নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

রাজাকার ও জামাত কেন আজও স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় তাদের কর্মকান্ডের জন্যে ক্ষমা চায় না?


গত বেশ কিছু বছর ধরে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা বিপক্ষে ছিল , যারা রাজাকার , আলবদর বা জামাত ইসলামের লোক ছিল , তাদের কয়েকজনকে বিচার করে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।কিন্তু আজ পর্যন্ত একজন আসামীও স্বীকার করে নাই যে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অন্যায় কাজ করেছিল। বরং তারা হাসতে হাসতে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেছে। বরং তারা বুক ফুলিয়ে বলেছে - তারা যা করেছিল আদর্শিকভাবে তা সঠিক ছিল। তার মানে মুক্তিযোদ্ধারা বেঠিক ছিল। সুতরাং বিষয়টা বিচার বিশ্লেষন করে দেখা যাক।

ইসলামের চুড়ান্ত লক্ষ্য একটা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা বা একত্রে একটা মুসলিম উম্মার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকা। ১৯১৮ সালে যখন তুরস্কের খিলাফত বিলুপ্ত হয়ে যায় , তখন ধর্ম প্রান মুসলানদের কলিজায় আঘাত লাগে। তারা পুনরায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্যে আন্দোলন শুরু করে তৎকালিন বৃটিশ ভারতের মুসলমানরা, যা চলে ১৯১৯ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত। কিন্তু পরিশেষে ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক- যখন তুরস্কের ক্ষমতায় আরোহন করেন , তখন তুরস্ককে একটা আধুনিক ও ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে চুড়ান্ত ভাবে ১৯২৪ সালে খিলাফত আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটায়।

তাই বলে ভারতবর্ষের মুসলমানরা মন থেকে খিলাফতের স্বপ্নকে দুর করতে পারে নি। যার ফলশ্রুতি হলো অত:পর ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি। খিলাফত না পেলেও মুসলমানরা বিশুদ্ধ একটা মুসলিম রাষ্ট্র পেয়ে আপাতত: সন্তুষ্ট হয়। মুসলমানরা স্বপ্ন দেখতে থাকে , পাকিস্তানকেই তারা আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলবে। সেই কারনেই ভারতের পূর্ব বঙ্গের মুসলমানরা পাকিস্তান নামক নতুন রাস্ট্রের সাথে যোগ দেয়। পশ্চিম পাকিস্তানের জাতি গোষ্ঠির সাথে বাঙ্গালীদের কোন সামাজিক , সাংস্কৃতিক ,ভাষাগত, এমন কি নৃতাত্ত্বিক কোন মিল না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ইসলামের কারনেই পূর্ব বঙ্গের মুসলমানরা পাকিস্তানের সাথে যোগ দেয়। উদ্দেশ্য একটাই বিশুদ্ধ ইসলামী রাষ্ট্র গঠন যা হবে খিলাফতের বিকল্প। এটা ছিল সাধারন মুসলমানদের স্বপ্ন। কিন্তু যারা নেতৃবৃন্দ ছিলেন সেই জিন্নাহ বা লিয়াকত আলী খান, বিশেষ করে জিন্নাহ মোটেই খাটি সহিহ মুসলমান ছিলেন না। তিনি ইসলামের বিধি বিধান মানতেন না , মদ্যপ ছিলেন এবং মনে প্রানে ছিলেন ইংরেজ সংস্কৃতির পুজারি। মুলত : অবিভক্ত ভারতে মুসলমান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট কোন কিছুই হওয়া যাবে না বিবেচনা করে , পাকিস্তান নামক আলাদা রাষ্ট্রের জন্যে কাজ করতে থাকেন , যার পিছনে ধর্ম প্রান মুসলমানদের ব্যাপক সমর্থন থাকায় , অত:পর তাতে সাফল্য লাভ করেন ও পাকিস্তান গঠিত হয়। অর্থাৎ জিন্নাহর ক্ষমতালোভী মনোভাবের জন্যেই পাকিস্তান সৃষ্টি হয় , তার মধ্যে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের কোন উদ্দেশ্য ছিল না , যা ছিল সাধারন মুসলমানদের উদ্দেশ্য। সুতরাং এখানে নেতা ও সাধারন মুসলমানদের চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে একটা ব্যাপক পার্থক্য ছিল।

কিন্তু ইতোমধ্যে ভিতরে ভিতরে একটা ঘটনা ঘটতে থাকে। খিলাফত আন্দোলন যখন ব্যর্থ হয় , তখন ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে দুনিয়ার সকল মুসলমানদের একত্র করার দুরদর্শী চিন্তায় আবুল আলা মওদুদি ১৯৪১ সালে জামাত ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। জামাত ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর পরই তিনি মিশরের হাসান আল বান্নার প্রতিষ্ঠিত ১৯২৮ সালের মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সংশ্লিষ্ট হন এবং উভয়েই একই লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে কাজ করতে সম্মত হন। কিন্তু মওদুদি আবার ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুইটা দেশ হওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। তার মূল কারন ছিল - প্রথমত: তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল , কালে কালে ভারতের হিন্দুরা ইসলামের পতাকাতলে চলে আসবে আর তখন গোটা ভারতবর্ষই একটা মুসলিম রাষ্ট্র হবে যা গোটা দুনিয়ায় নেতৃত্ব দেবে। দ্বিতীয়ত : মওদুদি বুঝতে পেরেছিলেন ইসলামের জিকির করে পাকিস্তান বানানো হচ্ছে ঠিকই কিন্তু যারা দেশ চালাবে তারা কেউই ইসলামিক না, সবাই বৃটিশ শিক্ষায় শিক্ষিত তারা বরং দেশকে ইসলাম থেকে বরং দুরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু পরে তিনি পাকিস্তান ও ভারত বিভাগ মেনে নিয়েছিলেন এই কারনে যে , সেই সময়ের নেতারা যখন আর থাকবে না , তখন আস্তে আস্তে , পাকিস্তানে জামাত ইসলামের নেতৃত্বে দেশে ইসলামী বিধি বিধান চালু করা হবে ও পাকিস্তানকে একটা খাটি ইসলামী রাষ্ট্রে পরিনত করা যাবে। মওদুদি জামাত ইসলামকে পাকিস্তানের সমগ্র মুসলমান জাতির পথ প্রদর্শক ও ঐক্যের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করতেন।

সুতরাং যারা বলে মওদুদি পাকিস্তান চায় নি , তারা আসলে মওদুদির সুদুর প্রসারী চিন্তাটাই উপলব্ধি করে নি। মওদুদি একজন খাটি মুসলমান , সহিহ ইসলামী চিন্তাবিদ, ইসলামের মূল সুর যে কি , সেটা তার ভাল জানা। আর সেটার জন্যেই তিনি তার জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তার স্বপ্ন ছিল গোটা দুনিয়াটাকে ইসলামের পতাকাতলে আনা। সেই লক্ষ্যেই তিনি জামাত ইসলাম গঠন করেছিলেন , মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সামঞ্চস্য রেখে। সেটা বোঝা যাবে , বিভিন্ন দেশে এই দলের নাম দেখে , যেমন - জামাত ইসলাম বাংলাদেশ , জামাত ইসলাম পাকিস্তান , জামাত ইসলাম আফগানিস্তান , জামাত ইসলাম বৃটেন ইত্যাদি।

১৯৪৭ সালে ইসলামের ভিত্তিতে যে পাকিস্তান গঠিত হলো , যে ইসলামী উম্মাহ গঠিত হলো , ১৯৭১ সালে এসে হঠাৎ করে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ একত্রিত হয়ে দাবী করল , তাদের পরিচয় বাঙ্গালী আর তারা পাকিস্তান হতে পৃথক হতে চায়। ইসলামে ইসলামী উম্মাহ থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার ইচ্ছাকে কঠিন মুনাফেকি হিসাবে গণ্য করা হয়। খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে , আবু বকরের আমলে মক্কা ও মদিনার আশ পাশের বহু গোত্র খিলাফত থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। আবু বকর তখন সেনাবাহিনী পাঠিয়ে কঠিনভাবেই তাদেরকে দমন করেছিলেন। সুতরাং ১৯৭১ সালে যখন বাঙ্গালীরা আলাদা হতে চাইল , তখন জামাত ইসলাম সহ সকল ইসলামপন্থি দল মুক্তিকামী বাঙ্গালীকে মুনাফিক হিসাবে চিহ্নিত করল। তারা এটাকে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হিসাবে গণ্য করল।

ইসলামে জাতীয়তাবাদ বলে কোন জিনিস নেই। তার মানে বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ , ইংরেজ জাতিয়তাবাদ ইত্যাদি বলে কোন কিছু নেই। গোটা মুসিলমরা একটাই জাতি , তাদের জাতীয়তা হলো , তারা মুসলমান। তাই বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদের অজুহাত তুলে মুসলিম উম্মাহ থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই , বরং সেটাকে মুনাফিকি হিসাবে গন্য করা হয়। সেই কারনেই , পাকিস্তানী সেনাবাহিনী সহ সকল ইসলামী দল , মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহন করে , গোটা বাংলাদেশে মুনাফিক নিধনে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। যা ইসলামী বিধি বিধানের সাথে সম্পূর্ন সঙ্গতিপূর্ন । সুতরাং যারা বলে পাকিস্তান ও জামাত ইসলাম বাংলাদেশে স্বাধীনতার সময়ে মুসলমানদেরকে হত্যা করেছে , তাদেরকে অনুরোধ করব , তারা যেন ইসলামের মূল বিধি বিধানকে ভালোমতো জেনে শুনে বুঝে এসব কথা বার্তা বলেন। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও জামাতের কাছে , বাংলাদেশের মানুষ আর মুসলমান হিসাবে পরিগনিত হয় নি , হওয়ার কথাও না। এরা সবাই তাদের কাছে মুনাফিক হিসাবেই গন্য হয়েছিল। সেই কারনেই এ দেশের ৩০ লক্ষ লোককে হত্যা করতে তাদের হাত কাঁপে নি আর এদের ২ লক্ষ মা বোনকে ইসলামেরই আর এক বিধান গনিমতের মাল হিসাবে দখল করে ধর্ষন করতে বিন্দু মাত্র তাদের হৃদয় কাঁপে নি।

পাকিস্তানীদের প্রচারনার সঠিকতা নিরূপন করে , মধ্যপ্রাচ্যের সকল মুসলিম দেশের কেউই সেই সময়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করে নি , বরং পাকিস্তানকে সাহায্য সহযোগীতা করেছে যাতে এদেশের মুনাফিকদেরকে আরও বেশী করে হত্যা করা যায়।

তার মানে দেখা যাচ্ছে , ইসলামের বিচারে , জামাত ইসলাম সহ সকল ইসলাম পন্থি দল যারা মুক্তি যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল , তারা ছিল আসলে ইসলামের পক্ষের দল, আর মুক্তিযোদ্ধা সহ সকল মুক্তিকামী মানুষ ছিল আসলে মুনাফিক। কিন্তু যে কোন ভাবে হোক , মুনাফিক নামের মুক্তিযোদ্ধারা কাফের মুশরিক ভারত ও রাশিয়ার সাহায্যে স্বাধীনতা লাভ করেছিল। কোরানের বিধান- যারা কাফের মুনাফিকদের সাথে বন্ধুত্ব করবে , তারও কাফের মুনাফিক হয়ে যাবে। সুতরাং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী বাঙ্গালীরা মুশরিক ভারত ও কাফের রাশিয়ার সাথে বন্ধুত্ব করে তারাও আসলে মুশরিক ও কাফেরের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছিল।

এইমত অবস্থায় , কিভাবে জামাত ইসলাম সহ যারা রাজাকার আল বদর ইত্যাদির সদস্য ছিল , যারা ছিল ইসলামের খাটি সৈনিক , তারা স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে ? কিভাবেই বা তারা ১৯৭১ সালে তাদের কর্মকান্ডের জন্যে ক্ষমা চাইতে পারে ? যদি সেটা চায় , তাহলে ইসলামই কি ভুল প্রমানিত হয়ে যায় না ? সেই কারনেই তো তারা ইসলামের জন্যে , আল্লাহ ও মুহাম্মদের নামে জিকির করতে করতে , হাসতে হাসতে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলে পড়ছে।

লেখক: তরুলতা তাসনিম

Comments

পথচারী এর ছবি
 

গাঁজাখুরি কথা কোন ভিত্তি নাই

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 8 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর