নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কাঠমোল্লা
  • নুর নবী দুলাল
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • চিত্রগুপ্ত
  • মৃত কালপুরুষ
  • অ্যাডল্ফ বিচ্ছু
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

নারী, তুমি বরং বিচুটি পাতা হইও।


শুনেছি " সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে"। তার মানে যে সংসারে সুখ নেই সে সংসারের রমনীরা আল্টিমেটলি একেকটা বেগুন।তাই নয় কি? এই যে টিভি, সিনেমা, নাটক, সঙ্গীত জগৎে যারা দাম্ভিক পদচারণা করে যাচ্ছেন তাদেরকে গুনী বলেই সমাজে পরিচিতির তালিকাতে রাখা হয়।তাহলে এই সকল গুনী মানুষদের কথায় কথায়,শব্দে শব্দে,অক্ষরে অক্ষরে সংসার ভাঙ্গে কেনো? এদের তো রূপ সমেত নানাবিধ গুনের শেষ নেই।সংসার ভাঙ্গে অনেকেরই।যারা সেলিব্রিটি তাদের খবরটা লাইম লাইটে আসে আর যারা সাধারণ ঘরের তাদের খবরটা কান্নার ছাইয়ে চাপা পড়ে ধিকিধিকি করে জ্বলে।তাহলে, অর্থটা কি দাঁড়ালো? সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে-- কথাটি ডাহা একটা ষড়যন্ত্র বৈ অন্য কিছু নয়।
.
প্রিয় পাঠক, নারীকে সব দোষে দোষী বানাবার এটাও একটা নন্দঘোষ মার্কা পলিটিক্স।পুরুষের দোষ চাপা দেয়ার ভালো রকম ফন্দি।সব পুরুষ খারাপ নয়,তাই সব সংসার ভেঙ্গেও যায় না।না, আমি এটা বলছি না যে, শুধুমাত্র পুরুষের কারণেই সংসার ভাঙ্গে।এট লিস্ট উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাবার মতো মানসিকতা আমরা রাখি না।
.
নারীদের মানিয়ে চলার ব্যাপারে বলতে বললে বলবো, "হে নারী গণ তোমরা বেগুন হইও না ; তোমরা বরং আলু হও।যাতে করে সকল তরকারীতে নির্দ্বিধায় তোমাদিগকে মিক্সার করিয়া ভোগ্য, সহজ পাচ্য আর রসনা ব্যাঞ্জন করিয়া তোলা যায়।"
.
যুগে যুগে পুরুষ কর্তৃক নিষ্পেশিত, নির্যাতিত নারী সংসার জীবনে পদার্পন করে বাসর রাতের স্বামী দ্বারা নিষ্পেশন দিয়ে শুরু করে তার দলিত, মথিত ভর্তাময় জীবন।অর্থাৎ স্বামী বীর তাকে কিঞ্চিত কাঁদা মাটির মতো বানাবার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। যাতে নিজ পছন্দে গড়ে নিতে পারে কখনো পুতুল,কখনো ঘোড়া,কখনো কুকার, ক্লিনার,অথবা বিশ্বস্ত কাজের বুয়া রূপে।দিবস কালীন দাসীই রাতের আঁধারের মহারাণী নারী মেক আপের আড়ালে বেলা শেষে বয়স লুকাবার সঙ্গে সঙ্গেই লুকায় তার অযাচিত অসম্মানের কান্নার দাগ।
.
একটা মেয়ে জন্মলগ্ন থেকেই সর্ব দোষে নন্দ ঘোষ হয়ে পৃথিবীতে আসে যদি সে পর পর কয়েক কন্যার পর কন্যা হিসেবে জন্ম নেয়।তারপর জন্মের জন্য তার মাকে যে কী পরিমান তিরস্কার শুনতে হয় সে ইতিহাস আমার সকল নারী পাঠকেরই জানা।সেই সাথে সুবিবেচক পুরুষ পাঠকও রয়েছেন।এরপরের ঘটনা পুরাই এক ইতিহাস।সংসারে পা রেখে বাচ্চা হলো না কেনো এখনো প্রশ্ন থেকে শুরু করে কি বাচ্চা হলো ছেলে নাকি মেয়ে পর্যন্ত ইতিহাস লম্বা হতে হতেই সে সামলে নিয়ে নিজের সংসারটাকে শোয়া থেকে উঠে বসে দাঁড়াতে শেখায়, হাত ধরে সব সহ্য করে পরম ভালোবাসায় হাঁটতে শেখায়।আর এ সংসারটা যখন সমঝদার হয় তখন তাকে ফেলেই একলা সামনে এগিয়ে চলে সংসারের স্ট্রাকচারটা।এতে নারীটি কখনো উপস্থিত থেকেও মৃত সম অর্থাৎ অধিকারের তলায় ভাটা,আবার কখনো নারীটি হয়ে যায় সিঙ্গল মাদার।

.
এক্ষেত্রে কিছু কিছু মুরুব্বীর মুখে বেশ জোরে সোরে ঝামা ঘঁসে দিতে ইচ্ছে করে।কারণ, যে সংসার টিকবে না তার টেরম টেরম আগেই টের পাওয়া যায়।মানে বিড়ালের গোঁফ দেখেই যেভাবে পাবলিক টের পায় সে বিড়াল কতোটা শিকারী হবে।
.
সংসারের এহেন নাজুক অবস্থায় একজন নারীর এবং তার মুরুব্বী অভিভাবকদের উচিৎ বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে না দিয়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আনা যে, কী করে সংসারের দ্বন্দটার সমাধান দেয়া যায়।সমাধান যোগ্য না হলে আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে যে যার মতো ক্যারিয়ার গুছিয়ে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।একথা বলছি না যে, সেপারেশনে চলে যান বলে ঠেলে দিচ্ছি।
.
অথচ তারা কি করেন? "জলদি একটা বাচ্চা নিয়ে নে, বাচ্চা হলেই দেখবি সব সমস্যার সমাধান।সংসার ভাঙ্গার আর কোন সুযোগ নেই।" অতঃপর নারী গণ মুরুব্বীদের অভিজ্ঞতাকে শ্রদ্ধা রেখেই জান জীবন দিয়ে প্রচেষ্টা করে অশান্তির আগুনে পোড়ার জন্য আরও কয়েক পিস্ লাকরীর প্রোডাকশন দেয়।এরপর শুরু হয় সেই লাকরী সম সন্তানদের কেন্দ্র করে নানাবিধ যুদ্ধ।যে ইতিহাস পারিপার্শ্বিকতায় প্রায় সকলেরই জানা।মাঝখান থেকে বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার।সংসার টিকুক কিংবা না ই টিকুক অশান্তিময় সংসারে অশান্তি যাবৎ কালীন আপদ।কারণ, কুকুরের লেজ কখনো অল ডে লং টানলেও সোজা আর লং করা পসিবল না।
.
কিছু পুরুষ আছেন, বউ এমনে চলে ক্যান, এই খায় ক্যান, ওই বলে ক্যান, মাথায় কাপড় দেয় না ক্যান, অথবা মডার্ন না ক্যান, মুটু ক্যান, কিংবা শুকনার চোটে বুক খুঁজেই পাওয়া যায় না ক্যান? শিহরণ কম ক্যান, হায় হায় রে এত্ত খাদক অমন হাইপার ক্যান, ব্লা ব্লা ব্লা টাইপ্স অশান্তি করেই চলেন।এদের আপনি মানিয়ে নিবেন কী করে?মেনে নিবেন, কারণ মানিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।এরা বসতে দিলে শুতে চাওয়া পাবলিক।যদিও শোয়ার বৈধতা এদের থাকেই।যাস্ট উদাহারণ দিলাম মাত্র।এই সব পুরুষের সংসারে বাচ্চা কাচ্চা হওয়ানো মানে পুরুষের সেক্সুয়াল মজা লুটা ছাড়া আর কিছুই না।এরা বড্ড উদাসীন।কেননা, সন্তান জন্মের পরেও এরা সন্তানের প্রতি কেয়ারিং হয় না,নিজের খাসিলতগুলোও চেঞ্জ করতে পারে না।কাজেই সংসার যেটা ভাঙ্গনের গান গায়,সেটা ওই বাচ্চা - কাচ্চা এসে কোন চুলই ফেলতে পারে না।মাঝখান থেকে বাচ্চাগুলো বড় হয় আর নিজেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবতে থাকে।
.
এক্ষেত্রে তাহলে সংসার টিকিয়ে রাখার দায় কার? কদাচিৎ দুই একজন নারীর কারণে কিছু ঘটা মানেই কিন্তু সংসার ভাঙ্গার বা সুখের না হবার সব দায় নারীর নয়।পুরুষ তার ত্রুটি ঢাকতে নারীর প্রতি এ অবিচার করে আসছে।এটা বুঝি না, নিজেদের দোষ স্বীকার না করে একটা অন্যায় করে আবার নারীর ঘাড়ে সে দায় চাপিয়ে সুখ ভোগের অন্যায়ে তারা কি করে মত্ত হয়।তারা চায়, নারী হোক কাদা মাটি।যাচ্ছে তাই করে তাদের গড়ে তোলা যাবে, নচেৎ নারী হোক গোল আলু।সব তরকারীতেই চোখ বন্ধ করে দিয়ে দেয়া যাবে,মুখে দিয়ে খুব বেশী চিবোতে হবে না।তবে আমি এখন বলবো, নারী তুমি গোল আলু হয়ে বৃক্ষে না ঝুলে বরং বিচুটি পাতাই হইও।যেখান দিয়ে যাবা খালি চুলকানী আর চুলকানী,যেন সারা জীবনের অমোঘ শিক্ষা।

- ওয়াহিদা সুলতানা লাকি।
২৪/১১/১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ওয়াহিদা সুলতানা
ওয়াহিদা সুলতানা এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 1 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 14, 2017 - 1:19অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর