নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • মহক ঠাকুর
  • সুপ্ত শুভ
  • সাধু পুরুষ
  • মোনাজ হক
  • অচিন্তা দত্ত
  • নীল পদ্ম
  • ব্লগ সার্চম্যান
  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান

আপনি এখানে

তবুও টিটু রায়কে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে?


তবুও টিটু রায়কে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে?
সাইয়িদ রফিকুল হক

বাংলাদেশে একটিমাত্র শয়তানচক্র সবসময় সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ায়। আর সেই ১৯৪৬ সাল থেকে এরা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গাসৃষ্টিতে যারপরনাই অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। আর আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশে এইজাতীয় দাঙ্গাসৃষ্টিতে সবসময় একক কৃতিত্ব এই দেশের একশ্রেণীর রক্তগরম মুসলমানের তথা নামধারী-মুসলমানের। এরা হিন্দুর কোনোকিছুই সহ্য করতে পারে না। এদের আদিপিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাও একইভাবে প্রচণ্ডরকমের হিন্দুবিদ্বেষী হয়ে ভারতবর্ষে দ্বিজাতিতত্ত্বের নামে এক জারজতত্ত্বের উদ্ভব ঘটায়। এরই ফলে ভারতবর্ষে বারবার হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়েছে। আর এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব এই নামধারী-মুসলমানদের। এরা বাংলার আত্মস্বীকৃত-মুসলমান। এদের চরিত্রে মনুষ্যত্ব বলতে কিছুই নাই। কিন্তু এরাই এখন মুসলমান!

বাংলাদেশে ইতঃপূর্বে অনেকবার সাম্প্রদায়িক-দাঙ্গা হয়েছে। তবে ইদানীং বিভিন্ন তুচ্ছবিষয়কে কেন্দ্র করে দাঙ্গার পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে। ২০১২ সালে, পার্বত্যচট্টগ্রামের রামুতে মুসলমান-নামধারী সাম্প্রদায়িকপশুগুলো রাতের আঁধারে, দিনদুপুরে যে যেভাবে পেরেছে রামুর বৌদ্ধবিহারে নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছিলো। তাদের তাণ্ডবলীলা দেখলে যেকোনো মানুষ মনে করবে এখানে হয়তো পৃথিবীর সর্বকালের-সর্বকুখ্যাত ও হিংস্র কোনো শূয়র ভয়ংকর আগ্রাসন চালিয়েছে। আসলে, এগুলো আমাদের বাংলাদেশের আত্মস্বীকৃত-ধার্মিক তথা একশ্রেণীর নামধারী-মুসলমানই ইসলামের নামে এসব করেছে।

২০১৬ সালে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-জেলার নাসিরনগরে জনৈক রসরাজ দাস নামের এক হিন্দুযুবককে ইসলামধর্ম-অবমাননাকারী হিসাবে অভিযুক্ত করে সেখানকারসহ বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে এই ঘটনাকে পূঁজি করে হিন্দুসম্প্রদায়ের উপর ভয়ংকর নির্যাতন চালিয়েছিলো এই নামধারী-মুসলমানশ্রেণী। এরা নিজেদের সৃষ্ট একটি সাজানো ও মিথ্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেদিন নাসিরনগরের সর্বস্তরের হিন্দুসম্প্রদায়ের উপর নারকীয় হামলা চালাতে সামান্য দ্বিধাবোধ করেনি। এরা এমনই এক মুসলমান!

সেই সময় অভিযোগ করা হয়েছিলো: রসরাজ দাস নামের এক যুবক নাকি কাবাঘরের উপর শিবের মূর্তিস্থাপন করেছে! এজন্য গোবেচারা রসরাজকে গ্রেফতার করে তার উপর নির্যাতন চালানোসহ তার স্বজাতির উপর স্মরণকালের ভয়াবহ হামলা-নির্যাতন চালায় ইসলামের আত্মস্বীকৃত অতিদরদী একশ্রেণীর নামধারী-মুসলমান। ক’দিন পরেই বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল—আসল ঘটনা। আর তখন দেশবাসী জানতে পারলো সেই আসল ঘটনা। সত্যঘটনা হলো: জাহাঙ্গীর আলম নামে এক মরদে মুজাহিদ ও মুসলমান পরিকল্পিতভাবে হিন্দুসম্প্রদায়কে ঘায়েল করার জন্য নিজেরা কাবাঘরের উপর শিবের মূর্তিস্থাপন করে তা নিজেদের ফেসবুকে ‘রসরাজ’ নামক ওই হিন্দুর নামে প্রচার করেছিলো! এই হলো বাংলার মুসলমান। আরও খোঁজখবর করে জানা গেল—এই জাহাঙ্গীর আলম স্থানীয় আওয়ামীলীগের এক পাতিনেতা। সে আগে ছাত্রশিবির করতো। আর তাকে এসব অপকর্ম করতে সাহায্য-সহযোগিতা করেছিলো স্থানীয় আওয়ামীলীগের কয়েক পাতিনেতা, বিএনপি-জামায়াত-শিবির ইত্যাদি! হিন্দুসম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাতে বাংলার মুসলমানদের কী সুন্দর ঐক্য! কিন্তু আমাদের ভাবতে অবাক লাগে যে, আওয়ামীলীগের মতো একটি ধর্মনিরপেক্ষ দলের নেতা-কর্মীরা (হোক না তা স্থানীয় পর্যায়ের) কীভাবে এইসব সাম্প্রদায়িকপশুর সঙ্গে হাত মিলায়?

গত ১০/১১/২০১৭ তারিখ, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর রংপুর-জেলার সদর উপজেলার ঠাকুরপাড়া-গ্রামে সেই একই ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে। আর এখানেও ফেসবুকে কতিপয় মুসলমাননেতা বা গোষ্ঠী একজোট হয়ে আমাদের নবীজী সা.-এর নামে কী-না-কী আজেবাজে কথা লিখে তা পোস্ট করেছে ‘শ্রী টিটু চন্দ্র রায়’ নামক স্থানীয় এক হিন্দুযুবকের নামে। এখানেও সেই নাসিরনগরের ঘটনা। আর এই ঘটনাকে পূঁজি করে স্থানীয় মুসলমান-নামধারী কতকগুলো ভয়াবহ, আদিম ও হিংস্র শূয়র ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো ঠাকুরপাড়ার হিন্দুসম্প্রদায়ের উপর। মনে রাখবেন: সেদিন ছিল শুক্রবার। জুম্মার নামাজশেষে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মুসলমান-নামধারী কতকগুলো আদিমশূয়র, ইসলাম ও মহানবীর সম্মান রক্ষা করার জন্য নিরীহ-নিরপরাধ হিন্দুসম্প্রদায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। এই আদিমশূয়রেরা কমপক্ষে ত্রিশটি হিন্দুবাড়িতে হামলা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ করেছে, লুটপাট করেছে, ভাংচুর করেছে! এই হলো এদের ধর্ম! আর এই সহিংস ও নৃশংস ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে পীরপাড়া নামক মুসলমানপাড়ার মসজিদের ইমাম-নামধারী শয়তানের জারজপুত্র মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। সে স্থানীয়ভাবে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীসংগঠন ‘জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানে’র নেতা। বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

রংপুরে একজন ‘হিন্দুযুবকে’র নামে ফেসবুকে কথিত “ধর্ম-অবমাননার” গুজব ছড়িয়েছে খুলনার আসাদুল্লাহ হামিদী নামক এক জামায়াত-নেতা। এই শয়তানের জারজপুত্র হামিদী দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবে দেশবিরোধী-অপকর্ম চালাচ্ছে। সে ইউটিউবসহ ফেসবুকে বিভিন্ন গুজব ছড়ানোর অন্যতম হোতা।
রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় হিন্দুসম্প্রদায়ের উপর হামলা করার জন্য সেদিন শুক্রবার স্থানীয় মসজিদে উগ্রপন্থী কর্মী-সমর্থকের সমাবেশ ঘটায় স্থানীয় ওলামাদল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ও সাজানো ঘটনা। আর এসবকিছুই আগে থেকে স্থানীয় উগ্রপন্থী-মুসলমানদের সাজানো ঘটনা মাত্র। আর এতে জনৈক টিটু রায়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। কিন্তু তবুও এতে ‘বলির পাঁঠা’ হিসাবে সাব্যস্ত করা হয়েছে জনৈক শ্রী টিটু রায়কে!

এদেশে আজ পর্যন্ত কোনো হিন্দুকেই “ইসলামধর্ম” কিংবা “মহানবী সা.কে” অবমাননা করতে দেখিনি। অপমান যা করার তা মুসলমানরাই করছে। আর “ফেসবুকে-ইউটিউবে” “ইসলাম কিংবা মহানবী সা.কে” অবমাননার হঠাৎ-হঠাৎ যে-সব কথিত চিত্র দেখতে পাওয়া যায়—তা জামায়াত-শিবির ও তাদের চিরমিত্র বিএনপি’র সৃষ্ট অপকর্ম। এরাই মাঝে-মাঝে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক-সংঘাতসৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব করে থাকে। এর সঙ্গে জনৈক রসরাজ দাসদের কিংবা টিটু রায়দের কোনোপ্রকার সংশ্লিষ্টতা নাই। তবুও টিটু রায়কে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে?

একটিমাত্র গোষ্ঠী আগে-পরে সবসময় পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক-সংঘাতসৃষ্টি করছে, আর ভবিষ্যতেও করবে। এদের নাম জামায়াত-শিবির-বিএনপি। আর কখনও-কখনও স্থানীয়ভাবে এতে আওয়ামীলীগের একটি নষ্ট অংশ জড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু এরা সবাই সাম্প্রদায়িক-নরপশু আর বাংলাদেশের চিরশত্রু।
নাসিরনগরের মতো রংপুরেও স্পষ্ট হয়েছে এই গুজবে-অপপ্রচারে কারা জড়িত। তবুও জনৈক নিরীহ ও নিরপরাধ টিটু রায়কে কেন গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে? সবকিছু জানার পরও আর আর সবকিছু দিবালোকের মতো প্রমাণিত হওয়ার পরও—তবুও টিটু রায়কে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে?

ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে নাতো? জনৈক রসরাজ দাস নাকি এখন ভারতে? নিরীহ-নিরপরাধ হয়েও তাকে কেন ভারতে যেতে হবে? জনৈক শ্রী টিটু রায়ও একজন নিরীহ-নিরপরাধ। এবার তার কী হবে?

সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
১৪/১১/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 8 ঘন্টা 23 min ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর