নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

মুসলমানরা কি নিজেদেরকে হিংস্র ও বর্বর জন্তু বা জানোয়ার ভাবে ?


গত দুইদিন আগে এদেশের মুসলমানরা রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের বাড়ী ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।কারন মুসলমানদের ভাষায়, তাদের অপরাধ তারা মানুষ না , বরং হিন্দু।আর মুসলমান হিসাবে তাদের দায়িত্ব হলো সময়ে অসময়ে, নানা অজুহাত তুলে হিন্দুদের ওপর আক্রমন করতে হবে। যদি তারা নিজেদেরকে মানুষ মনে করত , আর হিন্দুদেরকেও মানুষ মনে করত , তাহলে নিশ্চয়ই ঠুনকো অজুহাত তুলে মানুষ হয়ে মানুষের ওপর এই ধরনের জ্বালাও পোড়াও করত না। আর এই ধরনের বর্বরতা করতে পারে একমাত্র বর্বর ও হিংস্র জানোয়ার।

মায়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদেরকে অত্যাচার করা হচ্ছিল, তখনও আমাদের দেশের মুসলমানরা রোহিঙ্গাদেরকে মানুষ হিসাবে চিহ্নিত করে , তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্যে আকুতি জানায় নি। বরং রোহিঙ্গাদেরকে মুসলমান হিসাবে চিহ্নিত করেই তাদেরকে আশ্রয় দেয়ার দাবী জানাচ্ছিল। তার মানে দেখা যাচ্ছে , মায়ানমার সরকার যদি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন না করে বৌদ্ধ , হিন্দু বা খৃষ্টান এদের ওপর কোন কারনে নির্যাতন করত , তাহলে আমাদের দেশের মুসলমানরা তাদের প্রতি সামান্য সহানুভূতি দেখাত না। যার অর্থ হলো - মুসলমানরা নিজেদেরকে মানুষ হিসাবে নিজেদেরকে চিহ্নিত করে , অন্য আর্ত পীড়িত ভিন্নধর্মী মানুষের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর শিক্ষা পায় নি , বরং তারা শিক্ষা পেয়েছে - নিজেদেরকে মুসলমান হিসাবে চিহ্নিত করে অন্য মুসলমানরা যখন বিপদে পড়বে তখন তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাবে।

অনেকে দাবী করে মুহাম্মদ বিদায় হজ্জের ভাষনে , সকল ধর্মের মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সম্মান দেখাতে বলেছে। যা ডাহা মিথ্যা কথা ছাড়া আর কিছুই না। বিদায় হজ্জের ভাষনে মুহাম্মদ ভিন্ন গোত্র ও জাতির মুসলমানদের মধ্যে কোন বৈষম্য করতে নিষেধ করেছিল , অমুসলমানদের ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য নয়।

অথচ সেই একই মুসলমানরা যখন নিজেরা বিপদে পড়ে , তখন কিন্তু তারা নিজেদেরকে ভিন্ন ধর্মী মানুষের কাছে মানুষ হিসাবে দাবী করে , মানবিক সাহায্য , আশ্রয় চায়। কিন্তু ভিন্ন ধর্মীয় মানুষরা বিপদে পড়লে , তখন তারা নিজেদেরকে মানুষ হিসাবে চিহ্নিত করে , ভিন্ন ধর্মীদেরকেও মানুষ হিসাবে বিবেচনা করে , তাদেরকে সাহায্য দিতে নারাজ। উদাহরন - ২০১৪-২০১৫ এর দিকে , সিরিয়া ইরাকে যখন আই এস সেখানকার মুসলমানদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করছিল, তখন কিন্তু সেইসব মুসলমানরা নিজেদেরকে মানুষ হিসাবে দাবী করে সারা বিশ্বের অমুসলিমদের কাছে আকুতি জানাচ্ছিল , তাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিতে। তখন আজকে মুসলমানদের ত্রাণকর্তা হিসাবে আবির্ভুত তুরস্ক প্রথমে তাদেরকে আশ্রয় দিতে চায় নি , যদিও তারা ও আশ্রয়প্রার্থী উভয়ই মুসলমান ছিল। এর কারন সম্ভবত: সেইসব আশ্রয়প্রার্থী মুসলমানরা , অন্য মুসলমান দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছিল। মুসলমান কর্তৃক মুসলমানদের ওপর নির্যাতনকে তখন এক শ্রেনীর মুসলমানরা ইহুদি ষড়যন্ত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার কি বেপরোয়া চেষ্টা করেছিল তা বিশ্ববাসী এখনও ভোলে নি। যদিও পরে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে তুরস্কা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল।যদি তুরস্ক সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশ না হতো , তাহলে সে কখনই এইসব আশ্রয়প্রার্থী মুসলমানদেরকে আশ্রয় দিত না বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারন আছে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে ইসলামের মূল দেশ সৌদি আরব সহ কুয়েত , কাতার এসবের কোন দেশই একজন মুসলমানকেও আশ্রয় দেয় নি। তখন আশ্রয়প্রাথী মুসলমানরা বেপরোয়াভাবে ইউরোপে প্রবেশ করে, নিজেদের তখন মানুষ হিসাবে দাবী করে , মানবিকতার দাবীতে সেখানে আশ্রয় চায়। আর জার্মানী ফ্রান্স ইত্যাদি দেশ সেইসব মুসলমানদেরকে মানুষ হিসাবে চিহ্ণিত করে তাদেরকে আশ্রয় দেয়। ইহুদি নাসারা কাফেররা মুসলমানদেরকে মানুষ হিসাবে চিহ্নিত করেই তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল।

তার ফলাফল হাতে নাতে। পরবর্তীতে দেখা গেছে , ফ্রান্স , বেলজিয়াম ইত্যাদি দেশে সেইসব আশ্রয়গ্রহনকারী মুসলমানদের কেউ কেউ আত্মঘাতি হামলা সহ নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সেখানে লিপ্ত হয়ে গেছে। কারন তারা সেখানে ইসলাম কায়েম করতে চায় , ইসলামী শাসন কায়েম করতে চায়। বর্তমানে গোটা ইউরোপসহ আমেরিকা ইত্যাদি দেশে নিত্য নৈমিত্তিকভাবে অহরহ এসব মুসলমানদের দ্বারা সন্ত্রাসী আক্রমন ঘটে চলেছে ইসলামের নামে , আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে।

উপসংহার হলো- বিপদে পড়লে মুসলমানরা মানুষ সাজে , কিন্তু বিপদ কেটে গেলেই আবার মুসলমান হয়ে যায়। তার মানে বোঝা যাচ্ছে , মুসলমানরা নিজেদেরকে মানুষ ছাড়া ভিন্ন কোন হিংস্র ও অসভ্য জন্তু অথবা জানোয়ার মনে করে ।হিংস্র জন্তু মনে করে , কারন , তারাই ঠুনকো কারনে হিন্দু , খৃষ্টান , বৌদ্ধদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে ছারখার করে দেয়, নানা সময় ইসলামের নামে আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে আত্মঘাতি, ট্রাক হামলা সহ নানারকম হামলা করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে চলেছে অবলীলায়। অসভ্য বর্বর ও হিংস্র না হলে তো সেটা তারা করত না।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 2 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর