নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

কজ, দ্যা ওয়ার্ল্ড ইজ অনলি ফর ফিটেস্ট এন্ড ফাইটারস!


মেধা! প্রতিটি মানুষের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। জীবন চলার পথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ তার মেধার বিকাশ ঘটায় বিভিন্ন উপায়ে। কেউ পরীক্ষায় নম্বর তোলায় মেধাবী, কেউ শিল্প সাহিত্যে মেধাবী, কেউ ক্রীড়া নৈপূন্যে, কেউ সংগিত চর্চায়, কেউ আবৃতি শিল্পে, কেউ সাংগঠনিক কাজে, কেউ রাজনীতিতে। মেধা বিকাশের এত এত উপায়ের মধ্যে সব থেকে কম উপযোগিতাপূর্ণ উপায় হচ্ছে পরীক্ষায় অধিক নম্বর তোলা। বস্তুত এটা কোন মেধা নয়, এটা একরকম কৌশল। এই কৌশল রপ্ত করতে না পেরে অনেক মেধাবীকে 'খারাপ ছাত্র' তকমা নিয়ে ঘুরতে হয়।

একজন মেধাবী ক্রীড়াবীদ তার ক্রীড়া নৈপূন্যে নিজের সাথে সাথে দেশকেও সারা বিশ্বের কাছে সম্মানিত করতে পারে। একজন মেধাবী লেখকের লিখনিতে সমাজে প্রচলিত নানান প্রতিবন্ধকতা দুর হতে পারে। একজন শিল্পি তাঁর মেধাবী কন্ঠের সুরে আন্দোলিত করতে পারে দেশের মানুষকে। আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামের সময় শিল্পিদের রক্তে আগুন লাগা গান রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জোগাতো। অন্যদিকে একজন ছাত্র এক'শ নম্বরে পরীক্ষা দিয়ে অধিক নম্বর তুলে ভালো ফলাফল করে বড়জোড় একটা ভালো বেতনের চাকরি জোগাড় করতে পারে। কিন্তু দারুন আশ্চর্য এবং অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত শুধুমাত্র পরীক্ষায় কয়েকটি মামুলি বাড়তি নম্বর প্রাপ্তিকেই মেধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কি শিক্ষিত! কি অশিক্ষিত সর্বক্ষেত্রে মেধার সজ্ঞা একটাই; 'নম্বর'! আরো ভয়ংকর সত্য হচ্ছে, স্বয়ং শিক্ষকরাই তার ছাত্রদের মেধার মুল্যায়ন করে পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে।

আমাদের সমাজটা কেন জানি এই ফেল করা আর কম নম্বর পাইয়েদের প্রতি প্রচন্ড নির্মম। জীবনের কোন একটা পরীক্ষায় আপনি অকৃতকার্য হয়েছেন, কি মরেছেন, হায়েনার দল ওত পেতে বসে আছে আপনার দগদগে ঘা'তে মরিচগুঁড়ো সহকারে লবন দেবার জন্যে। কেউ একটিবারের জন্যে আপনার ক্ষতবিক্ষত বুকে হাত বুলিয়ে বলবেনা, "ব্যার্থ হয়েছ তো কি হয়েছে? এ লড়াই শেষ লড়াই না! হয়তো তোমার সাফল্যের জন্য অন্য কোন ক্ষেত্র তৈরী হয়ে আছে"। অথচ ইতিহাস বলছে, পৃথিবীতে বড় বিপ্লব, বড় আবিষ্কার, বিরাট কর্মযজ্ঞ, বিশাল সাহিত্য ভান্ডার, বিস্তর মানবোন্নয়নে বেশি নম্বর পাইয়েদের থেকে কম নম্বর পাইয়েদের অবদান বহুগুন বেশি।

পরীক্ষায় অধিক নম্বর পাওয়া ছাত্ররা যেখানে মোটা বেতনে চাকরি পেয়ে নিজেকে সাফল্যে চুড়াই আরোহিত মনে করছে, সেখানে একজন খারাপ ছাত্র সারা বিশ্বে নিজেকে প্রমাণ করছে কথিত কম মেধা দিয়ে! সমালোচকরা হয়তো বলবেন; "তোমার কথার সত্যতা কি বাপু, পারলে নজির উপস্থাপন কর"। তাদের জন্য নিবন্ধটিতে আমি কয়েকজন বিশ্ববিখ্যাত ড্রপ আউট ছাত্র আর কিছু কম নম্বর পাওয়া ছাত্রের উদাহরন দিচ্ছি-

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে বলা হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সফল ড্রপ আউট। ১৯৭৩ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরির নেশায় তিনি ১৯৭৫ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপ আউট হন। এর ৩২ বছর পরে ২০০৭ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিল গেটসকে অনারারি ডিগ্রি প্রদান করে। একই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বিল গেটস। মাঝের গল্পটা সবার জানা। বিল গেটস শুধু একজন বিশ্ববিখ্যাত ধনিই নন, তিনি একজন মেধাবী উদ্ভাবকও।

টমাস আলভা এডিশনের নাম শুনেনি এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কম আছে। পড়াশুনায় অমনোযোগি আর খর্ব বুদ্ধি সম্পন্ন শিশু বলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিলো, পরীক্ষায় অধিক নম্বর তো দুরে থাক, কোন রকম পাস করে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়তো তার জন্য। পরবর্তীকালে সেই অমনোযোগি ছেলেটির নাম গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লো জগদ্বিখ্যাত উদ্ভাবক হিসেবে। আজকের দিনে আপনি আমি বাড়িতে, অফিসে প্রতিদিন টমাসের বহু উদ্ভাবিত জিনিস ব্যবহার করি।

অ্যাপেল'র প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসকে বলা হয় উদ্যোক্তাদের গুরু, যিনি সর্বাধিক বিক্রি হওয়া আইপ্যাড, আইফোন, অ্যাপেল নোটবুক, আইম্যাক ইত্যাদির আবিষ্কারক। তিনি ছিলেন তার সময়ের সব থেকে প্রভাবিত ব্যাবসায়ী। তার সৃষ্টি তাকে প্রযুক্তি জগতে চির অমর করে রাখবে। প্রযুক্তিবিস্ময় স্টিভ জবসও ছিলেন কলেজ ড্রপ আউট। হাইস্কুলের পড়াশোনা শেষে ১৯৭২ সালে রিড কলেজে ভর্তি হন স্টিভ। কিন্তু কলেজটি ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পারেননি। ছয় মাসের মধ্যে নাম কাটা যায় তাঁর। নাম কাটার পরেও ১৮ মাস সেই কলেজের ডর্মের বন্ধুর রুমে থাকতেন। ডিগ্রি নেই তো কী হয়েছে, স্টিভ জবস ২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন।

বর্তমান সময়ে যোগাযোগ বিপ্লবের জন্য মার্ক জাকারবার্গ কে পৃথিবী অনন্তকাল মনে রাখবে।
তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে বসে বন্ধুদের নিয়ে তৈরি করেন ফেসবুক। ২০০৪ সালে ফেসবুক প্রতিষ্ঠার পরেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপ আউট হন তিনি। ফেসবুক এখন বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। জাকারবার্গ ২০১১ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়াতে সমাবর্তন বক্তব্য দেন।

পাশ্চ্যের উদাহরন যদি দূর্ভোদ্য মনে হলে আসুন পশ্চাৎ এ ভ্রমন করা যাক। বিশ্ব সাহিত্যের এক নক্ষত্রের নান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ৫৬ টি কাব্য গ্রন্থ, অসংখ্য ছোট গল্প, বড় গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ছাড়াও এই সব্যসাচী লেখক ২২৩২টি গান রচনা করে গেছেন! কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, টেকনাফ থেকে তেতুলীয়ায় যুগ থেকে যুগান্তরে সেই সব গান শ্রোতাদের অন্তরে দ্রোহে-বিদ্রোহে, অভিমানে, বিরহে, রোমাঞ্চে এক অন্যরকম আবেশ নিয়ে ধরা দেয়। এর বাইরেও রবী ঠাকুর ভারত, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা এই তিনটি দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। কতটা মেধাবী হলে এতটা অর্জন সম্ভব! কিন্তু আমাদের কথিত পরীক্ষায় নম্বর তোলার সনাতনী মেধা এই মানুষটির একদমই ছিলো না। নম্বর তুলবে কি! স্কুলটাই রবীন্দ্রনাথের ভালো লাগতো না, তাই তাঁর কোন একাডেমীক শিক্ষা নেই।

অনেক ৯৫% নম্বর তোলা ছাত্র এবং তাঁর শিক্ষকের জন্যও নজরুলের লেখার পাঠোদ্ধার করতে অনুবাদকের দরকার হবে। লজরুলের মেধাকে বলা হয় ঐশ্বরিক! খোদা প্রদত্ত! কিন্তু রুটির দোকানের কারিগর, লেটা গানের দলের সদস্য, মক্তবের শিক্ষক, মসজিদের মুয়াজ্জিন হয়ে যার জীবিকা নির্বাহ করতে হতো, তার জন্য খোদার দরজা অত প্রসস্তও ছিলো না। প্রায় গোটা জীবন ভয়ানক দারিদ্রতার মধ্য থেকেও দু'হাতে বৃষ্টির ধারার মতো সাহিত্য রচনা করে গেছেন। তাঁর বাণবিদ্ধ লেখনি বৃটিশ শাষকগোষ্ঠির ভিত পর্যন্ত নাড়িয়ে দিয়েছিলো। মাঝে মাঝে স্কুলে গিয়েছেন, কিন্তু পড়াশুনায় মেধাবি কিংবা অধিক নম্বর তুলতে পাড়াকে যে আমরা মেধা বলি সেটা নজরুল কোন কালেই ছিল না।

আসুন খারাপ ছাত্রের বিশ্বজয়ের ইতিহাসকে আপনার বাড়ির উঠোনে এনে দিই। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া তিন জন ক্রিকেটার- মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এই তিন জনের বিদ্যার দৌড় কোন রকম উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত। মাশরাফি বাংলাদেশ ক্রিকেটে একজন লিজেন্ড! তাঁর নেতৃত্বেই মুলত ক্রিকেট বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনেছে নতুন করে। তাই আজ মাঠের মাশরাফি আর মাঠের বাইরের মাশরাফি এ দেশের তরুনদের অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিবের শিক্ষা জীবনও এরকম দৈন্যতা পূর্ণ। কি আশ্চর্য! কম নম্বর পাওয়া একটা ছাত্র গত প্রায় দশ বছর যাবত বিশ্বের বাঘা বাঘা ক্রিকেটারদের পিছনেই ফেলে রেখেছে! বাংলাদেশ ক্রিকেটে তামিম ইকবালকে সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান বললে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়! কিন্তু আপনি কি জানেন ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র তামিম ইকবাল ‘ও’ লেভেল ফাইনাল পরীক্ষায় চার বিষয়ে ফেইল করেছিলো? সেই ফেল করা তামিম ইকবাল একাই কাঁধে করে সামনে নিয়ে চলেছে গোটা দেশকে, আপনার ৯৯% নম্বর পাওয়া কথিত মেধাবীরা কি করেছে? জবাবটা দিবেন!

এই ফেল করা আর কম নম্বর পাওয়া ছেলেগুলো আর কিছু শিখুক বা না শিখুক, একটা জিনিস ঠিকই শিখেছে- জীবনে অনেক ধাক্কা খাবে, হোঁচট খাবে, পড়ে যাবে, শরীর ক্ষতবিক্ষত হবে, সবাই আঘাত করতে থাকবে তোমাকে! কিন্তু হেরে গেলে চলবে না! আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। ব্যাথা, দুঃখকে সঙ্গী করেই দৌড়াতে হবে। পৃথিবী সোনার চামচ মুখে নেয়া ননীর পুতুলদের চায় না। পৃথিবী গোবরের মাঝে পদ্মফুল খুজে বেড়ায়। পৃথিবী তাই অমিতাভ বচ্চনের ছেলে অভিষেক বচ্চনকে ‘নায়ক’ বলতে কুণ্ঠাবোধ করে! কিন্তু সামান্য বাসের হেল্পার থেকে উঠে আসা রজনী কান্তকে নির্দ্বিধায় ‘মহা নায়ক’ বলে!

পৃথিবী সামনের সারিতে বসে থাকা অধিক নম্বর পাওয়া বিড়ালদের চায় না। পৃথিবী তাদেরই চায়, যারা সকল প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে বাঘের মত পেছনের সারি থেকে সামনে উঠে আসে! কজ, দ্যা ওয়ার্ল্ড ইজ অনলি ফর ফিটেস্ট এন্ড ফাইটারস!

নম্বর পত্র তো শুধু মাত্র কয়েকটি 'সংখ্যা' নির্দেশ করে। এই কয়েকটি মামুলি সংখ্যা দিয়ে একজন মানুষকে বিচার করার সনাতনী আর ভুল ধারনা এবার আমাদের বাদ দিতে হবে। পৃথিবীর সব মানুষ একই চাঁছে তৈরী নয়, একেক জনের চিন্তা, চেতনা, জীবন দর্শন, আগ্রহের বিষয় একেক রকম। তাই একই মানদন্ডে সবাইকে মাপতে গেলে ভুল হবে, এ তো স্বাভাবিক কথা। আবারো বলছি, পরীক্ষায় অধিক নম্বর পাওয়া কোন মেধা নয়, এটা একরকম কৌশল। এই কৌশল রপ্ত করতে না পেরে অনেক মেধাবীকে 'খারাপ ছাত্র' তকমা নিয়ে ঘুরতে হয়। অধিক নম্বর পাওয়া ছাত্রটি যখন মোটা বেতনের চাকরি করতে করতে ক্রমবর্ধমান স্থুলকায় ভুরিতে দু'বেলা নিয়ম করে তেল মাখে, কথিত খারাপ ছাত্রটি হয়তো তখন শিল্প-সাহিত্য, ক্রীড়া, প্রযুক্তি, মানবোন্নয়ন কিংবা অন্য কোন বিপ্লবে নেতৃত্ব দেয় সামনে থেকে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 10 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর