নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • মহক ঠাকুর
  • সুপ্ত শুভ
  • সাধু পুরুষ
  • মোনাজ হক
  • অচিন্তা দত্ত
  • নীল পদ্ম
  • ব্লগ সার্চম্যান
  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান

আপনি এখানে

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কোথায় যাচ্ছি আমরা


বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কিংবা শিক্ষা নীতির দিকে তাকালে আমি ভয় অনুভব করি।সেই ভয়ের
অনেক কারণ ও অবশ্য আছে।আমি জানি না শুধু আমি একাই ভয় পাচ্ছি নাকি আমার মতো আরো অনেকেই ভয় পাচ্ছে।হয়ত আমার পুরো লেখাটা পড়ে কেউ মনে মনে বলে উঠবে বাহ আমার ও তো এরকমই চিন্তাভাবনা, ওনার চিন্তার সাথে আমার চিন্তার অনেকাংশেই মিল।অনেকের হয়তো আমার লেখা ভালো নাও লাগতে পারে।দ্বিমত থাকবেই স্বাভাবিক।দেশটা নিয়ে ভয় কেন হয় তা আমার পুরো লেখাটি পড়লে আপনার কাছে পরিষ্কার হবে এই আশা করছি।টাইপিং মিসটেকের জন্য আগে থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

বাংলাদেশের শহরগুলোতে কোচিং সেন্টারের কোনো অভাব নেই।ঘর থেকে একটু বেরোলেই হাজার হাজর কোচিং সেন্টারের সাইনবোর্ড আপনি দেখতে পাবেন।শহরের অলিতে গলিতে নতুন নতুন কোচিং সেন্টার প্রতিনিয়তই গজিয়ে উঠছে।এযেনো শিক্ষা নিয়ে এক রমরমা ব্যবসা।আমার মাঝেমধ্যে মনে একটা প্রশ্ন জাগে আমাদের তাহলে আর স্কুল কলেজের দরকার কি?খুব সুন্দরভাবেই তো ছেলেপুলেরা এসব কোচিং সেন্টারে পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারছে।সরকার কোচিং সেন্টার দমনে মাঠে নামছে শুনছি সেই বহু আগে থেকেই,কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের মাঠে নামতে দেখিনি।আসলে কোচিং সেন্টার এবং প্রাইভেট টিউশনি এগুলো কখনই বন্ধ করা সম্ভব নয় যতক্ষন না পর্যন্ত এইসব কোচিং সেন্টার কিংবা প্রাইভেট টিউশন কেন প্রয়োজন পড়ছে তা না জানা যায়।এটি সরকারকেই ঘুটিয়ে বের করতে হবে।আমি আমার মতামত আংশিকভাবে এখানে তুলে ধরবো।আমাদের সন্তানেরা স্কুল কলেজে যাচ্ছে,তারা আসলে ওখান থেকে কি আদৌ কিছু শিখছে?? প্রত্যেক দিন যে স্কুল কলেজে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা তারা সময় কাটাচ্ছে,তারা কি ওখান থেকেই আসলেই প্রকৃত কিছু শিখছে।বইয়ের টপিকগুলো কি স্কুল কলেজে গিয়ে তারা ক্লিয়ার করতে পারছে না?কেনো পারছেনা?না পারার কারণটি কোথায়? কেন ওদের আলাদাভাবে আবার কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে?এমন কি জিনিস যেটা ওরা স্কুল কিংবা কলেজে গিয়ে পাচ্ছেনা? অনেক প্রশ্নই কিন্তু তৈরি হয়।কেন ওদের প্রাইভেট কিংবা কোচি্ং সেন্টারে যেতে হচ্ছে উত্তরটা কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বেরিয়ে আসে ।নিশ্চই ওরা স্কুল কলেজে সঠিকভাবে শিখতে পারছেনা,কিংবা তারা স্কুল কলেজে যাওয়ার আগ্রহ পাচ্ছে না।কেনো শিখতে পারছেনা,কিংবা কেন তারা আগ্রহবোধ করছেনা, কিংবা কোচিং সেন্টারে যেতে হচ্ছে।তাহলে স্কুল কলেজগুলোরই থাকার কি দরকার পড়ছে।আমাদের দেশের সরকারের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেয় বললেই চলে।আমাদের দেশের বেশির ভাগই স্কুল কলেজগুলোর অবকাঠামো ঠিক নেয়।নেই ভালো শিক্ষক।বাংলাদেশের বেশিরভাগই স্কুল কলেজের ক্লাসরুম ঠিক নেয়।শিক্ষাদান করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশের অভাব রয়েছে।শিক্ষাদানের পরিবেশ যদি ভালো না হয় সেখানে মনোযোগী হওয়া কিন্তু সম্ভব নয়।তাই স্কুল কলেজগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবেশগত উন্নয়ন প্রয়োজন রয়েছে।বাংলাদেশের ৯৮% স্কুল কলেজে ল্যাবরেটরি এবং লাইব্রেরি নেই।কিছু কিছু স্কুল কলেজে থেকে থাকলেও নেই তাদের সঠিক ব্যবহার।ঢাকার বাইরে এবং গ্রামের কথা নাই বা বললাম।ছেলেমেয়েদের স্কুল কলেজের প্রতি আগ্রহ কখন জন্মাবে?যখন তারা সত্যিকার অর্থেই সেখান থেকে কিছু শিখতে পারবে।বাংলাদেশের স্কুল কলেজের শিক্ষদেরও বিশেষ নজরে এবং তদারকির মধ্যে রাখা প্রয়োজন।প্রত্যেক শিক্ষকের সাথে ছাত্রের বন্ধুসুলভ সম্পর্ক স্থাপন খুবই গুরুত্বপুর্ন।

আমি বুঝিনা বাংলাদেশের স্কুল কলেজগুলোতে বেত কেনো থাকে? শিক্ষকরা নিজেই বুঝছেন না তারা কিভাবে ছাত্রদের মাঝে জ্ঞান অর্জন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা দিয়ে দিচ্ছেন।জ্ঞান অর্জন কখনও ভয়ের মধ্য দিয়ে হয় না,হয় অানন্দের মধ্য দিয়ে।বেতের অর্ধেক ভয়েই তো তাদের পড়ালেখা হয় না স্কুল কলেজে।প্রাইভেট কোচিংয়ে কিন্তু এসব বেতের কাজকারবার নাই।আমি কি বুঝাতে চেয়েছি বুঝতে পারছেন নিশ্চই।বাংলাদেশের অনেক শিক্ষকই রয়েছেন যারা ছাত্রদেরকে ছাত্র না মনে করেন গরু ছাগল মনে করেন।এটা বাস্তব সত্য,শিক্ষক আর ছাত্রের সম্পর্কে যদি কেমেস্ট্রি না আনা যায় তবে ছাত্ররা ভয়েই ভয়েই শিখবে।এবং তাদের মধ্যে একটা নেতিবাচক ধারনা চলে আসে।এই বেত নামক জিনিসটা থেকে ক্লাস ওয়ান টুয়ের ছেলে মেয়েরাও রেহাই পায় না,তাদের মধ্যে ডুকিয়ে দেওয়া হয় একটা ভয়।আমার মনে হয় পাঠদান পদ্ধতিটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।প্রত্যেক শিক্ষকের টিচার্স ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহন করা বাধ্যতামুলক করানো উচিত।এবং পাঠদানে পরিবর্তন আনা উচিত।ছাত্রদের বর্তমান অবস্থা হলো তারা গাদা গাদা বই না বুঝে মুখস্থ করে পরীক্ষা দেয়,এবং পরে সব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেয়।আমাদের পাঠদানের ব্যাপারটায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।পাঠদানের পদ্ধতিটা আরো প্র্যাকটিক্যালি করা প্রয়োজন।অর্থাত কাউকে একটি ক্যামেস্ট্রির বিক্রিয়া বুঝিয়ে যদি হাতে কলমে তা আবার ল্যাবে করানো হয় তাহলে ছাত্ররা আরো আগ্রহী হবে,এবং জিনিসটা যেমন তাদের মাথায় গেঁথে যাব ঠিক তেমনি তাদের পড়ালেখাটা আনন্দায়ক হবে।ছাত্রদের জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন অংশ হাতে কলমে যদি কঙ্কালের মাধ্যমে দেখানো হয়,তাহলে জিনিসটা তাদের বুঝতে আরো সহজ হবে।কিন্তু দুঃখ্যের বিষয় বাংলাদেশের বেশিনভাগই স্কুল কলেজে ল্যাবরেটরি নেই,আর এসব তো দূরের কথা।ছাত্ররা স্কুল কলেজে যায় আর গল্পগুজব করে চলে আসে।আর থাকলেও কোনো সঠিক তদারকি নেয়।আমাদের শিক্ষাদানে আরো প্র্যাকটিকেল হতে হবে।শিক্ষদের সাথে ছাত্রের সম্পর্কের ব্যাপারে শিক্ষকদের প্রশিক্ষন দিতে হবে।প্রয়োজনে প্রত্যেক শিক্ষকদের এসব ব্যাপারে আরো সচেতন হতে হবে।ছাত্ররা যখন আনন্দের সাথে শিখবে এবং প্র্যাকটিকেলি শিখবে তাহলে তারা যেমন স্কুল কলেজের প্রতি আরো আগ্রহী হবে ঠিক তেমনি এসব প্রাইভেট কোচিংয়েরও আর প্রয়োজন হবে না।প্রত্যেকটা স্কুল কলেজ সঠিকভাবে মনিটরিং করতে হবে।প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীদের বই পড়ার ব্যাপারে সব স্কুল কলেজ থেকেই আগ্রহী করে তুলতে হবে।স্কুল কলেজে লাইব্রেরির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।এবং শিক্ষদের ছাত্রদের প্রতি আরো যত্নশীল হতে হবে।ভয় দিয়ে কখনো আর যাই হোক জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়।বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রেনীর বইগুলোতে বিভিন্ন টপিক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নেয়।পাঠ্যবইয়ে যদি প্রত্যেকটা টপিক আরো বিস্তারিত এবং সহজভাবে তুলে ধরা হতো তাহলে ছাত্রদের বুঝতে আরো সহজ হতো।বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেনীতে এখন অপ্রয়োজনীয় নানা বই সংযুক্ত করা হয়েছে।যেগুলোর কোনো প্রয়োজনই নেই।এসব দিয়ে উল্টো ছাত্রদের উপর আরো চাপ বাড়ানো হয়েছে।এমন বিষয়ে পাঠদানে নেই কোনো ভাল প্রশিক্ষিত শিক্ষক।বাংলাদেশের বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতমানের গবেষনাগার নেয়।গবেষণায় সরকারের অর্থায়নও নেই।মুলত পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটা একটা গোজামিলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।ছাত্ররা পড়াশোনা করে পরীক্ষায় পাসের জন্য,তারা পড়াশোনা করে ভয় নিয়ে,তারা না বুঝে মুখস্থ করে পরীক্ষা দেয়।পড়ালেখাটা করতে হবে আনন্দ নিয়ে,করতে হবে আরো প্র্যাকটিক্যালি।বড় বড় সার্টিফিকেট আর ডিগ্রি নিয়ে বেরোলেই তো হবে না।যাচাই করতে হবে দক্ষতা।না হলে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়বেই।বাংলাদেশের কোম্পানি কি দেখে চাকরি দেবে? তারা বিদেশ থেকে লোক আনিয়ে তাদের কাজ করাচ্ছে।কারণ দক্ষতার অভাব।আর এর সমস্যাটাও শিক্ষার গোড়ার দিকে।তাই এর সমস্যা সমাধান সম্ভব না হলে দেশ কখনই উন্নতির পথ দেখবেনা।একটা দেশের শিক্ষাই হলো প্রধান।একটা দেশকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য তার শিক্ষা ব্যবস্থায় ফাটল আনাই যথেষ্টট।আর প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারতো আছেই এই নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।আমরা কি একটা পঙ্গু প্রজন্ম তৈরি করছিনা?আর এজন্য ভয় হওয়াটা কি অস্বাভাবিক?

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অচিন-পাখী
অচিন-পাখী এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 5 দিন ago
Joined: শুক্রবার, অক্টোবর 20, 2017 - 3:59পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর