নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র
  • অর্বাচীন স্বজন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

রংপুরে হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ



এই হৃদয়বিদারক ছবিটা অনেক প্রচার পাবে, সময়ের চিহ্ন হয়ে থাকবে। এই বৃদ্ধার ছবি দেখলে বহুবছর পরেও মানুষ মনে করতে পারবে কোথায় দেখেছিল, কি হয়েছিল। কিন্তু এই বৃদ্ধার কষ্টের কথা, হাহাকারটুকু অন্য কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না।

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া আর ডমিনিয়ন অফ পাকিস্তানে ভাগ হয় ধর্মের ভিত্তিতে। ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্তি ব্যাপারটাই এমন, যার মানে করা যায় এক ধর্মের লোক অপর ধর্মের সাথে একসাথে থাকতে পারবে না বা শান্তিপূর্ণভাবে থাকা সম্ভব না। অবিভক্ত বাংলায় যে রেফারেন্ডাম হয়, তাতে হিন্দুরা ভারতে থাকবার পক্ষে আর মুসলমানেরা পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেয়। পূর্ববঙ্গ হয় পূর্ব পাকিস্তান। গণহারে দেশত্যাগের ঘটণা ঘটে দুই ধর্মের মানুষেরই যদি তা পূর্ববঙ্গের সাপেক্ষে বিবেচনা করি। পশ্চিম সীমান্তে ত্রিমুখী ম্যাস মাইগ্রেশন চলে। হিন্দু, মুসলিম ও শিখেরাই প্রধাণত ভুক্তভোগী হয়। মিলিয়ন মিলিয়ন লোক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহত হয়।

পূর্ববঙ্গ বা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মোহমুক্তি ঘটে খুব অল্প সময়েই। তারা বুঝতে পারে একমাত্র ধর্মই একসাথে থাকবার জন্য, একটি জাতি গঠণের জন্য যথেষ্ট নয়। জাতিসত্ত্বা ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা। তবে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সংগ্রামটা বাঙালি হিসেবে অধিকার আদায়ের চেয়ে একটা দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের নায্য অধিকার অর্জনের সংগ্রাম হিসেবে দেখা যায়, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা হিসেবে আমি ধর্মনিরপেক্ষতাকে বুঝি, প্রকৃতপক্ষে সেটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা। কিন্তু মানুষই তো একটা জাতি গঠন করে। সে জাতির ভিতর ধর্মপ্রাণেরা থাকেন, ধর্ম সম্পর্কে উদার মানুষেরা থাকেন, কট্টরপন্থী ধর্মপালনকারীরাও থাকেন। এদের সবার আচরণ কখনো এক কাতারে নিয়ে আসা যায় না। রাষ্ট্র যা করতে পারে তা হচ্ছে আইনের প্রয়োগ, যা সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য সমানভাবে কার্যকর হয়।

রংপুরের ঘটনায় দেখলাম আইনপ্রয়োগকারী সংস্থ্যাগুলো সক্রিয় ছিল। গুলিতে যিনি মারা গেলেন, হতে পারে তিনিও অগ্নিসংযোগকারীদের কেউ। অথবা কৌতুহলবশতঃ দেখতে এসে গুলি খেয়ে মরে গেছেন। হাজার হাজার মানুষ হামলা করেছিল পড়লাম, পুলিশ থামাতো কয়জনকে? তাও এই প্রতিহত করবার চেষ্টা মন্দের ভাল। দেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু দেশটা সবার জন্য সমান নিরাপদ হয় নি। আলাদা আলাদা ধর্মের জন্য আলাদা দেশ লাগবে, এমনই রয়ে গেছে ব্যাপারটা। মুসলমানদের কাছে হিন্দুরা এখন অনেকটাই এলিয়েন, দেখাই যায় খুব কম। ছোটবেলায় অনেক অনেক দেখতাম, এদের মধ্যে অনেকেই যে কোথায় হারালো...

রংপুরের হামলা কি বিএনপি করেছে? জামাত করেছে? না আওয়ামী লীগ করেছে? আমার তো মনে হয় এই হাজার হাজার মানুষের মধ্যে সকল দলের লোকজনই ছিল এবং এদের মধ্যে ৯৯% মানুষ ওই ফেসবুক স্ট্যাটাস কী ছিল তা পড়ে দেখে নাই, কিংবা জানতো না আসলে বক্তব্য কি ছিল। আমিও এখন পর্যন্ত জানি না। কেবল জানি ধর্মকে অবমাননাকারী কিছু একটা ছিল।
আর সেই কিছু একটা অবশ্যই মেনে নেয়ার মত না, নইলে কি এতএত মানুষ সহিংস হয়ে উঠত?

তবে সেইদিন বেশি দূরে না, যেদিন এরকম আরও আরও অগ্নিসংযোগের ঘটণা আমরা দেখবো। এই ভাগাভাগির তো শেষ নাই। শিয়া সুন্নী বিরোধ এইদেশে প্রকট না, সৌদি আর ইরান যেভাবে সারা দুনিয়ায় নিজেদের দালাল নিয়োগ দিচ্ছে, এদেশেও লাগবে। এরপর আসবে মাজহাবে মাজহাবে বিরোধ। তবে সেটা আসবার আগে আরেকটা বিরোধ প্রকট হবে, সেটা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের যারা ধর্মকে মানুষের আগে রাখতে চান না, তাদের সাথে ধর্মকে মাথায় তুলে রাখাদের বিরোধ এবং আরও প্রকট সংঘাত। তবে শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে থাকা ধর্মকে মাথায় না তোলা মানুষদের সাথে ধর্ম মাথায় তুলে রাখা মানুষগুলো পারবে না বলেই বিশ্বাস করি।

বিশ্বের অন্যদেশগুলোর খবর জানি না, তবে এইদেশে ধর্ম অবমাননাকারী বক্তব্য সবচেয়ে বেশি দেয়া হয় মসজিদ্গুলো থেকে। এইদেশের মসজিদে মসজিদে চলা বয়ানের প্রায় সবগুলোতেই ইহুদী নাসারা হিন্দু মালাউন এই ধরণের শব্দগুলো থাকে এবং তারা যে খারাপ ও দুনিয়াতে থাকবার যোগ্য না সেসব বোঝানো হয়। রাষ্ট্রের আইন অনুসারে এসব কি ধর্মীয় অবমাননার ভিতর পড়বে? নাকি সংবিধান মোতাবেক রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হয়ে গেছে বলে কেবল ইসলাম ধর্ম আর তার অনুসারী বাদে অন্যদের যা ইচ্ছা তাই বলা যাবে?

সরকার যদি মাদ্রাসাশিক্ষায় অর্থ খরচ করে এবং তারা যদি সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে খেলাফত বা শরীয়া আইন কায়েম করতে চায়, তবে তো তাই ঠিক। সেখান থেকে তো তারা এটাই শিখছে যে শরীয়া আইনই উত্তম, তাই কায়েম করতে হবে আল্লাহর দেখানো পথে চলতে গেলে। এগুলো নীতিসংক্রান্ত জটিলতা, মানুষ কতটা বুঝবে বা মানবে তাও নিশ্চিত না। রংপুরের অগ্নিসংযোগের ঘটণায় আমি প্রশাসনের দোষ দেখি না, সরকারেরও সেভাবে দোষ দেয়া যায় নাকি বুঝতে পারছি না। তবে এমনটা ভাবছি, তবে এটা নিশ্চিতভাবেই বুঝতে পারছি, উপমহাদেশ ধর্মের নামে ভাগাভাগির ২৩ বছর পর ১৯৭১ সালে এসে আমরা বা আমাদের পূর্বপুরুষদের অনেকে যেমন বুঝতে পেরেছিল ধর্মের নামে জাতি বা রাষ্ট্র হয় না, তেমন এই সময়ে এসে বোঝা যাচ্ছে যে, এইদেশের মানুষের বিরাট একটা অংশ সেই ধারণা মানতে রাজী নয়। তারা সহিষ্ণু নয় এবং রাষ্ট্রের আইনীকাঠামোয় থেকে অন্যায় কিছু হলে তার বিচারের দাবীতে বিশ্বাসী নয়। তাদের জন্য আদর্শ হচ্ছে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র, যাতে অন্য যে কোনো ধর্মের মানুষের অবস্থান অনাকাঙ্ক্ষিত।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 ঘন্টা 11 min ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর