নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সংশপ্তক শুভ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • রহমান বর্ণিল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

কোরআন মোটেও আইনের বই নয়


কোরআনের আইন, শরীয়াহ আইন ইত্যাদি পরিভাষা দেখে দয়া করে কেউ প্রতারিত হবেন না। মনে রাখবেন, কোর’আন কোনো আইনের বই না। আবার কোর’আনকে সংবিধান হিসেবে পরিচিত করার যে প্রবণতা লক্ষ করা যায় সেটাও একটা ফাঁদমাত্র।

মূলত কোর’আন কোনো সংবিধান নয়। অনুরূপ কোর’আনকে দণ্ডবিধির বইও বলা চলে না। তবে হ্যা, কোর’আনে কিছু আয়াত আছে যা অনেকটা আইনের মত শোনায়, কিছু আয়াত সংবিধানের মত শোনায়, কিছু আয়াত দণ্ডবিধির মধ্যেই পড়ে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সর্বসাকুল্যে কোর’আন ওসবের একটাও নয়।

‘কোর’আন কী’ সে প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ স্বয়ং দিয়েছেন। বলেছেন এটা উপদেশগ্রন্থ। আবার কোর’আনকে বলো হয়েছে ‘ফেরকান’ অর্থাৎ ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী গ্রন্থ। কাজেই আল্লাহ যেটুকু বলেছেন আমরা কোর’আনকে আধুনিকতার মোড়ক পরাতে গিয়ে যেন তার বাড়াবাড়ি না করে ফেলি। মানুষকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য উপদেশগ্রন্থই এক জিনিস আর আইন ও সংবিধানের বই সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস।

কোর’আনের আইন নিয়ে যদি কেউ কথা বলতে আসে তাদেরকে সোজা প্রশ্ন করবেন, কোর’আনে কয়টা আইনের কথা আছে? কোর’আনে কয়টা রাষ্ট্র পরিচালনার ধারা-উপধারা, নীতিমালা ইত্যাদি আছে? কোর’আনে কয়টা দণ্ডবিধি আছে? আর একটি আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কোর'আনের দুএকটা প্রাসঙ্গিক বানী খুবই অপ্রতুল।

চুরি, ব্যাভিচার আর হত্যার বাইরে সমাজে হাজার হাজার অপরাধ হচ্ছে প্রতিনিয়ত, সেগুলোর শাস্তি কী হবে? আবার চুরির বিধান হাত কাটাই ধরুন। বাপের মানিব্যাগ থেকে ছেলের দশ টাকা চুরিও চুরি, রিজার্ভের আটশ’ কোটি টাকা চুরিও চুরি, উভয়ের শাস্তিই কি হাত কাটা?

এবার তারা শরীয়তের বই হাজির করবে। অথচ আপনি হয়ত জানেন না সেই শরীয়তের বইগুলো আল্লাহর নাজেলকৃত কোন গ্রন্থ নয়। সেটা আজ থেকে শত শত বছর পূর্বের একদল আলেমের/মোল্লাদের রচিত গ্রন্থ, যারা তাদের পারিপার্শিক অবস্থা, স্থান, কাল ইত্যাদি বিবেচনা করে সেই সময়ের মানুষের জন্য প্রযোজ্য বিধি-বিধান রচনা করেছিলেন। সেটা কী করে কোর’আনের আইন হয়? সেটা বড়জোর আলেমদের/মোল্লাদের আইন হতে পারে।

বর্তমানের এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব যখন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যার মুখোমুখী হচ্ছে, তখন হাজার বছর আগের মুফতি-ফকিহদের ঐ বিধান কতটুকু প্রযোজ্য হতে পারে? কিন্তু কোর’আনের আইনের ধুয়া তুলে সেই পুরোনো আমলের শরীয়তের বইটাকেই জাতির উপর চাপানোর চেষ্টা চালানো হয়, আর তা দেখে যুগসচেতন মানুষেরা ইসলামকেই ভুল বোঝেন। পরাজয় ইসলামেরই হয়।

সত্য হচ্ছে কোর’আন সীমিত পরিসরে ন্যায় ও অন্যায়কে বুঝতে শেখায়। সত্য থেকে মিথ্যাকে পৃথক করে দেয়। ব্যস, এবার মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে সে তার সামগ্রিক জীবনে সর্বাবস্থায় সত্য ও ন্যায়কে প্রাধান্য দেবে। কোনো বিধান সেটা প্রয়োগের ফলে আলটিমেটলি মানুষ ন্যায় পাচ্ছে নাকি অন্যায় পাচ্ছে? যদি ন্যায় পেয়ে থাকে তাহলে সেটাই ইসলামের আইন। আর যদি সে আইনের দ্বারা অন্যায়ের বিজয় হয় তাহলে সেটা তাগুতের আইন। আর এই তাগুদের আইন আধুনিক যুগেও বহু ইসলামিক রাষ্ট্রে প্রচলিত।

কোনো রাষ্ট্র, সেটার গঠন যদি এমন হয় যে তার দ্বারা আলটিমেটলি ন্যায় ও সত্যের প্রকাশ ঘটে, রাষ্ট্র পরিচালকরা ন্যায়ের উপর দণ্ডায়মান থাকেন এবং জনগণ ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি পায় তাহলে সেটাই ইসলামী রাষ্ট্র। অপরাধীকে দণ্ডবিধির যে ধারায় শাস্তি দিলে ন্যায়ের বিজয় হয় সেটাই ইসলামী দণ্ডবিধি। আলাদা করে ইসলামী দণ্ডবিধি বলে কিছু নেই।

আল্লাহ কেবল বড় বড় কয়েকটা অপরাধ- যেমন, চুরি, ব্যভিচার, হত্যা ইত্যাদির শাস্তি দানের ক্ষেত্রে সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যে, ওই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ওই পর্যন্তই। চুরির শাস্তি বড়জোর হাত কাটা পর্যন্তই। তার বেশি নয়। তবে নিম্নে যতদূর ইচ্ছা শাস্তি কমিয়ে দেওয়া যায় অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে, এমনকি ক্ষমাও করা যায়। এইসব বিষয়াদির কিছুই কোর'আনে পরিষ্কার করে বলা নেই।

এই সীমারেখা নির্ধারিত না থাকলে কী হতে পারে তার দৃষ্টান্ত আমাদের সমাজেই তো আছে। সামান্য চুরির দায়ে মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। যেখানে কোর’আনের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠত থাকবে, সেখানে কস্মিনকালেও এমন হবার নয়। এমনও বলা আছে সীমা লঙগণকারীদের আল্লাহ্‌ অপছন্দ করেন।

একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ নিজে সত্য, আর সত্য থেকেই আসে ন্যায়। কাজেই ন্যায়ের স্থাপনা হওয়া মানেই আল্লাহর হুকুমত প্রতিষ্ঠিত হওয়া, কোর’আনের শাসন কায়েম হওয়া। সুতরাং, আলাদা করে কোর'আনের শাসন বলে কিছু নেই।

রিয়াদুল হাসান ও খোরশেদ আলম
মূল সম্পাদনাঃ খোরশেদ আলম
@M.KhurshadAlam

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

খোরশেদ আলম
খোরশেদ আলম এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 1 দিন ago
Joined: বুধবার, এপ্রিল 27, 2016 - 3:00পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর