নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • রহমান বর্ণিল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

মিশরের মসজিদে জঙ্গি হামলা ও সুফীবাদ।


মিশরের একটি মসজিদে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় আড়াইশতাধিক মানুষ৷ মিশরের নর্থ সিনাই প্রদেশের আরিশ শহরের পশ্চিমের আল রাওদাহ মসজিদে গতকাল শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের উপর এ হামলা চালায় জঙ্গিরা৷ চারটি গাড়িতে চড়ে প্রায় ৪০ জন জঙ্গি এসে প্রথমে বোমা ছোড়ে, পরে চালানো হয় গুলি৷ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এমইএনএ জানায়, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৩৫ জন৷ আহত হয়েছে অন্তত ১২৫ জন৷ তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে৷ এ ঘটনায় মিশরে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে৷ এসব হামলার সাথে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইএস জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে৷ ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকেই মিশরের পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠেছে৷ ২০১৫ সালে শেখানে এই জঙ্গিরা রাশিয়ার একটি যাত্রীবাহী প্লেনে হামলা চালিয়ে ২২৪ জনকে হত্যা করে। এছাড়াও আইএস এই অঞ্চলে নানান সময় তাদের হামলার মাধ্যমে সাধারন মানুষ হত্যা করে তাদের উপস্থিতির জানান দেয়।

এবার একটু মূল ঘটনা জানার চেষ্টা করি। এখানে অনেকের অনেক প্রকারের কথা থাকতে পারে। বিশেষ করে মডারেট মুসলমান যারা বর্তমান যুগের বিজ্ঞানের সাথে ইসলাম ধর্মের মিল খুজে বিভিন্নভাবে তা ব্যাখ্যা করে থাকে। এধরনের মুসলিম জঙ্গিদের হামলা ও মানুষ হত্যাকে তারা সব সময় বলে আসে যারা এসব করে তারা আসলে প্রকৃত মুসলমান না বা তারা সঠিক ইসলাম জানে না। তারা বিভিন্নভাবে এই ইসলামের কোরানের আয়াত ও হাদীস গুলিকে মানবিক করে ব্যাখ্যা করেও খুব একটা লাভবান হচ্ছে না। কারণ এই সমস্ত হাদীস আর কোরানের আয়াতে খুব স্পষ্ট করেই মানুষ হত্যা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলা আছে। যারা বলছে যে, এই হামলা যারা করে বা মানুষ হত্যা করে যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তারা আসলে প্রকৃত ইসলাম জানে না বা তারা ভুল ইসলাম জানে বা তারা মুসলমানই না। তাদের আমি বলবো আসলে আপনার জানা বোঝাতে কিছুটা ভুল আছে। কারণ দেখুন বর্তমান যুগের প্রায় প্রতিটি মানুষ জানে, সে প্রকৃত ইসলাম ধর্মের অনুসারি হোক আর ইসলাম ধর্মের বাইরের কেউ হোক “যদি কেউ ইসলাম খুব ভালো ভাবে জেনে বুঝে পড়ে ও মানে, তাহলে হয় সে জঙ্গি হবে নয়তো সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে আসবে। তার মানে এটা দাড়াচ্ছে যারা বলছে এসব হামলা আর হত্যা যারা করে তারা প্রকৃত মুসলিম না তারা আসলে এর মাঝামাঝি আছে, অর্থাৎ তারা ভালো করে ইসলাম সম্পর্কে জানেই না।

এবার আসুন গতকাল মিশরে যে হামলা করে এই ২৩৫ জন মানুষকে হত্যা করা হলো তার কারণ জানার চেষ্টা করি। মিশরের উত্তর প্রদেশের সিনাই এর আরিশ শহরের আল-রাওদাহ নামের যে মসজিদটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে শেখানে আসলে মুসলিম সুফীবাদীরা নামাজ পড়তে আসতো। সেই মসজিদটি ছিলো মূলত সুফীবাদীদের মসজিদ। আর যদিও এই হামলা কারা করেছে তা এখনও কোন জঙ্গি সংগঠন শিকার করেনি তারপরেও মিশরের ইন্টিলিজেন্স জানিয়েছে এই হামলা মুসলিম জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ছাড়া আর কেউ করেনি। কারন শেখানে তারা ছাড়া আর কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নেই যারা এধরনের নজিরবিহীন হামলা করে একসাথে এতো মানুষ মারবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই সুফীবাদীদের সাথে সকল প্রকার ইসলামী জিহাদি গোষ্ঠির দ্বন্দ। কারন সুফীরা ঠিক মুসলমান হলেও ইসলাম ধর্মের অনেক কিছুই তারা মানে না এবং জিহাদও সমর্থন করে না। তাই এই হামলার কারন জানতে হলে আগে কিছুটা সুফীদের সম্পর্কে জানতে হবে।

আসলে সূফিবাদকে অনেকেই একটি দর্শন বলে থাকে। ইসলামী বইগুলোতে বলা হয়, হযরত মুহাম্মদ ছিলেন সর্বপ্রথম সূফী। কিন্তু এটা আসলে সুফীরা কখনই মানে না। তার জীবনে ও আচরণে সূফী ভাবের প্রাধান্যই ছিলোনা। তাই তাঁকেই সূফীদের আদিগুরু হিসাবে চিহ্নিত করার প্রবণতা খুব একটা লক্ষ্য করা যায়না। যে ব্যক্তির সারা জীবন একের পর এক যুদ্ধাভিযানে অংশ নিয়েছেন ও বহু বিবাহ করে পার করেছেন, এমনকি যে ব্যক্তি তার মৃত্যুর মুহূর্তেও এমন একজন বালিকার বিছানায় ছিলেন, যে তার থেকে বয়সে ৪৫ বছরের ছোট, তাকে সংসারত্যাগী, নির্লোভ, পবিত্রাত্মা সূফীর আখ্যা দেওয়া নিতান্তই হাস্যকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয় বলে সুফীবাদীরা মনে করেন। তাছাড়া হজরত মোহাম্মদ সূফীদের আদি গুরু হলে ইসলাম আর সূফীবাদ সমার্থক রূপে গণ্য হত যা হয়নি। তাই এখন কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন কেন এই মুসলিম জিহাদিদের সাথে এই মুসলিম সুফীবাদীদের দ্বন্দ।

সুফীরা যেহেতু মুসলমান আর তারাও ইসলাম ধর্ম পালন করে তাহলে তাদের উৎপত্তি কিভাবে হলো? তাহলে প্রশ্ন ওঠে, প্রথম সূফী কে বা কারা? আসলেই এই সুফীদের উপরে কেন একই ধর্মের অনুসারিরা হামলা করবে, তাও আবার মসজিদে ঢুকে, আসলেই একটি চিন্তার বিষয়। এই জন্য আমাদের একটু ইতিহাস জানতে হবে। আসলে মুহাম্মদের মদিনা জয়ের পরবর্তী সময়ে মদিনায় একদল মানুষকে মদিনার মসজিদ ই লবভি-র বারান্দায় দেখা যেত, যাঁরা আধ্যাত্মিকতাকে নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করতে চাইতেন, চাইতেন আরবী সমাজ জীবনে আধ্যাত্মিকতার প্রসার। এঁরা মসজিদের বারান্দা ছেড়ে তেমন যেতেন না এবং প্রয়োজন ছাড়া অন্যের সাথে তেমন একটা কথাও বলতেন না। সম্ভবত এঁরাই ইতিহাসের প্রথম সূফী দল। তারপর এঁদের হাত ধরেই প্রচারিত হতে থাকে ইসলামী আধ্যাত্মিকতা। তবে তখনো একটি বিশেষ মতবাদ হিসাবে সূফীবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মোহম্মদের মৃত্যুর অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে হাসান বসরী নামে এক ব্যক্তিকে দেখা যায় প্রথম ইসলামী পঞ্চস্তম্ভকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতে। এবং তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে থেকেই তাঁকে ও তাঁর অনুগামীদের লক্ষ্য করে সূফী শব্দটি ব্যবহৃত হতে থাকে মানুষদের মধ্যে। এরপর একের পর এক মহান সূফীর আবির্ভাব ঘটতে থাকে। সুফীবাদের যতই প্রচার ও প্রসার হয়, ততই তার সঙ্গে মিশে যেতে থাকে নতুন নতুন জায়গার সংস্কৃতি। ফলে এদের মধ্যেও বিভিন্ন উপসম্প্রদায় তৈরি হয়। তবে প্রথম যারা এই সুফীবাদের চর্চা করতো তারা খুব বেশিদিন ছিলোনা।

ইসলামের নবী মুহাম্মদ এর মৃতুর পরে তিনশো বছর এই প্রথম ধাপের সুফীরা ইসলামের কোন কিছুই মানেনি যেমন ইসলামের পাচটি মূল ভিত্তি তাদের কাছে গ্রহনযোগ্য ছিলো না। এখনও নেই তবে এই প্রথম ধাপের মধ্যে বর্তমান সুফীদের পার্থক্য হচ্ছে, আনুমানিক ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই সুফীরা রেগুলার মুসলিম মানে (নবী মুহাম্মদের ইসলাম) যারা ফলো করতো তাদের সাথে মিলে মিশেই বিভিন্ন যুদ্ধ করেছিলো। পরবর্তিতে যখন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ভারতের কিছু কিছু এলাকা নিয়ে সুলেমানি সাম্রাজের সৃষ্টি হলো ১১৯০ খ্রিস্টাব্দের দিকে তখন তার এই জিহাদ ও যুদ্ধ ত্যাগ করলো। মিশরে যাদের উপরে গতকাল হামলা করা হয়েছে তারও ছিলো সেই সম্প্রদায়ের সুফী। যারা নবী মুহাম্মদকে মানতো না, একজন আল্লাহকে ভয় করতো না বরং তারা বহু আল্লাহতে বিশ্বাস করতো। তারা জিহাদ সমর্থন করতো না, তারা নবী মুহাম্মদের ইসলামে যে গান বাজনা করার রেওয়াজ নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো সেটাও মানতো না বরং তারা গান বাজনা করেই আল্লাহকে ডাকতো। তারা এটাও বিশ্বাস করতো আল্লাহকে ভয় পাবার কিছুই নেই তাকে ভালোবাসতে হবে। কারণ তারা জান্নাত আর জাহান্নামেও বিশ্বাস করে না।

এধরনের নানা কারনে আসলে ইসলাম ধর্মের অনুসারি হয়েও তারা সেই ইসলাম ধর্মের জিহাদি আর জঙ্গি গোষ্ঠির হামলার শিকার হয়। তারা মুহাম্মদের ইসলাম অনুসরন করে না বা তার আল্লাহকে সর্বশক্তিমান মনে করে না। তাই তাদের ভেতরে এই জিহাদ আর মানুষ হত্যা প্রবনতা নেই। বর্তমানে শেখানে অর্থাৎ মিশরীয় সুফীদের মধ্যে বিবর্তনবাদের চর্চা ঢুকে পড়াতে তারা আরো বেশি করে এই সমস্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে মুহাম্মদ অনুসারি ধর্মান্ধদের বিপক্ষে কথা বলছিলো যার কারনেই এই হামলা হয়েছে। এই বিষয়ে আরো ভালো করে জানতে চাইলে আপনাকে আগে সুফীবাদ ও মুহাম্মদের প্রচারিত ইসলাম সম্পর্কে বিস্তর জানতে হবে। আমি লেখা সংক্ষিপ্ত করার কারনে সুফীবাদ সম্পর্কে আর বেশি কিছু বললাম না এখানে। তবে আমি আবারও বলবো যারা বলে থাকে, এই জাতীয় হামলা যারা করে তারা ভালো করে জাকির নায়েকের লেকচার শোনে নাই বা আসল ইসলাম পালন করে না বা তারা হয়তো ভুল লোকের হাতে পড়ে ইসলাম শিখেছে, এই জাতীয় কথা যারা বলছে তারাই আসলে ইসলাম সম্পর্কে ভালো করে জানে না। কারন যদি কোরান পড়ে পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আপনি জিহাদ সমর্থন না করেন তাহলে আপনি নবী রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) এর দেখানো ইসলাম ফলো করছেন না।

---------- মৃত কালপুরুষ
২৫/১১/২০১৭

Comments

ফারুক হায়দার চৌধুরী এর ছবি
 

Good to read your wise column. Please continue. Thanks Faruk

Faruk Hyder Choudhury

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 ঘন্টা 59 min ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর