নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কাঠমোল্লা
  • নুর নবী দুলাল
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • চিত্রগুপ্ত
  • মৃত কালপুরুষ
  • অ্যাডল্ফ বিচ্ছু
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

আমির খানঃ মিড লেভেল পলিটিক্সের আঙ্গিনায় এক অসাধারণ জননায়ক


মোহাম্মদ আমির হোসেন খান (জন্মঃ মার্চ ১৪, ১৯৬৫) একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্য লেখক এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। হিন্দি চলচ্চিত্রে সফল কর্মজীবনের মাধ্যমে, আমির ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিনেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভিনয়ের প্রতি তার নিষ্ঠা এবং নিখুঁত অভিনয় করার প্রতি
তার আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে তিনি মিঃ পারফেকশনিস্ট হিসাবে তার ভক্তদের কাছে পরিচিত।

কিন্তু সিনেমায় নায়ক হিসাবে অভিনয়ের বাইরেও তার অন্য একটা জীবন আছে। আর তা হচ্ছে ভারত রাষ্ট্রের একজন সাধারণ সচেতন নাগরিকের জীবন। অন্য দশজন ফিল্মস্টারের মত তিনি তার চিন্তা জগৎকে সিনেমার রুপালি জগতের চার দেয়ালের ভিতর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যে বেঁধে রাখেন নি। মানুষের দুঃখ কষ্ট, দেশের সমস্যা, আমজনতার সমস্যা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেন নি। সাধারণ মানুষের কষ্ট তাকে পীড়িত করে, সাধারণ মানুষের আবেগ তাকে আপ্লুত করে। তিনি তার পরিবার এবং ক্যারিয়ারের বাইরেও দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন, ভাবেন। আর দশজন চিন্তাবিদের মত শুধু চিন্তা করেই কিংবা পত্রিকায় কলাম লিখেই তিনি তার দায়িত্ব সেরে ফেলেন না। দেশ ও মানুষের সমস্যাসমুহ সমাধানের লক্ষ্যে তিনি এগিয়ে আসেন, তার স্বভাবসুলভ ব্যতিক্রম চিন্তাধারা ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আর তার এই কর্মপদ্ধতিই আজকের যুগের এক নতুন রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে পরিপুষ্ট করছে। সেই রাজনৈতিক ধারার নাম হল মধ্যবর্তী রাজনীতি বা মিড লেভেল পলিটক্স। তাই আমির খানের কর্মকান্ড সম্পর্কে আরও জানার আগে আসুন মিড লেভেল পলিটিক্স নিয়ে একটু জেনে নেই।

বর্তমান পৃথিবীতে রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করার এবং তাকে জনকল্যানমুখী করার নিমিত্তে এক নতুন ধারণা তৈরি হচ্ছে, আর তা হচ্ছে মিড লেভেল পলিটিক্স। পলিটিক্স বলতে সাধারণত বুঝানো হয় এক বা একাধিক রাজনৈতিক দল গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম নীতি প্রণয়ন করা এবং সরকার গঠনের মাধ্যমে তা প্রয়োগ করা। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে যা সচরাচর হয়ে আসছে। কিন্তু এর একটা সমস্যাও আছে। এই পদ্ধতিতে রাষ্ট্রের সকল নাগরিককে রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার করা যায় না। অনেক দিন পর পর নির্বাচন এলে ভোট গ্রহণের এর মাধ্যমে নাগরিককে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে যুক্ত করা হয়। কিন্তু ভোটের পরই নাগরিকগণ তাদের আপন ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে যান আর রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টি কতিপয় রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতা-কর্মীদের এক্তিয়ারে থেকে যায়।

এতে যে সমস্যাটা তৈরি হয়, রাষ্ট্র অনেক জনকল্যাণমুখী আইন তৈরি করেও জনগণের অজ্ঞতা বা অসহযোগিতার কারণে তা বাস্তবায়ন করতে পারে না। আবার উল্টোদিকে জনগণের এই অসচেতনতার কারণে বা নিষ্ক্রিয়তার কারণে গণমানুষের জন্য ক্ষতিকর অনেক আইন রাষ্ট্র প্রণয়ন করতে পারে যার ফলে সাধারণ নাগরিককে অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে হয়। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এই কথাটা শুধুমাত্র কথার কথা হিসাবেই থেকে যায়। বাস্তবে রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্রের আজ্ঞাবহ দাস হয়েই নাগরিকদের জীবন অতিবাহিত হয়। এমনই এক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে এক নতুন ধারার রাজনীতির চর্চা শক্তিশালী হচ্ছে। এটা হল মধ্যবর্তী রাজনীতি বা মিড লেভেল পলিটিক্স। এই রাজনীতির মূল কারিগর এবং কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে জনগণ।

এই রাজনীতির মূল কথা হল নাগরিক সে যে পেশারই হোক না কেন, যে ধর্মেরই হোক না কেন, যে লিঙ্গেরই হোক না কেন তাকে কোন না কোন রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্রের আইন কানুন নিয়ে কথা বলতে হবে,আইনের সঠিক প্রয়োগে সহায়তা করতে হবে। রাষ্ট্রীয় কাজে নজরদারি করতে হবে। কোন জনবিরোধী আইন তৈরি হলে বা জারি থাকলে তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে হবে আবার কোন আইন নতুন করে তৈরি করতে হলে তার জন্যও সক্রিয় হতে হবে। এই কাজগুলো করতে হবে রাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বতঃস্ফর্ত ভাবেই, নিজের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক আর দশটা কাজের মত করেই রাষ্ট্রীয় এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে। আর তা করতে হবে সব ধরণের রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ার বাইরে থেকে। কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন না করেই রাষ্ট্রের পলিসি নির্ধারণের প্রক্রিয়াকেই মিড লেভেল পলিটিক্স হিসেবে ধরা হচ্ছে।

মিডলেভেল পলিটিক্স সাধারণত দুইভাবে করা যায়। এক হচ্ছে, দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের জনগন কোন এক বা একাধিক ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করা যেন সেই ইস্যুগুলোর একটা সুরাহা হয়। এই ধরণের কর্মকান্ডকে বলা হয় প্রেশার গ্রুপ এক্টিভিটি। (যেমন ট্রেড ইউনিয়ন, সিবিএ,পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কনজিউমারস এসোসিয়েশন ইত্যাদি ) আরেকটা পদ্ধতি হচ্ছে, কোন একজন ব্যক্তির উদ্যোগে এমন কিছু কর্মকান্ড পরিচালনা করা যেন রাষ্ট্রের অবস্থিত আইনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন করা যায় কিংবা সেই আইন বাতিল হয়ে যায়। অর্থাৎ, কোন একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে আরো হাজারও মানুষ উদ্বুধ হবে, কোন এক বা একাধিক নাগরিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে এবং রাষ্ট্রকে সেই সমস্যা সমাধানে বাধ্য করবে। মোট কথা হচ্ছে, কোন নির্দলীয় ব্যক্তি বা সংগঠন বা সংগঠনসমুহ দ্বারা যদি একটি রাষ্ট্রের পলিসি নির্ধারণ, পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যায় এবং তা প্রয়োগে রাষ্ট্রকে বাধ্য করা যায় তবে তাকে মিড লেভেল পলিটিক্স এর অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

(বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন https://www.istishon.com/?q=node/21579 )

আর ঠিক এই জায়গাতেই চিত্রনায়ক আমির খানের নামটা এসে যায়। ভারত রাষ্ট্রে অবস্থিত অসংখ্য সমস্যা সংকটকে চিনহিত করে সেই সমস্যাগুলোকে পর্যায়ক্রমে সমাধানের লক্ষ্যে তিনি একটা উদ্যোগ নেন। আর সেই উদ্যোগ হচ্ছে একটি বিশেষ ধরণের টিভি প্রোগ্রাম সম্প্রচার করা যেখানে অনুষ্ঠানের মূল চিন্তক, প্রযোজক, এবং উপস্থাপকের দায়িত্ব তিনি পালন করেন। তার এই প্রোগ্রামের নাম হচ্ছে, “সত্যমেব জয়তী”, যার অর্থ হল “সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী”। তার এই উদ্যোগে তার সাথে আরও চারজন মানুষ মূল উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর তারা হলেন,

কিরন রাও – আমির খানের স্ত্রী এবং এই প্রোগ্রামের অন্যতম পরিকল্পনাকারী
সত্যজিত ভাটকল – প্রোগ্রামের পরিচালক
স্বাতী চক্রবর্তী – সহ পরিচালক ও হেড অফ ফিল্ড রিসার্চ
ল্যান্সি ফার্নান্দেজ – হেড অফ রিসার্চ

এই অনুষ্ঠানটি তারা ভারতের প্রথম সারির একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেল(স্টার টিভি) এবং সরকারী টিভি(দূরদর্শন) ও রেডিও চ্যনেলে(আকাশ বাণী) একযোগে প্রচার করেন। যা এর আগে কখনো হয় নি। দেশে এবং দেশের বাইরের প্রায় ৫৫ কোটি দর্শক আমিরের এই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে পুরো ভারত জুড়ে যে আলোড়ন তৈরি হয় তা এক কথায় অভূতপূর্ব, অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য। একেকটি সমস্যা নিয়ে নির্মিত একেকটি পর্ব প্রচারিত হওয়ার পরেই দেশের জনগণ দারুনভাবে সক্রিয় হয়ে যান। তারা রাস্তায় মানব বন্ধন করেন, মিছিল করেন, আলোক প্রজ্জলন করেন, বিক্ষোভ সমাবেশ করেন, ফেসবুক-টুইটারে প্রচুর লেখালেখি করেন এবং প্রচলিত রাজনৈতিক দলের নীতি নির্ধারকদের উপর ও সরকারী কর্মকর্তাদের উপর ব্যাপক প্রেশার সৃষ্টি করেন। এই অনুষ্ঠানের প্রভাব জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উপর এতো বেশি পরিমাণে ছিল যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারী সভায় ও বিভিন্ন রাজ্যের সংসদীয় কমিটিগুলির মিটিং এ একাধিকবার আমির খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয় তার মতামত ও সুপারিশ ব্যক্ত করার জন্য। শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও অনুষ্ঠানে প্রচারিত অসঙ্গতিগুলি দূর করতে ও উত্থাপিত সমস্যাগুলির সমাধানকল্পে আমিরের সাথে বিশেষ বৈঠক করতে দেখা যায়। যার ফলশ্রুতিতে ভারতে অনেকগুলি আইন সংশোধন হয়, অনেকগুলি নতুন আইন তৈরি হয় এবং অনেক সাধারণ নাগরিক যারা আগে কখনো নাগরিক অধিকার বিষয়ক আন্দোলনে যুক্ত থাকেন নি তারা সক্রিয় হন এবং দেশ ও মানুষের কাজে এগিয়ে আসেন। আর এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধাণত আমির খান এবং তার “সত্যমেব জয়তী” টিমের কল্যাণে। আসুন সংক্ষেপে দেখে নেই “সত্যমেব জয়তে” অনুষ্ঠানটি ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও জনগণের মনে কি মাত্রায় প্রভাব বিস্তার করেছিল।

সত্যমেব জয়তের প্রভাবঃ

- ৬ মে ২০১২ কন্যা ভ্রূণ হত্যা নিয়ে এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব প্রচারিত হওয়ার পরপরই সারা ভারত জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। গ্রামে-শহরে-স্কুলে-কলেজে হাজার হাজার মানুষ কন্যা ভ্রূণ হত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অনেক জায়গায় কন্যা ভ্রূণ হত্যার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এমনকি গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে লক্ষ মানুষের শপথ গ্রহণও অনুষ্ঠিত হয়। হরিয়ানা রাজ্য সরকার কন্যা ভ্রূণ হত্যা রোখার জন্য একটি হেল্প লাইন চালু করেছে। উত্তর ভারতের ২০০ জন জনপ্রতিনিধি একত্রিত হয়ে একটি বিশাল সম্মেলন করেন এবং সেখানে প্রথম বারের মত কন্যা ভ্রূণ হত্যা নিয়ে আলোচনা হয় এবং এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। মহারাষ্ট্রে বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান চালিয়ে কন্যাভ্রুন হত্যাকারী ডাক্তারদের গ্রেফতার করা হয়। মধ্যপ্রদেশ সরকার লিঙ্গ পরীক্ষা করা হয় এমন ৬৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করে দেয়া হয়। রাজস্থানের মুখ্য মন্ত্রী ভ্রূণ হত্যার সাথে জড়িত ডাক্তারদেরকে দমন করা ও উপযুক্ত বিচারের মুখোমুখি করার জন্য একটি দ্রূত বিচার আদালত গঠন করেন।

- শিশুদের যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে যে পর্ব প্রচারিত হয় তা দেখার পরে ছত্তিসগড় রাজ্য সরকার রাজ্যের দুইলক্ষ শিক্ষককে শিশুদের যৌন উৎপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়ার সিদ্দান্ত নেয়া হয়। শিশুদের উপর যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে একটি পর্ব প্রচার হওয়ার দুই সপ্তাহর মধ্যে ভারতীয় পার্লামেন্ট দেশের প্রথম “Child Protection from sexual abuse” বিলটি পাশ করেন যা এর আগে বহুদিন ধরেই ঝুলছিল।

- ওষুধের উচ্চ মূল্য এবং দুঃষ্প্রাপ্তির উপর একটি পর্ব প্রচারিত হয়। সেখানে বিভিন্ন কোম্পানীর ব্র্যান্ডেড ওষুধের পাশাপাশি জেনেরিক ওষুধ সহজলভ্য করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়। এই পর্ব প্রচারের পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের সকল সরকারি হাসপাতালে পুরো বছর জুড়ে জেনেরিক ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয়। ছত্তিসগড় রাজ্য, মহারাষ্ট্র রাজ্য এবং উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। পাশাপাশি ভারতের পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির একটি সভায় জেনেরিক ওষুধ কিভাবে দেশে সহজলভ্য করা যায় সে ব্যাপারে নিজের মতামত রাখার জন্য আমির খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মধ্যপ্রদেশ সরকার রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও থানায় জেনেরিক ওষুধের দোকান খোলার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে।

- প্রতিবন্ধী শিশুদের পড়ালেখার ব্যাপারে একটি পর্ব প্রচারিত হয়েছিল যাতে এমন একটি স্কুলের উপর প্রতিবেদন দেখানো হয়েছিল যেখানে সাধারণ শিশু আর প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে সফলভাবে একইসাথে শিক্ষা দেয়া হয়। এই পর্ব প্রচারের পর দিল্লীর যে স্কুলের উপর প্রতিবেদন দেখানো হয়েছিল সেই স্কুলের প্রধাণ শিক্ষকের কাছে প্রায় ৫২০টি চিঠি আসে। সেই চিঠিগুলো আসে ২১ টি রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের পক্ষ থেকে যেখানে কিভাবে একটি সাধারণ স্কুলে প্রতিবন্ধী শিশুদের একইসাথে শিক্ষা দেয়া যায় সে ব্যাপারে সহায়তা চাওয়া হয়। গোয়ালিয়র জেলা প্রশাসক এই সিদ্ধান্ত নেন যে তার জেলার সকল সাধারণ স্কুলে প্রতিবন্ধী শিশুদের ভর্তি ও শিক্ষাদানের উপযুক্ত করা হবে। শুধু স্কুল কর্তৃপক্ষ বা সরকারি কর্মকর্তা নয়, রাশিয়া প্রবাসী এক যুবক জানান যে তিনি তার দীর্ঘ প্রবাস জীবনে যে পরিমাণ টাকা জমিয়েছেন তা নিয়ে দেশে ফিরে আসতে চান এবং দিল্লীর স্কুলের মত একটি স্কুল তিনি প্রতিষ্ঠা করতে চান।

- খাদ্যে রাসায়নিক সার ও বিষ প্রয়োগের কুফল সম্পর্কে একটি পর্ব প্রচারিত হয়। এই পর্ব প্রচারিত হওয়ার পরপরই পুরো ভারত জুড়ে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য গ্রাম-শহরে সাইকেল র্যালী অনুষ্ঠিত হয়, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু হয়। জুলাই মাস থেকে “India for safe food” নামে একটি ক্যাম্পেন শুরু হয় যার উদ্দ্যেশ্য ছিল খাবারে কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকটি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা। মধ্য প্রদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ তাদের পাঠ্যক্রমের কৃষি শিক্ষা অংশে বিষমুক্ত জৈব কৃষির উপর একটি অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মডেল অনুসরণ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জৈব কৃষির প্রসারের জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ছয়টা রাজ্যের মহিলাদেরকে জৈব কৃষির উপর ট্রেনিং দেয়া হবে এবং পরবর্তীতে পুরো দেশেই তা প্রণয়ন করা হবে।

- ধর্ষিতা নারীদের ধর্ষণ পরবর্তী আইনি জটিলতা নিয়ে একটি পর্ব প্রচারের পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি অধ্যাদেশ জারি করেন যেখানে ধর্ষণের শিকার নারীদেরকে নিয়ে কোন ধরণের আক্রমণাত্মক বা বিব্রতকর মেডিকেল টেস্ট না করার নির্দেশ দেয়া হয়।

- এই অনুষ্ঠানটির দর্শকদের কাছ থেকে ২২ কোটি তিরিশ লক্ষ টাকা অনুদান সংগ্রহ করা হয় এবং তা বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় দান করা হয়।

অনেক অনেক রাজনৈতিক দলের অনেক বড় বড় নেতারা যে কাজগুলি অনেকদিন ধরেও করতে পারেন নি তা করে দেখিয়েছেন একজন সিনেমার নায়ক একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। তার কর্মকান্ড দ্বারা পরিণত হয়েছেন জনতার নায়কে। এই নিরিখে আমির খানকে একজন সফল মিড লেভেল রাজনীতিক হিসাবে আখ্যায়িত করাই যায় এবং ভবিষ্যতের আরও অনেক মিড লেভেল রাজনীতিবিদদের পথপ্রদর্শকরুপে গণ্য হবেন তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। একটি সুখি ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে, অসাম্য ও ভেদাভেদ দূরীকরণে, রাষ্ট্রকে আরও গণতান্ত্রিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে এক নতুন ধারার রাজনৈতিক পদ্ধতি প্রচার ও প্রসারে আমিরের এই ভূমিকা নিশ্চয়ই দেশে দেশে মুক্তিকামী জনগণকে দিশা দেখিয়ে যাবে। ইতিহাসের পাতায় সিনেমার নায়ক আমির নন জনতার নায়ক আমিরের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে নিশ্চিতভাবেই। লাল সালাম আমির খান। সত্যমেব জয়তে...।

তথ্যসূত্রঃ

https://impact.21cf.com/features/satyamev-jayate---changing-a-n

https://www.youtube.com/watch?v=ojRPXTEAF78&t=2702s

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কান্ডারী হুশিয়ার
কান্ডারী হুশিয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 6 দিন ago
Joined: শুক্রবার, মার্চ 20, 2015 - 3:58অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর