নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

লাখ শহিদ ও ধর্ষিতার প্রতি অসম্মান দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেন বিলীন হওয়ার পথে ?


১৬ই ডিসেম্বর আসলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লিগ নানা অনুষ্ঠানে আবেগময় বক্তব্য দিয়ে তাদের ভয়াবহ রকম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বহি:প্রকাশ ঘটায়। অথচ এই আওয়ামী লিগের বহু লোকই, যখন রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাইদির ফাঁসির আদেশ হয়, তখন এর বিরোধীতা করে প্রকাশ্যে যা মুক্তিযুদ্ধের মুখে একটা প্র্রকান্ড চপেটাঘাত। রাজাকারের ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করে নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করা যায় না। সোজা কথায় , গোটা দেশের জনগনের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিলীন হওয়ার পথে।

বাংলাদেশে বর্তমানে জনগোষ্ঠির ৯০% ই ধর্মপ্রান মুসলমান,যাদের প্রথম পরিচয় তারা মুসলমান,পরে মানুষ আর তার পরে বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী।মুসলমানদের প্রথম পরিচয় যে মানুষ না, সেটা কোরানেই সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছে -

সুরা আয যারিয়াত-৫১: ৫৬: আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।

তার মানে মানুষ সৃষ্টি করার আগেই আল্লাহর মনের ইচ্ছা যে তাদের একমাত্র কাজ হবে আল্লাহর এবাদত করা। তার মানে জন্মের আগ থেকেই তারা আসলে মুসলমান, তারপর মানুষ। সুতরাং একজন মুসলমানের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তার ধর্ম ইসলাম , তারপর বাকী সব।

বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম চারটা মূল স্তম্ভের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল - বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ, গনতন্ত্র , সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা। যার একটার সাথেও ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। বরং প্রতিটা পয়েন্টই ইসলাম বিরোধী। ইসলামে কোন আলাদা জাতিয়তাবাদ নেই , ইসলামে একটাই জাতি তার নাম মুসলমান আর দুনিয়ার সকল মুসলমান মিলে গঠন করবে উম্মা যারা গঠন করবে খিলাফত। সুতরাং বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদের ধুয়ো তুলে কোন ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম হবে ইসলাম বিরোধী। গনতন্ত্রের মূল কথা - জনগন ক্ষমতার মূল , কিন্তু ইসলাম বলে সব ক্ষমতার মূল আল্লাহ , তাই গনতন্ত্র ভয়াবহ শিরক। সমাজতন্ত্র যার ভিত্তি হলো নাস্তিকতাবাদ এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার কোন স্থান ইসলামে নেই , কারন কোরান বলেছে -

সুরা আল ইমরান-৩: ১৯:নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।

সেই কারনেই মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশের মুসলমানদের মূল উদ্দেশ্য হবে , বাকী অমুসলিমদেরকে ইসলামের পতাকাতলে আনা , না হয় তাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করা। যদি যেতে না চায় তাহলে তাদেরকে হত্যা করা। স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই সেটা করে গেছেন , যেমন -

কিতাবুল জিহাদ ওয়াস-সিয়ার (সফর অভিযান) অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: বই ১৯ :: হাদিস ৪৩৬৬
যুহায়র ইবন হারব ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি (র)......জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ, আমার কাছে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা) -কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বহিস্কার করবো । পরিশেষে মুসলমান ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না ।

মুহাম্মদের সময় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শুধুমাত্র আরব উপদ্বীপে , সেই কারনেই তিনি বলেছিলেন তার ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলমান ব্যাতীত আর কেউ থাকতে পারবে না। সুতরাং বলাই বাহুল্য , ৯০% মুসলমান জন অধ্যুষিত বাংলাদেশের মুসলমানরা কোনভাবেই চায় না এদেশে হিন্দু , খৃষ্টান বা বৌদ্ধরা থাকুক। তার মানে ধর্ম নিরপেক্ষতা ইসলামে কঠিনভাবেই হারাম। এটা হলো পশ্চিমা কাফের, ইহুদি নাসারাদের আবিস্কৃত একটা কুফরি মতবাদ।

তার মানে দেখা গেল মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটা বিষয়ই ছিল ইসলাম বিরোধী। ইসলাম বিরোধী কোন চেতনা বা মতবাদ বা আদর্শ তো মুসলমান সমাজে বেশীদিন টেকার কথা না। তারপরেও ১৯৭১ সালে রাজাকার আল বদর , পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক ত্রিশ লক্ষ লোকের হত্যা, দুই লক্ষ মা বোনের ধর্ষন কিছু বছর মানুষের হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সহায়ক ছিল। কিন্তু এখন প্রায় ৪৬ বছর কেটে গেছে। বাংলাদেশের ভুলোমনা জনগন খুব দ্রুতই সেটা ভুলে গেছে , তাছাড়া তারা ইতিহাসও চর্চা করে না। আর বর্তমানে তো মুক্তিযুদ্ধের পরের ২য় ও ৩য় প্রজন্মের লোকজনই হলো মুল জনগোষ্ঠি যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখে নি , বরং দেখেছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির ক্ষমতায় আরোহন ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বিকৃত ইতিহাস। কিন্তু আসল কাজটি করেছে , জামাত ইসলাম সহ নানা ধর্মীয় গোষ্ঠিগুলি। তারা খুব ভাল করেই জানত , মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জনগনের মন থেকে মুছে ফেলতে না পারলে , এ দেশে কোনদিনই ইসলামী আইন কার্যকর করা যাবে না। সুতরাং তারা বঙ্গবন্ধু সেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে নির্মম ভাবে নিহত হওয়ার পর , সরাসরি মাঠে নামে নানা ব্যনারে। মধ্য প্রাচ্যের পেট্র ডলারের সহায়তায় তারা গোটা বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মসজিদ , মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে , শুরু হয় ওয়াজ মাহফিল ও ইসলামী জলসার বন্যা। আর সর্বশেষে যোগ হয় , ইসলামী টিভি চ্যানেলের।

বাংলাদেশের আনাচে কানাচে সর্বত্র প্রচার করা হতে থাকে- গনতন্ত্র , ধর্ম নিরপেক্ষতা , সমাজ তন্ত্র ও বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ কত প্রকারে ইসলাম বিরোধী। বাংলাদেশের ভুলোমনা ও ধর্মপ্রান মুসলমানদের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুঝতে কি আর সময় লাগে ? এমন কি ইসলাম প্রচারের এই ডামাডোলে বহু মুক্তিযোদ্ধা পর্যন্ত জামাত ইসলাম সহ অন্যান্য ইসলামী দলে যোগ দিয়েছে ইসলামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে। আর ঠিক সেই কারনেই আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ওয়াজকারী দেলোয়ার হোসেন সাইদির সেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কৃত সকল অপকর্ম মানুষ ভুলে গিয়ে তাকে মাফ করে দিয়েছে , কারন সে সারা দেশে ইসলামের বানী পৌছে দিয়েছে। ইসলামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে খোদ আওয়ামী লিগের সমর্থকরা পর্যন্ত সাইদির ফাঁসির রায়ে অঝোরে কেঁদেছে, দেশের ৩০ লাখ শহিদ ও ২ লাখ ধর্ষিতা মা বোনের স্মৃতির বুকে লাথি মেরে। কারন ধর্মপ্রান মুসলমানের কাছে ত্রিশ লাখ লোকের শহিদ হওয়া বা দুই লাখ মা বোনের ধর্ষিতা হওয়ার চাইতে ইসলামের চেতনা অনেক বেশী মূল্যবান।

মূল লেখক: তরুলতা তাসনিম

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 8 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর