের সব দায়-দ্বায়িত্ব দেওয়া দিয়ে গছিয়ে দেওয়া! সেই কাকভোরে শুরু এই বয়োবৃদ্ধ দম্পতির দিন আর শেষ সেই রাত প্রায় গভীরে! আদরের নাতিকে সকালের নাস্তা খাইয়ে স্কুলের জামাকাপড় পড়িয়ে টিফিন বানিয়ে পানির বোতলসমেত স্কুলব্যাগ গুছিয়ে দিয়ে নাতি ও দাদু হেঁটে হেঁটে স্কুলে যাওয়া। আসাও তেমনি। এই ফাঁকতালে গল্প করা থেকে নানান ধরণের আবদার মেটানো হয়ে নাতির হোমওয়ার্ক করানো সবই তাঁদের করতে হয়। সপ্তাহান্তে মা-বাবা একবার করে এসে তাঁদের সন্তান অর্ঘ্যকে দেখে যান। একই সাথে মা-বাবাকেও। কাহিনির এই পর্যায় গল্পের ছক দর্শকদের চিরচেনা মনে হবে। একদম সাদামাটা লাগতেই পারে। শুধু দাদু-দিদা এই বয়সে নাতিকে পেলেপুষে মানুষ করার ব্যাপারে হয়তো কিছুটা অপরিচিত কিংবা স্বাভাবিক নাও লাগতে পারে। কিন্ত আমাদের গ্রাম-মফস্বলের দিকে এই কাহিনির বাস্তবতা খুব স্বাভাবিক। আমাদের জগৎ-সংসারে মা-বাবা তাঁদের সন্তানকে যেমন পেলেপুষে বড়ো করেন তেমনি তাঁদের দ্বারাপুত্র-পৌত্রীদের আশৈশব পরম মমতায় বড় করেন। সংসারে এঁরা বিরতিহীন সার্ভিস দিয়ে যান। আমৃত্যু!

'পোস্ত'' সিনেমা বিরতির পর মেলোড্রামা শুরু হয়। ওপরে যা বলেছি এতটুকু দ্যাখতে দ্যাখতে মনে মনে ভেবেছিলুম এইরকম একটি মেলোড্রামা এঁরা সামনে রেখে দিয়েছেন। আদতে বিরতির পর পরই তা শুরু হলো আরকি। মোটামুটি বিরক্তি পেয়ে বসেছে তখন। দেখতে ইচ্ছে করছিলো না। আবার শেষ না করলে এটি হয়তো আর তাড়াতাড়ি দেখাও সম্ভব না। কারণ এটি কেউ একজন অবৈধভাবে ইউটিউবে আপলোড করে দিয়েছেন। যা একদম ঝকঝকে প্রিন্ট। বেশিক্ষণ থাকবে না জানি। তাই শেষ দেখা বাঞ্চনীয় মনে করে আবার মনোযোগ ফেরানো সিনেমায়। নাটকীয়তা তখন নানান চিরচেনা প্লটকে উত্তেজিত করে তুলেছে! যেমনটা এই পরিচালকদ্বয়ের 'বেলাশেষে' সিনেমায় দেখা গিয়েছিলো। প্রাসঙ্গিক বিধায় উল্লেখ করছি। 'বেলাশেষে' সিনেমা নামজাদা প্রকাশকের বায়োগ্রাফি-ই বলা চলে। বয়োবৃদ্ধ প্রকাশক ও তাঁর স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করতে গিয়ে তালাক দেওয়া, আদালত অবধি মামলা-মোকদ্দমা থেকে পত্র-পত্রিকায় অবধি খবর হওয়া হয়ে শেষতক এই বয়োবৃদ্ধ দম্পতির শোবার ঘরে গোপন ক্যামেরা বসিয়ে তাঁদের সন্তানেরা, তাঁদের বউ-স্বামীরা তা হাটখোলা করে সাপ্তাহিক নাটক-সিরিয়াল দেখার মতো করে এক ধরণের রুদ্ধশ্বাস গোনা সবই করে দ্যাখিয়েছেন এই পরিচালক জুটি! তো এই পর্যায় আগের সিনেমার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন বলা চলে।

'পোস্ত'র কাহিনি ২০০৭ সালের কলকাতা হাইকোর্টের একটি মামলার ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। মামলাটি ২০১৭ সালেও প্রাসঙ্গিক। গবেষণার সময় আমরা জানতে পেরেছি, যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে সাত কোটি শিশু দাদা-দাদি দ্বারা প্রতিপালিত হচ্ছে। একইভাবে চীনে এর অর্ধেক।"

পরিচালক শিবপ্রসাদ চট্টোপাধ্যের ভাষ্যে এমনই এর নির্মাণের নেপথ্য কাহিনি জানা যায়। অর্ণব লাহিড়ী যে কীনা দীনেন লাহিড়ীর একমাত্র সন্তান তাঁর আসলে চাকুরিবাকুরি খুব একটা স্থায়ী হয় না। স্ত্রী-ই বরং এ দিক দিয়ে বাস্তবকে আগলে রেখে চাকুরিটাকে করে সযতনে সংসারের চাকা চলামান রেখেছেন। নাটকীয়তা যদি সংক্ষেপে বলি তবে বলতে হয় যে, বাবা দীনেন লাহিড়ীর কাছে একমাত্র সন্তান অর্ণব খামখেয়ালী ধাঁচের। ব্যক্তিত্বহীন। সে আসলে বাবা কিংবা স্বামী হওয়ার যোগ্য না। এই পর্যায় অর্ণবের শেষ চাকুরিও ছেড়ে চলে আসে। প্যাঁচ শুরু হয় অর্ণবের এক বন্ধুর ইংল্যান্ডে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার অফার দেওয়াতে। স্ত্রী-সন্তানসহ অর্ণব ইংল্যান্ডে ভবিষ্যৎ, ক্যারিয়ার সবই করে নিতে চায়। এই হলো শেষ সুযোগ। সে এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। কলকাতা থেকে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে ড্রাইভ করতে করতে এই কথাটি বলা মাত্রই দীনেন লাহিড়ী অসম্ভব রেগে যান। যথারীতি নানান ধরণের কটু কথা বলেন, ছেলেকে সাফ জানিয়ে দেন নাতি পোস্তকে তিনি এখুনি ইংল্যান্ড যেতে দিতে চান না। সে শান্তি নিকেতনেই থাকবে। ওখানেই পড়বে। বাবা হয়ে ছেলে অর্ণব-ইবা তা মানবে কেনো! ব্যস অমনি দীনেন লাহিড়ী আদালতে ফয়সালা হবে বলে গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন। মধ্যবিরতির পর এইরকম মেলোড্রামা শুরু। রখন আদালত ভরা উৎসুক জনতায়! কালো গাউন পরা উকিলদ্বয়ের জেরা পালটা জেরা। যুক্তিতক্ক। আবেগ। মান-অভিমান। হাসি-কান্না। মোদ্দকথা সেকি আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলে! শেষতক নানান চড়াই-উৎরাই শেষে তুমুল বেগে আবেগের-ই জয়জয়কার হয়! দ্যাখা শেষে মনে হবে, যাক চাপটা কমে এলো তাহলে!

এই সিনেমার গান, ফটোগ্রাফি এককথায় চমৎকার। অভিনয়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে আসলে আর কিছুই বলার নেই। এই লোকের জন্মই হয়েছে অভিনয় করার জন্য। বাদবাকিরাও ভালো করেছেন। মোটের ওপর শিবপ্রসাদ-নন্দিতারা যাই বলুন না কেনো এটি তাঁদের অন্য সিনেমা থেকে অবশ্যই ভালো কিছু নয়! গড়পড়তা কাহিনির একটি সিনেমা। মেলোড্রামা ছাড়া কাহিনিতেও যে খুব একটা টমকঠামক আছে তাও না। তেমনি গতিও নেই খুব একটা। মন্থর... মাঝেমধ্যে স্থির মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে 'পোস্ত' সিনেমাকে মন্দের ভালো বলা চলে!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মনির হোসাইন
মনির হোসাইন এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 22 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 20, 2013 - 10:17অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর