নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • মহক ঠাকুর
  • সুপ্ত শুভ
  • সাধু পুরুষ
  • মোনাজ হক
  • অচিন্তা দত্ত
  • নীল পদ্ম
  • ব্লগ সার্চম্যান
  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান

আপনি এখানে

কথিত ড: কিথ মুর-এর ইসলাম গ্রহন, ভ্রুনতত্ত্ব ও ইসলাম


কথিত ড: কিথ মুরের নামে মুমিনরা জিকির করে , কারন সে নাকি দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ট ভ্রুনতত্ত্ববিদ এবং একই সাথে আবিস্কার করেছে কোরানের মধ্যেই সেই বিখ্যাত ভ্রুনতত্ত্ব লুক্কায়িত। সে কারনেই ড: কিথ মুর নাকি ইসলাম গ্রহন করেছিল। সুতরাং কোরান একটা ঐশি কিতাব যাতে কোন ভুল নেই। মুমিনরা এই ঘটনা তাদের নিয়ন্ত্রিত সকল মিডিয়াতে রাত দিন চব্বিশ ঘন্টা প্রচার করে থাকে, এর ফলে জঙ্গি নামি খাটি মুমিনরা আরো ইমানি জোশে কাফের মুর্তাদদের কল্লা কাটে বা গাড়ি চালিয়ে হত্যা করে। এবার পুরো বিষয়গুলো একটু বিবৃত করা যাক।

প্রথমেই দেখা যাক , কোরান এ সম্পর্কে কি বলে ---
---------------------------------------------------------
সুরা আলাক -৯৬:২:সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।

সুরা আল মুমিনুন - ২৩: ১৪: এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়।
--------------------------------------------------------
তো যাদের জীববিজ্ঞান সম্পর্কে সামান্য ধারনা আছে , তারা জানে জমাট রক্ত মৃত রক্ত , অন্তত: বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জমাট রক্ত থেকে কিছুই তৈরী হবে না। কেউ যদি জমাট রক্ত খেয়ে ফেলে তার কিছুটা আয়রনের অভাব পুরন হতে পারে। তবে , মুমিনদের নয়া নবী ডা: জাকির নায়েকের আবিস্কার :কোরানে নাকি বলেছে উহা নাকি জমাট রক্ত নহে বরং তা জোক- কোরান রিচার্জ করেই সে এটা আবিস্কার করেছে। অথচ দুনিয়ার সব তাবত প্রসিদ্ধ কোরান অনুবাদকারীরা উক্ত আয়াতের অনুবাদ করতে গিয়ে , "জমাট রক্ত" হিসাবেই অনুবাদ করেছে, কেউ তাকে "জোক" বলে অনুবাদ করে নাই। ডা: জাকিরের মত এক উটকো আরবী না জানা লোকের নয়া অনুবাদ কেন গ্রহন করতে হবে সেটা ঠিক বোধগম্য নয়।

তারপর যারা ভ্রুণ বিদ্যা পড়েছে তারা জানে , মাংশপিন্ড থেকে হাড় সৃষ্টি হয় না ,আবার হাড় সৃষ্টির পর তার চারপাশে মাংশও তৈরী হয় না। আসলে মাংশ ও হাড় একই সাথে তৈরী হতে থাকে। কোনটা কোনটার পরে তৈরী হয় না। এভাবেই মাতৃগর্ভে একটা শিশু পূর্নতা প্রাপ্ত হতে থাকে। কিন্তু কোরান বলছে ভিন্ন কথা। এখন ডা: কিথ মুর যদি সত্যিই ভ্রুনবিদ্যা বিশেষজ্ঞ হয়ে থাকে, তাহলে তার এসব জানা কথা। কিন্তু তারপরেও উক্ত কোরানের আয়াতের মধ্যে যদি কিথ মুর বিজ্ঞানের বিধান দেখতে পায় , তাহলে বুঝতে হবে ডা: কিথ মুর পাগলের প্রলাপ বকেছে , না হয় সৌদি বাদশার পেট্র ডলার পেয়ে , মনগড়া বিবৃতি দিয়েছে। কারন দুনিয়ার অন্য কোন ভ্রুনতত্ত্ববিদই কোরানের উক্ত দুই আয়াত ৯৬:২ এবং ২৩: ১৪ এর সাথে একমত হবে না। তারপর দেখা যাক কোরান আর কি বলেছে ---
-----------------------------------------------------
সুরা আত ত্বারেক- ৮৬: ৫-৭: অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে। এটা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে।
-----------------------------------------------------
বর্তমান কালের কোন উন্মাদকেও যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে বীর্য কোথা থেকে নির্গত হয় , সেও বলবে পুরুষাঙ্গের নিচে যে দুটি অন্ডকোষ থাকে , সেখান থেকে তৈরী হয়েই নির্গত হয়। কিন্তু কোরান বলছে বীর্য নির্গত হয় নাকি মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে। কোরানের এইসব বানী পড়ে যে কোন সুস্থ লোক হয় অজ্ঞান হয়ে যাবে , না হয় হাসতে হাসতে পাগল হয়ে যাবে।

এইমত অবস্থায় ড: কিথ মুর কেন কোরানের বক্তব্যকে সঠিক বলল ? আর সে কি আসলে ইসলাম গ্রহন করেছিল ? এর উত্তর পাওয়া যাবে কিথ মুরের নিজের জবানীতে , তাকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল , সে কি ইসলাম গ্রহন করেছে ? তার উত্তরে সে যা বলেছিল ----

https://www.youtube.com/watch?v=IObOzMAQ3hI

তার পরিস্কার উত্তর ছিল , সে ইসলাম গ্রহন করে নি। তবে তার আগে সে বেশ খানিক্ষন আমতা আমতা করে কোরানের মধ্যে যে ভ্রুনতত্ত্ব আছে সে বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু সেটা পরিস্কার ছিল না। কেন আমতা আমতা করেছিল সেটাও সহজে বোঝা যায়। কারন যেহেতু সে কোরানের বানী পড়েছিল , আর হয়ত তার ভ্রুনতত্ত্ব সম্পর্কে ধারনা ছিল , তাই সে খুব ভাল করেই জানত , কোরান যা বলেছে তা উদ্ভট। কিন্তু মনে হচ্ছে কোন কারনে সে আবার কোরানের বক্তব্যকে সঠিক বলে দাবীও করছিল , সেটা কেন ? উত্তর একটাই। সেই সময়ে সৌদি আরবের বাদশাহ ও তার সাগরেদদের পশ্চিমা দেশের বিভিন্ন বিজ্ঞানীদেরকে অর্থের প্রলোভন দিয়ে কোরানের মধ্যে বিজ্ঞান আবিস্কারের একটা প্রচেষ্টা ছিল। সৌদি আরব তখন মরিয়া হয়ে পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম প্রচারের জন্যে উঠে পড়ে লেগেছিল। তারা উপলব্ধি করেছিল , প্রতিষ্ঠিত কিছু পশ্চিমা পন্ডিতদের মুখ দিয়ে কোরানের মধ্যে বিজ্ঞান আছে প্রমান করলে , তা পশ্চিমা দেশ সমূহে ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। সেই কারনেই সেই সত্তর আশির দশকে সৌদি আরব তাদের বিপুল পেট্রডলারের কিছু অংশ এই কাজে ব্যয় করত। কথিত ডাক্তার মরিস বুকাইলিও তাদের অন্যতম যে নাকি আবিস্কার করেছিল মিশরের রামেসেস -২ নাকি পানিতে ডুবে মারা গেছিল। যা একটা ডাহা মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই না এ ছাড়া তারা সারা দুনিয়াতে হাজার হাজার মসজিদ , মাদ্রাসা গড়ে তোলার কাজেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল।

Comments

Jahid এর ছবি
 

ধন্যবাদ। তথ্যটি গুরুত্বপূর্ন ছিল।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 14 ঘন্টা 59 min ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর