নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • মহক ঠাকুর
  • সুপ্ত শুভ
  • সাধু পুরুষ
  • মোনাজ হক
  • অচিন্তা দত্ত
  • নীল পদ্ম
  • ব্লগ সার্চম্যান
  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান

আপনি এখানে

স্রোতের বিপরীতে চলা নারী


আমার পরিচিত একজন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি যখন সেই বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা করছিলেন, আমি নিজেই দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছিলাম। যারা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ভুক্তভোগী, তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ থাকেন, যারা সেই যন্ত্রণাকে উপচে ফেলে সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারেন।

বাঙলাদেশের মতো পশুতান্ত্রিক ও ধর্মভীরু সমাজব্যবস্থায় ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীর ঘুরে দাঁড়ানো খুব একটা সহজ নয়।পুরুষ চায়, ধর্ষণের শিকার হওয়া নারী যেন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এতে পশুতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা সবদিক থেকেই জয়যুক্ত হয়। ধর্ষণের মতো জঘন্য, অমানবিক, পাশবিক, হিংস্র অপরাধ করেও ধর্ষক বিজয়ী, আত্মহত্যা অর্থাৎ মৃত্যু নিশ্চিতকরণ আরও স্পষ্ট করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় নারী তোমার শরীর ও জীবনের মূল্য নির্ধারণের বিচারক পুরুষই।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে লিঙ্গ, বয়স, সেক্সুয়ালিটি, পোশাকআশাক, সময়, অস্বাভাবিক বা অচেতন- এই বিষয়গুলোকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। যদিও এগুলো গুরুত্বহীন। ধর্ষণের সমর্থনকারীদের কথা অনুযায়ী এইসকল বিষয়গুলো যদি যুক্তির খাতিরে ধরেও নেই তাতেও কিন্তু ধর্ষণের শিকার থেকে নারীরা বাদ যায় না। অর্থাৎ, নিজেদের দোষ লুকোনা ও ভিক্টিম ব্লেইমিং করে মুখ্য ঘটনাকে আড়াল করে পরোক্ষ বিষয়াদি গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা আরেকটা চক্রান্ত। যদিও এই পন্থাটি আদিমকাল থেকে দোষ, অন্যায়, অপরাধ থেকে রেহাই পাওয়ার একটা নিম্নমানের কৌশল।

আমরা এমন একটি সমাজে বেড়ে উঠেছি ও উঠছি যেখানে একটা ছেলেকে সেক্স ও ধর্ষণের পার্থক্য শেখানো হয় না। এই বিষয়াদি নিয়ে ছেলেদের সাথে আলোচনা করার পরিবর্তে মেয়েকে বোঝানো হয় ধর্ষণ থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে! পৃথিবীতে হাজার হাজার কোটি কোটি পুরুষ এখনো বোধ করে ধর্ষণও হচ্ছে সেক্স। অর্থাৎ ধর্ষণকে প্রত্যক্ষভাবে সমাজ, ধর্ম, রাষ্ট্রব্যবস্থাও সমর্থন জানিয়ে আসছে।

মানুষকে বিশ্বাস করা সবচেয়ে ঝুঁকির বিষয়। বিশ্বাস শব্দটি যেহেতু ভঙ্গুর, এই কারণেই মানুষের সাথে বিশ্বাস শব্দটি যথার্থ। বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতি যে, কাউকে দুনালা ভাত দিলে সেও বলে বসে শরীর কবে পাবো? বন্ধুত্বের সম্পর্কের মধ্যেও বন্ধু বলে বসে তোকে কবে খাবো? দুজনের সম্মুতিতে খানাপিনা করা ভালো, কিন্তু কারো অনুমতি ব্যতীত, ইচ্ছাকৃত কারো শরীরে স্পর্শ করা সঠিক নয়, এটি অন্যায়।

আমার পরিচিত সেই মানুষটি ভেঙে গিয়েছিলেন, পড়ে গিয়েছিলেন, দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিলেন, ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিলেন, নির্যাতিত হয়েছিলেন, নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছিলেন। এত কিছুর পরও তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, নতুন জীবনের খোঁজে নিজের জীবন নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন। এমন মানুষগুলো মূলত নিভৃতেই থেকে যায়। কিন্তু তারাই সভ্য সমাজ গড়ে তোলার সূর্য হয়ে আগামীর পথ দেখায়। এই বৈশিষ্ট্যের মানুষগুলিকে পুরুষেরা মারাত্মক ভয় পায়।

পৃথিবীর কোথাও কোন নারী নিরাপদ নয়, ঠিক তেমনই পৃথিবীর কোথাও কোন নারী ধর্ষণ থেকে মুক্ত নয়। কিন্তু, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রতিটি মানুষের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অনন্য আজাদ
অনন্য আজাদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 2 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর 4, 2015 - 10:56অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর