নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • মহক ঠাকুর
  • সুপ্ত শুভ
  • সাধু পুরুষ
  • মোনাজ হক
  • অচিন্তা দত্ত
  • নীল পদ্ম
  • ব্লগ সার্চম্যান
  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান

আপনি এখানে

শান্তির ধর্ম ইসলামে ১৪৫০ বছর আগের রক্ত।



আমরা যখনই ইসলামের শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা জানতে ইসলামের ইতিহাস পড়ি তখনি দেখতে পায় সেই শুরু থেকেই এই একটি মাত্র শান্তির ধর্মে আছে শুধুই যুদ্ধের কথা। এতো পরিমান যুদ্ধ আর মানুষ হত্যা আছে এই ধর্মটিতে যা একটু ভালোভাবে জানলে মনে হয় এটা আসলে কোন ধর্ম নয় এটা একটা রাজনৈতিক সংগঠন যার প্রধান এবং মুখ্য উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়ভীতি আর লোভ দেখিয়ে এই ধর্ম গ্রহন করানো। আর যারা তাতে রাজী হতেন না তাদের অবস্থান হতো তলোয়ার এর নিচে। জিনি এই ধর্মের প্রধান প্রচারক ছিলেন তার নামে আমরা যে ইহুদী বুড়ির রাস্তায় কাটা দেওয়া আর মুসলমানদের উপরে ইহুদীদের নির্যাতনের কথা শুনি সেই সূত্র খুজতে গেলে একটু অবাকই হতে হয় আমাদের। কারন এরকম কোন কথা আমরা আসলে ইসলামের ইতিহাসে পাই না বরং খুজে পাই উহুদের যুদ্ধ, বদরের যুদ্ধ, খাইবার যুদ্ধ, বনু কোরাইজাদের উপরে আক্রমন, আবিসিনিয়ার যুদ্ধ, উবাইদা ইবনে হারিসের যুদ্ধ, বুয়াত অভিযান, উশাইরা অভিযান, সাদ ইবনে আবী অভিযান, সাফওয়ান অভিযান, যূ-আমার অভিযান, বাহরানের ফুর অভিযান, সহ পরবর্তিতে আরো শত শত যুদ্ধের কথা যা বলে শেষ করা যাবে না। সবই যে ছিল ধর্মযুদ্ধ তা কিন্তু নয়। যে কেউ নিরাপেক্ষভাবে এসব ঘটনা বিচার বিশ্লেষন করলে দেখতে পারবে বর্তমান যুগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে এর কোন পার্থক্য নেই। আবার শুরুর দিকে তাদের প্রধান সেনাপতি যুদ্ধের ডাক দিলেই যে সমস্ত মুসলামান আল্লাহু আকবার বলে ঝাপিয়ে পড়তো তাও না। এর জন্য আল্লাহ তালার প্রয়োজন পড়েছে অনেক আয়াত নাজিল করার।

আল্লাহ কোরানের বানীতে মুসলিমদের এই সমস্ত যুদ্ধে যাবার জন্য আগ্রহী করে তুলতে যখন যেভাবে প্রয়োজন ছিলো নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর চাহিদা অনুযায়ী তখন সেই সমস্ত আয়াত নাজিল করেছেন। যখন মিষ্টি কথায় কাজ কম হয়েছে তখন দেখানো হয়েছে দোজোখের বা জাহান্নামের আগুনের ভয়। আর পরাজিত হয়ে মৃত্যুবরন করলে আজীবন বেহেশতের মতো কোনো কাল্পনিক জগতের গল্প আর সেই সাথে বিজয়ী হলে পরাজিতদের ধন সম্পদ গনিমতের মাল ভোগ করার অধিকার। এর আগে তো অনেক যুদ্ধের কথা আমরা শুনেছি ইসলামের শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে। আজকে ছোট্ট করে উহুদ যুদ্ধের কথা জানাবো। কারন বেশি বা বিস্তর যদি জানাতে যায় তাহলে আবার কারো কারো অনুভূতি আহত হতে পারে। এশিয়ার নিন্ম মানের দেশগুলোর মধ্যে যারা ইসলামকে তাদের প্রধান ধর্ম ও রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে মানে যেমন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এই সমস্ত দেশের মানুষের এখন অনুভূতি প্রচন্ড বেশি। তারা এই ধর্মটি সম্পর্কে কিছু জানুক আর না জানুক এই ধর্ম রক্ষা করতে নাঙ্গা তলোয়ার হাতে নি্যে ঝাপিয়ে পড়ে। এখানে অবশ্য বলতে হবে যারা এভাবে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের কিন্তু আসলে কোন দোষ নেই। কারন এদের ব্রেন অন্য যায়গাতে ওয়াশ করা হয়েছে।

আজ থেকে ১৪৪২ বছর আগে ৩ হিজরির ৭ শাওয়াল (২৩ মার্চ ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে) বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা শহরের ঠিক উত্তরে উহুদ পর্বত সংলগ্ন স্থানে সংঘটিত হয়েছিলো একটি পুর্ব পরিকল্পিত যুদ্ধ যা ইসলামে আজো উহুদের যুদ্ধ বলে প্রচার করা হয়। এই যুদ্ধের কথা বলে সাধারন ধর্মপ্রান মুসলিম জাতির মানুষের ব্রেন ওয়াশ করে চলেছে একশ্রেনীর ধর্ম ব্যাবসায়ী যাদের আসল উদ্দেশ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করা না। সবচেয়ে অবাক করার মতো ব্যাপার হচ্ছে মদিনার নব্য তৈরি হওয়া মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়ছিলো। নব্য তৈরি হওয়া বলতে এই যুদ্ধ যখন হয় তখন শুধু মদিনার এই যোদ্ধাদলটি ছাড়া পৃথিবীর কেউ জানতো না ইসলাম বলে কোন ধর্ম আছে। কারন এই যুদ্ধের সর্বোচ্চ ১৫ বছর আগে থেকে নবী মুহাম্মদ তার আল্লার বানী প্রচার করতে থাকেন যখন তার বয়স ছিলো ৪০ বছর। এই দুই পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন যথাক্রমে মুহাম্মাদ (সাঃ) ও আবু সুফিয়ান। ইসলামের ইতিহাসে সংঘটিত প্রধান যুদ্ধসমূহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় যুদ্ধ হিসেবে আজো পরিচিত। এর পূর্বে ৬২৪ সালে এই দুইপক্ষের মধ্যে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং তা চলমান ছিলো। বদরের যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মক্কার পক্ষ থেকে এই যুদ্ধের সূচনা করা হয়েছিল। যুদ্ধযাত্রার খবর পাওয়ার পর মুসলিমরাও তৈরী হয় এবং উহুদ পর্বত সংলগ্ন প্রান্তরে আসে এবং এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

এখানে সব থেকে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এই যুদ্ধটি যাদের সাথে সংগঠিত হয় তারা কিন্তু ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পুর্বপুরুষেরই বংশের লোক ছিলো যাদের আমরা কুরাইশ বংশ বলে থাকি। যদিও এই যুদ্ধে দুই দলের কেউই জয়ী হতে পারেন নাই। মুহাম্মদ (সাঃ) এর বানানো ইসলাম ধর্ম নামের যোদ্ধা দল তখন ছিলো খুব ছোট একটি দল এই কুরাইশদের কাছে। কারন উহুদের যুদ্ধ যখন শুরু হয়েছিলো তখন মুসলিম দলে ছিলো ৭০০ পদাতিক যোদ্ধা ও ৫০টির মতো তীরন্দাজ। অপরদিকে কুরাইশদের দলে অর্থাৎ আবু সুফিয়ান এর দলে ছিলো প্রায় ৩০০০ হাজার পদাতিক যোদ্ধা ও ২০০ তীরন্দাজ। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুহাম্মদ এর দলের ৭০ জন নিহত হবার পরে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং পিছু হটতে থাকেন। অপরদিকে কুরাইশদের দলের ২২ জন বা মতান্তরে ৩৭ জন যোদ্ধার মৃত্যুর পরে দেখতে পান মোহাম্মদের দল পিছনে যাচ্ছে। এই দেখে কুরাইশরা ভেবে নিয়েছিলো এরা মনে হয় আগামীতে আর আক্রমন করবে না তাই তারা মক্কায় ফিরে এসেছিলো।

বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের একটি বই যার নাম সিরাত ইবনে হিশাম মূল-ইবনে হিশাম যার অনুবাদ করেন আকরাম ফারুক নামের কেউ যার (ISBN – 984-31-0614-8) সেই বইতে উল্লেখ আছে সেসময়ের আরবের মানুষেরা ছিলো একেবারেই মুর্খ ও অশিক্ষিত। তারা এটাও জানতো না যে ইতিহাস কাকে বলে। তাদের সময়ের পুর্বে হাজার হাজার বছর ধরে লোহিত সাগরের ওপারেই যে ছিলো বিশাল মিশরীয় সাম্রাজ্য যেখান থেকে অনেক কিছুই আজকের ইসলামে এসেছে সেটা সম্পর্কে তাদের কনো ধারনাও ছিলোনা। ইতিহাস বলতে এরা জানতো শুধু তাদের বাপ দাদার মুখে শোনা কিছু গল্প ও কেচ্ছা। তাইতো এই জাতির মাথায় খুব সহজে ইসলামের সকল বিষয় ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিলেন নবী মোহাম্মদ (সাঃ)। এই জাতীয় শত শত যুদ্ধ ছাড়াও আরো অনেক ইতিহাস আছে যেখানে প্রমানিত হয়েছে ইসলামের বর্বরতা যার সাথে শান্তির কোন মিল খুজে পাওয়া যায় না। পরবর্তিতে মক্কা বিজয়ের পর যারা একদিনের জন্যও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বলা ও তৈরি করা পথে চলেননি তাদের গর্দানে তলোয়ার ধরে ইসলাম গ্রহন করানো হয়েছে। যারা একটু অর্থ সম্পদের মালিক ছিলো তাদের বলা হলো ইসলাম গ্রহন না করলে চাদা দিতে হবে যার আরেক নাম জিজিয়া কর। এই পদ্ধতি একবার চালু হবার পরে আর আরবের মতো একটি যায়গায় এই ইসলাম নামের রাজনৈতিক দলকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।

এই যে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাই বলে কিন্তু আজ আমরা পিছনের দিকে একটু নজর দিয়ে দেখবো না তা কিন্তু হতে পারেনা। কারন যেই ধর্মে এতো শান্তি আর সেটা কোথা থেকে আসলো তা আমাদের একটু খুজে দেখতে হয়। সেই সময়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আল্লা ইসলামের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে যে সব বানী পাঠিয়েছিলেন সেসব বানীর কারনে ইসলামের হাতে যে রক্ত তখন লেগেছিলো তা কিন্তু আজ ১৪৫০ বছর পরেও ইসলামের পক্ষে ধুয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। কারন আজকের দিনের আল-কায়েদা, বোকো হারাম, আইএসআইএস, তালেবান, আনসারুওল্লাহ এসবই কিন্তু সেই রক্তের নমুনা। আজকের দিনের বা বর্তমান যুগের সাধারন ধর্মপ্রান মানুষেরা কিন্তু কেউ চাইবেনা যুদ্ধ করতে, বা মানুষ মারতে। যেমন নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময় তারাও চাইনি। তাই তাদেরকে জান্নাত আর জাহান্নামের গল্প বলা হয়েছিলো। বর্তমানে আল্লাহু আকবার বলে কোন জঙ্গী যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মানুষ হত্যা করে তখন যারা বলে এরা প্রকৃত মুসলিম না তাদের বলবো আপনারা ভালো করে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানুন। আরবী ভাষায় হিং টিং সট বলে কিছু একটা বলে আপনাকে যাতে কেউ ভূগোল বোঝাতে না পারে। যতটুকু মানবেন তা বুঝে মানার চেষ্টা করুন তাহলে হয়তো প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবেন।

---------- মৃত কালপুরুষ
১৮/১১/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 8 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর