নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঠমোল্লা
  • নুর নবী দুলাল
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • চিত্রগুপ্ত
  • মৃত কালপুরুষ
  • অ্যাডল্ফ বিচ্ছু
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

জোহর বাহরুর স্মৃতি ও সিমারার মৃত্যু


অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ১০-দিনের প্রশিক্ষণ শেষে মালয়শিয়া এয়ারের MH132 ফ্লাইটের A380S এয়ারক্রাফটে ফিরছিলাম ঢাকা কুয়ালালামপুর ট্রানজিট হয়ে। বিমানের প্রায় ৫০% সিট খালি থাকার পরও, মালয় মেয়ে 'সিমারা'কে কেন বোর্ডিং দিলো আমার পাশে ঠিক বুঝলাম না। আমার টমেটো জুস নেয়া দেখে 'সিমারা'ও তাই নিলো। পরিচয়ের এক পর্যায়ে জানলাম অস্ট্রেলিয়ার মোনাস ভার্সিটিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে দক্ষিণ মালয়শিয়ার জোহর বাহরুর 'জালান বুরিয়া' গ্রামের মেয়ে সিমারা। কফিরঙা বাঙালি পুরুষদের প্রতি মালয় নারীদের নাকি এক বিশেষ টান থাকে, শুনেছিলাম আমার গাঁয়ের অন্তত ২০-ছেলের কাছে, যারা মালয়শিয়া কাজ করছে ১০/১২ বছর যাবত। এ কথা সত্যি প্রমাণ করতে সিমারার বেশি সময় লাগলো না। সে বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি ইত্যাদি সম্পর্কে তার আগ্রহ প্রকাশ করে জানালো যে, চলতি ১-মাসের ছুটিতেই সে বাংলাদেশে বেড়াতে যাবে, যদি আমি তাকে আমন্ত্রণ জানাই। ৫-ঘন্টার বিমান জার্নিতে আমাদের বন্ধুত্ব এতোটাই দৃঢ় হলো যে, আমি ৩/৪-দিন মালয়শিয়া সিমারার বাড়িতে বেড়াতে সম্মত না হয়ে পারলাম না।
:
সরকারি অফিসিয়াল পাসপোর্ট ছিল বলে এয়ারপোর্ট থেকেই ৭-দিনের অন এ্যারাইভাল ভিসা পেতে তেমন কষ্ট হলোনা সিমারার সহযোগিতায়। কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি বাসে উঠলাম আমরা সিমারার 'জালান বুরিয়া' গাঁয়ের। প্রায় ৬-ঘন্টা পর পৌঁছলাম আমরা পাম বাগান, রামবুতান ফলঘেরা সিমারার বাড়ি। সবুজে ঘেরা বৃষ্টি ভেজা বাংলাদেশের গ্রামের মতই মনে হলো জোহর বাহরু এলাকাকে। গাঁয়ের কাচা রাস্তাগুলো বাংলাদেশের বর্ষার মতই কাদায় থকথকে। বিলগুলো অনেকটা জলময়। বৃক্ষরা রেইনফরেস্টভুক্ত বিধায় গাঢ় সবুজ। মন ভরে গেল আমার সিমারা, তার মা-বাবা আর পরিবেশের আতিথেয়তায়। মুসলিম পরিবারভুক্ত সিমারার মা বাবা গাঁয়ের হলেও, তার বিদেশ পড়ুয়া মেয়ের বাংলাদেশি বন্ধুকে বেশ আগ্রহে গ্রহণ করলো তার পরিবারে অতিথি হিসেবে। ৩-দিনে পুরো জোহর বাহরু ঘুরে, সিঙ্গাপুর বর্ডারের নদীস্নাত রেস্তোরায় সি-ফুড খেয়ে ফিরতে চাইলাম আমি ঢাকার পথে কুয়ালালামপুর।
:
বিস্ময়করভাবে সিমারাও কুয়ালালামপুর এলো আমার সাথে। প্রথমত আমাকে বিদায় জানানো, তা ছাড়া সে ভিসা লাগাবে বাংলাদেশ আসার, প্রয়োজনে নেবে আমার সহযোগিতা। তারপর নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে কদিন পর আসবে বাংলাদেশ দেখতে, যদি আমি 'গ্রিন সিগন্যাল' দেই তাকে। এবার কুয়ালালামপুর সিমারার চাচার বাড়িতে উঠলাম আমরা। পরদিন সকালে বাংলাদেশ দুতাবাস কুয়ালালামপুরে কাজ সেরে, আমার ঢাকা ফেরার টিকেট রি-কনফার্ম করে, বিকেলে 'গেনটিং হাইল্যান্ডে' ঘুরতে বের হলাম দুজনে আমরা সিমারার-ই আগ্রহে। গেনটিংয়ে বেশ কবার আমাদের দুজনকে কালো মেঘে ঢেকে, আর ভিজিয়ে দিলো হাস্যজ্জ্বোল মেঘজলে। এই প্রথম মেঘের মধ্যে হাঁটলাম আর অন্ধকারে মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি অনুভব করলাম আমি সিমারার হাত ধরে। শূন্যে বাতাসে ভাসিয়ে রাখার মত ৪/৫-টা বিস্ময়কর রাইডেও উঠলাম আমরা দুজনে। শেষে উঠলাম গেনটিংয়ের বিখ্যাত ৩-কিমি লম্বা রোপ-ও্য়েতে। সিমারা অনেকবার উঠলেও আমার এই প্রথম ওঠা। নিচে গভীর গিরিখাদ দেখে আঁতকে উঠলাম আমি কিন্তু সিমারা উপভোগ করছিল খুব। অন্তত ৩/৪ কিমি গভীর খাদের উপর থেকে যখন চলছিল আমাদের পালকির মত চক্রটি, আমার মুখ তখন শুকিয়ে যা্চ্ছিল ভয়ে।
:
আকস্মিক কিছু বোঝার আগেই চোখের পলকে দেখলাম রোপওয়ের দৃঢ়তর ইস্পাতের রশিগুলো ছিঁড়ে পালকির মত চক্রগুলো একটার সাথে আরেকটা আঘাত করছে। কজন পরে গেল আমাদের চোখের সামনেই। হঠাৎ দ্রুততর অন্য একটি চক্র রশি ছিঁড়ে আঘাত করলো আমাদের চক্রটিকে। আমাদের একদিকের রশি ছিঁড়ে ঝুলে রইলাম আমরা কিছুক্ষণ কিন্তু সিমারাকে ধরার আগেই সে মূহূর্তে পরে গেল চক্রের বাইরে। আমি ঝুলন্ত চক্রে একটা পা আর দুহাতে ছেঁড়া ঝুলন্ত রশি ধরে ঝুলতে থাকলাম অনেকক্ষণ জীবনের মোহময়তায়। চারদিকে চিৎকার আতঙ্কে কিভাবে ঘন্টা দুয়েক কাটলো জানিনা আমি। এক সময় ফায়ারের লোকেরা বিশাল ক্রেন দিয়ে উদ্ধার করলো অন্য মানুষের সাথে আমাকেও।
:
গেনটিং হাইল্যান্ডের হাসপাতালে অনেকের মাঝে আর সিমারাকে খুঁজে পাইনা আমি। যারা পরে গিয়েছিল নিচের গভীর অন্ধকার খাদে, তাদের কাউকে উ্দ্ধার করতে পারেনি রেসকিউর লোকেরা। সিমারার নামও ছিল ঐ তালিকায়। দুপুরের রোদে গেনটিং হাসপাতাল ছেড়ে হেঁটে চলা ক্লান্তিকর সময় পার করি আমি সিমারাহীন একাকি। মাত্র কদিনে ভালবাসার বাঁশের সরু সাঁকোতে পা রেখেছিলাম সিমারা আর আমি। কিন্তু মৃত সিমারাকে এক গভীর খাদে একা ফেলে ঢাকা ফিরতে হচ্ছে আমাকে আমার জীবন বাস্তবতায়।
:
পরদিন সত্যি সত্যি সিমারার মুখ ও মুখোশের কাব্যিক চিত্রকলা মুছে ভালবাসার হিমযুগ পার করা পাথুরে মানুষের মত ঢাকার ফ্লাইটে উঠে বসি আমি স্বাভাবিক মানুষের মতই। পুরো বিমানে আমি আমাদের সপ্তরঙা জীবনের জলরঙা বিষণ্নতা খুঁজে মরি একাকি এঁদো-ডোবায় সাঁতরানো পাতিহাঁসের মত। তারপরো আমার চিন্তনে নিষ্কলুষ সিমারার স্মৃতির মহিষ বাথানে নেচে চলে প্রেমজ সিমারারূপি মহিষ শাবকেরা। এখনো সিমারার স্মৃতি আঁকড়ে আমার ক্লান্তিকর জীবনে নিবিঢ় ভাতঘুম দেই প্রায়শই। জীবনের বহতা নদীর পলিময় জেগে থাকা ভাটির চরে সিমারাকে দেখি ধবল স্মৃতির শৈশব ধরে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে আমার দ্বীপগাঁয়ে কিংব জোহর বাহরুর পলি বিধৌত 'জালান বুরিয়া' গাঁয়ে। সত্যি আমার জীবনের ভাঁজে-ভাঁজে কত না দুখ:রা কাঁদে আমার হাত ধরে অনর্হিশ, যেখানে সিমারা জেগে থাকে ভালবাসার বিষণ্ণতা ও একাকিত্বের দু:খকে ধারণ করে একাকি একাগ্রচিত্তে এখনো!

বিভাগ: 

Comments

সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

বাহ। চমৎকার!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 ঘন্টা 6 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর