নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • দ্বিতীয়নাম
  • বেহুলার ভেলা
  • অাব্দুল ফাত্তাহ

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

নাস্তিকের লেখালেখি :বিষয়বস্তু নির্বাচন


ঘটনা এক

এপিসোড এক :
ধরা যাক আমি বেশ দরিদ্র একজন মানুষ, গ্রামে বসবাস। ভোট দিই বটে তবে কোন দলের সাথে, গ্রামের নেতা গোছের কারো সাথে আমার কোন খাতির নেই। কোন এক সময় গ্রামের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং তার সহচরদের দ্বারা আমি আক্রান্ত, অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এবং শারিরীকভাবে নিগৃহীত হলাম।

এপিসোড :দুই
আমি গেলাম থানায়। পুলিশ মামলা নিল না। উল্টো আমাকেই ধমকালো। আবার সেই নিপীড়নকারী নেতার হাতে আমি দ্বিতীয় দফা নিগৃহীত হলাম।

এপিসোড : তিন
রাতের বেলায় পুলিশ এসে আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে গেলো এবং দিনের বেলায় এলাকার নেতাদের হাতে পায়ে ধরে তাদের মধ্যস্থতায় থানায় বসে পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়াতে হলো।

ঘটনা দুই

এবার ধরা যাক আমার বন্ধু সুবিনয় রায়। ধর্ম বিশ্বাসে হিন্দু।আর্থিকভাবে স্বচ্ছল।রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। পরিবার পরিজন নিয়ে মোটামুটি সুখেই আছে। কারো সাথে দ্বন্দ্ব নেই, দ্বন্দ্ব সংঘাতে যাওয়ার ইচ্ছা বা ক্ষমতাও নেই তার। পাড়ায় তার মুসলমান বন্ধু আছে, তাদের বাড়িতে যাতায়াতও আছে। হঠাৎ কোন এক অজানা কারনে পুরো হিন্দু পাড়াটা লুটপাট হলো, গোটাবিশেক বাড়ি পুড়লো, কিছু মানুষ আহত হলো। ঘটনা তদন্তে দেখা গেল যে কিছু মুসলমানের ধর্মীয় রক্ষণশীল অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে এলাকার কোন ধূর্ত নেতা এই লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে মুসলমানদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠার চেষ্টা করেছে। সেই সাথে লুটের মালও কিছু হাতিয়ে নিয়েছে।

ঘটনা তিন

এবার ধরা যাক সরকার নতুন বাজেট ঘোষণা করল। বিশাল উন্নয়ন বাজেট। ছয় লেনের হাইওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার,....। প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট জিডিপির আট শতাংশ অথচ শিক্ষায় চার এবং কৃষিতে তিন। নিওলিবারেল পলিস এ্যডপ্ট করার কারনে বেসরকারিখাতে প্রচুর ঋণ প্রবাহ ঘটিয়ে বেসরকারি খাত চাঙ্গা করা হলো। জায়ান্ট কোম্পানিগুলো ছোট কোম্পানিগুলোকে বাজার থেকে হটিয়ে নিজেদের মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধি করতে থাকলো। এসব কোম্পানির মালিক /পরিচালকেরা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকলো রাজনীতি, অর্থনীতি এমনকি সমাজনীতি। বাড়তে থাকলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম, শিক্ষা, ভ্রমণ ও চিকিৎসা ব্যয়। গড়ে উঠতে থাকলো সুপার শপ ও শপিং মল। রাস্তায় প্রাইভেট কার বাড়লো এবং অবলুপ্ত হতে থাকলো রাস্তার পাশের কম মূল্যের দোকানগুলো।

ঘটনা চার
আমার এক বন্ধু কোন প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাস করেনা। নাস্তিক। ফেসবুকে, ব্লগে লেখালেখি করে।সেসব লেখায় ধর্মের ভেতরকার অসামঞ্জস্যতা এবং যুক্তিহীনতাকে সমালোচনা করে। সে স্বপ্ন দেখে একটা সেকুলার রাজনীতি, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। সে দেশের ক্রমবর্ধমান মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের প্রবল সমালোচক এবং এসবের জন্য ধর্মকে খানিকটা দায়ী মনে করে। একদিন রাস্তায় কেউ তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। প্রশাসন, সরকার, আমজনতা সবাই নিষ্ক্রিয় থাকে এই হত্যাকাণ্ডে।

উপরের ঘটনাগুলোর কোনটাই একটার চাইতে অন্যটা কম গুরুত্ব এবং তাৎপর্যপূর্ণ নয়। প্রথম ঘটনার প্রথম এপিসোডে আমরা দেখছি গরীব এবং ক্ষমতাহীনের উপর ক্ষমতাবানের ক্ষমতা প্রদর্শন।এটা সাধারণত ধর্মনির্বিশেষে সারা বাংলাদেশেই ঘটে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় এপিসোডে দেখছি আইন ক্ষমতাওয়ালাদের হাতের খেলনা এবং যার হাতে ক্ষমতা সেই করে ক্ষমতার অপব্যবহার। দ্বিতীয় ঘটনাটাকে বলা যায় সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কৌশল। এখানে সাম্প্রদায়িকতা এবং অপরাজনীতি একসাথে মিশে এক্সপ্লোসিভ রূপ ধারণ করেছে। তৃতীয় ঘটনায় আমরা দেখি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের উদাসীনতা এবং ধনীদের প্রতি পক্ষপাত। বিরাট সম্পদবৈষম্য সৃষ্টি করে গরীবদেরকে ধনীদের পুঁজির দাস বানিয়ে ফেলার কৌশল। চতুর্থ ঘটনাটা সরাসরি বাকস্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা এবং জীবনের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি।এটা মৌলবাদ দ্বারা অনুপ্রাণিত ও সেক্টরিয়ান রাজনীতির ফলাফল।

চারটা বিশেষ ঘটনা দিয়ে কয়েকটা সমস্যার কথা বললাম মাত্র। এর বাইরে আরো হাজার সমস্যা রয়েছে : নারী ও শিশু নির্যাতন, পরিবেশ ধ্বংস, প্রশ্নপত্র ফাঁস, খাদ্যে ভেজাল,দুর্নীতি,বিচারহীনতা.....এরকম অন্তহীন।

ফেসবুক বা ব্লগে যারা লেখালেখি করেন তাদের প্রত্যেকের পক্ষে এরকম অন্তহীন ঘটনারাশির প্রত্যেকটা নিয়ে আলাদা আলাদা করে লেখা সম্ভব নয়। সকলের সব বিষয়ে আগ্রহ বা জানাশোনা এবং বোঝাপড়া থাকেনা।ধরা যাক দেশে যখন বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে খুব উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তখন আমি একদিন ফেসবুকে রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসে নায়িকাদের সৌন্দর্য বিষয়ক একটা লেখা পোস্ট করলাম। এখন এর মানে কী এই যে দেশের বন্যাদুর্গত মানুষদের নিয়ে আমার কোন উদ্বেগ নেই। কিংবা ধরা যাক দেশে যখন সুন্দরবন রক্ষার জন্য আন্দোলন চলছে তখন কেউ একজন দেশে মুক্তচিন্তার পরিবেশ সংকীর্ণ হয়ে আসা নিয়ে একটা লেখা পোস্ট করলো। তার মানে তো এই নয় যে সে পরিবেশ নিয়ে একদমই ভাবছেনা বা সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে গেলেও তার কিছু যায় আসেনা।বিভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন আগ্রহের বিষয় থাকে।সকলের স্বার্থও অভিন্ন নয়। হতেও পারে যে লোকটা সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রবলভাবে উচ্চকিত কন্ঠ্য, সেই লোকটা আবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে। কিন্তুু সেই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু না জেনে তাকে বিভিন্ন নেতিবাচক শব্দ দিয়ে ট্যাগ দেওয়া উচিত নয়।আবার কেউ সরকারের কোন একটা নীতির সমর্থক বলেই তাকে আওয়ামীলীগের দালাল, সাম্রাজ্যবাদের দোসর...ইত্যাদি অভিধা দিয়ে একেবারে বাতিল করে দেওয়াও ঠিক নয়। আগে তাদের সম্পর্কে বোঝাপড়াটা দরকার। দুম করে কাউকে এভাবে বাতিল করে দিতে থাকলে একসময় সবাই বাতিলের খাতায় চলে যাবে।

যেকথা বলার জন্য এতো কথা লেখা এবার সেই কথায় আসি। ব্লগে এবং ফেসবুকে সবচেয়ে বেশী গালিগালাজ খায় নাস্তিক এবং নাস্তিকঘেঁষা লেখকেরা। এবং আমি দেখেছি তাদেরকে প্রায়ই এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় - " দুনিয়ায় আর কোন বিষয় নেই, আর কোন সমস্যা নেই? সবসময় ধর্ম নিয়ে কেন লিখতে হয়? সব সমস্যার মধ্যে কেন ধর্ম টেনে আনেন?" ইত্যাদি ইত্যাদি।

উপরের চারটি ঘটনায় যে কয়েকটা সমস্যার কথা বলেছি তার মধ্যে থেকে নাস্তিক ধরনের লেখকেদের বেশিরভাগই হয়তো দ্বিতীয় এবং চতুর্থ ঘটনা নিয়ে লিখবেন। কারণ ওই দুটো ঘটনাতেই ধর্ম জড়িত। এবং বাকী বিষয়গুলো নিয়ে না লিখে শুধু যে ঘটনায় ধর্ম জড়িত সেই ঘটনাগুলো নিয়ে লেখার কারনেই অনেকে নাস্তিক লেখকদের প্রতি আপত্তি ও প্রশ্ন তোলেন। তো প্রশ্ন আমরা তুলতেই পারি। কিন্তুু কে কী লিখবেন সেটা আমরা ঠিক করে দিতে পারিনা। আবার এই সিদ্ধান্তেও আসতে পারিনা যে নাস্তিকেরা শুধু ধর্ম সম্পর্কিত বিষয় নিয়েই আগ্রহী। তাদের গরীবের প্রতি কোন মায়া নেই, দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতি কোন দৃষ্টি নেই, পরিবেশের প্রতি কোন খেয়াল নেই। হয়তো আছে, কারো কারো সব বিষয়ে সমান খেয়াল নাও থাকতে পারে। আমরা সেটা জানিনা। এবং না জানা পর্যন্ত কারো বিষয়ে কোন স্থির সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবেনা। কে কোন বিষয়ে লিখছেনা তা দিয়ে তাকে বিচার না করে কেউ যে বিষয়ে লিখছে তাই দিয়ে বিচার করা শ্রেয়। আর সত্যি বলতে কী, দেশে সব বিষয়ে হাজার হাজার এমনকি লক্ষ লক্ষ লেখক পাওয়া যায়। কিন্তুু যখনই কোন বিষয়ের বিশ্লেষণে ধর্ম এসে পড়ে তখন সেই বিষয়ে আমরা আশ্চর্য নীরবতা লক্ষ্য করি। নাস্তিক লেখকদের সব বিষয়ের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সঠিক নাও হতে পারে। কিন্তুু তারা হচ্ছে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ লেখকদের মধ্যে সেই বিরল প্রজাতির লেখক যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুইচারটা ঝুঁকিপূর্ণ কথা লেখেন। এবং সেই লেখা অনেকটা সত্য ধারণ করে। সুতরাং ওরা যা লিখছে তাই লিখতে দিন। অনেকের লেখা পড়ে আমার ধারণা হয়েছে যে ওইসব বিষয়ে ওদের প্রচণ্ড লেখাপড়া আছে, একেবারে এক্সপার্ট বলা যায়। তাদের লেখা আমাকে আপনাকে আহত করতে পারে কিন্তুু ওরা খুব নিষ্ঠা আর শ্রম দিয়ে এক একটা লেখা তৈরী করে।কাটা গলা নিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকার চাইতে একটু ভালো সম্মান তারা ডিজার্ভ করে।

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

মজার ব্যাপার কি জানেন? নাস্তিকদের লেখার বিষয় নিয়ে ধার্মিকরা যেমন প্রশ্ন তোলে, একইভাবে প্রশ্ন তোলে বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীরাও। এদের মধ্যে অন্তত এই একটা বিষয়ে দারুন মিল দেখা যায়। কোন লেখক কি নিয়ে লিখবে এটা লেখকের নিজস্ব বিষয়। এই সত্যটা আমাদের বাম যুথিষ্ঠরাও মানতে চাননা।

 
সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
 

নাস্তিকদের ভালো মন্দ নিয়ে সকলের কত চিন্তা!

কোন এক বোধ কাজ করে মাথার ভেতরে

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুবিনয় মুস্তফী
সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
Offline
Last seen: 22 ঘন্টা 3 min ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 4, 2016 - 4:58অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর