নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লুসিফেরাস কাফের
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

সৃষ্টিকর্তাকে আবারও বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে মানুষের অমরত্বের পথে যাত্রা সফল।



এর আগেও ধর্মের দোহায় আর সৃষ্টিকর্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে রাশিয়ার এক নিউরো সায়েন্টিস্ট আমাদেরকে মানুষের অমরত্বের গল্প বাস্তবে সম্ভব বলে তার গল্প শুনিয়েছেন। অর্থাৎ ধর্মান্ধদের বহুল প্রচলিত কথা “জন্ম মৃত্যু সবই নাকি কারো হাতে” এই কথাটি সত্যি সত্যি ভুল প্রমানিত হতে যাচ্ছে। মানব জন্মের পদ্ধতি অনেক আগেই মানুষ তার দখলে নিয়েছেন। কিন্তু মৃত্যু এখনও তাদের দখলে ছিলো না। “দিমিত্রি ইটস্কভ” এর গবেষনাটি একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষনা হবার কারনে আমরা ২০৪৫ সালের আগে তার এই প্রজেক্টের সফলতা দেখতে পারবো না। তবে সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম সফল হেড ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন করে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা আমাদের আবার প্রমান করে দেখাল যে আসলে মানুষের মৃত্যু আমরা থামিয়ে দিতে সক্ষম। হেড ট্রান্সপ্লান্টেশনের ব্যাপারটি এই বছরের শেষে কোথাও করা হবে বলে আমাদের জানিয়েছিলেন ইতালির তুরিনো অ্যাডভান্সড নিউরোমডুলেশন গ্রুপের বিখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো। কিন্তু তা কোথাই অথবা কবে করা হবে তা আমাদের তখন নিশ্চিত করে কিছুই বলেননি।

এই সফল গবেষনা ও মানুষের মস্তিষ্ক ট্র্যান্সপ্ল্যানটেশন আমাদের অনেক আশার খবর দিচ্ছে। বিশেষ করে মহাকাশ যাত্রা ও মহাকাশ গবেষনার ক্ষেত্রে। কারন মহাকাশের যাত্রা ও এর দুরত্ব মানুষের একটি জীবনে সফল করা সম্ভব নয়। তাই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করে একজন মানুষের পক্ষে এই দুরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হবে। তাছাড়াও “দিমিত্রি ইটস্কভ” এর প্রজেক্ট অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক মেশিন এর ক্ষেত্রেও এটা এক বিরাট অবদান রাখতে চলেছে। পদার্থবিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী যেমন এক জীবনে কোন মানুষের দ্বারা মহাবিশ্বের এই আন্তঃনাক্ষত্রিক যাত্রা প্রায় অসম্ভব ঠিক তেমনি ধর্মীয় কুসংস্কার এই ধরনের গবেষনার জন্য ক্ষতিকর। কারণ কোন ধর্মই আসলে জ্ঞান এবং বিজ্ঞানের চর্চা মুক্তভাবে করতে দিতে চাইনা।

আজ থেকে তিনদিন আগে অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি দেন। তখন তিনি জানান খুব শীঘ্রই আমরা হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করতে যাচ্ছি এবং তার ফলাফল আপনাদের জানানো হবে। তারই ধারাবাহিকতাই গতকাল চীনে একটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে তিনি, অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো ও প্রফেসর জিয়াওপিং বিশ্বের প্রথম হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করতে সক্ষম হয়েছে। চীনের হারবিন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার জিয়াওপিং রেন ১৮ ঘণ্টা যাবত প্রায় ১৫০ জন সহযোগী ডাক্তার এবং নার্সের সহযোগে এই অপারেশনটি সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, আমরা সফল ভাবেই একজন মানুষের মাথা আরেকজন মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে প্রথমবারের এই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশনের প্রধান কুশলী ও দিকনির্দেশক হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইতালির তুরিনো অ্যাডভান্সড নিউরোমডুলেশন গ্রুপের বিখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো ও আরো অনেকে।

বিশ্বের উন্নত সকল দেশ বা পশ্চিমা দেশ গুলি রেখে চীনের মতো একটি দেশে এই ট্রান্সপ্লান্টেশন কেন করা হলো সেই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো বলেন আসলে বর্তমান মার্কিন সরকার ধর্মান্ধতার পক্ষে কথা বলে। আর তাই সেখানে এখন ধর্মীও মৌলবাদী ও জঙ্গীদের ভীতি কাজ করছে এধরনের গবেষনার ক্ষেত্রে। তারা কোনভাবেই এই হেড ট্রান্সপ্লান্টেশন সফল হতে দিবে না। আর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে সেসব দেশের জনগন জানিয়েছিলো এই কাজটি “ঈশ্বরের বিপক্ষে” তাই এটা করা ঠিক হবে না। তাই তারা ইউরোপকেও এই গবেষনার বাইরে রাখেন। আর অপরদিকে চীন সরকার এই বিষয়ে অনেক পরিষ্কারভাবে আমাদের সাহায্য করতে চেয়েছেন। আর চীনে অর্গানিক ডোনারও অনেক পাওয়া গিয়েছিলো তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এই গবেষনা আমরা চীনেই করবো।

এই অপারেশন সম্পর্কে সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিবৃতিতে অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো জানান, একজন প্যারালাইসড বা পঙ্গু মানুষের অর্থাৎ অচল দেহ সম্বলিত একটি মানুষের মস্তিষ্ক ও একজন ব্রেন ডেড বা অক্ষম মস্তিষ্কের মানুষের দেহ ব্যাবহার করে এই ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন করা হয়েছে। কম্পিউটার সিম্যুলেশন ও জটিল প্রোগ্রাম ব্যাবহার করে আগে থেকেই কিভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে সে সম্পর্কে সকলেরই ধারনা ছিলো। তারা মানুষের শরীরের মাথা ও মস্তিষ্ক আলাদা করার জন্য প্রথমে সুক্ষ্ম কিছু ডায়মন্ড স্কালপ্যেল ব্যাবহার করে তা আলাদা করেছিলো। আলাদা করার পরে অত্যান্ত সতর্কতার সাথে তারা শিরা, উপশিরা, ধমনী, শ্বাসনালী, খাদ্যনালী ও স্পাইনাল কর্ড সংযুক্ত করে। সঠিকভাবে সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে বলে কম্পিউটার স্যিমুলেশন অপারেশন সাকসেস বলে জানিয়েছে। অধ্যাপক সার্জিও ক্যানাভেরো আরো জানিয়েছেন, এই অপারেশনের মুল সফলতা আসলে নির্ভর করেছে স্পাইনাল কর্ডের সঠিক সংযুক্তির উপরে যা আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।

ডাক্তার “জিয়াওপিং রেন” এর আগে একটি বানরের দেহে মানুষের মস্তিষ্ক স্থাপন করে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। তার মতে সেই অপারেশনে ভিন্ন প্রকৃতির দুইটি জীব হওয়ার কারনে মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের সঠিক সংযুক্তির অভাবে অপারেশনের মাত্র ২০ ঘন্টা পরেই সেই বানর মানব হাইব্রিডটি মারা গিয়েছিলো। তারপর তিনি সফলভাবে একটি সুস্থ ইদুরের মাথা আরেকটি ইদুরের দেহে ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট করেন এবং এখনও সেটি সুস্থ ভাবেই বেচে আছে। তিনি আরো বলেন আসলে এই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট মানব ইতিহাসে কোন নতুন ঘটনা না। এর আগে আজ থেকে প্রায় ৪৫ বছর পুর্বে দুইটি বানরের ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করা হয়েছিলো এবং সেই হাইব্রিড বানরটি প্রায় ৮ দিন বেচে ছিলো যা পরবর্তিতে জীবানু সংক্রমনের কারনে মারা যায়। তখন চিকিৎসা বিজ্ঞান এতো উন্নত ছিলোনা যা বর্তমানে হয়েছে। আজ মানুষ অনেক অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারছে। এই গবেষনায় প্রথমে রাশিয়ার এক ৩০ বছর বয়ষ্ক নাগরিক যার নাম ভ্যালারে স্পিরিদিনভের এর মস্তিষ্ক অন্য একটি সুস্থ দেহে প্রতিস্থাপনের কথা থাকলেও পরবর্তিতে তিনি মত পাল্টান। এই চিকিৎসাতে মৃত্যু ঝুকি থাকার কারনে তিনি বলেন আমি পক্ষাঘাত গ্রস্থ অবস্থাতেই মারা যেতে চাই তাই আর সেখানে এই গবেষনা করা সম্ভব হয়নি।

ডাক্তার জিয়াওপিং মানুষকে এমন এক আশা দেখাচ্ছেন যাতে মানুষ অমরত্বের খুব কাছাকাছি আছে। তিনি ইদুরের মধ্যে যে ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন করেছেন তাতে খুবই আশাবাদী এটাও তেমন একটি সফল অপারেশন হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বে ইতিমধ্যেই এই হেড ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে ট্রাম্পবাদীদের মধ্যে। কারণ অপারেশন করার পর ভুক্তভুগি মস্তিষ্কের এখনও জ্ঞান ফেরেনি, যদিও তার দেহের সমস্ত প্রক্রিয়া এখনও স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল আছে। তবে জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত এখনও বলা যাচ্ছে না তা কতটা সফল। একই সাথে ডাক্তার জিয়াওপিং আরো একটি আশা দেখাচ্ছে সেই মানুষদের যারা সারা জীবন পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে গ্লানি নিয়ে মৃত্যবরন করেন। তিনি যে এখানেই থেমে থাকবেন তাও নই। তিনি জানান আগামীতে স্টেম সেল ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশনের কথাও তার মাথায় আছে। কারণ যেসমস্ত মানুষের মস্তিষ্কে জটিলতা আছে বা যাদের মস্তিষ্কের নিউরো সেল গুলো ড্যামেজ অবস্থায় আছে তাদের জন্য এই হেড ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন কোন কাজে আসবে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা যদি স্টেম সেল ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশনে আরো অগ্রসর হতে পারে তাহলে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস এর মতো মটর নিউরন ডিজিস এ আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয় ধর্মীও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানব জাতি এই বিষয়টিকে কে কিভাবে নিচ্ছেন।

সুত্রঃ The Telegraph, The Guardian.

---------- মৃত কালপুরুষ
১৯/১১/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 7 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর