নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

প্রতিটি ধর্মে স্বর্গের পাশাপাশি নরকের অস্তিত্তই প্রমাণ করে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও তাঁর হুকুমমতের উল্টো মতাদর্শের মানুষ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।


একই মাতৃ জঠরে জন্ম নেয়া দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যেও মতাদর্শগত পার্থক্য থাকতে পারে। একই মাতৃস্তন্যে লালিত, একই পিতার ঔরষে জন্ম, সেই একই জল-হাওয়ায় আশৈশব বেড়ে উঠা। একই পারিবারিক অনুশাষনে যাপিত জীবন, অথচ চিন্তায়-চেতনায়, আদর্শে, মতাদর্শে বহু যোজন দুরত্ব। একজন প্রথাগত সংস্কারাবদ্ধ, ধর্মীয় অনুশাষনে অত্যন্ত কনজার্বেটিভ অন্যজজন যুক্তি শাস্ত্রের ধারক। সংস্কার, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি সর্বক্ষেত্রে যুক্তির প্রাধান্যে বিশ্বাসী। এর থেকে এটাই প্রতীয়মান যে, প্রতিটি মানুষই সাতন্ত্র সংস্কার দ্বারা গঠিত।

এটা জগতের খুব স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। প্রতিটি মানুষের মনোজগৎ স্বাতন্ত্র ধারায় নিরবধি নিবৃতে প্রবাহিত। সেখানে সে নিজের মতো করে নিজের বিশ্বাস, সংস্কারের আলোকে নিজের জন্য আলাদা একটি জগৎ তৈরী করে। প্রত্যাহিক জীবনে সহচর্য মহলে মানুষ নিজেকে যতই মেলে ধরুক না কেন, প্রতিটি মানুষের মন এক নিরব স্রোতস্বিনী। নিরবে তার বাস, নিবৃতে তার প্রবাহ। একজনের মনের অন্দরের খবর অন্যে জানার কোন সুযোগ নেই। তাই মানুষে মানুষে মতাদর্শগত এত ফারাক।

যদি একই পরিবারে বেড়ে উঠা দুই সহোদরের মধ্যেও মতাদর্শগত পার্থক্য তৈরী হতে পারে, তাহলে ভোগৌলিক সীমানার ওপাড়ে কিংবা একই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বৈচিত্রপূর্ণ সামাজিক অবকাঠামোতে বেড়ে ওঠা নানান শ্রেনীর মানুষের মধ্যে এই আদর্শগত ব্যপারটিতে আরো সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্নিত হওয়া যারপরনাই স্বাভাবিক। যোগাযোগের এই বৈপ্লবিক উৎকর্ষতার যুগে মানুষের ভাবাদর্শ, চিন্তা, দর্শন, মতাদর্শ মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র, কিন্তু একটা সময় মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রক্রিয়া এত সহজতর ছিলো না।

ভাব প্রকাশের প্রবণতা মানুষের চিরন্তন আকাঙ্খা। অতি প্রাচীনকালে মানুষ তার ভাব প্রকাশের জন্য ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করতো। ক্রমে দেখা গেল এই ইশারা ইঙ্গিতের মাধ্যমে মানুষ অপরের কাছে তার মনের ভাব সঠিক ভাবে প্রকাশ করবে পারছে না, ফলশ্রুতিতে মানুষ এবার সাহায্য নিল বাগযন্ত্রের, সৃষ্টি হলো সংকেতময় ধ্বনির, যা থেকেই জন্ম হয় ভাষার। ভাষা সৃষ্টির পর মানুষের ভাব প্রকাশের পদ্দতি সহজ হয়েছে বটে, কিন্তু বিশ্বায়নের এই যুগ মানুষের ভাব বিনিময়ের পদ্দতিকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিনিয়তই মানুষ তার মনের ভাব মেলে ধরে। আর এই ভাব বিনিময়ের দ্বারা একের মতাদর্শ অন্যের জানার সুযোগ তৈরী হয়। সভ্য জাতিরা এটাকে এপ্রোসিয়েট করে, আর অসভ্যরা জড়িয়ে পরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়!

একজন মানুষ তার দর্শন, বিশ্বাস এবং আদর্শের জায়গাতে সম্পুর্ন স্বাধীন। সেই স্বাধীন সত্বা মেলে ধরা, নিজের ভাব প্রকাশ, বিশ্বাস, মতাদর্শ আর সংস্কার পালন তার জন্মগত অধিকার। এটা নাগরিক অধিকারও বটে। তার অর্জিত সংস্কার বা মতাদর্শ আমার মনোস্পুত নাও হতে পারে, কিন্তু তার মতাদর্শকে অশ্রদ্ধা করা কিংবা নিজের মতাদর্শ চাপিয়ে দেয়ার জন্য বল প্রয়োগ করার কোন অধিকার আমার নেই। কি সমাজ, কি রাষ্ট্র, এমনকি ধর্ম পর্যন্ত সেই অধিকার মানুষকে দেয়নি।

রংপুর, নাসির নগর, রামুসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য আমি কখনোই মতাদর্শের ভিন্নতা কিংবা এর সহজ প্রকাশ পদ্দতিকে দায়ি করি না। এর জন্য মুলত দায়ি আমাদের অসহিঞ্চু মানসিকতা। অন্যের মতাদর্শকে সম্মান করতে না পারা। আমাদের বোঝা উচিৎ, যেকোনো মতাদর্শের প্রধান উপাদান হচ্ছে তার দার্শনিক ভিত্তি। সেই দার্শনিক ভিত্তির স্বরূপটি কখনো সূত্রায়িত থাকে, কিংবা কখনো তা অসূত্রায়িত আকারে বিরাজ করে। তাই, যেকোনো মতাদর্শের স্বরূপ ও মর্মকথা বুঝতে হলে সেই মতাদর্শের দার্শনিক ভিত্তিটি সম্পর্কে প্রথমে পরিষ্কার হওয়া একান্ত আবশ্যক। সব মতাদর্শেরই যেমন সূত্রায়িত অথবা অসূত্রায়িত একটি দার্শনিক ভিত্তি রয়েছে, ঠিক তেমনি সব মানুষেরই একটি দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি আছে। হিংসা আর বিরোধিতা পরিহার পূর্বক আমাদের অন্যের সেই মতবাদটি নেয়ার ধৈর্য্য অর্জন করতে হবে।

যদি ধরেই নিই আপনার মতাদর্শটিই সঠিক এবং সত্য! অন্যেরটা ভুল এবং অসত্য! তা সত্বেও আপনি পেশি শক্তির প্রয়োগ, হুমকি ধমকি দিয়ে নিজের মতাদর্শ অন্যের উপর চাপাতে পারবেন না। কারণ ভিন্ন মতাবলম্বি থাকবে এটা প্রাগৈতিহাসিক স্বিকৃত সত্য। আর সে জন্য এত নিয়ম-কানুন, এত বিধান, এত আইন, এত আসমানি-জমিনি গ্রন্থ। যুগে যুগে এত ধর্মাবতার, এত পয়গাম্বার! প্রতিটি ধর্মে স্বর্গের পাশাপাশি নরক, এমনকি স্বয়ং ইসলাম ধর্মে আটটি বেহেস্তের সাথে সাতটি দোযখ থাকাটাই প্রমাণ করে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও তাঁর হুকুমমতের উল্টো মতাদর্শের মানুষ থাকার বিষয়টি স্বিকার করেছেন। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে আপনি-আমি কেন ভিন্ন মত ও পথের জন্য এত মাথা খুড়ে মরছি বলতে পারেন!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 5 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর