নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

“নভেরা মানে নবজন্ম-নভেরা মানে মুক্তি”



ধ্রুপদী অ্যাক্টিং অ্যান্ড ডিজাইন স্কুলের প্রযোজনা মঞ্চনাটক “নভেরা”। এ যেন কোন নাটক নয়, বাস্তব জীবনের চালচিত্রের এক প্রতিফলিত রূপ। বাংলাদেশের ভাস্কর্য জগতে নভেরা আহমেদ এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের নাম। হাসনাত আবদুল হাই রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত “নভেরা”।
“নভেরা” মঞ্চনাটকের কলাকুশলী সম্পর্কে আংশিক পরিচিতিঃ
একক অভিনয় : সামিউন জাহান দোলা
উপন্যাস : হাসনাত আবদুল হাই
নাট্যরূপ ও গবেষণা : সামিউন জাহান দোলা
নির্দেশনা : সাজ্জাদ রাজীব
সহযোগী নির্দেশনা : সামিউন জাহান দোলা
নির্দেশনা ও গবেষণা সহকারি : সুরভী রায়
কবিতা ‘ব্যাট’ : অ্যানি স্যাক্সটন
কবিতা ভাষান্তর : উম্মে রায়হানা
আলোক পরিকল্পনা : ওয়াসিম আহমেদ
সেট ডিজাইন : সামিউন জাহান দোলা, সাজ্জাদ রাজীব
পোষাক ও কোরিওগ্রাফী : সামিউন জাহান দোলা
সহ আরোও অনেকেই...............

সকাল বেলা এক বন্ধুর তোড়জোড়ে ঘুম থেকে উঠলাম তড়িঘড়ি করে। ওয়ালেট হাতিয়ে দেখি দুই’টি টাকা মাত্র অবশিষ্ট আছে। তবুও নিত্য দিনের মতো বের হয়ে পড়লাম। সারাটা দিন দুই বন্ধু মিলে পুরান ঢাকা ঘুরে ক্লান্ত হয়ে এলাম শিল্পকলায়। এর মধ্যে খাওয়া দাওয়া বন্ধুর পকেট কাইটাই হজম করেছি। আগের দিনেই শুনেছি “নভেরা” মঞ্চায়ন হবে। তাই খুব ইচ্ছে হলো আজ দেখবোই যেমন করেই হোক। এর আগে দু’দুবার ব্যর্থ হয়েছি। তাই জেঁকে বসলাম আজ দেখবোই। বন্ধুকে বললাম কিন্তু সে পকেটের কথা আবারোও স্মরণ করিয়ে দিলো। সুতরাং হতাশ হওয়া ছাড়া কোন উপায় দেখছি না। বুদ্ধি এলো ম্যামের যেহেতু একক অভিনয়ের মঞ্চনাটক সেহেতু ম্যামকে একবার বললে কেমন হয়। তেমন ভাবনা তেমন কাজ। যদিও টিকিট না কেটে কখনো নাটক দেখিনি। ম্যামকে ফোন দিলাম।
দূরকথনঃ
: হ্যালো!
: ম্যাম, আসসালামু আলাইকুম।
: জ্বি
: ম্যাম, আজ তো নভেরা!
: জ্বি
: ম্যাম, টাকা তো নেই কিন্তু দেখবো!
: ও আচ্ছা আমার সাথে দেখা করুন, টাকা নিন, টিকিট কাটুন, নাটক দেখুন......
বেশ আনন্দিত হলাম। ম্যাম এর নাটক দেখবো তাও আবার ম্যামেরই টাকা দিয়ে। চলে গেলাম গ্রিনরুম। টাকা নিয়ে টিকিট কাটলাম। অপেক্ষা করছি দারুণ কিছু একটা দেখার জন্য। এই সময়ে বাকি বন্ধু এবং কামালউদ্দিন কবির স্যার এসে উপস্থিন সপরিবারে। আরোও বেশ খুশি হলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতীক্ষিত সময় উপস্থিত। উল্লাস নিয়ে বসে পড়লাম এক্সপেরিমেন্টাল ঠিয়েটার হলের চতুর্থ সারিতে। যদিও দর্শক খুব একটা বেশী না আবার কমও না। শুনছিলাম রাগ সঙ্গীত এর মৃদু মৃদু আবহ। মঞ্চের মধ্যমণিতে কেউ একজন পদ্মাসনে বসে আছেন। বুঝে নিলাম হালকা আলোতে ইনিই ম্যাম সামিউন জাহান দোলা। শুরু হলো “নভেরা”, শুরু হলো এক যুব সমাজের অজানা আলোর পরিস্ফুটন। মনে হচ্ছিলো কোন এক ফিঙ্গে পাখির অদ্ভুত সুন্দর একক মেলার আসর। কিন্তু কিছুক্ষনের জন্যও মনে হচ্ছিলো না যে কেউ একা অভিনয় করছে! সময়কে দুমড়ে-মুচড়ে যেন এক অজানা রাজ্যে চলছে চরিত্রের উত্থান-পতন। ভাবতেও পারছিনা যে আমি বসে আছি, কিছুক্ষণের জন্য হলেও চরিত্রের বিভিন্ন আঙ্গিকে ঢুকে অভিনিত হচ্ছে স্বত্তার প্রতিফলন।

ভাস্কর্য জগতে বাংলাদেশে এক অনন্য নাম হচ্ছে নভেরা আহমেদ। দেশ স্বাধীনপূর্ব সময়ে নভেরা আহমেদ কথা বলেছেন, প্রতিবাদ করেছেন, বারবার গর্জে উঠেছেন অলঙ্ঘ্য ট্যাবু, প্রায় মূর্তিপূজা সমতুল্য প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে। এই নভেরা আহমেদের ভাস্কর্যশিল্পী হয়ে ওঠার পিছনের কাহিনী ছিলো এক লোমহর্ষক আর প্রতিকূলতায় ভরা।

১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করে এই অধরায় নভেরা নাম্মি মহর্ষিনী এক ভাস্কর্যশিল্পী। ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেছেন কলকাতার অভিজাত লরেটো থেকে। শিল্পী হওয়ার এক বিস্তৃত ইচ্ছা ও অভিপ্রায় নিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমান ১৯৫০ সালে। এক প্রকার যুদ্ধ করেই ভর্তি হোন ক্যাম্বারওয়েল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটসের ন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাইনের মডেলিং অ্যান্ড কাল্পচার কোর্সে ১৯৫১ সালে। পরিচিত হন জয়নুল আবেদিনের সহচার্যে শিল্পী হামিদুর রহমান’এর সঙ্গে। একসাথে কাজ শুরু করেন।
শুরু হয় নভেরার এক শিল্পী জীবনের অধ্যায়। পাশ্চাত্যের চিত্রশিল্প ও ভাস্কর্যের ইতিহাসের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, সেজান, গঁগা কিংবা ভ্যান গঘের কাজের মধ্য দিয়ে আধুনিক শিল্প পুরোনো সমস্ত বেড়াজাল ভেঙেচুরে বেরিয়ে আসেন নভেরা আহমেদ। কাজ শিখেন ইতালীর শিল্পী ভেন্তরিও ভেন্তরির কাছে। আর তখনই পরিচিত হন দোনাতেল্লোসহ বেশ কয়েকজন প্রাচীন শিল্পীর কাজের সঙ্গে। বিমুগ্ধতায় ভরিয়ে দিয়েছিলো নভেরা আহমদ কে প্যারিস মিউজিয়ামের রঁদার ভাস্কর্য।
১৯৫৬ সালে নভেরা আহমদ দেশে ফিরে আসেন। কাজ করেন পাবলিক লাইব্রেরির দেয়ালে, সঙ্গে হামিদুর রহমান। দেয়ালজুড়ে তুলে ধরেন এক সদা-জন্ম-প্রস্তুত শিল্পের অনন্য গাঁথা। ১৯৫৭ সালে তাঁর এবং হামিদুর রহমানের যৌথ প্রদর্শনী আয়োজিত হয়। এবং ১৯৫৭ সালেই হামিদুর রহমানের সাথে যৌথভাবে ডিজাইন করেন শহীদ মিনার। কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারনে তাঁর নামটি থেকে যায় অন্ধকার পৃষ্টায়।

১৯৬০ সালে নভেরা আহমদের প্রথম একক প্রদর্শনী হয় এশিয়া ফাউন্ডেশন এবং পাকিস্তান ইউনাইটেড নেশনের যৌথ সহযোগিতায়। ১৯৬১ সালে নভেরা প্রথম পুরস্কার “Child Philosopher” পান “All Pakistan Painting and Sculpture Exhibition-এ। তাঁর দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী হয় ব্যাংককের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের অডিটরিয়ামে এম এস আলীর উদ্যোগে। ১৯৭৩ সালে তাঁর তৃতীয় একক প্রদর্শনী হয় প্যারিসে। সাথে স্থান পায় তাঁর আঁকা ১২-টি ছবি। তাঁর চতুর্থ এবং শেষ প্রদর্শনীটিও হয় প্যারিসে। সেখানে তাঁর শিল্পকর্মের ৫১ টির মধ্যে মাত্র ভাস্কর্য ছিলো ৯টি। বাকিসব তাঁর আঁকা বর্নিল ছবি।

১৯৯৭ সালে তিনি ভূষিত হন একুশে পদক-এ। এই অভিমানী মনের শিল্পী ১৯৭০ এ সব সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে চলে যান লাহোরে। এই অমিয় সুধাহরিণী নিভৃতচারিণী শিল্পী ২০১৫ সালের ৬ই মে প্যারিসে আত্মগোপন করেন।
তাঁর কাজের মধ্যে ছিলো- বুদ্ধ, শান্তি, পরিবার সিরিজ, মা ও শিশু, দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নৃত্যহীন, দ্য জিন, শতমঁলের ছাগল, শকুন ইত্যাদি।

এভাবেই ঘটনার প্রবাহ এগিয়ে যাচ্ছিলো নভেরার দিকে। ফুটে উঠেছিলো এক অনবদ্য জীবন কাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশগুলি। আহা নভেরার জীবন ছিলো কত দুঃসহ আর দুরন্তপনায় পরিপূর্ণ।
“নভেরা” নাটকটি এই বিবর্তনের সর্বগ্রাসী ধারার অগ্রযাত্রী যুব সমাজকে দেখিয়ে দেয় কিভাবে জীবন যুদ্ধে জয়ের দুয়ারে যেতে হয়, ছিনিয়ে নিতে হয় জয়কে। কিভাবে পরাজয়কে অস্বীকার করে জয়ের পথ সুগম করতে হয়। ভাবনার জগতে প্রতিটি মানুষ কেমন উড্ডয়মান পাখির মতো। আশার দুয়ারে কিভাবে স্ব-প্রতিভার বাতিকে জ্বালিয়ে শিখরে পৌঁছানো যায় উদ্যমের সাথে।

আশা করি আপনাদেরও নাটকটি ভালো লাগবে, ভালোবেসে ফেলবেন সেই নভেরাকে। একবার হলেও মঞ্চে গিয়ে নাটকটি দেখুন।
মঞ্চে গিয়ে নাটক দেখুন।
নাটকের জয় হোক।
ইব্রাহিম জামান এলিন
নাট্যকলা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইব্রাহিম জামান এলিন
ইব্রাহিম জামান এলিন এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 4 দিন ago
Joined: রবিবার, জুলাই 30, 2017 - 3:29অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর