নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

মুসলমানদের বিধর্মী বিদ্বেষ ও অন্যান্য।


ছোটবেলায় দেখেছি, আমার গ্রামের পাশের গ্রামে কোন হিন্দু বসবাস করেনা বলে পাশের গ্রামের লোকের কী ভাব! হিন্দুদের তাড়িয়ে এই গ্রামে দিতে পেরেছে, এটা তারা ক্রেডিট হিসেবে দেখে! খুব ছোটবেলায় গ্রাম ছেড়েছি, তখন ব্যাপারটা প্রশ্নবিদ্ধ মনে হলেও কখনো করতে পারিনি, বেয়াদপ বলে গালি খাওয়ার ভয়ে আর প্রশ্ন করা তো এমনি নিষিদ্ধ ইসলামে।

ব্যাপারটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে আবার এক বড়ভাই কাম বন্ধুর সাথে তর্কের সময় ব্যাপারটা মাথায় এসেছে। তিনি ও তার গ্রামে কোন হিন্দু নেই এটা গর্ব হিসেবে দেখেন! বড়ভাই কিন্তু যথাযথ শিক্ষিত আবার! মাস্টার্স পাশ করে এলাকার একটি স্বনামধন্য উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক! তার মুখে এমন কথা শুনে আমি হতবাক!

এখন আর অবাক লাগে না। এখন বুঝে গিয়েছি যে শুধু শিক্ষিত/অশিক্ষিত না, এই দেশের প্রত্যেকটা মুমিন মুসল্লি হিন্দুবিদ্বেষী! হিন্দুবিদ্বেষী না, প্রকৃতপক্ষে তারা সবাই মুসলমান ছাড়া অন্য যে কোন ধর্ম/জীবনবিধান বিদ্বেষী! নইলে রংপুর, কক্সবাজার, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা, বান্দরবান যে কোন এলাকায়, হোক সে হিন্দু ধর্মাবলম্বী দের উপর বা আদিবাসীদের উপর যখন ইসলামের নামে হামলা করা হয়, কোন মুসলমানকেই কেন তার প্রতিবাদ করতে দেখি না?

সব মুসলমানের মনেই অন্য ধর্ম বিদ্বেষটা মনস্তাত্ত্বিক। ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে এত কঠিন জীবনবিধান প্রদান করা হয়নি। এই কঠিন জীবনবিধানের মধ্যে চলতে গিয়ে তাদের ভেতরে ভেতরে একটা মনোভাব, অন্যদের প্রতি হিংসা, তাদের জীবনটাকে উপভোগ করতে দেখে তৈরি হয়। নিজেরা জীবন উপভোগ করতে পারছে না, আদতে বিশ্বাস বলে যে শব্দ তারা ব্যবহার করে, তার কোন ভিত্তি না থাকায়, নিজের মনেই সন্দিহান থাকায়, তারা যেমন পরকালে পুরষ্কার পাওয়ার বুজরুকি মেনে শান্তি পায় না, একই সাথে অন্যকে জীবন উপভোগ করতে দেখে তাদের প্রতি একটা হিংসাত্মক বা উগ্র মনোভাব, পরকালে দেঝা যাইবো- মনে মনে ভেবে শান্তি নেওয়ার চেষ্টা করে। সেই অন্য ধর্মের লোক যখন কোন বিপদে পড়ে, বা তাদের বিপদে ফেলতে পারলে তারা এই স্যাডিস্টিক আনন্দটা জীবদ্দশায়ই পেয়ে যাওয়ায় মনুষ্যত্ব আর তাদের ভেতরে কাজ করে না।

আর অনেক ভিতরের ব্যাপার ও আছে। তৌহিদীবাদী তিন ধর্মের মধ্যে মোজেস অত্যাচারীর হাত থেকে বাচার জন্য পালিয়ে বেড়িয়েছে, জিসাসকে তো মেরেই ফেলা হয়েছে, আর মোহাম্মদ করেছে যুদ্ধবাজি। যার সাথেই মতে মিলে নাই, তাকেই কতল করেছে। যেই কাউন্টার দিয়েছে, তাকেই হাওয়া করে ফেলা হয়েছে। হোক সে অন্য ধর্মের, বা অন্য মতের, হোক সে কবি/বুদ্ধিজীবী/গল্পকার/চিন্তাবিদ, কেউ বাদ যায়নি। আর মারার জন্য অনুপ্রাণিত ও করেছে অন্যদের। যুদ্ধে গণিমতের মাল, নারীদেহ উপভোগ, মৃত্যুর পর বেহেশতি হুর পাওয়া, সব তার ডেলিবারেট প্ল্যানের অংশ।

যখন একটা মুসলমান বাচ্চা বেড়ে ওঠে, তার জন্য আদর্শিক ক্যারেক্টার হিসেবে মোহাম্মদকেই উল্লেখ করা হয়। অনেকটা সৃষ্টিকর্তার সমপর্যায়ে তাকে বসানো হয়, তার এই সব ধর্ম প্রচারের নামে উগ্রবাদ যখন ইম্পারসোনেবল এইজের বাচ্চারা শোনে, তাদের সাইকোলজি ওইভাবেই বেড়ে ওঠে, যে বিধর্মীদদের কতল করা ফরজ। সেটা আপনি পরে যতই বোঝান না কেন, ছোটবেলার সাইকোলজি ঝেরে ফেলা কষ্টই। তাই অন্যদের পুড়তে দেখে, অত্যাচারিত হতে দেখে তার শান্তি পায়।

অপরদিকে অন্য ধর্মের লোকেরাও যে একেবারে ধোয়া তুলসীপাতা তা না। এই সাবকন্টিনেন্টে হিন্দুই ছিলো, হিন্দু থেকে যখন অন্য ধর্মে লোকজন যাওয়া শুরু করলো, বিশেষত ইসলামে, তারাও সেটা ভালোভাবে গ্রহণ করে নাই। যবন গালি হিসেবে ব্যবহার করা, মিষ্টির দোকানে ঢুকতে না দেওয়া ইত্যাদি মুসলমানদের মনেও দাগ কেটে রেখেছে, তারাও এটার প্রতিশোধ নিতেই চায়।

মুসলমানদের মাঝে মুসলমান মুসলমাম ভাই ভাই, এই যুক্তি বিদ্যমান থাকায় অন্য দেশে ইহুদী/খ্রিস্টান/হিন্দু দের দ্বারা মুসলমানদের শাসিত হতে দেখে তারা এই দেশে অন্য ধর্মের লোকেদের শাস্তি দিয়ে ইকুইলিব্রিয়াম করতে চায়!

সাবকন্টিনেন্টে এই ধর্ম রাজনীতির একটা বড় সহায়ক। প্রথমত, ভাগটার বেসিসই ধর্ম, ধর্মকে পূজি করেই ক্ষমতায় বসা, বাংলাদেশ সেই চক্র থেকে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বের হয়ে আসলেও তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৌলবাদী শক্তি আবার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখন ও আমরা সেই পথেই আছি। যুদ্ধের সময় ও শুধুমাত্র হিন্দুবিদ্বেষী মনোভাব থেকে পাকিস্তান প্রীত জনসংখ্যা ৪০% ছিলো, সে সংখ্যা এখন আর ও বেড়েছে। ভোটের রাজনীতিতে তারাই সহায়ক, তারাই নিয়ামক। তাই এই সময়ে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও তাদের তাবেদার।

যতদিন না মুসলমানেরা অন্ধ বিশ্বাসের হাত থেকে বের হতে পারছে, অবসোলিট নিয়ম ত্যাগ করে এবং যতদিন রাজনৈতিক দলগুলো মৌলবাদী তাবেদারী ত্যাগ করতে না পারছে; ততদিন এই হিন্দুদের বাড়ি পোড়ানো, আদিবাসী দের উপর অত্যাচার, আমাদের সহ্যই করতে হবে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সূর্যসন্তান
সূর্যসন্তান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 3 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, নভেম্বর 5, 2017 - 2:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর