নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

আর কত ভাবে নারীকে ছোট করা হবে ?



সম্প্রতি দাউদ হায়দারের কবিতা নিশ্চয় সবাই পড়েছেন। আমি আসলে এটাকে কবিতা বলতে পারছি না। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা তার নারীর প্রতি ব্যাক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি যে আসলে এই একটি ব্যাপারে মানুষিকভাবে সুস্থ আছেন কিনা আমার তাতেও সন্ধেহ আছে যথেষ্ট। কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মনোবিজ্ঞানীদের মতে যারা নারীদের প্রতি আক্রমনাত্মক ও উদ্দেশ্য প্ররোচিত লেখনি লিখে থাকে তাদের ব্যাক্তিগত জীবনে কোন না কোন সময়ে এই নারীর কাছ থেকেই যে কোন ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে এমন মনোভাবের সৃষ্টি হয়। আমি কাউকে ব্যাক্তিগত আক্রমন করতে চাই না তাই এই বিষয়ে আলোচনায় যাবো না। তবে আমাদের মতো সাধারন পাঠকদের যদি এধরনের ধারনা হয়ে থাকে তাহলে যে সেটা ভুল নাও হতে পারে তাই এই কথাটুকু তোলা। কবি দাউদ হায়দার এই কবিতার মাধ্যমে সমস্ত নারীবাদী নারীদের পাশাপাশি সমস্ত কবিদেরও অপমান করেছে। কারন তিনি একটি নয়, তিনটি বিষয় এখানে তিনি তুলে ধরেছেন বলে আমি মনে করি। একটি হচ্ছে তিনি নারীবাদী লেখিকাদের সাথে নিজেকে তুলনা করে নিজেকে ছোট করে ভেবেছেন আর তাই এমন কিছু তার মাথা থেকে এসেছে। দুই হচ্ছে তিনি যে একজন পুরূষতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্ন দেখেন সেটা এখানে প্রমানিত। আর তিন হচ্ছে তিনি এইজাতীয় শব্দ “ছিনাল” ব্যাবহার করে নারীদেরকে শুধু ছোট করেনি সাথে ধর্ষক পুরুষদেরকেও আরো উস্কে দিয়েছে এই জাতীয় পর্নো কবিতা রচনার মাধ্যমে।

একসময় আমাদের দেশে তসলিমা নাসরিনের মতো লেখিকা ছিলো। আজ তারা নেই, নেই তাতেই ভালো হয়েছে, কারন যদি আজ এই দেশে সে থাকতো তাহলে হয়তো একদিন একশ্রেনীর কাঙ্গালী খুনী টাইপের মানুষরা তার হাড় পর্যন্ত মাটিতে মিশিয়ে দিতো। তারাও কিন্তু অতীতে “ছিনাল” জাতীয় কথা ব্যাবহার করে এই নারী লেখিকাকে আক্রমন করেছিলো। কবি দাউদ হায়দার আসলে কাকে আক্রমন করে এই জাতীয় কবিতা লিখেছেন তা এখানে পরিষ্কার না। তবে এটা পরিষ্কার তিনি নারীদের এগিয়ে চলায় ক্ষুদ্ধ হয়ে আছেন। তার আচরনে এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা মৌলবাদীরা অনেক আগেই আমাদের দেখিয়েছে। তাহলে কি আমরা ভেবে নেবো সেই পুরাতন কবি যাকে অনেকেই বহু বছর ধরে চেনেন সে এখন মৌলবাদীদের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে কথা বলছে। নারীদের অপমান করছে। তাহলে কেন এযুগের কবি হয়ে দাউদ হায়দার আজ মধ্যযুগের মানুষের মতো আচরন করবে। এই নারীরাই তো কৃষির সূচনা করেছিলো মানব সভ্যতাই। তাদের কাছ থেকে আবার পুরুষেরা এই ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে তাদেরকে “ছিনাল” বলেছিলো তখন। আজ আবার কি কেড়ে নিতে নারীদের উপরে এমন আচরন এই কবিদের। আছে হয়তো কিছু। যেমন ধরুন নারীরা এখন অনলাইন ও সাইবার জগতে বাংলাদেশ এ পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কিছু অঞ্চলে বাংলা ভাষায় অনেক এক্টিভ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকেও বাংলাভাষী লেখিকারা খুব ভালো ভাবেই তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে বর্তমান অনলাইন জগতে।

কিন্তু এই দাউদ হায়দারের মতো অনেক লেখক এখনও অনলাইন জগতে এতোটা পরিচিতি আনতে পারেনি যতটা নারীরা এতোদিনে করে ফেলেছে। আমার জানামতে সোস্যাল মিডিয়াতে তার এখনও একটি একাউন্ট পর্যন্ত নেই। আমার ভুল হতে পারে আমি সঠিক নাও জানতে পারি। তবে আমি নিশ্চিত দাউদ হায়দারের কোন সোস্যাল মিডিয়া একাউন্ট নেই। তিনি বর্তমান যুগের নারীবাদী নারীদের থেকে এই বিষয়ে অনেক পিছিয়ে আছেন। এমতাবস্থায় যদি হঠাৎ করে অনলাইনে সাড়া ফেলতে চাই তাহলে একমাত্র বড় উপায় হচ্ছে নারীবাদীদের উদ্দেশ্য করে এমন কিছু লেখা যাতে তাদেরকে ছোট করে উপস্থাপন করা যায়। অতএব বলা চলে তাদের কাছ থেকে বর্তমানে অনলাইন ও সোস্যাল অনলাইন প্লাটফর্ম গুলো ছিনিয়ে নিতে এমন আচরনের কোন জুড়ি থাকার কথা না। দাউদ হাওয়াদার যাকেই উদ্দেশ্য করে এই জাতীয় লেখা লেখুক না কেন তিনি অবশ্যয় বর্তমান সময়ের প্রগতিশীল সমাজের বিরুদ্ধাচার করেছে। তিনি যে জঘন্য ভাষার ব্যাবহার মানে মৌলবাদী বা মুমিনদের মতো ভাষার ব্যাবহার এখানে করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এখানে প্রমান করেছেন তিনি নিজেও এই জাতীয় মনোভাব বয়ে নিয়ে বেড়ান যা মনস্তাত্বিক দিক থেকেও নিচু মানের।

এখানে “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা” এই বাক্যটি কিভাবে কবিতার ভাষা হতে পারে ? এই লেখটি দিয়ে দাউদ হায়দার কি প্রগতিশীল সমাজের বিরুদ্ধাচরন করেনি। একটু খেয়াল করে দেখবেন এখন দেশে নারীবাদীদের আন্দোলনে ও লেখালেখিতে যেভাবে দেশের ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মানুষ গর্জে উঠছে ঠিক তখনই এমন কিছু লিখে সেই নারীদের দমিয়ে দেবার চেষ্টাকে আমরা কি বলতে পারি। প্রথমে যে তিনটি বিষয়ের কথা বলেছিলাম সেই তিনটি বিষয়ের মিল কি এখন খুজে পাচ্ছেন। হ্যা আসলেই দাউদ হায়দার মনে হয় এই সমস্ত কারনে মানুষিক চাপের ভেতরে আছেন যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তার এই “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা” কবিতায়। তিনি নিজেকে নারীদের সাথে তুলনা করে আবিষ্কার করেছেন নারীবাদী লেখিকা থেকে তার অবস্থান অনেক নিচে যাকে বলা হয়ে থাকে (ইনফেরিয়োরিটি কমপ্লেক্স)। তিনি আসলে তার যৌন হতাশা থেকেও এমন কিছু বলেছেন তারও প্রমান এখান থেকে পাওয়া যায়। অশ্লীল ভাবে পর্নগ্রাফী রচনা করার একটি বড় কারন এটা হতে পারে। আরো প্রমানিত হয়েছে তিনি পুরূষতন্ত্রের ঝান্ডা হাতে নিয়ে নারীদের পেছনে লেগেছে এই লেখা দিয়ে। তিনি এই জাতীয় পর্ন কবিতা রচনা করে ধর্ষকদের এক প্রকার সমর্থন করেছেন বলে মনে করি।

আমার পরিচিত বেশ কয়েকজন আছেন যারা এই কবি দাউদ হায়দারের লেখার ভক্ত ছিলেন। কিন্তু তার এমন নিম্ন রুচির আক্রমনাত্মক লেখাতে তারা তার প্রকৃত রুপ দেখতে পেয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন এই কবিকে সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে কখনই কোন ইস্যুতে চিন্তাশীল কোন আলোচনা করতে দেখি নাই। এমনও হতে পারে তিনি হয়তো অতীত ভুলে গিয়ে নতুন করে যারা নারীবাদীদের “ছিনাল” বলে থাকেন তাদের দলে ভিড়ছেন। আসলে তাকেও তো একটা সময় সেই শ্রেনীর মানুষেরাই এই দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলো ঠিক তসলিমা নাসরিনের মতো। তবে একটা ব্যাপার হয়তো এই কবির জানা নেই যে, পর্ন কবিতা রচনা বা নারীদের আক্রমন করে লিখেই যে সেলিব্রেটি হওয়া যায় না। যদি সেলিব্রেটি হতেই হয় তবে তাকে সবার আগে এই দেশের মৌলবাদীদের মন জয় করতে হবে। তাহলে কি তিনি অবশেষে সেই চেষ্টাই করছেন ?

---------- মৃত কালপুরুষ
১৩/১০/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 21 ঘন্টা 21 min ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর