নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র
  • অর্বাচীন স্বজন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

Break up song...


Break up song...
-----------------------------
ব্রেক আপ সং মানে কি? সোজা কথায় ভাঙ্গনের গান।শুনলেই মনে হয় যেন হৃদয়, মন,কলিজা ভেঙ্গে যাবার সাথে সাথে পাজরের হাড় হাড্ডিও সব ভেঙ্গে আসবে।আসলেই কী তাই? আমরা যা দেখি,যা ভাবি তার সাংবিধানিক নিয়ম অথবা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি একই গান গায়?বিষয়টি নিয়ে অল্প স্বল্প ভাবলেই সবটা না হলেও মূলাংশ স্বচ্ছ হয়ে যায়।

.
এই যেমন, বলিউডে প্রচারিত ব্রেক আপ সং গানটা অনেকেই শুনে থাকবেন।যারা শোনেননি তারা ভাবছেন না জানি কী কষ্টের! কেঁদে কেটে নাকের পানি চোখের পানি এক হবে কিনা।আর যারা শুনেছেন, তারা এখন আমার সাথে সাথে হাসছেন।কারণ, এই গান শুনলে বিশ্বাস করেন আমার সারা শরীরে শির শির করে ডান্স রিদম প্রবাহিত হয়।ছোটবেলায় এরকম হার্ড বিটের সাথে ডান্স করতাম আর সেই করতে গিয়ে একবার পা মচকে গিয়ে হাসপাতালও হয়েছিলো।যাই হোক, ব্রেক আপ সং শুনে হৃদয় মচকাবার কিছু নেই।কারণ, ব্রেক আপ হবার পরে আপনি হৃদয় মচকে পুরো জীবনটাকেই মচকে দেন সবার আশা ভরসাকে নাজেহাল করে দিয়ে।এটা কতোটা যৌক্তিক?
.
ব্রেক আপ মানে ভাঙ্গনের গানে ভেঙ্গে পড়েন রিদমে রিদমে।তাতে আমার বারণ নেই।তবে অবশ্যই দুমড়ে মুচড়ে নয়।একটা ছেলের যখন ব্রেক আপ হয়, সে তার জীবনের স্বাভাবিক কাজ কর্ম ঠিক রাখলেও ব্যক্তিগত জীবনে চূড়ান্ত পর্যায়ের তছনছ হয়।এদিক থেকে বলতে গেলে একটা মেয়ে ভালোই সহনশীল।ছেলেটা স্মোকিং এ আসক্ত হয় আর আগে থেকেই স্মোকার হয়ে থাকলে পরিণত হয় চেইন স্মোকারে।কখনো সখনো স্লিপিং পিলের পায়ে মাথা নত করেও সঙ্গা হারায় শংকাজনিত ভাবে।আর একটা মেয়ে সেটা না করলেও কদাচিৎ স্ট্যাটাস লেভেল অনুসারে ড্রাগ এডিকটেড হয় কখনো ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজেই নিজের হাত কাঁটে।দাঁত চিপে একের পর এক স্ল্যাশ চালায় নিজের হাতে। সে দৃশ্য কতোটা ভয়ংকর তা আমি জানি।রাতের পর রাত নির্ঘুম থাকা দুই পক্ষেরই নিয়ম।মেয়েটা বালিশ ভেঁজায় আর ছেলেটা ধোঁয়া ওড়ায়।কল্পনায় ভিডিও ক্লীপ দেখুন।একই স্ক্রীনে দুজন মানুষ দুই প্রান্তে কি কি করছে ব্রেক আপের পর।আহ! কী সীন!
.
খাবারে অরুচী, না ঘুমানো, পড়া থেকে মন উঠে যাওয়া, পরিবারের সবার মধ্যে থেকেও নিজেকে একা মনে করা, তাকে কেউ ভালোবাসে না, কেউ বুঝতে চায় না -
এরূপ ধারনা পোষন করা, কিটকিটে মেজাজ অথবা অল্পতেই ইমোশনাল হওয়া, ক্রমশ নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে নেয়া - এগুলো উভয় পক্ষেরই সিম্পটপম।
.
আপনি জানেনই না, এসবে নিজেই নিজের কতো বড় ক্ষতি করে ফেলছেন।ব্রেক আপের পর কষ্ট লাগবে, আঘাত আসবে,বুকের মধ্যে যন্ত্রনা হবে, ঝড় আসবে,নিজের সাথে নিজের টিকে থাকার যুদ্ধ হবে। কারণ, এগুলোর সবকটিই একেকটি স্বাভাবিক নিয়ম।এমন হবেই।তবে এই টিকে থাকার যুদ্ধে যে জয়ী হবে সেই জীবনবোধ শিখবে।আর যে যুদ্ধ না করেই হেরে যেতে চাইবে আমি বলবো আপনার মতো ভীড়ু মেয়ে বা কাপুরুষের মরে যাওয়াই উচিৎ।কারণ, জীবন কি আপনি সেটাই জানেন না।জীবন বোধের ব্যাখ্যা খুঁজবেন কোত্থেকে!!
.
আপনি কি জানেন, কাউকে আপনার জীবনে প্রয়োজন নেই সেটা আপনি ভাবলেও আপনাকে অনেকের প্রয়োজন নিদেন পক্ষে আপনার মা- বাবার জন্য? তারা আপনাকে সাপোর্ট করেনি,বহু ক্ষোভ তাদের প্রতি? হতে পারে তারা অমানবিক অন্যায়ই করলেন আপনার প্রতি কিন্তু এটাও তো হতে পারে যে তারা তাদের অবস্থানে, তাদের বয়সে দাঁড়িয়ে আপনার বিষয়টা যেভাবে দেখছেন আপনি নিচে দাঁড়িয়ে দশতলা ছাদের মাথাটা দেখতে পাচ্ছেন না।কারণ, আপনার বাবা - মা হয়তো বিশ তলা সমান উঁচু দৃষ্টি ধারণ করেন।
.
সমাজের কাছে আপনার যে দায় আছে আপনি তা অস্বীকার করতে পারেন না।আপনি সমাজের দেয়া ফ্যাসিলিটিজ ভোগ করবেন অথচ সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সুইসাইড করে পলায়ন করবেন তা তো হবে না। সুইসাইডাল ডেথের ডেথ বডির জন্য কোন জানাযা হবারও নিয়ম নেই ধর্মানুসারে।আশে পাশের মানুষ আপনার কষ্টটাকে দেখবে না যে কতো বড় ধাক্কাটা আপনি খেলেন।তারা আপনার চরিত্র ধরে টান দেবে।ধরে নেবে, আপনি সেক্স করে ধরা খেয়েছেন অথবা অবৈধ প্রেগনেন্সি ঢাকতে নিজের সম্মান বাঁচাতে নিজেকে মারলেন।ভুলে গেলেন জীবন এবং সম্মান -- দুটোই আপনার সম্পদ ছিল।একটাকে বাঁচাতে আরেকটাকে মারলেন।মরে গিয়েও দুশ্চরিত্রের কালি মুছতে পারবেন না নিশ্চিত থাকুন।যেটা আপনি বেঁচে থেকে দেধার্সে হাইড করে দিতে পারবেন।কেউ জানবে না আপনার বিজীত বা পরাজয়ের কথা।
.
প্রেম - ভালোবাসা আসলেই কোন অপার্থীব,আধ্যাতিক, আশ্চর্য্যপ্রদ কিংবা গুরুত্বপূর্ন অবাক হবার মতো কিছু নয়।এটা খুব স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া।বলতে পারেন,জীবনের ষোলকলার এক কলা এটি। এক কলার জন্য কখনোই বাকি পনেরো কলা পচে যেতে পারে না।এটি সম্পূর্নই আপনার পিটুইটারি গ্রন্থী এবং হরমোনের খেলা। সব মানুষের মধ্যেই এসব থাকে।পাকস্থলী থাকলে ক্ষুধা লাগবেই।মাথা থাকলেও ব্যথা হবেই। কাজেই হরমোনের প্রভাবেই আপনার শরীরে প্রেম নামক উদ্দীপকটির আবির্ভাব ঘটে।যা শরীর নিঃসৃত বলে ভালোবাসার এক পর্যায়ে সঙ্গীটির জন্য আপনার মধ্যে শরীর বৃত্তি বা সেক্সুয়্যাল অনুভূতির সৃষ্টি হবেই।তা আপনি স্বীকার করুন কিংবা না করুন।আমি আপনাকে শুধু মাত্র ইন্টার কোর্সের ইংগিত করছি না।তার হাত ধরতে ইচ্ছে করা,পাশে বসে থাকলে ভালো লাগা, চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলে না বললেও অনেক কিছু বুঝে ফেলা, তার ঠোঁটে চুমু খাওয়া অথবা তাকে জড়িয়ে ধরা -- এগুলো সবই হরমোনাল এটিচ্যুড।অর্থাৎ আপনি যা করছেন এতে অবাক হবার কিছুই নেই।এটা আপনার হরমোনের সহজাত বৈশিষ্ট্যের জন্যই করছেন।কথা হচ্ছে , যা করছেন তার নিয়ন্ত্রন কিন্তু আপনাকেই করতে হবে।ভালোবাসার মানুষটির পাশে হাত ধরে বসে থাকুন, গভীর দৃষ্টিতে তার চোখে চোখ রাখুন এতে আপত্তি নেই।কখনো সখনো তাকে চুমুও খেতে পারেন।তাতে ভালোবাসা গভীরতা পায়।তবে লক্ষ্য রাখুন, ভালোবাসাকে গভীর করতে গিয়ে ইন্টারকোর্সে নেমে পড়বেন না যেন।তাতে সাঁতার জানা না থাকলে নিশ্চিত থাকুন, দুজনই ডুবে মরবেন।আবেগ নয়; এখানে বিবেককে কাজে লাগান।
.
মনে রাখুন, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ভালোবাসা শরীরে গড়ালে তা আর বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ন পরিণতিতে গড়ায় না।নানা অজুহাতে আপনার সঙ্গী বিয়ের আগেই আপনার শারীরিক ক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত হয়ে আপনাকে দোষারোপ বা ত্রুটি বের করার হেতু খুঁজবে।সম্পর্ককে বিশ্বাসের গভীরতায় বাঁধুন, ইন্টারকোর্স কখনো ছুটে না যাবার বন্ধন হতে পারে না।নিজেকে নিয়ন্ত্রন করুন, ব্রেক আপের আগেই। ব্রেক হবার পর কি করবেন সে মেডিসিন না খুঁজে ব্রেক আপ যাতে না হয় সম্পর্কের ব্যাপারে যত্নশীল হোন।সঙ্গী নির্বাচন করতে আবেগের মাত্রাটা কিঞ্চিত কমিয়ে আনুন।আমি জানি, ভালোবাসা বলে কয়ে আসে না।তবে ভালোবাসায় রেসপন্স করার আগেই কিছু কথা বলে কয়ে নেয়া ভালো।যেমন, তার সাইকোলজি বোঝার চেষ্টা করুন, সম্পর্ক গভীরে পৌছুবার আগেই।
.
হাসি,কান্না, ক্রোধ সবই আবেগের খুব গুরুত্বপূর্ন অংশ।মনে রাখবেন, আবেগকে প্রশ্রয় না দিলেও একে এর মতো চলতে দিন কখনো কখনো।অর্থাৎ, যা বলতে চাচ্ছি তা হলো, আপনার ব্রেক আপের পর কষ্ট পাচ্ছেন,বুকের মধ্য থেকে মনে হচ্ছে যেন সব ছিঁড়ে যাচ্ছে অথচ আপনি প্রবল প্রতাপে নিজের কান্নাকে রোধ করে যাচ্ছেন।আপনি জানেন কি এই প্রক্রিয়া আপনার হার্টের ডিজিজ ইনক্রেজ করতে কতোটা সহায়ক ভূমিকা রাখে? ধারনাও করতে পারবেন না কখন নিরব ঘাতকের ফাঁদে পড়ে যাবেন অলক্ষ্যেই।সেজন্য বলছি, কাঁদুন।মন- প্রাণ খুলে কাঁদুন।প্রবাদেই আছে,
.
"কান্নায় শোক কমে।"
.
খুব নিরিবিলি কোন জায়গায় প্রকৃতির কাছাকাছি চলে যান।না পারলে রাতের আঁধারকে বেছে নিন।যতো কষ্টের স্মৃতি আছে, সব এক এক করে স্মরণ করুন, এরপর কাঁদুন।কান্না শেষ করে এখন যুক্তি খুঁজুন।যে স্মৃতিগুলোর জন্য এই যে এতোক্ষন আপনি কাঁদলেন যে কারণে এখন আপনার খুব মাথা ব্যথা করছে এটা এই ব্যথা ভোগ করার জন্য কতোটা যৌক্তিক ছিলো। একদিনে যে স্মৃতি গড়ে ওঠেনি, কখনোই তা একদিনে রিমুভের কথা ভুল করেও মাথায় আনবেন না।এতে তা রিমুভ করতে না পেরে উলটো ফাস্ট্রেইশন আর অবসেশন বাড়বে।আঘাতের স্মৃতিগুলো বিশ্বস্ত কাউকে বলুন।যে আপনার ভালো বন্ধু।অথবা এমন কোন বন্ধু যার ইতোমধ্যে আপনার আগেই কখনো ব্রেক আপ হয়েছিলো।সে আপনার কষ্টটা খুব ভালোভাবে বুঝবে।পরিস্থিতি বুঝে সে আপনাকে কষ্টের স্মৃতি ইরেজ করতে ইরেজারের পথও বাতলে দেবে।
.
জীবনে যে ভুলগুলো করেছেন তার জন্য সতর্ক হোন যাতে তদ্রুপ ভুল আর না করেন।বিশ্বাস করুন, ভেঙ্গে পড়ে সুইসাইড করে ফেলায় সত্যিই কোন সমাধান নেই।কারণ, আপনাকে ছেড়ে যাওয়া সঙ্গীটিও খোঁজ নিয়ে দেখুন, নতুন কাউকে নিয়ে দিব্যি সুখে আছে।
.
মিউজিক শুনতে পারেন, ভালো বইও খুব কাজে দেবে আপনার সাইকোলজি ডাইভার্ট করতে।বেড়াতে যাবার সুযোগ সবার হয় না।সুযোগ থাকলে ট্যুর দিন।নিজেকে হুট করে বদলে দেবেন না।ধীরে ধীরে নিজের প্রাত্যহিক রুটিনটা কেটে ছিঁড়ে এডিট করে ফেলুন।যে যে সময়গুলোতে আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষটির সাথে কাটাতেন, মিট, ফোন বা চ্যাটে সে সময়গুলোতে গুরুত্বপূর্ন স্কেডিউল ঢুকিয়ে দিন।একদিনে না হলেও আপনার চেষ্টায় তা খুব দ্রুতই সম্ভব হবে জেনে রাখুন।নতুন বন্ধু খুঁজুন, ঠিক আপনার মনের সাথে ভালো বন্ডিং হবে এমন।ভুল করেও সহসা প্রেমের সম্পর্কে জড়াবেন না।চলতে চলতে যদি বন্ধুটিকে হৃদয়ের কাছে নিতে ইচ্ছে করে তখন ভবিষ্যৎ সময়ই তা বলে দেবে আপনি কি করবেন।খুব ভালোভাবে কোট করুন--

" কষ্ট আর ভুল থেকে লাভকৃত শিক্ষাই, প্রকৃত শিক্ষা।"

.
তাই সব স্মৃতি ইরেজ না করে কিছু স্মৃতি খুব যত্নে তুলে রাখুন লিসনের পাতায়।যা আপনাকে ভবিষ্যৎ ভুল করা থেকে বিরত রাখবে।কাজেই নো ব্রেক, নো সুইসাইড।ব্রেক আপ সং শুনুন আমার মতো সারা শরীরে ডান্স রিদম তুলে।ভালো থাকুন।প্রাণ খুলে হাসুন, চুটিয়ে বাঁচুন। ওহ! ভালোবাসুন... তবে বুঝে বুঝে।

- ওয়াহিদা সুলতানা লাকি
১১/১১/১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ওয়াহিদা সুলতানা
ওয়াহিদা সুলতানা এর ছবি
Offline
Last seen: 19 ঘন্টা 23 min ago
Joined: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 14, 2017 - 1:19অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর